ড.ইউনুস।
নোবেল বিজয়ী একজন সু নাগরিক হিসেবে উনি আইন মেনে চলবেন। কিন্তু মানেন না।
উনি দেশে কোটি কোটি টাকা আয় করেন, কিন্তু কর দিতে চান না। এক হাজার একশত কোটি টাকা কর বকেয়া! কেন?
কর্মিদের পারিশ্রমিক বকেয়া থাকে কেন?
এমন না যে ওনার কাছে টাকা নেই।
টাকা না থাকলে দেশের টাকা নিয়ে ভিন দেশের এক দলের রাজনৈতিক তহবিলে কোটি কোটি টাকা চাঁদা দেন কিভাবে। কেন?
মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার খরচ করে বিদেশী লবি ফার্ম ভাড়া করে কিছু নোবেল বিজয়ীদের স্বাক্ষর সংগ্রহ করে।
এত নোবেল বিজয়ীর আর্জি নিউজ হিসেবে নিউজ হিসেবে গন্য না হওয়াতে মিলিয়ন ডলার খরচ করে ওয়াশিংটন পোষ্টে পাতা জুড়ে বিজ্ঞাপন দেন। নৈতিকতা কোথায়?
ওয়াশিংটন পোষ্ট এই দালালী ফার্মের সংগ্রহ করা আর্জি নিউজ হিসেবে গন্য করে ছাপালো না। ফরমায়েশী প্রপাগান্ডা হিসেবে ধরে নিয়ে, গুরুত্ব দেয় নি। শেষ পর্যন্ত ডলার খরচ করে বিজ্ঞাপন আকারে দিতে হল ওয়াশিংটন পোষ্টে।
প্রশ্নগুলো আসবে, কারন তিনি আবার বাঁকা পথে দেশের রাজনীতিতে আসতে চাচ্ছেন।
তিনি ২০০৬-২০০৭ এ আরো সংগঠিত ভাবে পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় আসতে চেয়েছিলেন।
ইউনুস নোবেল পাওয়ার ৩ মাসের ভেতর পরিকল্পিত ভাবে সেনাতন্ত্র ও আমেরিকার সহায়তায় ষড়যন্ত্র শুরু করেছিল।
প্রচলিত রাজনীতি ও নির্বাচনে দুর্নিতী ম্যানিপুলেশনের সুচনা হয় তখনই।
আমেরিকার সহযোগিতায় সিপিডি প্রথম আলো ডেইলি স্টার ও মইন ইউ আহমেদ আমেরিকার পরামর্শে আমেরিকার কৌশলে ইউনূসকে বসানোর জন্যই বিএনপি তারেক খালেদা কে বিতাড়িত করে ১-১১ আনা হয়।
ইউনুসের প্রথম ইচ্ছা ছিল তত্তাবধায়ক সরকার প্রধান হবে।
কিন্তু দুই দিনের বাদশা না হয়ে স্থায়ী বাদশা হওয়ার ইচ্ছায় পরে আলাদা একটি রাজনীতি দল করার প্লান হয়।
ইউনূসের ১ম শর্ত ছিল হাসিনা ও খালেদা কে দির্ঘস্থায়ী ভাবে গ্রেফতার করে নিষ্ক্রিয় রাখা। বা জোড় পুর্বক বিদেশে বিতাড়ন।
বিএনপি ও আওয়ামীলীগের হাত পা বেধে এর মধ্যে ইউনুস একটি রাজনৈতিক দল গঠন করবে এবং নির্বাচিত হয়ে আমেরিকার পছন্দমত একটি 'গণতান্ত্রিক' সরকার গঠন করবে।
২০০৭ এর জানুয়ারি মাসে ১-১১র পরের সপ্তাহেই ড. ইউনূস ভারত সফরে যান। সে সফরে যাওয়ার দিন বিমানবন্দরে তিনি রাজনীতিতে যোগ দেবার জোরালো সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং-এর সাথে বৈঠকে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
সে সফরে অধ্যাপক ইউনূস ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রণব মুখার্জীর সাথেও বৈঠক করেন।
বার্তা সংস্থা ইউএনবি প্রথম আলো দৈনিক আমার দেশ ও আরো কয়েকটি পত্রিকা।
জানুয়ারি্র শেষ সপ্তাহে দিল্লীতে এক সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, দেশের পরিস্থিতি বাধ্য করলে তিনি রাজনীতিতে যোগ দেবেন।
সে সফরে অধ্যাপক ইউনূস ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রণব মুখার্জীর সাথে বৈঠক করেন।

ইউনুসের রাজনীতিতে আসা নিয়ে বার্তা সংস্থা ইউএনবির একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে ফালুর পত্রিকা দৈনিক আমার দেশ।
অধ্যাপক ইউনূসকে উদ্ধৃত করে দৈনিক আমার দেশ লিখেছে, রাজনীতিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করার মতো ব্যক্তি আমি নই। কিন্তু পরিস্থিতি যদি বাধ্য করে তাহলে রাজনীতিতে যোগ দিতে আমি দ্বিধা করবো না।
