somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি চলচ্চিত্রের কাহিনী সংক্ষেপ এবং..........

১৩ ই এপ্রিল, ২০১৬ দুপুর ১২:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পাঁচ বছর আগে এই গল্পটির একাধিক রকমের স্ক্রিপ্ট করেছিলাম চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য (পরিচালকের চাহিদা অনুযায়ী শ্রেণি পরিবর্তনও করতে হয়েছিল)। একজন নির্মাতা গল্পটি অনেককে বলেছিলেন, একটি চ্যানেলে জমাও দিয়েছিলেন স্ক্রিপ্ট। শেষ পর্যন্ত কাজটি হয়নি চ্যানেলের অনিচ্ছার কারণে এবং আরো পরে পরিচালক আমাকে জানিয়েছিলেন, ভারতের কোন জুরি সদস্য নাকি তাকে বলেছেন ঘুড়ি উড়ানোর অংশটুকু ইরানি চলচ্চিত্র 'কাইট রানার' এর সঙ্গে মিলে যায়। আমি অবশ্য কাইট আজ অব্দি দেখিনি। ভেবেছিলাম যখন বড় পরিসরে উপন্যাস লিখবো, তখন দেখবো। যদি কাইট রানারের সাথে কোনো অংশ মিলে যায় তো বাদ দেব। তাই ফেল রেখেছি। কে জানে এই গল্পের নির্যাস কেউ কাউকে সাপ্লাই দিয়েছে কি-না (পরিচালক দেননি আমি নিশ্চিত, চ্যানেলটিকে আমি বিশ্বাস করি না।)! আর মেধাবী পরিচালক নির্যাস পেলে গল্প ভেঙেচুরে নতুন করে গড়বেন সেটাই তো স্বাভাবিক।
*********
বাংলাদেশের সীমান্তের একটি গ্রাম। দেশ ভাগ হওয়ার সময় গ্রামটিও ভাগ হয়ে যায়। কিন্তু দুই পারের গ্রামের নাম একই থাকে। আত্মীয়-স্বজন দুই দেশের নাগরিক হয়ে যায়। দেশ ভাগ হলেও কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করা হয় পঁয়ষট্টির পাক-ভারত যুদ্ধের পরে। ততদিন এপারের ছেলে-মেয়েরা ওপারের স্কুলে পড়তো; ওপারের মানুষ এপারের মসজিদে নামাজ পড়তে, মন্দিরে পূজা দিতে আসতো। তারপর একসময় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করাা হয়, কাঁটাতারের বেড়া গিয়ে মেশে নদীর সাথে, নদীর সীমানা অরক্ষিত। এই গ্রামেরই বাংলাদেশ অংশে বাড়ি সুনীল রোজারিও’র। বয়স প্রায় চল্লিশ। বৃদ্ধ বাবা, বিধবা বোন আর এগারো বছরের ছেলে দিব্যকে নিয়ে তার সংসার। সুনীলের বোনের বিয়ে হয়েছিল ভারতের অংশে, তার স্বামী মারা যাবার পর নিঃসন্তান বোন শ্বশুর বাড়িতে লাঞ্ছিত হতে থাকে। তখন সুনীলের বাবা তার মেয়েকে নিজের কাছে নিয়ে আসেন। সুনীল উপজেলা শহরে কেরানির চাকরি করে। বাড়ি থেকে সাইকেল চালিয়ে অফিসে যাওয়া-আসা। যাবার পথে ছেলেকে নামিয়ে দিয়ে যায় স্কুলে। ছেলের সঙ্গে তার সম্পর্ক বন্ধুর মতো।

