somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সাত শহীদের সমাধি

২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ দুপুর ১:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বেশ দীর্ঘ একটা ছুটি পাওয়া গেল। কোথায় যাই কোথায় যাই করছি। বসন্তকাল ঋতুটি গল্পে কবিতায় বেশ সুন্দর তবে ভ্রমণের জন্য খুব একটা উপযুক্ত বলে মনে হয় না। প্রকৃতি থাকে ন্যাড়া হয়ে। নদী ও ঝিলের জল শুকিয়ে গিয়ে খা খা অবস্থা। হ্যা, ফুলের একটা বাহারি সাজ সাজ রব থাকে বটে তবে সবুজের অভাবে সেটা তেমন মনে ধরতে চায় না। তাই বলে তো আর থেমে থাকা যায় না। আবারও পাহাড় দেখার ইচ্ছে হল। পাহাড় বলতেই আমাদের দেশে পার্বত্য চট্টতগ্রাম আর সিলেট । কিন্তু ময়মনসিংহ বিভাগেও বেশ কিছু পাহাড়ময় অঞ্চল আছে। জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ সদরের হালুয়াঘাট-ধোবাউরা আর নেত্রকোনার সীমান্ত ঘেষাঁ দূর্গাপুর ও কলমাকান্দা উপজেলায়। স্কুলবন্ধুরা মিলে এক সময় দাপিয়ে বেড়াতাম সেই গারো পাহাড়েরর যায়গাগুলো।

আসল কথায় আসি। ২১ শে ফ্রেবুয়ারি, প্রভাতফেরির পর্বটা শেষ করেই বন্ধুরা বেরিয়ে পরি …বসন্তে সীমান্ত ভোজ করার উদ্দেশ্যে। আমরা যাবা সাত শহীদের কবর ও কিছু ছোট ছোট পাহাড় দেখতে। সকাল সাড়ে সাতটায় আমাদের বহনকারী গাড়িটি শম্ভুগঞ্জ সেতু পার হয়ে যখন শম্ভুগঞ্জ বাজারের কাছে তখন দেখি স্কুল-কলেজ ও নানা বয়সের মানুষ ২১ শে এর পদ যাত্রায় স্থানীয় শহীদ মিনারের পথে। বাজার পার হয়ে গ্রামিন রাস্তা ধরে নেত্রকোনার দিকে অগ্রসর হচ্ছি পথে পথে ২১ শের নানা আয়োজন। রাস্তার দু'পাশ জুড়ে সবুজ আর সবুজ, তার মাঝে অল্প দূরে দূরেই কলা গাছ রঙিন কাগজে মুড়িয়ে বানানো শহীদ মিনার। গুনে শেষ করা যাবে না । যে কটা ছোট বাজার পরে সবকটাতেই জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করা। বাঙালির হৃদয়ে ২১ শে ফেব্রেুয়ারির প্রভাব কতটা তা বুঝতে পারবেন এই পাড়া গাঁয়ের একুশ আয়োজনের মহাযজ্ঞে।

আমাদের উদ্দেশ্য ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেঁষা সাত শহীদের সমাধি। সেই সাথে কিছু পাহাড় আর গণেশ্বরী নদী। পথে পথে ২১ শের বর্ণাঢ্য আয়োজন দেখতে দেখতে শ্যামগঞ্জ বাজারে চলে আসি। চা বিরতি আর বসন্তে সীমান্ত ভোজের টুকটাক কেনাকাটা সেরে আবারও ছুটে চলা। নেত্রকোনা পার হয়ে কলমাকান্দার পথে। খুব বেশি রাস্তা না। রাস্তাও ভাল। কলমাকান্দা এসে আরও একজন বন্ধু আমাদের সাথে যোগ দেয়। আরও কিছুক্ষণ চা-আড্ডা দিয়ে লেঙ্গুরার দিকে ছুটে চলা। কলমাকান্দা থেকে লেঙ্গুরা ২৫ কিলোমিটার । যাবার রাস্তাটিও বেশ, দু’পাশে গাছের সারি আর দিগন্ত বিস্তৃত ফসলের মাঠ।

