somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রোগ

০৭ ই জানুয়ারি, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমাদের পাড়ায় ঢুকে বাঁ দিকের তৃতীয় বাড়িটা অর্থাৎ যে বাড়িটার একটা মোটা সজনেগাছ কুয়োর জলে নিজের ছায়া দেখতে থাকা কোন বেভুলো মানুষের মতো রাস্তার ওপর ঝুঁকে থাকে, যে বাড়িটায় চতুর্ভুজ আকৃতির বেশ বড় একটা পুকুর আর পুকুরের পাড়ে একটা পুরনো স্যাঁতা পড়া সমাধিমঠ আছে, অই বাড়িটাই মিত্তিরবাড়ি। পদবী মিত্র হলেও লোকমুখে তা মিত্তিরবাড়ি নামেই পরিচিত ছিল, আর মিত্তিরবাড়ির মানুষ অমুক মিত্তির-তমুক মিত্তির।

জয়গোপাল মিত্তিরের নাম শুনেছেন নিশ্চয়? শোনেননি! বাপরে, যাত্রাপালায় কী অভিনয়টাই না করতেন! গলা তো নয় যেন সিংহের হুঙ্কার! আর দেখতেও সেইরকম সুপুরুষ, যেমনি লম্বা-চওড়া তেমনি তার গায়ের রঙ; তার অভিনয় দেখে গায়ে কাঁটা দিতো, আচমকা উচ্চগ্রামে ওঠা গলা শুনে খোকা-খুকুরা দুধ পানরত অবস্থায় মায়ের মাই কামড়ে ধরতো, বয়োজ্যেষ্ঠরা পান চিবোতে চিবোতে জিভেয় কামড় খেতেন!

সখের যাত্রাপালা হলে কী হবে প্রস্তুুতিতে কোন খামতি থাকতো না। যশোর-বাগেরহাট থেকে ভাড়া করে আনা হতো যাত্রাভিনেত্রী। বেশ কিছুদিন মহড়া করে পাঠ মনে-মুখে বসিয়ে তারপর শুরু হতো চূরান্ত যাত্রাগান। মিত্তিরদের লম্বা উঠোনে মঞ্চ বেঁধে একটানা সাতরাত্রি যাত্রাগান হতো। শুধু কি যাত্রাগান! বাউলগানের আসর হতো, রামায়ণ গান হতো; নানান রকম উৎসবে হরেক রকম আয়োজন করতো মিত্তিররা। শুধু পয়সা থাকলেই হয় না, সখটাও থাকতে হয় বুঝলেন কিনা; মিত্তিরদের পয়সা ছিল আবার সখও ছিল। সেইসব দিনের কথা মনে হলে এখনও বুকের ভেতর কেমন মোচড় দিয়ে ওঠে। চোখের সামনে কেমন বদলে গেল সবকিছু। এখন অত্র এলাকায় যাত্রাগান দূরে থাক, কোন ধরণেরই গান-বাজনাই হয় না! ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা কারো মুখে ‘যাত্রাগান’ শব্দটা শুনলে বাবা-মা কিংবা দাদা-দাদীর কাছে জিজ্ঞেস করে, ‘যাত্রাগান কী?’ সব উঠে যাচ্ছে বুঝলেন, মানে উঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে; ভাবীকালে সংস্কৃতি আর শিকড় বলে কিছু থাকবে বলে মনে হয় না!

তারপর তো মিত্তিরদের পরিবার ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেল, দেশ-বিদেশে নানা জায়গায় ছড়িয়ে পড়লো মিত্তিররা। পরিসর কিছুটা ছোট হয়ে এলেও শেষ পর্যন্ত অবশ্য মিত্তিরবাড়ি আগলে ছিলেন রঘু মিত্তির। রঘু মিত্তিরকে চিনলেন না? অইতো জয়গোপাল মিত্তিরের জ্যাঠতুতো ভাই। উপযুক্ত অভিনেত্রী পাওয়া না গেলে যাত্রাপালায় মাসি-পিসির রোল করে ঠেকা কাজ চালিয়ে দিতেন। বাঁ পা-টা একটু লেংচে হাঁটতেন। না না জন্ম থেকে নয়; পরে ঝড়ের কবলে পড়ে জখম হয়েছিল বাঁ পা।

