গরুর গোস্তে আল্লাহু লেখা বা এক হিজাবি মুমিনার মোনাজাতের দৃশ্য, হাজার না, লাখের উপর লাইক।
এরা কারা? সবাই ধার্মিক? মোটেই না। প্রফাইল চেক করলেই দেখবেন এইসব আবাল বেশিরভাবই পর্ন সাইট ভিজিটার বা চটি মেম্বার।
এদের জিজ্ঞেস করলে বলবে 'এসবে লাইক দেয়াতো সোয়াবের কাজ'।
ইসলামি ব্যাঙ্কও জনগনকে বুঝায় সাধারণ ব্যাংকে টাকা রাখা গুনাহর কাজ। ইসলামিব্যাঙ্কে সোয়াব। এমনকি সাধারণ ব্যাংকে চাকরি করাও কবিরা গুনাহ। এ কারণে অনেক সাধারন ব্যাংকারই নিদারূন মনোকষ্টে ভোগেন এবং উপায় না পেয়ে চাকরিও ছাড়তে পারেননা।
আমরা জানি যে ইসলামে সুদকে হারাম করা হয়েছে। কিন্তু কোরান হাদিস পড়লে বুঝা যায় সেটা ছিল আসলে গরিবের উপর আপতিত অতি উচ্চ হারের মহাজনি সুদ, যা সে সময়ে অনেক নিরিহ লোকদের সর্বশান্ত করে দিত। সেই প্রথাকে হারাম করা হয়েছিল সঙ্গত কারনেই।
কিন্তু আধুনিক প্রচলিত অর্থনীতি ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার মামুলি সুদের সাথে ইসলামের বিরোধ থাকার কোন যৌক্তিকতা নেই। তবুও সুদ হারাম এই যুক্তিতে কিছু ধার্মিক নামের আবালদের চেতনা পুজি করে কিছু ইসলামি বুদ্ধিজীবি ইসলামি ব্যাংকের আইডিয়া ফেঁদে বসেছে। মূলত ইসলামি ব্যাংক আর সাধারণ ব্যাংক এর মধ্যে কোন পার্থক্যই নেই, শুধু কাগজে কলমে একটু কারসাজি করে সুদকে মুনাফা/মুদারাবা আর ঋণকে ব্যবসা বলে এটাকে ইসলামি ব্যাংক বলে চালানো হয়। যেমন আপনি সাধারণ ব্যংকে ১০০ টাকা জমা রাখলে ৮% সুদে বছর শেষে পাবেন ১০৮ টাকা। আর ইসলামি ব্যংকে ১০০ টাকা জমা রাখলে তারাও ৮% লাভের গ্যারান্টি দেবে, আর বলে দেবে ব্যাংকের লাভ হলে আপনি আরও বেশি পাবেন (লসের কথা বলেনা)। বছর শেষে দেখা যায় ইসলামি ব্যংকের লাভ সাধারণ ব্যাংকের সুদের মত সেই ৮% এর মতই থাকে।
আবার ধরুন সাধারণ ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে কিছু করলে বা কিনলে আপনাকে ১৫% সুদ দেয়া লাগে। ইসলামি ব্যাংক থেকে টাকা পেলেও আপনাকে সেই ১৫% ই সুদের মত মুদারাবা দেয়া লাগবে তবে তারা এর মাঝে শুধু একটু কায়দা করবে। সেটা হল আপনি যদি ১০ লক্ষ টাকা দিয়ে ১ টি গাড়ী বা কিছু কিনতে চান তাহলে আপনাকে ইসলামি ব্যাংকের মালিকানায় ইসলামি ব্যাংকের টাকায় গাড়ীটির কিনে চালাতে হবে। পরে ১৫% লাভ হিসেবে কিস্তিতে ১১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করেই গাড়ীটির মালিকানা আপনি নিজের নামে করে নিতে পারবেন।

ইসলামি ব্যাংকগুলো যে আমানত ফরম দেয়, তা মূলত সাধারণ ব্যাংকের ফরমের কপি। শুধু নাম আলাদা। তিনি বলেন, ইসলামি ব্যাংকে গ্রাহকের আমানত মূলধন নয়, দায় হিসেবে দেখানো হয়। মুদারাবা আমানত মানে লাভ হলে সেই হারে লভ্যাংশ আর লস হলে সেই হারে ক্ষতির অংশ কেটে আমানত কম হওয়ার কথা, আশ্চর্য হচ্ছে এজাবত ইসলামি ব্যাঙ্কগুলো গ্রাহককে লোকসানের ভাগ চাপায়নি। অন্যান্ন বেসরকারি ব্যাঙ্ক যেভাবে গ্রাহককে সুদ দেয় ইসলামি ব্যাঙ্কগুলো সেই হারেই দিচ্ছে আরবি ভাষায় মুদারাবা নামে।
