somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যেভাবে নূর হোসেনের উত্থান

১৮ ই জানুয়ারি, ২০১৭ দুপুর ১:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



শিমরাইল টেকপাড়া এলাকার এক গরিব ঘরের সন্তান ছিল নুর হোসেন।
পিতা ট্রাক শ্রমিক হাজী বদর উদ্দিনের ৬ ছেলের মধ্যে নূর তৃতীয়। দাইমুদ্দিন নামে এক ট্রাকচালকের হাত ধরে প্রায় টোকাই কিশোর নূর হোসেন আসেন পরিবহন লাইনে। বছর খানেক পর ট্রাক হেলপার হিসেবে সিদ্ধিরগঞ্জের ইকবাল গ্রুপে শুরু করেন কর্মজীবন। তারপর
হেলপার থেকে এক বছর পর একই গ্রুপে ট্রাকচালক হিসেবে পদোন্নতি পান নুর হোসেন।
১৯৮৭ সালে তারই ওস্তাদ দাইমুদ্দিন এরশাদ সমর্থক বাংলাদেশ আন্তঃজেলা ট্রাক চালক শ্রমিক ইউনিয়ন শিমরাইল শাখার কার্যক্রম শুরু করেন। পরের বছর দাইমুদ্দিনকে সরিয়ে নিজেই সে শাখার নেতৃত্ব কব্জা করতে বেশি সময় নেয়নি সন্ত্রসে দক্ষ হয়ে ওঠা নুর হোসেন। ১৯৮৮ সালে শিল্পপতি মোহাম্মদ আলীর হাত ধরে তৎকালীন ক্ষমতাসীন জাতীয় পার্টিতে যোগ দেয়ার মাধ্যমে রাজনীতিতে হাতেখড়ি। বিএনপির মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহম্মেদের গাড়িতে বোমা মেরে এলাকায় আলোচনায় এসেছিল নুর হোসেন।

৯০এ এরশাদের পতনের পর দ্রুতই রং বদলে বিএনপি ক্যাডার নেতা বনে যান নুর হোসেন।
১৯৯১ সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কাজ করেন বিএনপির প্রার্থী গিয়াস উদ্দিনের পক্ষে। গিয়াস উদ্দিনের আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে ১৯৯২ সালে সিদ্ধিরগঞ্জ ইউপি নির্বাচনে বিএনপি নেতা হিসেবে ভোট জালিয়াতি ও সন্ত্রাসি কায়দায় সাবেক চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলামকে (নিহত নজরুল ইসলাম কমিশনারের শ্বশুর) পরাজিত করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়। তারপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি। স্থানীয় বিএনপির ব্যাকিং ও পরিবহন শ্রমিক নেতৃত্বের ক্ষমতা এবং সন্ত্রাসকে পুঁজি করে বাড়াতে থাকে অপরাধের সাম্রাজ্য।
শুরুটা ছিল পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি। শিমরাইল ট্রাক টার্মিনাল থেকে প্রতিটি গাড়ির ট্রিপ বাবদ আদায় করতো টাকা। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন (বি-৪৯৪)-এর শিমরাইল পূর্বাঞ্চলীয় কমিটির রসিদে চলতো এ চাঁদাবাজি। ১৯৯৫ সালের এপ্রিলে আদমজীতে খালেদা জিয়ার জনসভায় সামনের সারিতে অবস্থানের মাধ্যমে নারায়নগঞ্জ বিএনপিতে নূর হোসের সুসংহত অবস্থান সবার দৃষ্টিগোচর হয়।