এই রঘু মিত্তির এক অদ্ভুত ধরণের মানুষ ছিলেন বুঝলেন, ভীষণ তেতো খেতেন; সকালে উঠে ছোট্ট একটা কাঁসার গ্লাসে করে কল্পনাথের পাতার রস অথবা নিম পাতার রস পান করে দিন শুরু করতেন আর প্রতিদিনই ভাতের সাথে থাকতো কোন না কোন তেতো ব্যঞ্জন; বেতের কচি ডগা দিয়ে শোল মাছের ঝোল, হেলেঞ্চা-কলমির তরকারি, অল্প তেলে নিমপাতা ভাজি তার অত্যন্ত প্রিয় খাবার। তিনি খেতেন তেতো খাবার কিন্তু মুখ দিয়ে বের করতেন মিষ্টি! ভীষণ রসিক মানুষ ছিলেন, ভোজন রসিক এবং বাক্যরসিক! জীবনে কেউ তাকে কোনদিন রাগ করতে দ্যাখেনি, কি পাড়ার লোকের সাথে কি তার পরিবারের সঙ্গে। নানারকম প্রত্যাশার চাপ বাড়িয়ে জীবনটাকে অহেতুক জটিল না করে কী করে হেসে-খেলে জীবন পার করতে হয় তা আমি শিখেছি রঘু মিত্তিরের কাছ থেকে।

মিত্তিরবাড়ির সবাই নানা দিকে চলে গেলেও তিনি মাটির মায়ায় বাড়ি আগলে পড়ে থাকলেন তার পরিবার নিয়ে। তার আত্মীয়-স্বজন আরো অদ্ভুত ধরণের, বিশেষ একটা সময়ে তারা রোগে ভুগতো, ভুগতো মানে ভীষণ রকম ধরাশায়ী হতো! একেবারে জীবন-মরণ সমস্যা, আর রোগ হলেই তারা রঘু মিত্তির এবং তার স্ত্রী-সন্তানদের দেখতে চাইতো! কী আর করা, মন না চাইলেও বাধ্য হয়েই রঘু মিত্তির তার গোটা পরিবার নিয়ে রোগাক্রান্ত মরণাপন্ন আত্মীয়কে দেখতে যেতেন।

ফোন? ধরুন ধরুন কথা বলুন। ........এই হয়েছে এক জ্বালা বুঝলেন, আজকাল মন খুলে কারো সাথে একটু গল্প করা কিংবা গল্প শোনার উপায় নেই। এমনিতেই ব্যস্ত জীবনের মাঝে গল্প করার সময় কম। তার ওপর গল্প করতে কিংবা শুনতে গেলে আছে বউয়ের ধ্যাতানি-এটা নেই সেটা নেই কত কি, আছে স্বামীর হুকুম জারি-এটা দাও সেটা দাও, শাশুড়ির বকবকানি, বাচ্চাদের প্যানপ্যানানি, মিতুর চুল বেঁধে দাও, জিতুর ডায়াপার বদলে দাও; এহেন সব সাংসারিক কাজ কর্মের ভিড়ে সব সামলে যদিবা একটু গল্প করতে বসলেন তো গল্প জমার আগেই ফোড়ন কাটবে ফোন। যতক্ষণ ফোন কাছে থাকে আমার কী মনে হয় জানেন, মনে হয় বউ তার হাতের মুঠোয় কষে চেপে ধরে আছে আমাকে! আরে বাবা, স্বামী-স্ত্রী কিছুটা সময় যদি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থেকে একে অন্যের বিরহ অনুভব না করে তবে ঘরে ফিরে ভালবাসাটা জমবে কী করে শুনি! প্রিয়জন সারাক্ষণ কাছে থাকলে তার কাছে থাকার আনন্দটা পানসে হয়ে যায়, একঘেয়ে অনুভূতি হওয়ায় ঝগড়া-খিটিমিটি আর একে অপরের ভুল ধরার প্রবণতা বেড়ে যায়। শুধু ঘরে ফিরে একপেট ভাত খেয়ে শোয়া, তারপর বউকে জাপটে ধরে ধস্তাধস্তি করতে করতে পুচুত করে খানিকটা সুখবারি নির্গত করার পর পাশ ফিরে শুয়ে ভোঁস ভোঁস করে নিঃশ্বাস ছাড়তে ছাড়তে রাত পার করাকে কি প্রেম বলে!

