২০১১ সাল- এসএসসি পরীক্ষা সামনে, কিন্তু অবস্থাটা এমন হয়েছিল যে মাঝে মাঝে আমি ভাবতাম, " আচ্ছা আব্বুর অনুপস্থিতিতে তো পরিবারের বাকি তিনটে মানুষের দায়িত্ব আমার কাঁধেই বর্তায়। কিন্তু আমি তো এখনো ঠিকভাবে একা সবজি-বাজারটাও করতে পারিনা! তাহলে?"
ডাক্তার এমনটা বলেছিলেন, "এই রোগী বেঁচে আছেন এটা আল্লাহ্ তায়ালা'র মিরাকল। আমরা অপারেশন করতেই পারি কিন্তু তার বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা নেই।".... এই কথাটুকু শুধু আম্মু, আমি এবং আমার দুই চাচা জানতেন। মনের কান্নাটা কাউকে বুঝতে দিতে চাইতাম না। আসলে এমন একটা কথা কাউকে জানানোর মতও ছিলনা! আব্বু অসুস্থ থাকা অবস্থায়ই দাদা বাড়িতে গিয়েছিলাম, তখন একজন হিন্দু পুরোহিত (আমি কাকা বলে ডাকি) আমার মাথায় হাত রেখে কাঁদতে কাঁদতে বলেছিলেন, "আমি তোমার বাবার সুস্থতার জন্য ভগবানের কাছে পুজো করেছি। আশীর্বাদ করি অনেক বড় হও।" খুব কান্না পাচ্ছিল! শুধু ভাবছিলাম যদি এই মানুষটা, যাকে সবাই এত ভালবাসে; তিনি যদি চলে যান তবে কি হবে? কিভাবে বাঁচবো মাথার উপরের সুবিশাল বট গাছটা ছাড়া?
যথারীতি অপারেশন হয়েছিল। কিন্তু অপারেটিভ রুমে বাবার পাল্স পাওয়া যাচ্ছিলনা। অবশেষে যখন পাওয়া যায় তখন ডাক্তার নিজে কেঁদে দিয়েছিলেন। পরে আম্মুকে ডাক্তার বলেছিলেন, "আল্লাহ্ আপনার হাজবেন্ড এর কথা শুনেছেন। তিনি শুধু তার সন্তানদের জন্য বেঁচে থাকার কথা বলতেন। সেটা আল্লাহ্ কবুল করেছেন।"
গত সেপ্টেম্বরে বাবার ৫৫ বছর পূর্ণ হলো। আল্লাহ্'র রহমতে সব বিপদ কাটিয়ে এখনো 'আব্বু' ডাকতে পারি আমি। এটাই আমার জীবনের অন্যতম বড় পাওয়া।
আসলে আব্বু-দের জন্য কোন দিবস লাগেনা। তবুও আজ একটু বেশি করে বলবো, "আব্বু তোমাকে অনেক ভালবাসি।" ^_^
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে জুন, ২০১৬ দুপুর ১:৩২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