ইসলামি ব্যাংকগুলো এখন ক্রেডিট কার্ড চালু করেছে। ইসলামী নামও দিয়েছে একটা 'খ্যাদমা'। পরিচালিত হয় আমেরিকান সুদি প্রতিষ্ঠান ভিসা / চেস ব্যাঙ্ক। এ কার্ড শরিয়া অনুমোদন করে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন করেনা কেউ কারন নামটাতো আরবী। ইসলামি ব্যাংকগুলো শুধু খ্যাদমা ক্রেডিট কার্ড চালুই করেনি, তারা সুদভিত্তিক ব্যাংকের চেয়ে বেশি কার্ড ফি (সুদ) নেয়। অর্থ স্থানান্তরেও ইসলামি ব্যাংকএ বেশি ফি দিতে হয়।
ঈদের আগে বা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ব্যাঙ্কে তারল্য সংকটে উচ্চসুদে ঋন নিতে/দিতে হয়, ইসলামি ব্যাংকও কলমানি মার্কেট (আন্তব্যাংক ঋণ) থেকে কমবেশী ঋণ নিচ্ছে/দিচ্ছে। এই সব নির্ভেজাল সুদও ওদের কাছে ইসলামসম্মত ও হালাল।

ইসলামি ব্যাঙ্ক অন্যান্ন সাধারন ব্যাঙ্কের মত প্রচলিত অর্থনীতির খাতে দেশ-বিদেশে বিভিন্ন স্থানে বিনিয়োগ করছে।
তৈরি পোশাক শিল্পে বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও ইসলামী ব্যাংক কাপড়, সূঁচ, সুতা, বোতামসহ আনুষাঙ্গিক সবকিছু আমদানি/ এলসি ব্যাকওয়ার্ড ও ফরোয়ার্ড লিঙ্কেজ শিল্পে বিনিয়োগ। বাংলাদেশের ৬৫টি স্পিনিং মিলে প্রচলিত আর্থিক নিয়মেই বিনিয়োগ করেছে ইসলামী ব্যাংক। উইভিং, নিটিং, ডাইং ও সোয়েটারসহ তৈরি পোশাকশিল্পের সব খাতে রয়েছে ওদের বিনিয়োগ। সবকিছুতেই প্রচলিত মার্কেটিং পলিসি আলোকেই, বেসরকারি খাতের মোট সার আমদানির ৬৫% আসে ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে।
বর্তমানে ইসলামী ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক সহ বিদেশি শেয়ার রয়েছে ৫৮ শতাংশ। আইসিবির বড় ধরনের শেয়ার রয়েছে। ৬০ হাজার সাধারণ শেয়ার হোল্ডার ছাড়াও বিদেশীও আছে। আমেরিকার জেপি মর্গান-এর মতো বড় সুদি প্রতিষ্ঠানও এখন ইসলামী ব্যাংকের বড় একটি শেয়ার হোল্ডার। ১০০% হালাল।
প্রথমেই বলেছিলাম গরুর গোস্তে আল্লাহু লেখা বা এক হিজাবি মুমিনার মোনাজাতের দৃশ্য, লাখের উপর লাইক।
দেশের সহজ সরল আবুল মানুষদের ইসলাম হালাল ব্যাঙ্কিং ও সোয়াবের লোভে ফেলে এ ব্যাংকে ৮০ লাখের বেশি একাউন্ট হোল্ডার!
এক হাজার দু’শো কোটি টাকার পরিশোধিত মূলধনে আবুল গ্রাহকদের পাছা মেরে ব্যাংকে বর্তমানে মোট আমানত রয়েছে ৪২ হাজার কোটি টাকারও বেশি। দেশের মোট ৪৭টি ব্যাংকের যে হিসাব আছে তার সাড়ে ১২ শতাংশ ইসলামী ব্যাংকের একার।
তাই বুঝতেই পারছেন যে কেমনে হইলো ১ নম্বর। যদিও প্র্যাক্টিক্যালি সাধারণ ব্যাংক আর ইসলামি ব্যাংকের মাঝে কোন পার্থক্য নেই।
সুত্র - view this link
বিআইবিএমের সেমিনার
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই জানুয়ারি, ২০১৭ দুপুর ২:২২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