আমি কি করি জানেন, মাঝে মাঝেই ইচ্ছে করে ফোন বাসায় ফেলে বাইরে চলে যাই, ফিরে এসে বলি ভুল করে রেখে গেছি। তারপর বউয়ের মুখের উদ্বিগ্নতা মিলিয়ে যাওয়া মুখাবয়ব, একটু মিষ্ট বকা আর একটু বেশি রকমের আদর কি যে মধুর লাগে, তাছাড়া সারাদিন বউয়ের মুঠোর বাইরে স্বাধীনভাবে থাকার পর ফিরে এসে মনে হয় বউয়ের শরীরে লীন হয়ে যাই! হা..হা...হা.....!

বউয়ের কথা না হয় বাদই দিলাম, আত্মোপলব্ধির জন্যও তো খানিকটা সময় একা হওয়া দরকার। এই ফোন সাথে থাকা মানে হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার মতো এক দঙ্গল মানুষ নিয়ে ঘুরে বেড়ানো, একা হবার উপায় নেই।

হ্যাঁ যা বলছিলাম, মিত্তিরবাড়ি যখন জমজমাট ছিল তখন আত্মীয়-কুটুমে গমগম করতো বাড়িটা, এমন কোন দিন ছিল না যে মিত্তিরবাড়ির হাঁড়িতে দু’চারজন আত্মীয়ের ভাত রান্না হয়নি। কিন্তু মিত্তিরবাড়ির সেই জমজমাট হাট যখন ভেঙে গেল, যখন কেবল রঘু মিত্তির বাড়িটা আগলে থাকতেন তখন আর মিত্তিরবাড়িতে আত্মীয়স্বজন তেমন আসতে দেখিনি। কালেভদ্রে কখনও সখনও এসেছে দু’একজন। আবার রঘু মিত্তির বা তার পরিবারকেও খুব একটা যেতে দেখিনি কোন আত্মীয় বাড়িতে। ব্যতিক্রম দেখেছি কেবল ঐ বিশেষ সময়টায় অর্থাৎ নির্বাচনের সময়। নির্বাচন এলেই রঘু মিত্তির তার গোটা পরিবার নিয়ে আত্মীয়বাড়ি যাবেন তা সে জাতীয় সংসদ নির্বাচনই হোক কিংবা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। নির্বাচনের দু’তিনদিন আগেই রঘু মিত্তির এক ভ্যান বোঝাই মালপত্তর আরেক ভ্যানে নিজেরা উঠে রওনা হতেন আত্মীয়বাড়ির উদ্দেশ্যে। কোথায় যাচ্ছেন কেউ জিজ্ঞাসা করলে কখনও বলতেন, ‘আমার শালার অসুখ। হাসপাতালে ভর্তি।’ আবার কখনও বলতেন ‘আমার ভায়রা অ্যাকসিডেন্ট করেছে, অবস্থা খুব খারাপ।’ প্রত্যেক নির্বাচনের আগেই এরকমভাবে কেউ অ্যাকসিডেন্ট করতো, কেউ মারাত্মক অসুখে পড়তো। কিন্তু এইসব আত্মীয়কে আমরা কোনদিন মিত্তিরবাড়িতে আসতে দেখিনি।

তারপর যখন নির্বাচন আর নির্বাচনের ডামাডোল পেরিয়ে যেত, নির্বাচনের রেশ কাটিয়ে যখন মানুষ আবার নিজ নিজ কাজে-কর্মে মন দিত, তখন মিত্তিরদের আত্মীয় রোগমুক্ত হয়ে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যেত এবং মিত্তির পরিবারও বাড়িতে ফিরে আসতো। কিন্তু বাড়িতে ফিরে আসার পর মিত্তিরদের কাজ বেড়ে যেতো, কেননা নির্বাচনের এক দু’দিন পরই আকাশ কালো করে জেদি বন্য শুয়োরের মতো যে মেঘখানা আসতো তা রীতিমতো ঝড়-বৃষ্টি বইয়ে দিয়ে যেতো। দাপুটে ঝড়ের ঝাপটা এলোমেলো করে দিয়ে যেতো মিত্তিরবাড়ি। মিত্তিররা আবার একটু একটু করে গোছাতো ঘরবাড়ি। এরপর পুনরায় নির্বাচন আসার আগ পর্যন্ত আর মিত্তিরদের আত্মীয়রা রোগে পড়তো না, আবার অমন বেপরোয়া ঝড়-বৃষ্টিও হতো না। সবকিছু মোটামুটি স্বাভাবিক থাকতো।

