গতকাল জাতীয় জাদুঘরের নলীনিকান্ত ভট্টশালী প্রদর্শনীকক্ষে শিল্পী কালিদাস কর্মকারের 'পাললিক প্রাণ-মাটি-প্রতীক' শিরোনামের শিল্পকর্ম প্রর্দশনী দেখলাম। মনোমুগ্ধকর কাজ! শিল্পী তার শিল্পকর্মে মাটিলগ্ন অনেক উপাদান ব্যবহার করেছেন, মানুষের অব্যক্ত কথা, যাপিত জীবনের সুখ-দুঃখ, যাতনা নান্দনিকভাবে তুলে ধরেছেন তার চিত্রকর্মে (আমি বুঝি কম, আমার তাই মনে হয়েছে)। কয়েকটি শিল্পকর্ম দেখে মনে হয়েছে, ভাগ্যিস তেনারা (ভয়ে মানুষ সাপ আর ভূতকে তেনারা বলে) চিত্রকর্ম দেখেন না। নইলে কি থেকে কি মানে বের করে তাদের লিস্টে শিল্পীর নাম তুলে দিত! তেনাদের কাছে তো চিত্রকর্ম নিষিদ্ধ। আর চিত্রকর্মেই কিনা শিল্পী উপস্থাপন করেছেন......! এক্ষেত্রে চিত্রশিল্পীরা লেখকদের চেয়ে অনেক নিরাপদ, তাদের তো কথা বলতে হয় না।
এরপর আজিজে গিয়ে জ্যোতি বিকাশ বড়ুয়া অনূদিত চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙের ভারত ভ্রমণ কিনলাম। প্রকাশক অ্যাডর্ন পাবলিকেশন। প্রচ্ছদের নিচের দিকে অ্যাডর্নের লোগো। ইদানিং ফেসবুকে অনেকেই প্রচ্ছদ শেয়ার করছে, সেখানেও দেখি প্রচ্ছদের সৌন্ধর্যহানি করে বেশ বড় বড় লোগো শোভা পাচ্ছে। প্রচ্ছদ একটা শিল্পকর্ম, সেখানে লোগো রাখলে তা চোখ এবং চিত্ত কোনটার পক্ষেই সুখকর অনুভূতি সৃষ্টি করে না। আমার মনে প্রশ্ন লাগলো এই লোগোটা বসাতে গিয়ে শিল্পীর কি একটুও খারাপ লাগেনি? মনে হয়নি শিল্পী তার নিজের শিল্পটাকে ধর্ষণ করছেন? জানিনা। নিজের বইয়ে প্রচ্ছদের ওপর লোগোর কথা ভাবতেও পারিনা, তাতে সারাজীবন বই বের না করতেও রাজি আছি। মনে ভাবনার উদয় হয়, কালে কালে হয়তো প্রচ্ছদের ওপরে বিভিন্ন কোম্পানীর বিজ্ঞাপনও দেখবো। হয়তো দেখবো লাস্যময়ী-ছলাকলাময়ীরা ঝকঝকে দাঁত, স্ফীত-উদ্ধত বুক, ধণুকবাঁকা শরীর আর মুখাবয়বে যৌন আবেদন ছড়িয়ে হাতে ধরে আছে ন্যাপকিন, কনডম, হারপিক ইত্যাদি দ্রব্য সামগ্রী। হয়তো দেখবো ভবিষ্যতের কালিদাস কর্মকাররাও তাদের চিত্রকর্মের পাশে এই সব বিজ্ঞাপন সেঁটে দিয়েছে!
শিল্পী-লেখকদেরকে কি সব বিকিয়ে দিতে হবে, নিজের জন্য কি কিছুই রাখার প্রয়োজন নেই!!
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জানুয়ারি, ২০১৬ বিকাল ৩:০৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