১৯৯৬ সালের মার্চে অসহযোগ আন্দোলনে শিমরাইল মোড়ে নূরহোসেন বাহিনীর সাথে শামিমওসমান বাহিনীর সংঘর্ষ হয়, তার গুলিতে এক আওয়ামী পিকেটার নিহত হয়েছিল। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসে। এর পর ১৯৯৭ সালে অনুষ্ঠিত পরবর্তী ইউপি নির্বাচনেও বিএনপির সমর্থন আদায় করে নুর হোসেন। অন্যদিকে প্রার্থি আওয়ামী লীগ নেতা নিহত সেই নজরুল ইসলাম। দ্বিতীয়বারের মতো সন্ত্রসি কায়দায় বিএনপি নেতা হিসেবে আবার ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন নূরহোসেন। বিএনপি এম্পি গিয়াস উদ্দিনের সমর্থনে গড়ে তোলে শক্তিশালী আন্ডারওয়ার্ল্ড দল। ১৯৯৭ সালে শিমরাইলের সওজ অফিসে হামলা চালিয়ে দখল করে নির্বাহী প্রকৌশলীর রুম। গুলি করে ও বোমা ফাটিয়ে দখল করে কাসসাফ মার্কেটের জায়গা। ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে ১৯৯১ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত নুর হোসেনের হাতেই ছিল সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার অপরাধ জগতের মূল নিয়ন্ত্রণ। ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে এলাকার স্থাবর সম্পত্তি বিক্রি, পরিষদের তহবিল তছরুপ, বন্যার্তদের অর্থ ও ত্রাণসামগ্রী আত্মসাতসহ নানা অনিয়মই ছিল তার নিয়ম। ১৯৯৮ সালের বন্যায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক পানিতে ডুবে গেলে কাঁচপুর থেকে পূর্বাঞ্চলে লঞ্চ চালিয়ে ও চাঁদাবাজি এবং পরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে গাড়িপ্রতি আদায় করতো ২০ টাকা করে। ১৯৯৯ সালে ভুয়া প্রকল্প তৈরি করে সোনালী ব্যাংকের নারায়ণগঞ্জ কর্পোরেট শাখা থেকে উত্তোলন করে ১৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকা।

২০০১ এ বিএনপি আবার ক্ষমতায়। নূর হোসেন কে আর রুখে কে! ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়ের দুপাশে দৈনিক চাঁদার ভিত্তিতে বসিয়ে দেয় হাজারো হকার। কাউন্সিলর অফিসের পিছনে টোকেন দিয়ে প্রকাশ্যেই বিক্রি করে মাদক। ট্রাক স্ট্যান্ড ও নিরালয় সিএনজি পাম্পের পাশের একটি দোতলা ভবনে শুরু করে হাউজি, জুয়া ও যাত্রার নামে মাইকিং করে লটারি ব্যবসা। এ নিয়ে মামলাও হয়। সিদ্ধিরগঞ্জে প্রতিষ্ঠিত অসংখ্য গার্মেন্ট, হিরাঝিল ও আশপাশের এলাকার শিল্পকারখানা ও ডেভেলপার কোম্পানি ছিল তার চাঁদাবাজির আরেকটি বড় উৎস। এক ভাই নুর সালামের মাধ্যমে ভূমি জালিয়াতি করে নিরীহদের জমি দখল, উচ্ছেদ ও মধ্যস্থতার নামে শুরু করে চাঁদাবাজি। শিমরাইল আন্তঃজেলা ট্রাক টার্মিনালকে পরিণত করে মাদক পরিবহনের নিরাপদ ট্রানজিট পয়েন্ট। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জিজ্ঞাসাবাদে নুর হোসেন নিজেই স্বীকার করেছে, নিজস্ব বাহিনী দিয়ে প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে প্রতিদিন কোটি টাকা চাঁদা আদায় করতো সে। এ কাজে সে সাড়ে তিনশ লোক নিয়োজিত করেছিল। এদের জনপ্রতি প্রতিদিন পাঁচশ টাকা বেতন ছাড়াও খাবার জন্য খোলা হয়েছিল একটি হোটেল। এভাবে সহজেই সম্পদের পাহাড় গড়ে নুর হোসেন। রাজধানীর গুলশান, বনানী ও ধানমন্ডিতে চারটি ফ্ল্যাট, শিমরাইলে ১১ শতাংশ জমির ওপর ৫ তলা বাড়ি, ১০ শতাংশ জমির ওপর ৬ তলা ২টি বাড়ি, রসুলবাগে সাড়ে ৮ কাঠা জমির ওপর ৭ তলা ভবনসহ ৫টি বিলাসবহুল বাড়ি ও ৪টি ফ্ল্যাটসহ ৫০ বিঘা জমি ও শিমরাইল টেকপাড়ায় মূল বাড়ির পেছনে ৪০ বিঘার মৎস্য খামারের মালিক, শত কোটিপতি হয়ে ওঠে একদা ট্রাক হেলপার নুর হোসেন।
২০০২ এ ক্লিন হার্ট অপারেশনের সময় ভারতে গা ঢাকা দেয় নুর হোসেন, চাদাবাজি অব্যাহত ছিল। খুন, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, অবৈধ দখলদারিত্বসহ অনেক অভিযোগ ছিল ২০০৭ সালের ১২ই মার্চ ফক্রুদ্দিন তত্যাবধয়ক সরকার তার বিরুদ্ধে রেড ওয়ারেন্ট জারি করে ইন্টারপোলের মাধ্যমে। ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর শামিম ওসমানের মত ইতি ঘটে তার ফেরারি জীবনের। ২০০৯ সালের ২০শে জুন সিদ্ধিরগঞ্জে ফেরার কিছু দিনের মধ্যেই চাঁদার দাবিতে দখল করে নেয় শিমরাইল মোড়ের এ রহমান সুপার মার্কেটের সামনের জায়গা। ২০০৯ সালের ৯ই জুলাই কাঁচপুরে শীতলক্ষ্যার তীরে বিআইডব্লিউটিএ কর্মকর্তারা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে গেলে তাদের ধাওয়া দেয় নুর হোসেন ও তার বাহিনী। ২০১০ সালে হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে শীতলক্ষ্যার তীর দখল করে বালু-পাথরের ব্যবসা গড়ে তোলার অপরাধে মামলা করে বিআইডব্লিউটিএ। অভিযোগ আনা হয় নদী তীরের প্রায় ৮০০ শতাংশ জমি দখলের। তার চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে ২০১২ সালে পুলিশ ও র‌্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ করে ঢাকা সড়ক পরিবহন সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েতুল্লাহ। ২০০০ সালের ১লা অক্টোবর থানা আওয়ামী লীগ অফিসের সামনে যুবলীগ নেতা মতিনকে গুলি করে হত্যা করে নুর হোসেনের বাহিনী।

