somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সিনেমায় পুরুষতান্ত্রিক গরল

১৯ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




সারাদিন বই আর মনিটরে মুখ গুঁজে আছি। তার ওপর বাসায় একা। মন চাচ্ছে নেত্রকোনা গিয়ে সাধু যোসেফের চার্চের পাশে সোমেশ্বরী নদীতে নৌকায় শুয়ে-বসে আকাশ দেখি! ঈদের ভিড়-ভাট্টায় যেতেও পারছি না। অগত্যা এক ঘেয়েমি দূর করতে ভাবলাম একটু প্রেমের গান শুনি। ইউটিউবে ঢুকে স্ত্রল করে নিচে নামতেই পুরোনো হিন্দী গানের ভিডিও দেখে চালালাম। প্রথম গানটাই ১৯৬৫ সালে ভীমসিং পরিচালিত ‘খানদান’ সিনেমার- ‘তুমহি মেরি মন্দির তুমহি মেরি পুজা’। সেই আমলের হিট গান। গানের দৃশ্যে সুনীল দত্ত ও নুতন।

গানের কথায় বরকে দেবতা-টেবতা বলার কথা না হয় বাদ-ই দিলাম। শেষ দৃশ্যটা ভীষণ দৃষ্টিকটু। নুতন দেবতা-দেবতা করতে করতে সুনীল দত্ত’র পা ধরে পায়ে গাল ঠেকালেন! পুরুষতান্ত্রিক জঘন্ন দৃশ্য! অথচ দৃশ্যটা কী সুন্দরই না হতো যদি নুতন সুনীলের বুকে মাথা রাখতেন কিংবা নুতন সুনীলের হাতটা ধরতেন আর সুনীল নুতনকে বুকে টেনে নিতেন! তাহলে দৃশ্যটা পুরোনো, সেকেলে বা পুরুষতান্ত্রিক হতো না। কালোত্তীর্ণ হতো।
পুরোনো দিনের অনেক সুপারহিট, কালজয়ী খ্যাতি পাওয়া সিনেমাতেই এমন পুরুষতান্ত্রিক, বৈষম্যমুলক, পশ্চাৎপদ চিন্তুার দৃষ্টিকটু দৃশ্য আছে। এই যে আমাদের আগের জেনারেশনের অধিকাংশ পুরুষকে আমরা ভীষণরকম পুরুষতান্ত্রিক দেখেছি, তার পিছনে এই ধরনের পুরুষতান্ত্রিক-পশ্চাৎপদ মানসিকতার সিনেমার ভূমিকা আছে। সমাজে এই ধরনের পুরুষতান্ত্রিক গরল ছিল বলেই সিনেমাতে তা উঠে এসেছে, কিন্তু কিছু সিনেমা এই গরলের বিস্তার ঘটিয়েছে। যাদের হিন্দী সিনেমা দেখার সুযোগ ছিল না, তাদের কাছেও এই পুরুষতান্ত্রিক গরল পৌঁছে যেত অনুকরণপ্রিয় বাংলা সিনেমা এবং যাত্রাপালার মাধ্যমে। কবরী-সাবানাদের দেখেছি ফ্যাসফ্যাস করে কাঁদতে কাঁদতে স্বামীর পায়ে কপাল ঠুকতে! যাত্রাশিল্পের তখন রমরমা অবস্থা ছিল। যাত্রার পালাকার, নির্দেশক আর শিল্পীরা এইসব সিনেমা দেখতেন। সিনেমা থেকে পুরুষতান্ত্রিক ওই গরল প্রবেশ করত যাত্রায়, আর যাত্রার মাধ্যমে আপামর জনগোষ্ঠীর মধ্যে আর বিস্তারও ঘটাতো। আমি নিজেও ছেলেবেলায় যাত্রাপালায় নায়িকাকে নায়কের পায়ে মাথা ঠুকতে দেখেছি।

এইসব পুরুষতান্ত্রিক দৃশ্য দেখে স্বামী দেবতাটিও স্ত্রীর কাছে যাত্রার নায়িকার মতো আদর-সোহাগ, সেবা, প্রভুর মতো পূজা আশা করত। না পেলে পেটাত! এখনও গ্রামাঞ্চলে গেলে দেখতে পাই স্বামী নামক দেবতাটি ভাত খেয়ে থালার ওপর হাত ধোয়, আর বাচ্চারা ওই দেবতাটিকে অনুকরণ করে! দেখি দাঁ-কাঁচি থেকে শুরু করে সবকিছু স্বামী দেবতার হাতে তুলে দিতে হয়!

