somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পুতিন মামা

১৬ ই অক্টোবর, ২০১৫ দুপুর ২:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পুতিন মামা আসলেই কি আইএস মারছে? মনে হয়না। এটা তার বাহানা বলেই মনে হয়। সে সত্যিকার আসাদ বিরোধীদেরই মারছে বলে মনে হয়। তাছাড়া রয়েছে মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে তারও অন্যগেম। সিরিয়ায় পুতিন মামার আগমন এবং কাজে অনেকে বেশ উৎসাহ পাচ্ছে। কিন্তু আমার মনে হয় সত্যটা এখনো অনেকের অজানা। আমারও। তবে গভীর দু:খ এবং বেদনার মধ্যেও খেলাটা বেশ জমে উঠেছে দেখে এক ধরনের পুলকও বোধ করছি। কোথাকার জল কোথায় গিয়ে দাড়ায় সেটা দেখার জন্য বেশ উত্তেজনা নিয়ে অপেক্ষা করছি। এটা এমন এক খেলা যেখানে একজন সত্যান্বেষী হিসেবে আমি আইএস, বাসার, ইরান, সৌদী আরব, পুতিন, মার্কিনী কাউকেই সমর্থন করিনা। ঈমান এবং মানবতার জায়গা থেকে দাড়িয়ে এদের কাউকে সমর্থন করা যায়না। কোন যুক্তি, রাজনীতি এবং কৌশল বলে এদের কারো কাজকেই সমর্থন করা যায়না। এটা এমন এক মাইনকাচিপার খেলা যেখানে সত্য খোঁজা এবং সত্যের পক্ষে কথা বলাও অনেক রিস্কি। একটুখানি ভাল দেখে একদিকে পক্ষ নিলে অন্য দিকে দোষের টান লাগে। আমি সিরিয়াকেন্দ্রিক মাইনকাচিপা গেমের খবর এবং বিশ্লেষন বর্তমানে বেশ মনোযোগ দিয়ে পড়ছি। পুতিনের আগমনের পর অনেকে বেশ খুসী হয়েছে এবং তারা যে দৃষ্টিকোন থেকে বিশ্লেষন করছেন ও দেখছেন তাও এক পাক্ষিক বলেই মনে হচ্ছে। যারা এ নিয়ে লেখালেখি করছেন এবং কোন পক্ষে সমর্থন দিচ্ছেন তাদের লেখা দেখে আমার মনে হয়েছে তারা প্রায় সবাই আংশিক সত্যের ওপর দাড়িয়ে একটা মত দিচ্ছেন এবং তা প্রকাশ করছেন। আমার অনুরোধ প্রকৃত সত্য জানার চেষ্টা করুণ তা না হলে আপনার কোন পক্ষ নেয়াটাও হয়তো একটা দোষের মধ্যে পড়ে যাবে, মানবতার বিরুদ্ধে চলে যাবে। ওবামাসহ অন্য অনেকে প্রথমে বাসারকে উৎখাতের কথা বলে লোক দেখানো হামলা শুরু করল। এরপর যখন সেখানে আইএস মাথাচাড়া দিয়ে উঠল তখন আবার তিনি বললেন দুটোই খারাপ। তবে আইএস বেশি খারাপ। তাই এবার আইএসের বিরুদ্ধে তিনিসহ অনেকে আবার লোক দেখানো হামলা শুরু করলেন। আমি তো দুটো খারাপেরই ধ্বংস চাই। সেটা কি তারা করবে? করবেনা। ইরান তো আগে থেকেই অন্ধভাবে বাসারের পক্ষে ছিলেন। আইএস মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার পর তারা জোর গলায় বলতে লাগল এখন তো বাসারকে রক্ষা ছাড়া আর কোন বিকল্প নেই। আইএস দমন নাটক মঞ্চস্ত অবস্থায় যোগ দিল পুতিন মামা। ইরান-পুতিন-বাসার অক্ষ শক্তিতে অনেকে নড়ে চড়ে বসলেন। এবার সত্যিই আইএস দমন হবে। মোছলমানদের ত্রানকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন পুতিন মামা এমন ধারণার বশবর্তী হয়ে অনেকের বুকের পাটা উচু হতে শুরু করল। তাই একজন মোছলমান কলামিস্ট বলেই বসলেন, লাঞ্ছিত নিপিড়ীত মোছলমানদের এখন ভাবতে হবে তারা কি মন্দের ভালটা নেবে না কি ভালর বন্দটা নেবে। অর্থাৎ তিনি ইরান-পুতিন-বাসার অক্ষ শক্তি কে স্বাগত জানাতে আহবান জানালেন। অনেকে আবার রাশিয়ার হারানো তেজ ফিরে পাবার দিন গুনতে লাগল। এভাবে অনেকে আংশিক সত্য এবং পার্শ্ব দৃষ্টিকোন থেকে বিষয়টিকে বোঝার এবং উপস্থাপনের চেষ্টা করছেন। এটি শেষ পর্যন্ত আমাদেরকে বিপদ থেকে বাঁচতে পারবেনা। লাঞ্ছিত মোছলমানদের উদ্ধারে পুতিনের দায় কিসের নিজের স্বার্থ রক্ষা ছাড়া? এ সত্যটা যেন আমাদের মাথায় থাকে। যেখানে কথিত মুসলমাননরা ঈমান এবং মানবতার জায়গা থেকে সরে এসে নিছক নিজেদের ক্ষমতা, সীমানা, ভৌগোলিক, আঞ্চলিক, সাম্প্রদায়িক আধিপত্য বজায় রাখা এবং সম্প্রসারনের জন্য একটার পর একটা দেশ ছারখার করে যাচ্ছে, অসহায় শিশু ও নারীসহ লক্ষ লক্ষ মানূষকে কোন ধরনের দয়ামায়া ছাড়া হত্যা করে চলেছে, গোটা দেশকে কবরে পরিণত করেছে সেখানে পুতিন মামারা এসে আমাদের উদ্ধার করবে এটা ভাবা কতটা ঠিক? আমি বরং এ পাপের খেলায় লিপ্তদের কঠিন পরিণতির আশঙ্কা করছি যেমনটা অতীতে আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়েছে বারবার।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই অক্টোবর, ২০১৫ দুপুর ২:৩০
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Ripe Age দুই প্রান্তের দুই মানুষঃ সামু শব্দের সেতু প্রজন্মের বন্ধন

