somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এত মামলা থাকতে এই ফালতু মামলায় ফেসে গেল

৩১ শে জানুয়ারি, ২০১৭ দুপুর ১:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গতকাল জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মামলাটির পুনঃতদন্তের আবেদন জানিয়ে খালাস দাবি করেন।
একই দিনে নারায়ণগঞ্জের বহুল আলোচিত সাত খুনের মামলার প্রধান আসামি মৃত্যৃদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত নূর হোসেন মামলা বাতিল ও খালাস চেয়ে আপিল দায়ের করেছেন।
বাঁচার কোন উপায় না থাকলে এমনটাই হয়।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা।

এত মামলা থাকতে এই ফালতু মামলায় এত গুরুত্ব দেয়ার কি আছে?
আসলে “পচা সামুকেই ঠ্যাং কাটে”
এটি একমাত্র মামলা যা কনভিক্ট করতে উকিল সাহেবদের খুব একটা কষ্ট করা লাগে নি।
কারন প্রমান হাতের কাছেই। ট্রাস্টের তহবিলের সমুদয় অর্থ ব্যক্তি নামে কাটা চেকের মাধ্যমে ট্রান্সফার করে আত্মসাৎ করার ট্রান্সফার স্লিপ, চেক বই, স্বাক্ষর করা চেক সহ সকল প্রমান পাওয়া গেছে। ব্যাঙ্কগুলোতেও সকল ডকুমেন্ট অক্ষত আছে। অল্প টাকা বিধায় বিপুল ক্ষমতার বলয়ে থাকা আত্মসাতকারিরা টাকা সরানোর সময়ে তেমন সতর্ক ছিলনা বলেই মনে হয়। ভেবেছিল “আমাদের একাউন্টের টাকা আমরা নেব এতে কার বাপের কী”!

এই মামুলি মামলাটিতে তাদের বাঘা বাঘা ব্যারিষ্টাররা হিমশিম খেয়ে এখন সাফ বলে দিয়েছে, – “এই মামলায় ন্যায়বিচার পাওয়ার কোন সম্ভাবনাই নেই”।
তারা মামলাটি বিলম্বিত করতে ৯ বছরে একাধিক বার উচ্চ আদালতে গিয়ে রিট করেছে, বেঞ্চের পর বেঞ্চ বদল, বিচারক বদল, আবার বিচরক বদল। এত করেও এই অর্থমামলাটি থামাতে বা বেশী বিলম্বিত করতে পারেনি। রাষ্ট্রপক্ষও তাদের সব আবদার মিটিয়ে বার বার বেঞ্চ বদল বিচারক বদল করেছে, অকারন সময় প্রার্থনার দাবি মেনে নিয়েছে বার বার। এখন মামলা রায়ের পথে