আমাদের কাছে মিত্তিরবাড়ির আত্মীয় আর তাদের মৌসুমী রোগ এক ধরণের কৌতুহলের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কেউ কেউ এটা নিয়ে হাসাহাসিও করতো। কেউ রসিকতা করে বলতো, ‘ও মিত্তিরদা, গেল নির্বাচনের আগে আপনার যে বোনের কিডনি অপারেশন হলো, তিনি বেঁচে আছেন তো?’
‘থাকবে না কেন, দিব্যি সুস্থ।’
‘আপনাদের বাড়িতে কোনদিন আসতে দেখিনি তো?’
‘তারা শহরে থাকে, ব্যস্ত মানুষ। তাদের সময়ের বড় অভাব।
‘তবু আত্মীয় বাড়িতে আসতে হয়, আসা-যাওয়া না থাকলে কি আত্মীয়তা থাকে!’
‘এজন্যই তো আমরা যাই। তা তোমার মায়ের শরীর কেমন?’

রঘু মিত্তির কৌশলে প্রসঙ্গ পাল্টাতেন অথবা ব্যস্ততা দেখিয়ে সরে পড়তেন, আর আমরা মুখ টিপে হাসতাম মিত্তিরদের অদেখা আত্মীয়দের কথা ভেবে। নির্বাচন এলেই বেচারারা কী মরণাপন্ন রোগেই না পরতো!

মিত্তিরবাড়ির আত্মীয়দের এই অদ্ভুত মৌসুমী রোগ কিন্তু আগে ছিল না আর রঘু মিত্তিরকেও স্ব-পরিবারে রুগ্ন আত্মীয় দেখতে যেতে হতো না। একবার নির্বাচনের পরে বড্ড ঝড় হলো আর ঝড়ে আমগাছের প্রকান্ড একখানা ডাল উড়ে এসে রঘু মিত্তিরের পায়ে লাগলো। বাঁ পা-টা ভীষণ জখম হয়েছিল তখন, শরীরের অন্যান্য জায়গাও জখম হয়েছিল ডালটার ছোট ছোট শাখা-পাতার আঁচড় লেগে! পরিবারের অন্যরাও কিছুটা আহত হয়েছিল, অন্যদের ক্ষত প্রাথমিক চিকিৎসায় সারলেও রঘু মিত্তিরকে ভর্তি করতে হলো হাসপাতালে। তারপর কিছুদিন হাসপাতালে থাকার পর পায়ের জখম সারলো বটে কিন্তু বাঁ পা-টা জনমের তরে খোঁড়া হয়ে গেল, লেংচে হাঁটতে শুরু করলেন রঘু মিত্তির। অমন লম্বা মানুষ হঠাৎ করেই বেশ কয়েক ইঞ্চি খাটো হয়ে গেলেন! আর এর পরের নির্বাচন থেকেই মিত্তিরবাড়ির আত্মীয়রা মৌসুমী রোগে ভুগতে শুরু করলো আর রঘু মিত্তিরও কর্তব্যকর্ম মনে করে আত্মীয়দের দেখতে যেতে লাগলেন।

এরপর একবার নির্বাচনের আগে হলো কি, কে বা কারা বাড়িতে এসে রঘু মিত্তিরকে শাসিয়ে গেল এই বলে যে, মিত্তিরবাবুদের এবার ভোট দিতেই হবে। আত্মীয়দের অসুখ-বিসুখ হোক আর মরেই যাক, ভোট না দিয়ে কোথাও যাওয়া যাবে না। ভোট দিয়ে তারপর হাসপাতালে নয়তো শ্মশানে যেখানে খুশি যাওয়া যাবে। আর ভোট না দিলে মিত্তির বাবুর একটা পা খোঁড়া আছে, আরেকটা পা-ও খোঁড়া করে দেওয়া হবে। এই হুমকিতে রঘু মিত্তির পড়লেন মহা ফাঁপরে, শাঁখের করাত কী বস্তু তা তিনি গভীর ও গম্ভীরভাবে উপলব্ধি করলেন!

কয়েকদিন পরই রঘু মিত্তিরের সাথে আমার ছোট চাচার দেখা উপজেলা ভূমি রেজিস্ট্রি অফিসে। রেজিস্ট্রি অফিসে আসার কারণ জিজ্ঞেস করে আমার চাচা রঘু মিত্তিরের কাছ থেকে জানতে পারেন যে, পুরনো একটা রেকর্ড তুলতেই ভূমি রেজিস্ট্রি অফিসে তার আগমন।
তারপর যে-ই নির্বাচন ঘনিয়ে এলো, অমনি রঘু মিত্তিরও এক সন্ধ্যায় স্ব-পরিবারে হাওয়া। যারা রঘু মিত্তিরকে ভোট দেবার ব্যাপারে শাসাতে গিয়েছিল তারা বলতে লাগলো, ‘আসুক শালা রঘু মিত্তির, ওর ডান পা-টাও খোঁড়া করে ছাড়বো এবার!’