গবেষক-লেখক মহিউদ্দীন আহমেদ একটি লেখায় দুজন সেনা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে লিখেছেন, যা বিবিসি সাইটে ছাপা হয়েছে।
মুহাম্মদ ইউনূস কেয়ারটেকার সরকার প্রধান হওয়ার প্রস্তাবে রাজী না হওয়ার প্রধান কারণ ছিল এই সরকারের স্বল্প মেয়াদ। (উনি চেয়েছিলেন ৫-১০ বছর মেয়াদ)। সরকার প্রধান হইয়ে দুই দিনের বাদশা না হয়ে স্থায়ী বাদশা হওয়ার ইচ্ছায় পরে আলাদা একটি রাজনীতি দল করার
কিন্তু ইউনুস পারেনি, ব্যার্থ হয়ে সব লেজে গোবরে করে ফেলেছিল। প্রচলিত রাজনীতি ও নির্বাচনে ম্যানিপুলেশন ষড়যন্ত্র কারনে সিপিডি প্রথম আলো ও ড.ইউনুসের কঠিনতম শাস্তি হওয়া দরকার ছিল।
যে নোবেল বিজয়ী এত বৈদেশিক সমর্থন, দেশের সেনাবাহিনীর সর্বাত্বক সমর্থনের পরও সামান্য একটি দল চালাতে পারে না, সে একটি দেশ চালাবে কিভাবে? বিম্পি-জামাতের ভৃত্য হয়ে থাকাটাই তার উপযুক্ত স্থান।
পূর্বের চক্রান্ত ও অপরাধের কারনে সরকার কি ওনার বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিল?
খুজলে ওনার অপরাধ অনেক।
১৯৮৩ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত উনি সঠিক পথে ছিলেন, তখন উনি ধর্মনিরোপেক্ষ বাম ঘেসা, দারিদ্র বিমোচনে নারীদের ক্ষমতায়নে কাজ করে মুলত হাসিনার পক্ষেই কাজ করে যাচ্ছিলেন, ছিলেন ধর্মান্ধদের জামাতিদের চোখের বালি। ইনকেলাবে তার বিরুদ্ধে বিষদগার লেখা হোত। উনি জাফর ইকবাল সুফিয়া কামালদের সাথে চলতেন। নারী উন্নয়নের সুবাদে হাসিনার সাথে ভাল সম্পর্ক ছিল বরাবর। হাসিনাকে মোবাইল ফোন অবমুক্ত করার ধারনা উনিই দেন। ১৯৯৬ এ শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়ে ইউনুসকে তথা গ্রামীনব্যাঙ্ক কে জিএসেম গ্রামীন ফোন, সেবা টেলকে ঢাকার বাইরে টেলুলার লাইসেন্স এবং বিএনপি একজন এম্পি ব্যাবসায়ী একে খান কে একটেল নামে জিএসএম লাইসেন্স দেয়া হয়। কোন লাইসেন্স ফি বাদেই।
ওনার গ্রামীনফোনকে অনেকটা বেশী সুবিধা দেখা হয়েছিল। সদ্য ইন্সটল করা দেশব্যাপি রেলওয়ে ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক গ্রামীনফোনকে বিনামুল্যে ব্যাবহার করার সুযোগ দেন হাসিনা, যুক্তি ছিল সমগ্র দেশে ইন্টারনেট সম্প্রসারন হলে দেশেরই উপকার।
কিন্তু এতকিছু পেয়েও ইউনুস নেটের মুল্য কমান নি, ফোনের বিল কমান নি, এমনকি পল্লি ফোনের গলা কাটা বিল ১ পয়শাও কমান নি, পল্লি ফোনের ১০টাকার সিম ২০,০০০টাকায় বিক্রি করে গেছেন।
২০০৬ এ নোবেল পুরষ্কার পাওয়ার পর তিনি পক্ষ ত্যাগ করে বিম্পি-জামাতের কাছে মাথা বিক্রি করে ফেলেন।
ক্লিন্টন নির্বাচিত হওয়ার আগেও হিলারি বাংলাদেশে এসেছিলেন।
বামপন্থি ইউনুস তখন নারী অধিকার নারী ক্ষমতায়ন নারী ভিত্তিক গ্রামীন ব্যাঙ্ক নিয়ে হাসিনার পক্ষেই কাজ করছিলেন, উনি এখনো বলেন গ্রামীন ফোনের লাইসেন্স পেতে কাউকে এককাপ চাও খাওয়াতে হয় নি। ২০০৫ এ উনি পক্ষত্যাগ করে বামপন্থি অবস্থান থেকে মৌলবাদি-জাতীয়তাবাদিদের ক্ষপ্পরে পড়েন।
২০০৬-০৭ টেলিনরের সাথে গ্রামীণফোনের শেয়ারের অংশ নিয়ে বেশ টানাপোড়েনের সৃষ্টি হয়। শেষ পর্যন্ত গ্রামীনফোনের বাংলাদেশ অংশের মালিক গ্রামীন টেলিকম ৩৪% শেয়ারের মালিক হিসেবে মেনে নেয়।