মুল ঘটনা।

১৯৯১ সালের ৯ জুন এক সৌদি প্রিন্স নাম গোপন রেখে ১২ লাখ ৫৫ হাজার মার্কিন ডলার বাংলাদেশের যে কোন এতিমখানার জন্য দান করেন। তৎকালিন পি এম এটি কোন চালু এতিমখানায় না পাঠিয়ে নিজেরাই একটি এতিমখানা বানানোর ব্যাবস্থা করেন।
১৯৯১-৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন সোনালী ব্যাংকের রমনা শাখায় খালেদা জিয়ার পক্ষে ‘প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিল’ নামে একটি সঞ্চয়ী হিসাব খোলা হয়। যার চলতি হিসাব নম্বর ৫৪১৬। এই এ্যাকাউন্টে ১৯৯১ সালের ৯ জুন এক সৌদি দাতার পাঠানো ইউনাইটেড সৌদি কর্মাশিয়াল ব্যাংকের ডিডি নম্বর ১৫৩৩৬৭৯৭০ মূলে ১২ লাখ ৫৫ হাজার ইউএস ডলার যার মূল্য ততকালীন বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময়ে বাংলাদেশি টাকায় ৪ কোটি ৪৪ লাখ ৮১ হাজার ২১৬ টাকা অনুদান হিসেবে জমা হয়। ১৯৯১ সালের ৯ই জুন থেকে ৫ই সেপ্টেম্বর ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়া সোনালী ব্যাংকের উক্ত একাউন্টে জমাকৃত এই অর্থ কোনো এতিমখানায় প্রদান করেননি।
এই সময়ের মধ্যে তারেক রহমান ‘সমাজ সেবার ব্রত’ নিয়ে আরাফাত রহমান ও মমিনুর রহমানকে সঙ্গে নিয়ে Trust Act, 1882 এর ধারা ৬ এর বিধান অনুযায়ী জিয়া অর্ফানেজ ট্রাস্ট গঠন করেন। যদিও এই ট্রাস্ট গঠনের প্রক্রিয়ায় আরাফাত রহমানের কোন সাক্ষর না থাকায় তাকে এ মামলায় আসামী করা হয়নি। ১৯৯৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর গুলশান সাব রেজিস্ট্রি অফিস থেকে ট্রাস্টের নাম নিবন্ধন করা হয়। যার ঠিকানা হিসেবে সেনানিবাসের ৩ শহিদ মঈনুল রোডের বাড়ির ঠিকানা ব্যবহার করা হয়। এ সময় তারেক রহমানকে দি অথর বা দি সেটেলর অব দি ট্রাস্ট (ট্রাস্ট সৃষ্টিকারী) নিয়োগ করা হয় এবং মমিনুর রহমান এই ট্রাস্টের ট্রাস্টি হন।

অভিযোগ অনুযায়ী, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের প্রথম ৫০ লক্ষ টাকা (ব্যক্তিনামে) কাজী সলিমুল হকের নামে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের একাউন্ট থেকে ট্রান্সফার করা হয়। অভিযোগে আরো বলা হয়, এই শাখায় কাজী সলিমুল হকের নামে ট্রন্সফার করে পরবর্তীতে ২ কোটি টাকার আরো দু’টি এফডিআর খোলা হয়। যা তিনি নিজ নামেই ট্রান্সফার করেন। এছাড়া ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদের ছেলে সৈয়দ আহমেদের নামে একটি ১ কোটি টাকা এবং দুজনের যৌথ নামে আরেকটি ১ কোটি টাকার এফডিআর খোলেন কাজী সলিমুল হক। এদের মধ্যে সৈয়দ আহমেদ এখন মৃত। এই দুই এফডিআর থেকে গিয়াস উদ্দিন আহমেদের এফডিআরে ট্রান্সফার হয়। এর কিছুদিন পরই গিয়াস উদ্দিন আহমেদ তার এফডিআরের এক কোটি টাকা ভেঙে ৫০ লাখ টাকার ২টি এফডিআর করেন। এরপর আবার সেই এফডিআর ভেঙ্গে শরফুদ্দিনের একাউন্টে ৬টি পে-অর্ডারের মাধ্যমে টাকা ট্রান্সফার করেন। পরে শরফুদ্দিন আহমেদ ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা তুলেন।
কোন ক্যাশমেমো, ভাউচার, চুক্তিনামা, ইনভয়েস ছাড়া ব্যক্তিনামে এই ২,১০,৭১,৬৪৩ টাকা হস্তান্তরের নামে আত্নসাতই জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার ভ্যালু।

ট্রাস্ট আইনের বিধি মোতাবেক যে কোন ট্রাষ্টকে অনেকটাই আর্থিক স্বাধীনতা দেয়া হয়, খরচ করতে অনুমোদন লাগেনা, তবে ভাউচার লাগে। অডিট হয় তবে ট্রাস্টিকে কারো নিয়ন্ত্রণের মধ্যে কাজ করতে হয় না। তবে এত স্বাধীন না যে কোন ব্যাক্তি নামে কোটি কোটি টাকা দিয়ে দিবে।

