তারেক রহমানকে দেশ থেকে বের করে দিতে ১-১১ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হয়ে নিগোসিয়েশনে জামাতে ইসলামের আলী আহসান মুজাহিদের ও একটা ভূমিকা ছিল।
বিষয়টি তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূতের কাছে স্বীকার করেছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দুই উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান এবং গোলাম কাদের। একটি তারবার্তায় এমনটাই লিখেছিলেন মি. মরিয়ার্টি।
তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, ২০০৮ সালের ২৮শে অগাস্ট তৎকালীন বিএনপি মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেন এবং জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকে পাঠানো হয়েছিল। কারাগারে খালেদা জিয়ার সাথে একটি বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে উপস্থিতি ছিলেন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা বা ডিজিএফআই-এর তৎকালীন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার এটিএম আমিন। দু'হাজার আট সালের ৩রা সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রদুত মি. মরিয়ার্টি ওয়াশিংটনে যে তারবার্তা পাঠান, সেখানেও এ কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।
মি. মরিয়ার্টি জানান, কারাগারের ভেতর ওই বৈঠকে খালেদা জিয়ার সঙ্গে মুজাহিদ ও ব্রিগেডিয়ার আমিনের আলোচনা হয়। খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের মুক্তি এবং মুক্তির পর তারেক রহমানকে নিরাপদে বিদেশে পাঠানোর বিষয় ওই আলোচনায় উঠে আসে। এছাড়া, রাজনীতি থেকে তারেক রহমানের কিছু সময়ের জন্য বিরতি (নির্বাসন) যাওয়ার কথাটিও তখন আলোচিত হয়।
কারাগারে খালেদা জিয়ার সাথে খন্দকার দেলোয়ার হোসেন এবং আলী আহসান মুজাহিদের উপস্থিতি ও বৈঠকের বিষয়টি মওদুদ আহমদও নিশ্চিত করে তাঁর বইয়ে লিখেছেন।
বই লিখে পরবর্তীতে বিএনপির ভেতরেই সমালোচনার মুখেও পড়েছিলেন মওদুদ আহমদ।
"খন্দকার দেলোয়ার হোসেন এবং আলী আহসান মুজাহিদকে সাব-জেলে খালেদার সঙ্গে দু'ঘণ্টার জন্য দেখা করতে দেয়া হয়েছে। এতে বোঝা যায় যে, এখন সিরিয়াস ধরণের রাজনৈতিক দেন-দরবারের পালা চলছে।" এবং জামাতের 'আলী আহসান মুজাহিদ'ছিলেন তত্তাবধায়ক সরকারের একটা গুরুত্বপুর্ন পার্ট।
শুধু দুই ছেলের মুক্তি নয়, তাদেরকে নিরাপদে বিদেশে পাঠানোর বিষয়েও খালেদা জিয়া ছিলেন অনড়। এবং শেষ পর্যন্ত সেটাই হয়েছে।
তবে খালেদা জিয়ার সাথে ১-১১ সরকারের আর কী ধরণের সমঝোতা হয়েছিল, সে সম্পর্কে বিস্তারিত বিএনপির নেতারাও জানেন না বলে মনে হচ্ছে। ওয়াশিংটনে পাঠানো বার্তায় মরিয়ার্টি এই বিষয়টিও উল্লেখ করেছিলেন।
বিবিসি থেকে কপি। view this link

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