আমরা অপেক্ষায় রইলাম রঘু মিত্তির ফিরে এলে সত্যি সত্যিই তার ডান পা-টা খোঁড়া হয় কিনা তা দেখার জন্য! রঘু মিত্তিরের এক পায়ে লেংচে হাঁটা আমরা হামেশাই দেখে থাকি, এবার আমাদের কারো কারো কল্পনায় ভেসে উঠলো রঘু মিত্তিরের দু’পায়ে লেংচে হাঁটার দৃশ্য! বড় অদ্ভুত সেই দৃশ্য! কেউ কেউ এই দৃশ্য কল্পনা করে বেশ পুলক বোধ করলেও কারো কারো মন খারাপও হলো এই ভেবে যে, বেচারা এমনিতেই মরমে মরে থাকে!

কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে রঘু মিত্তির আর ফিরে এলো না আত্মীয়বাড়ি থেকে; এলো না তো এলোই না আর আমাদেরও দেখা হলো না রঘু মিত্তিরের দু’পায়ে লেংচে হাঁটার দৃশ্য! রঘু মিত্তিরের দু’পায়ে লেংচে হাঁটার বদলে আমরা দেখলাম রঘু মিত্তিরের ভেতরবাড়ির তুলসীগাছটি সমূলে উৎপাটিত হয়ে সদর গেটের বাইরের রাস্তায় মরে শুকিয়ে আছে!


ঢাকা।
ডিসেম্বর, ২০১৫।

সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই জানুয়ারি, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:৪৯
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

।।মাদার অব ড্রাকুলা হাসিনার রাস্ট্রীয় জঙ্গীবাদ।।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৮


মাদার অব ড্রাকুলা হাসিনা ভারতের প্রযোজনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীদেরকে দিয়ে জঙ্গী জঙ্গী নাটক মঞ্চস্থ করতো। বহিবিশ্বকে বোঝাতো দেশে ইসলামী জঙ্গী দিয়ে ভরে গেছে এবং সেই জঙ্গীরা ইউরোপ আমেরিকার ভয়াবহ ক্ষতি করবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=শরত তুই যাস নে ! =

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৩



ভ্যাপসা গরমে নাভিশ্বাস জীবনে কেবল বৃষ্টির হাপিত্যেশ,
মেঘ বলেছে আসবো আসবো আমার উদ্দেশ,
শুভ্র মেঘেদের নাচন
উত্তাপ হাওয়ায় যায় না আর বাঁচন,
তবুও স্নিগ্ধ আবেশ মনজুড়ে,
হঠাৎ হাওয়ার ঝাপটা, বাজে পাতার বাঁশি সুরে।

বিকেলের হাওয়ায় দেহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

১ কোটি চাকরি: শর্ত প্রযোজ্য, মেধার প্রবেশ নিষেধ !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:২৫


ভোটের আগে বলা হয়েছিল, ক্ষমতায় এলে প্রথম আঠারো মাসেই এক কোটি মানুষকে চাকরি দেওয়া হবে। কথাটা শুনে দেশের বেকার তরুণেরা তো মহাখুশি, কেউ ভাবল সরকারি চাকরি হবে, কেউ ভাবল... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বে ঋণ খেলাপিতে বাংলাদেশ ১ নম্বর এবং দেশে ঋণ খেলাপিতে শীর্ষ ২০ জনের ১৯ জনই ওনাদের!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:০৫



শাস্ত্রীয় কথায় না গিয়ে সোজা কথায় কেউ ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ না করলে তাকে ঋণ খেলাপি বলা হয়। আপনি জানলে অবাক হবেন যে শীর্ষ ২০ ঋণ খেলাপির ১৯ জনই... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কি ডার্ক জাস্টিসকে ফলো করছেন?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:১০



ছোটবেলায় দেখা একটি টিভি সিরিয়াল তুমুল জনপ্রিয় হয়েছিলো। একজন বিচারক যিনি দিনের বেলায় কোর্ট রুমে অপরাধের বিচার করতেন, আর, রাতেরবেলা আইনের ফাঁক -ফোকর গলে বেরিয়ে যাওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

×