
নিরাপত্তার কারন, মাতাল বা কোন যাত্রী অন্যের বিরক্তির কারন হলে এয়ারলাইন কতৃপক্ষ ভ্যালিড টিকেট বোর্ডিংপাস থাকলেও যে কোন যাত্রীকে বিমান থেকে নামিয়ে দিতে পারে।
কিন্তু এখানে ঘটনা ভিন্ন।
আমেরিকায় একজন যাত্রীকে নিরাপত্তা কর্মীরা বিমান থেকে টেনে হিঁচড়ে নামানোর একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর বিমান সংস্থার বিরুদ্ধে সোশাল মিডিয়ায় ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে।
এতে দেখা যাচ্ছে, শিকাগো থেকে লুই্সভিলগামী ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটের সিট থেকে একজন যাত্রীকে নিরাপত্তা কর্মীরা টেনেহিচড়ে নামাচ্ছে।
যাত্রীটির মুখমণ্ডল ছিল রক্তাক্ত এবং তিনি প্রাণপণে চিৎকার করছিলেন।আশেপাশের যাত্রীরাও মাইগড, মাইগড বলে বিষ্ময়প্রকাশ করছিলেন।
শিকাগো ওহায়ার বিমানবন্দরে রোববার ৯ এপ্রিল ঐ ফ্লাইটে ধারণক্ষমতার বেশি যাত্রীর কাছে টিকেট বিক্রি করা হয়েছিল।
এরই মাঝে ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের চারজন ফ্লাইট কর্মচারীর জরুরিভাবে কর্মস্থলে পৌছানোর জন্য সিটের প্রয়োজন দেখা দিলে, ইউনাইটেডের স্টাফ বিমানে উঠে ঘোষণা করে যেসব যাত্রী স্বেচ্ছায় এই ফ্লাইটে তাদের সিট ছেড়ে দেবেন তাদের প্রত্যেককে ৪০০ ডলার করে দেয়া হবে এবং একই সাথে পরদিন পরবর্তী ফ্লাইটে উঠিয়ে দেয়া হবে।
ঐ প্রস্তাবে কোন যাত্রী সাড়া না দিলে নগদ অর্থের পরিমাণ (৫০০ + হোটেল + নেক্টস ডে ফ্লাইট কনফার্ম) বাড়ানো হয়, পরে আরো বাড়িয়ে ৮০০ করা হয়। কেউ সিট ছাড়তে রাজি না, কারন ব্যাস্ত আমেরিকায় পরদিন সোমরার কাজের দিনের সুরু।
কিন্তু কোনভাবেই কেউ সিট ছাড়তে না চাইলে ইউনাইটেড কতৃপক্ষ চারজন যাত্রীকে জোর করে নামানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
স্টেষন ম্যানেজার বিমানে এসে বলে "আমরা যে চারজন কে সিলেক্ট করবো তাদেরকে এনি হাউ নামতেই হবে"
রয়টার্সের খবরে বলা হয়, ৭০ আসনের United Express Flight 3411 বিমানে আসনের চেয়ে বেশি টিকেট বিক্রি করা (ওভারবুক্টড) হয়েছিল, মানে ফ্লাইটক্রুদের রিজার্ভ সিটও বুকিং দেয়া হয়েগেছিল।
আমেরিকান আভ্যন্তরিন ফ্লাইটে এটা স্বাভাবিক ঘটনা, এমনিতেই বেশিরভাগ বিমান অর্ধেক সিট খালি যায়, আবার পিকটাইমে পারলে গলা পর্যন্ত ভরে।
দুই জোড়া কাপল সিলেক্ট করে জোর করে নামানোর পর্যায়ে তুমুল হট্টগলের ভেতর তরুন কাপল বার্গেনিং করে ২০০০ ডলার নিয়ে নেমে যায়। আরেকজনের সুধু স্ত্রী নেমে যায়, স্বামির কেন্টাকি যেতেই হবে। এরপর দরকার সুধু একজনকে নামানো, একজন বয়ষ্ক ব্যাক্তি বিমানকর্মিদের বেশী বকাবাদ্য করছিল। স্টেষন ম্যানেজার তাকেই টার্গেট করে বলল -
"কিছু বুঝি না, এই শালারেই নামা"
লোকটি বলছিল "আমি একজন ডাক্তার .. কাল পেশেন্ট এপয়েন্টমেন্ট আছে .. মগের মুল্লুক নাকি! ... আমি এখুনি আমার লয়িয়ারের সাথে কথা বলবো"।
তখন বলা হল "বিমানে মোবাইলে কথা বলা নিষেধ" বলে মোবাইল কেড়ে নেয়া হয়।
অনলাইনে অন্য যাত্রীদের পোস্ট করা ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, আসন থেকে এক বয়ষ্ক এশিয়ানকে প্রবল জবরদস্তি করে সিট থেকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে বিমান নিরাপত্তা কর্মিরা। ওই যাত্রী তখন চিৎকার করছিলেন।
ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, অনেকটা নিস্তেজ হয়ে যাওয়া লোকটির দুই হাত ধরে মেঝে দিয়ে বস্তার মতো করে টেনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ওই যাত্রীর মুখ রক্তাক্ত দেখা গেছে।
এই এয়ারলাইন্সের বিরুদ্ধে যাত্রীহয়রানি নতুন কিছু না।
