ভাগ্নির ক্লাস সিক্সের বাংলা পাঠ্যবই দেখলাম এবং কিছু পড়লাম ; নিন্মমানের কাগজ, বাঁধাই এবং প্রিন্ট। পাতলা পাতলা বইয়েও দু'রকমের নিন্মমানের কাগজ। কাগজের কারণেই বেশিরভাগ ছবি লেপটানো। বই হাতে নিলেই বই বাণিজ্যের কদর্য চিত্রটি স্পষ্ট হয়ে যায়। তার ওপর ছেঁড়া, দোমড়ানো-মোচড়ানো। শিক্ষকরা ছেঁড়া আর দোমড়ানো-মোচড়ানো বই বদলে দেয়নি, তাদের ভান্ডারে আর বই না থাকায় অনেককেই এইসব বই নিতে হয়েছে বাধ্য হয়ে। বইয়ের জন্য কোথাও কোথাও ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে। ছেঁড়ার কথা না হয় বাদই দিলাম, কিন্তু বইগুলো হাতে নিলে বইয়ের অন্তর-বাহির দেখে শ্রদ্ধা জাগে না। অন্তরে চোখ বুলাতেই খটকা লাগলো এই নামগুলো দেখে- সানাউল হক, আনোয়ারা সৈয়দ হক, ফরিদুর রেজা সাগর (বাতাসে খবর আছে ভদ্রলোকের লেখার জন্য নোকর আছে), অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, মোহাম্মদ নাসির আলি। আমি এদের খাটো করছি না, কিন্তু এদের যে সমস্ত লেখা দেওয়া হয়েছে তার চেয়ে ঢের উচ্চমানের লেখা বাংলা সাহিত্যে ভুরিভুরি আছে। এমন কি দেশের জীবিত অনেক লেখকেরও এর চেয়ে ভাল মানের লেখা আছে। না, তারপরও আমরা রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা খুঁজতে যাব না, লোকে মন্দ বলবে! এছাড়াও বাংলা বইতে আছে ইবরাহীম খাঁ'র 'রসুলের দেশে' এবং মুহম্মদ আবদুল হাই'র 'ওকিং মসজিদে ঈদের জামায়াত'। আগামীতে বিজাত গোষ্ঠী (বিএনপি-জামায়াত, দক্ষিণাঞ্চলে অতিরিক্ত বেয়াড়া লোককে বিজাত বলা হয়।) ক্ষমতায় এলে বাংলা বইয়ে হয়তো থাকবে হাটহাজারীর শফি হুজুরের জীবনী আর আমাদের বাচ্চারা হয়তো পড়বে ফ্রড মযহার, শফিক রেহমান, চটি জামিলের বই। বাচ্চারা বলবে, 'বাবা বাবা, ছহি চোদাচুদি কী!'
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা জানুয়ারি, ২০১৬ রাত ১১:৩৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