এভাবেই চলছিলো। খেলা জমে উঠে প্রফেসর ইউনুস যখন গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি পদ ছেড়ে দিতে বাধ্য হন, তখন তিনি ঘোষনা করেন গ্রামীন টেলিকমের সাথে গ্রামীন ব্যাংকের কোন সম্পর্ক নাই। গ্রামীন টেলিকমের মালিক উনি নিজে। তার মানে গ্রামীণ ফোনের ৩৪% শেয়ারের মালিক প্রফেসর ইউনুস! অতচ মালিক হওয়ার কথা মূল সংস্থা গ্রামীন ব্যাঙ্ক। তথা গ্রামীন ব্যাঙ্কের দরিদ্র মহিলা শেয়ার হোল্ডাররা।
প্রফেসর ইউনুসের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ। উনার প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের করা মামলা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিবৃতি আসতেছে। কিন্তু ড. ইউনুসের সবচেয়ে বড় প্রতারণা এইরকম একটা বিলিয়ন ডলারের আন্তর্জাতিক কোম্পানি গাপ করে একা মালিক হয়ে যাওয়া! গ্রামীন ব্যাংকে এমডি পদে চাকুরীরত অবস্থায় গ্রামীণ ব্যাংকের জনবল, রিসোর্স, সময়, গ্রামীন ব্যাংকের নাম ব্যাবহার করে ব্যাক্তিগত কোম্পানি গড়ে তোলা, কত উচ্চ পর্যায়ের ডাকাতি, তা কি কেউ চিন্তাও করছে?
প্রতি বছর যেই গ্রামীনফোন হাজার হাজার কোটি টাকা মুনাফা করে, তার ৩৪% এর মালিক প্রফেসর ইউনুস তার লভ্যাংশ হাজার কোটি টাকা কোথায় খরচ করেন, কিভাবে বিদেশে নিয়ে ব্যাবহার করেন, আজ পর্যন্ত কেউ এই প্রশ্ন তুলছে না!
ওনার বিরুদ্ধে বলতে গেলে কিছুই করা হয়নি।
ড. ইউনুসের গ্রামীণ ব্যাংক এবং গ্রামীণফোন, গ্রামীন টেলিকম আগের মতই ওনার অংশিদারি আছে ওনার মালিকানাতেই আছে। ব্যবসা বিন্দুমাত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। সুদ আহরন আগের মতই আছে। শুধু বয়সের কারণে এমডি পদ টি নেই।
কিন্তু ওনার মালিকানায় বিন্দুমাত্র আঘাত পড়েনি। উনার বিদেশ যাওয়া আসায় কেউ কখনো বাধা দেয়নি এখনো দিচ্ছে না।
উনি এসব ব্যাপারে খোলাসা করে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে চান না। যাদিও রাজনীতিতে যোগদেয়ার সময় বিদেশী সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দিতে চান না, শুধু বিবৃতি ছাড়া কিছু বলেন না।
উনার বিরুদ্ধে মামলা গুলো খুবই সাধারণ। ব্যাক্তিগত আয়ের আয়কর ফাঁকির মামলা। মামুলি। ওনার বার বার আদালতে আসা লাগে না, আইনজীবিরাই চালায়। ইচ্ছে করলে দীর্ঘদিন চালানো যায়। এসব মামলা হয়রানিমুলক নয় মোটেই।
আর শ্রমিকদের বকেয়া বেতন মামলা সেটাও আদালতের বাইরে সালিশে উনি বেতন মিটিয়ে দিয়েছেন বেশিরভাগ। আর সামান্য অর্থ নিয়ে কিছুটা হয়ে একটি মামলা হয়েছিল। সেটা করেছিল গ্রামীণফোনের কর্মীরা। সরকার নয়। এসব বকেয়া বেতন পরিশোধে আলোচনায় সহজ নিষ্পত্তির সুযোগ আছে।
এসব মামলার কোন শাস্তিই জেল দন্ড নয়। সাধারণ জরিমানা। না দিলেও সমস্যা না, মামলা অনেক বছর ধরে চলছে আরো দশ বছর চালানো যায়। তাকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয় নি যে ১৬৬ জন বিদেশী রথি মহারথি প্রাণভিক্কার আবেদন করবে।
এখানে নোংড়া রাজনীতি আছে। চক্রান্তমুলক রাজনীতি আছে। এখন তো আর ১৫ই আগষ্ট ঘটানো সম্ভব না, তাই বিপুল অর্থ খরচ করে এজেন্ট ভাড়া করে রথি মহারথি কনভিন্স করে ভিন্ন পদ্ধতিতে ১৫ই আগষ্ট করে সরকার পতন ঘটানোর সাম্রাজ্যবাদি ইচ্ছা।
এইসব বিদেশী কুচক্রিদের বিরুদ্ধে প্রতিটি বিবেকবান নাগরিকদের কঠিনভাবে প্রতিবাদ জানানো উচিত।
যেহেতু তিনি পুনরায় রাজনীতিতে আসতে চাচ্ছেন তাই কিছু কথা আসবেই।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