এক মাস আগে ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের বিরুদ্ধে যাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যাবহার করার অভিযোগে সমালোচনা হয়েছিল। এ নিয়ে টুইটার ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মানুষ ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের কড়া সমালোচনা করেছেন।
ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের সিইও অস্কার মুনোজ ওই ঘটনার জন্য ক্ষমা চাইতে অস্বীকৃতি জানান।
তিনি বরং বলেছেন, ওই যাত্রী নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের কথা ‘অমান্য’ করেছেন। তবে একথাও বলেন, এ ঘটনা থেকে কোম্পানির অনেক কিছু শেখার আছে। পেশাদার এই কর্তা ‘জোর’ দিয়ে কর্মীদের পাশে থাকারও অঙ্গীকার করেন।
ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি সামজিক মাধ্যমে লিখেন, ‘আমরা এক পর্যায়ে তাকে স্বেচ্ছায় নেমে যাওয়ার প্রস্তাব দেই। এরপর আমরা যথাযথভাবে তাকে সরাতে যাই। এমনকি নিয়মানুযায়ী সর্বোচ্চ ১ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রস্তাব পর্যন্ত দেই। আমরা যখন ক্ষমা প্রার্থণাপূর্বক এক যাত্রীর কাছে বলি যে, তাকে এই বিমান থেকে চলে যেতে হবে, তখন তিনি গলা চড়ান। পাশাপাশি ক্রু মেম্বারদের নির্দেশনা পালনে অসম্মতি জানান।’
আমেরিকার পরিবহন বিভাগ (ডিওটি) ও নিরুপায়। টিকেটের সর্ত বিশাল, এত ছোট গুরি গুরি কঠিন ভাষায় লেখা, আমাদের জিপি ও হার মানবে। মামলা করে কেউ কিছুই করতে পা্রার কথা না।
DOT দায় সারা বিবৃতিতে বলেছে, যদি যাত্রীরা তাদের আসন ছাড়তে রাজি না হন, তাহলে কী রীতি অনুসরণ করতে হবে তার পরিষ্কার গাইডলাইন তৈরি করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে প্রতিটি এয়ারলাইন্সের। ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স ওই নিয়ম পালন করেছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে।
ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের চারজন ফ্লাইটক্রু পাঠিয়ে অনত্র লাভ বা ক্ষতিসামাল দিয়েছে।
কিন্তু এই বাড়াবাড়ি ঘটনার পরোক্ষ ক্ষতি বহুগুন বেশী।
ডেইলি মেইল বলেছে ইউনাইটেডের শেয়ার ৪% ডাউন, যাত্রীও কমে গেছে, রেপুটেশন ক্ষতি কমপক্ষে ১০ মিলিয়ন ডলার।
ফ্লাইট ডিলে, লাগেজ হারানো, ইমিগ্রেশনে ... আসলে সবদেশে সবক্ষেত্রেই সাধারন যাত্রীরা অসহায় নিরুপায়।
সংযোজন ১৪ এপ্রিল।
ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের বিমান থেকে টেনেহিঁচড়ে যে ব্যক্তিকে নামিয়ে আনা হয়েছিল ওনার নাম জানা গেছে।
ওনার নাম ড. ডেভিড ডাও। তিনি একজন এশিয়ান(চাইনিজ কোরিয়ান) আমেরিকান। তিনি ওই বিমান সংস্থার বিরুদ্ধে মামলা করছেন। ইলনয়ের কোর্টে তিনি আইনজীবীর মাধ্যমে এ বিষয়ে ইমার্জেন্সি আবেদন করেছেন। ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে বিমান সংস্থাটিতে ও বিমানবন্দরে ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য প্রমাণ সংরক্ষণ করার নির্দেশ দিয়েছে। মক্কেলের প্রতি অবিচার হতে পারে এমন আশঙ্কায় তার আইনজীবীরা ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স, ওহায়ার বিমানবন্দর কতৃপক্ষ ও শিকাগো সিটির কাছে আহ্বান জানিয়েছেন ওই বিমানের যাত্রী ও ক্রুদের লিস্ট, ককপিটের রেকর্ডকৃত বক্তব্য, নজরদারির ভিডিও ফুটেজ, আভ্যন্তরীণ মেমো ও অন্য প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো যাতে নষ্ট না হয়, সংরক্ষণ করা হয়।
ভিডিও সুত্র -
view this link
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই এপ্রিল, ২০১৭ ভোর ৫:১৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