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:২৪


একজন দাঁড়িয়ে জীবনের শুরুতে
চোখে তার অগণিত স্বপ্ন
আগামীর পথে কত প্রশ্ন
কত না-জানা, কত বিস্ময়
কত দূরের নীল আকাশ
ডাকে তাকে প্রতিদিন।

অন্যজন বসে জীবনের শেষে নয়
বরং দীর্ঘ পথ পেরিয়ে আসা এক প্রান্তে
প্রায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও তার যতসব অপরাধ।।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১৫



আজ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে বলতে গেলে সব মিডিয়াতে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ উঠেছে। উহা দুবাইয়ে ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, সিঙ্গাপুরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ট্রেন টু কক্সবাজার: টিকিট পেলাম না, পেলাম বিকল্প পথের সন্ধান

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৭

কক্সবাজার যাওয়ার ইচ্ছে ছিল অনেক দিনের। তবে এবার লক্ষ্য ছিল একটু আলাদা—বাসে নয়, বিমানে নয়; ট্রেনের জানালায় চোখ রেখে সমুদ্রের শহরের পথে যাত্রা। কিন্তু সেই সহজ পরিকল্পনার প্রথম বাধাই হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিন্নাহ কি বাঙালি মুসলমানের শত্রু?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৪


মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ পাকিস্তানের স্বপ্নদ্রষ্টা বা পাকিস্তানের জাতির জনক। একজন বাংলাদেশী হয়ে পাকিস্তানের জাতির জনককে নিয়ে আলোচনা করলে কি গুনাহ হতে পারে কিংবা বড় ক্ষতি হতে পারে? বাংলাদেশে জিন্নাহর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেয়ার বাজারকে গতিশীল করতে স্টক ব্রোকারদের নিয়ে বৈঠকে বসছে ডিএসই আজ ১৪-০৯-২০২৬

লিখেছেন কাজী আবু ইউসুফ (রিফাত), ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৭



বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে মন্দার কারণ ও প্রতিকার

ভূমিকা

একটি দেশের অর্থনীতিকে যদি একটি জীবন্ত দেহ হিসেবে কল্পনা করা হয়, তবে তার শেয়ারবাজার অনেকটা হৃদস্পন্দন ও তাপমাত্রা মাপার যন্ত্রের মতো। অর্থনীতির কোথায় প্রাণশক্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×