somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এ কে খন্দকার ১৯৭১:ভেতরে বাইরে বইয়ে নতুন কিছু বলেছেন মনে হলো না

১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৪ রাত ১১:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

স্বাধীনতা যুদ্ধ নিয়ে লেখা এ কে খন্দকারের আলোচিত বইটি আজ দেখার সুযোগ হলো। বইটি কিছুক্ষণের জন্য ধরার বা পড়ার সুযোগ পেলাম। বইটি উল্টে পাল্টে দেখে ও জাম্পিঙ করে এ পাতা ও পাতা থেকে কিছুে পড়ে মনে হলো না বইটিতে তিনি নতুন কিছু লিখেছেন। তবে তার লেখায় তিনি এক অর্থে তা স্বীকারও করেছেন।

বইটির এক অংশে তিনি লিখেছেন-

মুক্তিযুদ্ধের ৪২ বছর পর আমি বইটি লিখছি।তাই বইটিতে তথ্য উপস্থাপনার ক্ষেত্রে আমাকে যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়েছে। আমার তথ্যগুেলোকে বিশ্বাসযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য করে তোলার জন্য আমাকে বেশকিছু বই পড়তে হয়েছে।

এরপর তিনি একটি বইয়ের তালিকা প্রদান করেছেন।

যে বক্তব্য বিষয়ে বইটি আলোচিত ও সমালোচিত এবং বিতর্কের অবতাড়না সৃষ্টি করেছে তাতে লেখা রয়েছে-

বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণেই যে মুক্তিযুদ্ধ আরম্ভ হয়েছিল, তা আমি মনে করি না। এই ভাষণের শেষ শব্দগুলো ছিল ‘জয় বাংলা, জয় পাকিস্তান’। তিনি যুদ্ধের ডাক দিয়ে বললেন, ‘জয় পাকিস্তান’। এটি যে যুদ্ধের ডাক বা স্বাধীনতার আহ্বান, তা প্রচন্ডভাবে প্রশ্নবিদ্ধ এবং তর্কাতীতও নয়।

শেখ মুজিব ‘জয় বাংলা’ এবং তার পরে ‘জয় পাকিস্তান’ বলেছেন কি না তা নিয়েই বোধহয় বর্তমান শাসক দল আওয়ামীলীগ বেশি পরিমাণে বিরোধিতা করে বইটির সমালোচনা করেছে। কিন্তু এ নিয়ে তো আরো অনেকেই বলেছেন এবং বিভিন্ন প্রামাণ্য বা স্বাধীনতা যুদ্ধ নিয়ে লেখা বিশ্বাসযোগ্য ও তথ্যউপাত্ত সত্য হিসেবে বিবেচিত বিই বা প্রকাশনায় লেখা হয়েছে। কিন্তু কেনই বা এই বিশেষ বই নিয়ে শাসক দল আওয়ামীলীগ এত পরিমাণ বিতর্কের অবতাড়না করছেন তার কী বিশেষ কারণ রয়েছে তা আমলে আনতে দ্বিধান্বিত হতে হচ্ছে।

তাহলে কি একটি বই নয় বেশ কয়েকটি বইয়ে একই তথ্য একইভাবে লেখার কারণে আওয়ামীলীগের বিশ্বাসে চিড় ধরেছে, বা এতে বাংলাদেশের জনগণের বিশ্বাসে চিড় ধরবে বলে আওয়ামীিলগি ‍দুর্ভাবনা করছে?!!

অবশ্য এতে তাদের দুর্ভাবনা সৃষ্টি হবার যথেষ্ট কারণ থাকতে পারে। কেন না সাধারণ যুক্তিবিদ্যার সূত্র বা বিচারবোধের বা আইনের সূত্রেই বলে যে, একই তথ্য আলাদা ব্যক্তি একইভাবে সত্য হিসেবে এবং হুবহু একইভাবে উপস্থাপন করলে বা চিত্রিত করলে তা যুক্তিবিদ্যা বা বিচারবোধের বা আইনের সূত্র মোতাবেক ‘সত্য’ বা ’সঠিক’ হিসেবেই ধরা হয়। আর প্রবাদে তো আছে ‘দশচক্রে ভগবান ভূত’।

এই সাধারণ সিদ্ধান্ত বা অনুমান ব্যতীত আমার চোখে আওয়ামীলগের উক্ত বইয়ের প্রতি এত খড়গহস্ত হবার কোনো কারণ তো দেখি না।

কিন্তু এই যদি মূল কারণ হয়ে থাকে তবে বোধকরি আওয়ামীলীগ ঠিক সময়ে বা যথাযোগ্য সময়ে তার প্রতিবাদ বা বিরক্তিবোধ বা ক্রোধ দেখাতে সমর্থ হয়েছে বলে মনে তো হয় না। বরঞ্চ বইটি নিয়ে সংসদের ভেতরে ও বাইরে বিতর্ক করায় জনগণের কাছে আওয়ামীলীগের প্রতি ‘ঠাকুর ঘরে কে রে, আমি কলা খাই না’ এই প্রপঞ্চ বা ধারণা সৃষ্টি হবার প্রবণতাই আমরা দেখতে পাচ্ছি।

যাই হোক, শেখ মুজিব ১৯৭১ সালের ০৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে ’জয় বাংলা’র পরে ‘জয় পাকিস্তান’ বলেছেন বা বলেননি তার পক্ষে বা বিপক্ষে আমার অবস্থান ব্যক্ত করার কোনো ইচ্ছাই ব্যক্তিগতভাবে নেই। তিনি জয় বাংলা বললেও বা তারপরে জয় পাকিস্তান বললে বা না বললেও বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ বোধহয় সৃষ্টি না হয়ে থাকতো না। কারণ ২৫ মার্চের আগেই পাকিস্তান সরকার যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়েছিল। অন্যদিকে যারা বাংলাদেশ সৃষ্টির পক্ষে আন্দোলন করছিল তারা যে ‘প্রস্তুতি’ সম্পন্ন করেনি তা বোধহয় একবাক্যে স্বীকার করলেই ইতিহাসের জন্য স্বস্তিকর। আর এই ‘সত্য’ বা ‘সঠিক তথ্য’ কেউ অস্বীকার করলে বরং স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাসকে বিতর্কিতই করা হবে।