২০১১ সালে প্রথম নাসিক নির্বাচনে উদারতার ফাকে আবার নির্বাচিত হয়ে যায় ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পর শিমরাইল মোড়ে পরিবহন ও ব্যবসা খাতে চাঁদাবাজি, সিদ্ধিরগঞ্জ বিদ্যুৎকেন্দ্রের টেন্ডারবাজি, সওজ বিভাগের শিমরাইল অফিসে টেন্ডারবাজির নেতৃত্বে ছিল সে। তার ভাই জজ মিয়াকে দিয়ে যুবলীগ নেতা শহীদুল্লাহকে হটিয়ে দখল নেয় কাঁচপুরের পাথর ও বালু ব্যবসা। সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগ নেতাদের ম্যানেজ করে ২০১৩ সালের ২৯শে মে মোটা অঙ্কের ঘুষ দিয়ে বাগিয়ে নেন সিনিয়র সহ-সভাপতির একটি পদ। ২০১৩ সালের শেষদিকে বন্দরের মদনপুর এলাকায় একটি হাউজিং কোম্পানির জমি দখলের জন্য অস্ত্রের মহড়া দেয় নুর হোসেন। পরে ওই হাউজিং প্রকল্পে বালু ভরাটের কাজও পায় সে। হত্যার চার মাস আগে আওয়ামী লীগ নেতা নজরুল ও তার সহযোগীদের সিদ্ধিরগঞ্জ বিদ্যুৎকেন্দ্র ও আদমজী ইপিজেডের ব্যবসা ছিনিয়ে নেয় নুর হোসেন। সার্বক্ষণিক তার সঙ্গে থাকতো ১৪টি লাইসেন্সকৃতসহ ১৬টি আগ্নেয়াস্ত্র। মোটা অংকের বিনিময়ে অনেক খুন-গুমের কাজে ভাড়ায় খাটতো নুর হোসেন। গজারিয়া উপজেলা নির্বাচনে খুন হওয়া শামছু চেয়ারম্যানের স্ত্রী গণমাধ্যমের কাছে অভিযোগ করেছেন, তার স্বামীর হত্যার পিছনে এক এমপি ও ভাড়াটিয়া ক্যাডার নুর হোসেন দায়ী। যা ওই সময় অধিকাংশ গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়। ২০১৪ সালের ১৯শে মে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম গণমাধ্যমে অভিযোগ করেছিলেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয় সুধাসদনে যাতায়াত করতো নুর হোসেন।

নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে শামীম ওসমানের শিষ্য হিসেবে নুর হোসেনকে দেখা যেতে থাকে হত্যাকান্ডের অল্পকিছুদিন আগে। ক্রমেই ভাঙছিলেন ঊর্ধ্বমুখী সিঁড়ি। শামীম ওসমানের গণ্ডির বাইরে উপরের স্তরেও ছিল তার রাজনৈতিক যোগাযোগ। সেটাই প্রমাণ করে বিগত সরকারের আমলে নূর হোসেনকে প্রশাসক বানানোর জন্য স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বরাবর প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচটি ইমামের চিঠি। তবে বেশিরভাগ সময়ে শামীম ওসমানকে এড়িয়েই চলত নুর হোসেন।