এই স্বামী নামক দেবতাটিকে আপনি কখনও মশারি টাঙাতে দেখবেন না, বিছানা গোছাতে দেখবেন না, বাথরুম পরিস্কার করতে দেখবেন না। তৃষ্ণার জলটুকুও এদের হাতে তুলে দিতে হয়। গ্রাম-শহর সর্বত্র প্রায় একই অবস্থা। বরং যে পুরুষেরা বউয়ের কথা শোনে, মশারি টাঙায় তাদেরকে কটুক্তি করতে শুনেছি শিক্ষিত-সংস্কৃতজনদের!

ধুর, আমি ১৯৬৫ সালের ভীমসিংয়ের কথা কী বলছি, আজকের দিনের কয়জন চলচ্চিত্র পরিচালক আধুনিক-মুক্তবুদ্ধির হতে পেরেছে! আজও দেখলাম একজন নাট্যকর্মী-চলচ্চিত্র পরিচালক কোরানে আত্মসমর্পণ করেছেন!

ঢাকা
১৯ মার্চ, ২০২৬

সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১:৪৪
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমার একটু ঘুম দরকার

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ১৮ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:০৭


আমার একটু ঘুম দরকার—
শান্তির, স্বস্তির গভীর এক ঘুম।
গা এলিয়ে, পা ছড়িয়ে দিয়ে
নিবিড়, নির্বিঘ্ন এমন এক ঘুম;
যে ঘুম পশুপাখির ডাক, মেঘের গর্জন,
বা বাঁশির সুরেও কখনও ভাঙবে না।

প্রভাত থেকে নিশীথ—বিরামহীন পথচলা,
ভাবনারা অহর্নিশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

না ফেরার দেশে চলে গেলেন আমার দাদা

লিখেছেন সাব্বির আহমেদ সাকিল, ১৮ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:৩৮



ঘড়িতে তখন সন্ধ্যা ৭টা ৫৪ মিনিট । চারিদিকে এশার নামাজের আজান শেষ হয়েছে । বাড়ির পুরুষরা সব মসজিদের দিকে ছুটে যাচ্ছে । কিন্তু একজন পুরুষ এইখানে শুয়ে আছেন । পুরুষটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মশা কামড়ায় রে, কামড়ায় ইরানী মশা

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৯ শে মার্চ, ২০২৬ ভোর ৪:৫৭


মশা কামড়ায় রে, কামড়ায় ইরানী মশা
সীমানা পেরিয়ে নীরবে হামলা চালায়
কেউ বলে ড্রোন, কেউ বলে গুপ্তচর
আঁধার রাতে আদান-প্রদান করে খবর!

এর হুলের যন্ত্রণায় আইরন ডোমও কাতরায়
মিসাইলও ভাবে এই যুদ্ধে কে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নবীজি ﷺ -এর অতুলনীয় উপমা: হাদিসে প্রকৃতি ও প্রাণের অপূর্ব ছবি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১৯ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:০৪

নবীজি ﷺ -এর অতুলনীয় উপমা: হাদিসে প্রকৃতি ও প্রাণের অপূর্ব ছবি

এআই দ্বারা তৈরিকৃত ছবি।

আরবের সাহিত্যের স্বর্ণযুগে, যখন কবিতা ছিল জাতির প্রাণশক্তি এবং ওকাজের মেলায় কাব্য প্রতিযোগিতায় শ্রেষ্ঠ কবিতা... ...বাকিটুকু পড়ুন

এসো ঈদের গল্প লিখি.....

লিখেছেন অপ্‌সরা, ১৯ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:১১


সামুতে নেই আর সেই আগের দিনের ঈদগুলো। ঈদের পোস্ট, গল্প লেখা,কবিতা, স্মৃতিচারণ কিছুই আর আজ নেই। সব কোলাহল ছাপিয়ে সামু আজ দাঁড়িয়ে আছে প্রায় অনেকটাই নিশ্চুপ। কেউ কেউ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×