অবশেষে লেঙ্গুরা। নেত্রাকোনা জেলার সবচেয়ে উত্তরে ভারতের সীমান্ত লাগোয়া উপজেলার নাম কলমাকান্দা। আয়তন ৩৭৭.৭১ বর্গ কি মিঃ। উপজেলা শহরটি ২ টি মৌজা নিয়ে গঠিত। এই উপজেলার উত্তরে ভারতের মেঘালয়, দক্ষিণে নেত্রকোনা সদর উপজেলা পুবে সুনামগঞ্জ জেলা এবং পশ্চিম দিকে দুর্গাপুর উপজেলা। নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা উপজেলার একটা ইউনিয়ন হচ্ছে লেঙ্গুরা। এখান থেকে সীমানার ওপারে ভারতের মেঘালয়। লেঙ্গুরা বাজারের পাশ দিয়েই বয়ে গেছে গণেশ্বরী নদী । অনেকে একে লেঙ্গুরা গাং ও বলে থাকে। (যদিও কলমাকান্দার উল্লেযোগ্য নদী হচ্ছে গুমাই, সোমেশ্বরী, বাকলা, মঙ্গস্বরী। এছাড়া পাকাটা, উবধাখালী, বাহার বিল উল্ল্যেখযোগ্য। তবে মেঘালয়ে গণেশ্বরী নামে নদী আছে।) এখন প্রায় জল শূন্য। তার উপর কিছুটা উজানে বাধঁ দিয়ে চাষাবাদের জন্য নদীর জল ধরে রাখা হয়েছে। বিশাল একটা ঝিলের মত মনে হয়। আমরা আরও কিছুদূর এগিয়ে গেলাম, তারপর একটা পাহাড়। যাক অবশেষে পাহাড় পাওয়া তো গেল। পাহাড়ের পাদদেশে গাড়ি রেখে আমরা ছুটলাম সীমান্তের আরও কাছে। শুকনো নদীর ধার ধরে মাটির রাস্তাটি আপনাকে নিয়ে যাবে সাত শহীদের সমাধিতে। সমাধির পাশ দিয়েই বয়ে চলেছে গণেশ্বরী, যার অর্ধেক আমাদের আর বাকি অর্ধেক ভারতের। ১৯৭১ সালের ২৬ জুলাই কলমাকান্দা উপজেলার নাজিরপুর সম্মুখ যুদ্ধে শহীদ বীর যোদ্ধাদের কবর এখানে। সমাধিক্ষেত্রেটির তিনদিকেই ভারতীয় সীমান্ত। বিজিবি সদস্যছাড়া কবর পর্যন্তও যেতে পারবেন না। কাছেই দেখতে পারবেন মেঘালয়ের পাহাড়। কিছুটা আফসুসও হবে আমাদের ভাগে ছোট গুটিকত টিলা ছাড়া আর কিছু নেই। সমাধিক্ষেত্র থেকে ফিরে এসে পাশেই একটা গারো বাড়িতে আমাদের মধ্যাহ্ন ভোজের আয়োজন শুরু করি। এই বাড়িটির বৈশিষ্ট্য হল এর অর্ধেক বাংলাদেশে বাকী অর্ধেক ভারতে। বাড়িটা একটা ছোট পাহাড়ের উপর। বাড়ির পিছন দিকে বাঁশবন কিছুটা উপরের দিকে উঠে গেছে। সেটা ধরে পাঁচ মিনিট হাঁটলেই পাহাড়ের ছোপের আড়ালে দেখতে পাবেন সীমানা পিলার। এখান থেকে অল্প দূরেই পাহাড়ের গায়ে বিএসএফ এর বিশাল স্থাপনা ও পর্যবেক্ষণ টাওয়ার। অচেনা একটা পাখি অনবরত ডেকেই চলেছে। মিষ্টি একটা হাওয়া আর সেই সাথে কুয়াশা আর রোদের মিশেল প্রভাব। আমরা বেশ কিছুক্ষণ সময় কাটিয়ে বাড়ির সামনে চলে আসি। কেননা বেশিক্ষণ বাড়ির পিছনে অবস্থান করলে বিএসএফ সমস্যা করে।

দুপুরের খাবার শেষ করে ফেরার সময় লেঙ্গুরা পাহাড়ে উঠে গণেশ্বরী নদীর ইউ টার্ন এর অর্পূব কিছু দৃশ্য দেখে নেত্রকোনার বালিশ মিষ্টি খাবার উদ্দেশ্যে রওনা দেই।

সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ দুপুর ১২:৩০
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ছোট গল্পঃ শেষ জীবনে

লিখেছেন সামিয়া, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৯



ঘুমিয়ে থাকা একজন মানুষ কখনো কখনো জেগে থাকা একজন মানুষের চেয়ে অনেক বেশি ভালো থাকতে পারে? কথাটা শুনতে অদ্ভুত। কিন্তু বয়স হলে মানুষ অনেক অদ্ভুত কথাই বিশ্বাস করে চিন্তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাবধান, এই ফলগুলো খাওয়ার আগে সচেতন হোন।

লিখেছেন জীয়ন আমাঞ্জা, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২২

আজ কথা বলব একটা ভিন্নধর্মী সচেতনার বিষয় নিয়ে।
আপনারা অনেকেই জানেন, আপেলের বীজ বিষাক্ত, বেশি পরিমাণে খেলে মানুষ মারা যায়। কখনও ভেবেছেন, কেন মারা যায়? ঘটনাটা আসলে কী?

এর মূলে আছে Amygdalin... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্রপতি পদে আনভীর সোবহানকে দেখতে চাই।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪২


সায়েম সোবহান আনভীর। এক বিশাল বিজনেস টাইকুন, বসুন্ধরা গ্রুপের যোগ্য কান্ডারী। আহা, কী তার ব্যক্তিত্ব! দেখতে যেমন সুন্দর, চরিত্রও যেন মাশাআল্লাহ্ ফুলের মতো পবিত্র। আর বসুন্ধরা গ্রুপের কথা তো... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই/ঝুলাই

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:১৯



আমরাই মারবো,লাশ করবো গুম,
আমরাই জানাবো শোক!

আমরাই বলবো , গলা ফাটা চিৎকারে-
ওরা ছিলো আমাদেরই লোক॥

আমরাই বাঁধাবো দু’তরফা দাঙ্গা,
... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষের অহংকার ও বুদ্ধিমত্তার ভ্রান্ত ধারণা

লিখেছেন শেরজা তপন, ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৫২


উৎসর্গঃ ব্লগার রাজীব নুর( ঈশ্বর বিশ্বাসের কোল ঘেঁষে যাওয়া কোন লেখা এলেই যিনি লেখককে ভীষন সন্দেহের চোখে দেখেন- ভাবেন; কি অদ্ভুত কথা- ইনি দেখি ঈশ্বর বিশ্বাসী!!))
ধর্ম ও বিজ্ঞান: সংঘর্ষ না... ...বাকিটুকু পড়ুন

×