ইতিহাসে যার যতটুকু সম্মান ততটুুকুই তাকে বা তাদের দেয়া দরকার বলেই মনেহয়। আর তাতে যদি ‘জোর করে’ ‘গোয়েবলসীয় প্রচারণা’ কাজে লাগিয়ে কেউ ইতিহাসকে নিজের পক্ষে নিতে চায় তবে তাতে ইতিহাস বিতর্কের সৃষ্টি করবে বলেই তো বোধে জাগে।

এ কে খন্দকারের বইটি আশাকরি আমি পরে বিস্তারিত পড়বো। কিন্তু বইটিতে পুরোনো প্রকাশিত বইয়ের পুরোনো তথ্যই প্রকাশিত বলে মনে হয়েছে। কিঞ্চিত তার ব্যক্তিগত কিছু মন্তব্য বা নিজের কীর্তির বর্ণনা বা নিজের মত ব্যক্ত করা ব্যতীত তার বইটিতে নতুন কোনো কিছু নেই বলেই আমার বিশ্বাস।

আর সামরিক বাহিনীতে চাকুরি করা ব্যক্তিদের বিভিন্ন বই পড়ে আমার মনে হয়েছে, তারা সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে সবকিছু মাপতে চান। কিন্তু একটি জাতির জাতিসত্তার স্বাতন্ত্র্য সৃষ্টির ইতিহাস বা রাষ্ট্রগঠনের ইতিহাসে ‘সামরিক’ তৎপরতা একটি বৃহৎ তৎপরতার কিঞ্চিৎকর অংশ মাত্র।

তিনি বলেছেন, ’আমার ধারণা আমাদের স্বাধীনতা অর্জন আরো স্বল্প সময়ে হতে পারত, যদি সঠিক সময়ে রাজনৈতিক নেতারা স্বাধীনতার প্রস্তুতি নিতেন এবং আমাদের নির্দেশনা দিতেন’। এটা তার মতামত মাত্র। কিন্তু কার্যত সেটা তো হয়নি!

এবং সেটা আগামীর ’ইতিহাস’ সৃষ্টিতে ‘পাথেয়’ বা ভাবনা সৃষ্টির উপাদান হলেও হতে পারে মাত্র। কিন্তু তা বিগত ইতিহাসকে কোনো বিশেষকিছু বিশেষত্ব দিতে অপারগ!

সুতরাং, তার ব্যক্তিগত মতামতকে গুরুত্ব দিয়েই বলা যায়, ইতিহাস নিজস্ব গতিধারায় পরিচালিত হয়ে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। এবং সেই ইতিহাস নিয়ে তিনি একটি মত দিয়েছেন মাত্র। এবং সেই দৃষ্টিকোণ থেকেই বইটিতে তার মতামত আমলে নেয়া যেতে পারে মাত্র। নতুবা তিনি যা বলেছেন তা অন্য লেখকদের চর্বিতচর্বনের রিফাইন করা রূপ মাত্র।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হাসিনা-বিভ্রাট: এটা ট্রল নয়, কূটনৈতিক সতর্কসংকেত

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৮


হাসিনা-বিভ্রাট: এটা ট্রল নয়, কূটনৈতিক সতর্কসংকেত

জাপানের এক প্রভাবশালী সংসদ সদস্যের একটি পোস্ট নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে হাসাহাসি চলছে। আমার মনে হয়, হাসির আড়ালে আসল প্রশ্নটা চাপা পড়ে যাচ্ছে।

ঘটনাটা কী
প্রধানমন্ত্রী... ...বাকিটুকু পড়ুন

পরেছো চশমা গান

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:১৪


কাজল চোখে পরেছো চশমা
লাগছে সুন্দর, দেখছো কি?
প্রণয়ের দেবদারু কিংবা-
কঞ্চি বাঁশের- কৃষ্ণ ছবি;
ডাকছো নাকি হ্যামিলনের বাঁশি

ছায়াহীন ভাবে দেখছো শুধু
ফুলঝুরি নয়, মনে রেখে হিংসা
তবু লাল নীল সাদা চশমায়
রেখে যাও বাতাসের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসরাইলের সাধারণ নির্বাচন।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:২৯


এখন পর্যন্ত প্রকাশিত এক্সিট পোল অনুযায়ী, কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন ৬১টি নিশ্চিত করতে পারেনি।
নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট, প্রায় ৫১–৫২ আসন।
গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট: প্রায় ৪৯–৫১ আসন... ...বাকিটুকু পড়ুন

এক সেকেন্ডের নেই ভরসা

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৩


সংসারের শত দায়িত্ব কাঁধে। ধাপে ধাপে সব পালন করতে হবে। মোটরসাইকেল নিয়ে ভালো মনে রাস্তায় নামলেন রাইড শেয়ার করবেন বলে। হঠাৎ একটা প্রাইভেট কারের সাথে ধাক্কা লাগল। আপনি রাস্তায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:১৮


বাংলাদেশের সমাজে একটি নীরব বিপ্লব ঘটে গিয়েছে। দুই বছর আগে ব্লগে অ্যাকাউন্ট খোলার পর থেকে এই পরিবর্তন নিয়ে কম করে হলেও বিশটির বেশি পোস্ট লিখেছি। এই বিপ্লবের সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×