বছরে একবার কালিপূজার সময় সীমান্তের কাছে মেলা হয়। তখন কয়েক ঘন্টার জন্য সীমান্ত খুলে দেওয়া হয়। দুই গ্রামের মানুষ একত্রিত হয়। আত্মীয়-স্বজনের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ করে। এই মেলায়ই অলকার সঙ্গে প্রথম দেখা হয়েছিল সুনীলের। দ্বিতীয়বার অলকার সঙ্গে দেখা হয়েছিল ভারতে বোনের বাড়িতে বেড়াতে গেলে। সেই সূত্রেই দুজনের কাছাকাছি আসা, দুজন দুজনকে ভালবেসে ফেলে। এর মধ্যেই সুনীলের জামাই বাবু মারা যায় এবং বোন শ্বশুরবাড়ি থেকে চলে আসে। একমসয় সুনীল এবং অলকা তাদের সম্পর্কের কথা দুই বাড়িতে জানায়, সুনীলের বাবার কোনো আপত্তি না থাকলেও বোন আপত্তি করে। একটি পরিবারেব মানুষের কাছে নির্যাতিত হওয়ায় সে ভারতের সব মানুষকেই অপছন্দ করে। তাছাড়া মেয়েটি হিন্দু। আর অলকার বাড়ির মানুষ এই সম্পর্ক কিছুতেই মেনে নিতে রাজি নয়। দুজনে পালিয়ে বিয়ে করে সুনীলদের বাড়িতে উঠে। সুনীলের বোন অলকাকে বাড়িতে জায়গা দিলেও মন থেকে মেনে নেয় না, তার উপর মানসিক নির্যাতন চালায়। অলকা সব মুখ বুজে সয়ে যায়। তাদের দুটি জমজ ছেলে হয়, দিব্য এবং কাব্য। এক সময় সুনীলের সঙ্গে অলকার দূরত্ব বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে তারা আলাদা হয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। দিব্যকে রেখে অলকা কাব্যকে নিয়ে চলে যায় ভারতে তার পরিবারের কাছে। দুই বাড়ির দূরত্ব দুই কিলোমিটারের বেশি নয়।

সুনীলের বাবা ছেলে-বৌমাকে বুঝিয়েছিলেন একসাথে থাকার ব্যাপারে, কিন্তু ফল কোনো হয়নি। তিনি শান্ত স্বভাবের মানুষ, নিজের জগতে ডুবে থাকেন। বই পড়েন, কবিতা ভালবাসেন। বারান্দার এককোনে চেয়ারে বসে কবিতা আবৃত্তি আর ফেলে আসা জীবনের স্মৃতিচারণ করেন। ছেলের ওপর কোনো ব্যাপরেই তিনি জোর খাটান না।

সুনীল এবং অলকা দুজনের কেউ-ই আর বিয়ে করেনি। অলকা এখন ওপারের একটি স্কুলে শিক্ষকতা করে। এই ছয়-সাত বছরে দু-জনের মধ্যে কোনো যোগাযোগ হয়নি।

দিব্য ফাইভে পড়ে। ভীষন দুষ্ট। বাবা তাকে ভীষণ ভালবাসলেও প্রায়ই বকা খায় সীমান্তের ওদিকটায় খেলতে যাওয়ার জন্য। মায়ের কোনো স্মৃতি তার মনে নেই। কিন্তু মায়ের জন্য তার খুব কষ্ট হয়, আশপাশে সবার মা আছে কেবল তার-ই নেই। সে শুনেছে সীমান্তের খুব কাছেই তার মা থাকে। একদিন অন্যদের ঘুড়ি ওড়ানো দেখে হঠাৎ তার মাথায় এক বুদ্ধি চাপে। সে টিফিনের টাকা দিয়ে প্রায়-ই ঘুড়ি কেনে। ঘুড়িতে সে মায়ের কাছে চিঠি লেখে। তারপর সীমান্তের কাছে গিয়ে ঘুড়ি উড়ায়, ঘুড়ি যখন ভারতের অংশে ঢুকে পড়ে তখন সে সুতো কেঁটে দেয়।

এদিকে অলকার বৌদির এক দূসম্পর্কের ভাই অলকাকে বিয়ে করতে চায়। বিয়ে প্রায় ঠিক। অলকা বিয়েতে কিছু স্বত্ব দিয়েছিল। সেই স্বত্ব মেনেই তাকে বিয়ে করতে চেয়েছিল সেই ছেলেটি। বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক হয়ে যায়।