অরফানেজ ট্রাস্টে বিশেষ মানুষের বা বিশেষ শ্রেণীর (এতিম-দুস্থ, সংখালঘু, ধর্মিয়, বা প্রতিবন্ধি ইত্যাদি) কল্যাণের জন্য সৃষ্টি করা হয়। যদি ট্রাস্ট কর্তৃক ট্রাস্টের শর্তাবলী কিংবা ট্রাস্ট আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে বড় ধরনের আর্থিক বা অন্যান্য অনিয়ম করা হয়, তাহলে বেনেফিশারি অর্থাৎ ঐ বিশেষ শ্রেণী (এতিম-দুস্থ পক্ষ) এর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারে।
এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্র দেশের সকল এতিম-দুস্থদের অভিবাবক। সঙ্গত কারনেই ২০০৮ এ রাষ্ট্রপক্ষের আইনানুগ সংস্থা দুদক রাষ্ট্রের পক্ষে ২,১০,৭১,৬৪৩ টাকা “আত্মসাৎ” এর অভিযোগ এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়, ও মামলা দায়ের করে।

অল্প টাকা বিধায় শাস্তি হবে মামুলি জরিমানা অল্পকিছুদিন জেল।
এতিমদের টাকা আত্নসাত অনৈতিকতার নিকৃষ্ট উদাহরন থেকে যাবে অনেকদিন।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে জানুয়ারি, ২০১৭ দুপুর ১:৩৬
৮টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রবীন্দ্রনাথের নামে কত শত অভিযোগ

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০৫


*রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নাকি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা চুরি করে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন! বাস্তবতা হলো, রবীন্দ্রনাথ যখন নোবেল পান, নজরুল তখন লেখালেখেই শুরুই করেননি। তাঁর বয়স সবে ১৪ ছিল।

প্রাপ্ত বয়সে নজরুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

এ আগুন আপনাদেরও একদিন গ্রাস করবে।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১৩


আজ যারা ধর্ম, জাতীয়তা ইত্যাদির ভিত্তিতে ও তাঁর কথিত “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরোধিতা”, “মুসলিম বিদ্বেষী” সহ নানা মিথ্যা অভিযোগ আর অজুহাতে রবীন্দ্রনাথ বিদ্বেষের ব্যাপারে চূড়ান্ত বাড়াবাড়ি ও ইতরামি দেখিয়ে বেড়াচ্ছে তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাটায় - পুটায় ঘষাঘষি, মাঝখানে মরিচদের জীবন শেষ?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৪ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩১

আওয়ামী তথা ভারতীয়দের নমস্য রবী বাবুর চিত্রে কালিমা লেপন।
দুই দিন পরে, আওয়ামী বিরোধীদের 'রবী' ইউনুস সাহেবকে গালাগালি!!!
এ যেন পাটাপুটায় ঘষাঘষি করে অভাগা মরিচদের জীবন শেষ করার চেষ্টা?
কিন্তু, রবী বাবু কিংবা... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাসূল (সা.), আহলে বাইত ও সাহাবায়ে কেরামের (রা.) অনুচিত কাজের সমালোচনা ও সমর্থন করা যাবে না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৪ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৫:৪১




সূরাঃ ৮ আনফাল, ৬৭ থেকে ৬৯ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬৭।দেশে ব্যাপকভাবে শত্রুকে পরাভূত না করা পর্যন্ত বন্দী রাখা কোন নবির উচিত নয়। তোমরা পার্থিব সম্পদ কামনা কর। আল্লাহ চান... ...বাকিটুকু পড়ুন

রঠার মুসলিম বিদ্বেষ

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৪ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:১৮



রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর সংক্ষেপে রঠা এর ছোট গল্প "রীতিমত নভেল" এ রঠা মুসলমান শব্দের সমার্থক হিসেবে ব্যবহার করেছেন ‘যবন’। যবন অর্থ অসভ্য, ম্লেচ্ছ, অপবিত্র, বর্বর জাতি, যেকোনো বিদেশি ইত্যাদি ইত্যাদি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×