somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রোহিঙ্গা নারীর জবানবন্দী

২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ দুপুর ১২:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রাষ্ট্রীয় খুন, ধর্ষণ, নির্যাতন ও উচ্ছেদের শিকার হয়ে প্রায় সোয়া চার লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। ২৫ আগস্ট সহিংসতা শুরু হওয়ার পর পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা থাকা, খাওয়া, পোশাক, অপুষ্টিসহ অসংখ্য সমস্যার মধ্যে করছে মানবেতর জীবনযাপন।

তাদেরই একজন ৬০ বছর বয়সী নাসিমা খাতুন। তিনি কয়েক সপ্তাহ আগে কক্সবাজারে নতুন করে তৈরি করা একটি শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি দুর্বিষহ শরণার্থী জীবনের বর্ণনা দিয়েছেন আলজাজিরার প্রতিবেদককে।

‘আমি নাসিমা খাতুন। বয়স ৬০ বছর। সহিংসতার আগে আমাদের একটি নির্বিঘ্ন জীবন ছিল। আমার স্বামী একজন জেলে। আমাদের তিন মেয়ে। রোহিঙ্গা হিসেবে আমরা ভালোই ছিলাম।

যদিও সেনাবাহিনীর সদস্যরা মাঝেমধ্যে আমাদের হুমকি-ধমকি দিত। তবে খাওয়া-পরা বা আশ্রয় নিয়ে আমাদের কোনো ঝামেলা পোহাতে হয়নি।

যেদিন সেনাবাহিনীর সদস্যরা এসে আমাদের গ্রামে এলোপাতাড়ি গুলি করা শুরু করল, তখন আমরা দৌড়ে দিগ্বিদিক পালাতে থাকলাম। আমি দৌড়ে জঙ্গলে গিয়ে লুকালাম। তখন একজন বলল, আমার স্বামীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। তখন আমি খুব ভয় পেলাম এবং আমার খুব অসহায় লাগছিল।

নাসিমা বলেন, সেনাবাহিনী তখন সারা গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে আমি আর আমার স্বামীর লাশটা আনতে যেতে পারলাম না। শেষবারের মতো তার লাশটাও দেখতে পারলাম না। তাকে রেখেই আমি বাংলাদেশের দিকে পা বাড়াই। মেয়েদের নিয়ে আমি প্রতিবেশীদের সঙ্গে গ্রাম ছাড়ি।

সঙ্গে কিছু নিতেও পারলাম না। যে কারণে পথে পানি আর সামান্য যা পাওয়া গেছে, তাই খেয়েছি। একদিন একটা পরিত্যক্ত দোকানের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম। তখন আমাদের প্রচণ্ড ক্ষুধা। ক্ষুধার জ্বালায় আমরা সেই দোকান লুট করি। সেখানে কিছু খাবার আমরা পাই।

সত্যিকার অর্থে যাত্রাপথের ১০ দিনের মধ্যে সেদিনই শুধু কিছু খাবার খেতে পেরেছিলাম। যাত্রাপথে আমি শুধু অনবরত কেঁদেছি। আমার কাছে কোনো পয়সা ছিল না। প্রতিবেশীরাই পথে আমাকে সান্ত্বনা দিয়েছে, তারা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আসার পথে নদী পার হওয়ার জন্য টাকাও দিয়েছে।

মিয়ানমার ছেড়ে আসা আমার জন্য খুবই যন্ত্রণার। সেখানে আমি আমার স্বামীকে হারিয়েছি, আমার বাড়িঘর-জমি সবকিছু হারিয়েছি।

আমরা এখানে থাকার মতো একটি অস্থায়ী ঘর পেয়েছি। বাংলাদেশের মানুষ আমাদের খাদ্য ও অর্থ দিয়ে সাহায্য করছে। কিন্তু আমার তো উপার্জন করার মতো সুযোগ নেই, এখানে আমাদের জন্য কোনো কাজ নেই।

আমাদের যদি অর্থই না থাকে, তাহলে আমাদের সামনে কেমন ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে? সবাই হয়তো মিয়ানমারে ফিরে যেতে চাইবে। কিন্তু আমি ভাবতে পারছি না যে এটা কখনও সম্ভব হবে কিনা।

সেখানে কখনোই নিরাপদে থাকা যাবে না। যদি আমরা মিয়ানমারে ফিরেও যাই, তাহলে আবারও আমাদের নির্যাতিত হতে হবে বা মরতে হবে। আমি বিশ্বাস করি, বিশ্ব আমাদের এ দুরবস্থা দেখছে। বিশ্ববাসীর কাছে আমার অনুরোধ, আমাদের প্রতি সহানুভূতিশীল হোন। তারা আমাদের দুঃখের, মৃত্যুর গল্প শুনছে, কিন্তু একই অবস্থা তাদের হলে তারা কী করতেন!’
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ দুপুর ১২:৫৯
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

‘সবচেয়ে কঠিন’

লিখেছেন আবু সিদ, ৩০ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:১৫


আমি সাদ। আমার বয়স ১৭ বছর। আমি ক্লাস টেনের ছাত্র। আমার ক্লাসের অধিকাংশ শিক্ষার্থীর বয়স ১৫ বা তার আশপাশে। আমারও ১৫ বছর বয়সে ক্লাস টেনে থাকার কথা ছিল। কিন্তু আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মঞ্চে রাজনৈতিক বিভাজন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ৩০ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:২৪



উদীচী পুড়ার সময় কি হারমোনিয়াম, তবলা, একতারা, দোতারা, সেতার কিংবা বাঁশি পুড়েনি?, মনে রাখবেন তখন আগুন শুধু কিছু বাদ্যযন্ত্র পোড়ায়নি, -পুড়েছিল এই বাংলার সংস্কৃতির, এই বাংলার শত কোটি মানুষের... ...বাকিটুকু পড়ুন

'মেটিকুলাসলি ডিজাইন' করে সিলেটকে অশান্ত করে তোলার অর্থ কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ৩০ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৮:১৫

সিলেটে এন,সি,পি সাংগঠনিক ভাবে দূর্বল।
দলের ভিতরে কোন্দল মারাত্মক তা ফেসবুকে দলীয় নেতা কর্মীদের পোস্ট দেখে বুঝা যায়।
অথচ, সামনে সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন।
এই পরিস্থিতিতে, দলের মানুষদের 'গরম' করে তোলার একটাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বাক্ষী থেকো বাংলাদেশ, স্বাক্ষী থেকো ১৮ কোটি মানুষ।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ৩০ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:২৮

স্বাক্ষী থেকো বাংলাদেশ, স্বাক্ষী থেকো ১৮ কোটি মানুষ।
================================
ইতিহাস কখনো মুছে যায় না। যে জাতি তার মানুষের কান্না, আর্তনাদ ও ন্যায়বিচারের দাবি ভুলে যায়, সে জাতির ভবিষ্যৎও প্রশ্নের মুখে পড়ে।
আজ এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আবার সমস্যা, ব্লগ আমাকে কেন ভোগাচ্ছে?

লিখেছেন মেহবুবা, ৩১ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:৪৩

আবার সমস্যা ব্লগ ঠিকমত দেখা যায় না। কিছুদিন আগে এমনটি হয়েছিল। ব্লগার সুলাইমান সহজ করে সমাধান বের করে দিয়েছিল। এবার একই সমস্যা হচ্ছে তবে সেই একই উপায়ে কাজ হচ্ছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×