এদিকে দিব্য’র ঘুড়ি কোনোদিন গাছের মাথায় বেঁধে থাকে, কোনোদিন পুকুরে পড়ে। একদিন স্কুল থেকে ফেরার সময় কাব্য একটা ঘুড়ি পায়। বাড়ি ফিরে টেবিলের উপর ঘুড়িটা রেখে সে খেলতে চলে যায়। অলকা স্কুল থেকে ফেরার পর ঘর গোছাতে গিয়ে ঘুড়িটি সরিয়ে রাখতে গেলে ঘুড়ির লেখা তার নজরে পড়ে। ঘর থেকে দৌড়ে বেরিয়ে বাড়ি থেকে নেমে আসে সে। তাকিয়ে দেখতে পায় সীমান্তের দিকের গাছে প্রচুর ঘুড়ি আটকে আছে। হাতের ঘুড়িটা বুকে জাড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে সে।
অলকা সিদ্ধান্ত নেয়। সে বাংলাদেশে যাবে। দিব্য’র জন্য শার্ট, জুতা, নানা জিনিসপত্র কেনে।

এদিকে দিব্য রোজই ঘুড়ি উড়াতে থাকে। একদিন তার ঘুড়ি কাঁটাতারে বেঁধে যায়। সে লাঠি দিয়ে ঘুড়িটা নামানোর জন্য বারবার চেষ্টা করে। হঠাৎ গুলি এসে লাগে দিব্য’র বুকে। দিব্য’র আর মাকে দেখা হয় না।








সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই এপ্রিল, ২০১৬ দুপুর ১২:৪৭
৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশ কি অন্যের যুদ্ধ লড়বে, নাকি নিজের দেশকে আগে রক্ষা করবে?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ৩০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:২৯

বাংলাদেশ কি অন্যের যুদ্ধ লড়বে, নাকি নিজের দেশকে আগে রক্ষা করবে?
============================================
সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে যে নতুন যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি হয়েছে, সেখানে বাংলাদেশকে যুক্ত করার আলোচনা চলছে। বাংলাদেশের পক্ষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

।। রাশিয়ার মতো বাংলাদেশে হামলা করুক ভারত।।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ৩০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:১২


আমি আজ পর্যন্ত আম্লিগে কোন ভালোমানুষ খুঁজে পাইনি। আম্লিগ মানেই ইয়ের বাচ্চা। আম্লিগ মননে মগজে ধর্ষক, লুন্ঠনকারী, দেশদ্রোহী ও পাচারকারী। এদের মাঝে কোন কালেই কোন ভালোমানুষ ছিলোনা বর্তমানেও নেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইয়ামানাকা ফ্যাক্টরস

লিখেছেন কলাবাগান১, ৩০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৫৭


ছবিতে যাকে দেখছেন উনার নাম প্রফেসর ইমানাকা। উনাকে সারা বিশ্ব মনে রাখবে উনার যুগান্তরী আবিস্কার এর জন্য। তার আবিস্কার যেভাবে সবার জীবনকে বদলে দিবে এবং দিচ্ছে সেটা জানানোর জন্যই... ...বাকিটুকু পড়ুন

নতুন ভোরের গান

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৬:৪৭


নতুন ভোরের গান



কষ্টের দিন পেরিয়ে এবার
আসবে আলোর গান,
নতুন দিনের নতুন সুরে
জাগবে সবুজ প্রাণ।

নষ্ট স্মৃতির আড়ষ্টতা
ঝরিয়ে দেবো অনেক দূরে,
নিজের মনেই ভালোবাসার
নূপুর বাজবে সুরে সুরে।



ভ্রষ্ট পথের আঁধার কেটে
ভোর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগে চার বছর একদিন হয়ে গেল । কি আশ্চর্য!

লিখেছেন সামরিন হক, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৬:৪৭

অবজ্ঞা

তোমার বিশেষ ঘৃণা দ্বারা আক্রান্ত আমি
চারপাশ ঘিরে ফেলেছে ঘৃণারা আমাকে
আস্তে আস্তে গ্রাস করে নিচ্ছে আমাকে তোমার ঘৃণা
আমার কথা শোন
আমি কখনই মনুষ্যত্বের সীমা পার করিনি
কিন্তু তোমার ঘৃণায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×