১৯৯৭ সালে ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্যানেল মেয়র নজরুলের সঙ্গে তার দ্বন্দ্বের সূত্রপাত। নির্বাচনের পর তারা একে অপরকে হত্যার নানা চেষ্টা চালায়। ১৯৯৮ সালে নজরুলের কিলারের গুলিতে আহত হয় নুর হোসেন। ২০০০ সালে স্থানীয় আওয়ামী লীগ অফিসে নজরুলের ওপর নুর হোসেন বাহিনীর হামলায় নিহত হয় মতিন নামে এক যুবক। নুর হোসেন ও নজরুলের বিরোধের শেষ পরিণতি ছিল সাত খুন। ২০১৪ সালের ২৭শে এপ্রিল এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে এলিট ফোর্স র‌্যাব। স্থানীয় এমপি শামীম ওসমানের সঙ্গে এক টেলিফোন সংলাপের প্রকাশ হলে তুঙ্গে ওঠে এ আলোচনা।
সাত খুনের ঘটনা প্রকাশের পর শামীম ওসমান প্রথম আলোকে বলেছিলেন, ‘নূর হোসেন আমার কর্মী ছিল। কিন্তু সে যে এত বড় অপরাধী, সে যে নজরুলকে খুন করে ফেলতে পারে, এটা আমি কল্পনাও করতে পারিনি। এখন আমি সব বুঝতে পারছি। তাই নূর হোসেনের ব্যাপারে আমার অবস্থান বদলেছে।’
দীর্ঘদিন প্রাণের ভয়ে তার বিরুদ্ধে মুখ খোলেনি এলাকাবাসী। সেভেন মার্ডারে ফেঁসে যাওয়ার পর বেরিয়ে আসে তার অপরাধ জগতের নানা কাহিনী। অপরাজনীতির ছত্রছায়ায় কথিত বড় ভাইদের আশীর্বাদে সে অপরাধের বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল।

২০১৪ সালের ১৪ই জুন দুই সহযোগীসহ কলকাতায় গ্রেপ্তার হয় নুর হোসেন। এতবড় ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডে ক্ষমতাসিন সরকার হাতপা গুটিয়ে বসে থাকতে পারে না। তারা যত ক্ষমতাবানই হউক যেকোন মুল্যেই এই চক্রের নির্মুল চায় সরকারি হাই কমান্ড। সরকারের উর্ধতনের শক্ত অবস্থানে ভারতে পালিয়েও পার পাননি নুর হোসেন। সরকারি পর্যায়ে যোগাযোগের মাধ্যমে ২০১৫ সালের ১৩ই নভেম্বর বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় প্রশাসন বিশেষ ব্যাবস্থায় তাকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করে। ভারতীয় সীমান্তবর্তী এক বিএসএফ ক্যাম্পে জেরার সময় নুর হোসেন নিজেই স্বীকার করে, প্যানেল মেয়র নজরুলকে মারার জন্য র‌্যাবের সঙ্গে কন্ট্রাক্ট করেছিল সে।

গতকাল নারায়ণগঞ্জে আলোচিত সাত খুনের মামলায় র‍্যাব ও সেনাবাহিনী সহ পাঁচ বাহিনীর সাবেক ১৬ কর্মকর্তা ও সদস্যসহ ২৬ জনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিল আদালত। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মধ্যে আছেন নারায়ণগঞ্জের সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর নূর হোসেন ও তাঁর অপরাধজগতের ৯ সহযোগী। এ ছাড়া ওই সব বাহিনীর আরও নয় সাবেক কর্মীকে বিভিন্ন মেয়াদের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ক্ষমতার দাপটে প্রভাবশালীদের অপরাধ বিভিন্ন সময়ে মাফ হয়ে যাওয়ার প্রচলিত ধারনা গতকাল আদালতের রায়ে ভুল প্রমাণিত হলো।

নিজের উত্থান নিয়ে নুর হোসেন বলেন,
‘আমি মূলত বাসের হেলপার ছিলাম, এরপর ড্রাইভার। অনেক কষ্ট কইরা এই জায়গায় আইছিলাম, এখন সবই শেষ।’


সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই জানুয়ারি, ২০১৭ দুপুর ২:০৮
১৪টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৭

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

মঙ্গলবার রাত ১০টা ২৭ মিনিট। গুলশানের একটি হাসপাতালে থেমে গেল ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের হৃদয়- দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর।

আর ঠিক তখন, শহরের অন্য প্রান্তে, মুন্সিগঞ্জ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×