somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

খালেদা নাকি হাসিনা, কাকে পছন্দ ইন্দো-মার্কিন জোটের !!

১০ ই নভেম্বর, ২০১৩ বিকাল ৪:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


নেহরুর জোটনিরপেক্ষ নীতির কারণে ১৯৫০-র দশকে আমেরিকা ভারতকে পাশে না পেয়ে পাকিস্তানের সাথে CENTO, SEATO প্রভৃতি চুক্তির মাধ্যমে কৌশলগত সম্পর্ক গড়ে তোলে যার ফলে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে আমেরিকা পাকিস্তানের সকল পদক্ষেপে সায় দিয়ে যায়। বাংলাদেশ স্বাধীনের পর মিলিত হলো সোভিয়েত -ভারত বলয়ে। আমেরিকার সিআইএ ও পাকিস্তানের আইএসাই মিলে ষড়যন্ত্রকারী মোশতাকসহ মুজিব নগর সরকারের রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিব, প্রধাণমন্ত্রী তাজউদ্দিন, মন্ত্রীসভার সকল সদস্যকে হত্যা করে বাংলাদেশে তাদের অনুগত সরকার প্রতিষ্ঠায় সমর্থ হয় যা ২০০৮ সাল পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। ২০০৮ সালে ভারত-আমেরিকা নিউক্লিয়ার চুক্তি স্বাক্ষরের পর পেন্টাগণের নিরাপত্তা কৌশল পরিবর্তিত হয়। আমেরিকা বাংলাদেশের ব্যাপারে পাকিস্তানের পরিবর্তে ভারতের সংগে কাজ করতে শুরু করে



বিএনপিতে যেহেতু পাক ঘরানার মুসলিম জাতীয়তাবাদীদের প্রভাব বেশী তাই এ দলটি ১৯৭৫-২০০৮ সালের ঘোর এখনো কাটিয়ে উঠতে পারছে না যখন আমেরিকা তার কৌশলগত মিত্র পাকিস্তানের পরামর্শে বাংলাদেশ বিষয়ে নীতি নির্ধারণ করেছে, যার সুফল হিসেবে জিয়া,খালেদা ও এরশাদ দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থেকেছেন। ২০০৮ থেকে পরিস্থিতি যে উল্টে গেছে এটা এখনো পাকি ব্লেস্ডদের বোধোদয় হয়নি। তাই খালেদাকে বারবার সিংগাপুর যেতে হয়েছে। সিংগাপুরচক্র বিএনপিকে ক্ষমতায় নিয়ে আসতে সক্ষম নয়, এ সত্য যদি খালেদা এখনো না বোঝেন তবে তার পুত্রের রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তন কখনো সম্ভব হবে না।
আগামী নির্বাচনে বিএনপির ক্ষমতায় আসা সম্ভব নয়। তবে আইএসআই ও জংগী-মৌলবাদীদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে যদি খালেদা তার গন্তব্য দিল্লিতে ঠিক করেন, ৫বছর পর তার বা তার পুত্রের ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা থাকবে নয়তো জিয়া পরিবারের রাজনীতির অবসান খুব শিঘ্রী ঘটতে যাচ্ছে।


সরকার পরিবর্তনের বিষয়ে বাংলাদেশের সুশীল সমাজের একাংশ দ্বারা উৎসাহিত হয়ে মজেনা প্রথমে খালেদার সংগে শলা করলেন। পরদিন পংকজ শরণের সাথে বিষয়টি নিয়ে আলাপ করলেন। পংকজ সোজা দিল্লী দেখিয়ে দিলেন। স্টেট ডিপার্টমেন্টের অনুমতি নিয়ে মজেনা দিল্লী গিয়ে পররাষ্ট্র কর্তাদের সাথে কথা বললেন। কিন্তু তারা তো আর মজেনার মত অতি উৎসাহী নন, ভদ্রভাবে তাকে বুঝিয়ে দিলেন যে বিএনপিকে ক্ষমতায় আনার কোন মিশন তাদের নেই।


যারা শত্রু পাকিস্তানের ইশারায় পাক-চীনা মদদপুষ্ট ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের আশ্রয় দেয়, এখনো আইএসআই-র দ্বারা প্রভাবিত ও মৌলবাদী-জংগীরা তাদের ডানে-বামে। হতভম্ব মজেনা চীনে যেতে চাইলেন। তার উর্ধতন কর্তারা তার চেয়ে বেশী ধারণা রাখেন। মজেনার উৎসাহকে প্রশ্রয় দিয়ে দিল্লী যাবার অনুমতি দিলেও চীনে যাবার অনুমতি দিতে পারলেন না কারণ আমেরিকা বাংলাদেশ বিষয়ে চীনের সাথে কাজ করছে না।


তো এখন মজেনা কী করবেন, খালেদাকে তিনি কথা দিয়েছেন, তাই ওয়াশিংটন ডিসি ছুটলেন যদি কর্তাদের বুঝিয়ে কিছু করা যায়! তার হয়তো ধারণা নেই যে বিষয়টি স্টেট ডিপার্টমেন্টের এখতিয়ারে নেই, এটা পেন্টাগনের বিষয় যারা নিরাপত্তার কৌশল হিসেবে বাংলাদেশ বিষয়ে ভারতের সাথে কাজ করছে। আগে তারা পাকিস্তানের সাথে কাজ করত, তাই আইএসআই ভক্ত বিএনপি-জামাত-জাপা দীর্ঘদিন ক্ষমতার স্বাদ পেয়েছিল। এখন পরিবর্তীত পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ পাচ্ছে। মজেনার দৌড়ঝাপ কেবলই সার।

সর্বশেষ এডিট : ১১ ই নভেম্বর, ২০১৩ রাত ১:১৮
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহভঙ্গ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮



পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

একাত্তর বাঙালির অভিজ্ঞতা এবং গর্জিয়াস প্রকাশনা উৎসব

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৯:১৭


পহেলা মে বিকেলে একটি আমন্ত্রণ ছিল। অনুষ্ঠানটি ছিল বই প্রকাশনার। এই আয়োজনটি শুরু হয়েছিল বলা যায় এক বছর আগে। যখন একটি লেখা দেওয়ার আমন্ত্রণ এসেছিল। লেখাটি ছিল বিদেশের জীবনযাপনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৯ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪



কথা হচ্ছিলো একজন আর্ট সমঝদার মানুষের সাথে। তিনি আক্ষেপ করে বলছিলেন, জীবিতবস্থায় আমাদের দেশে আর্টিস্টদের দাম দেওয়া হয় না। আমাদের দেশের নামকরা অনেক চিত্র শিল্পী ছিলেন, যারা জীবিতবস্থায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ মারা যাবার পর আবার পৃথিবীতে আসবে?

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১০



আমার মনে হয়, আমরা শেষ জামানায় পৌছে গেছি।
পুরো পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে খুব শ্রীঘই। চারিদিকে অনাচার হচ্ছে। মানুষের শরম লজ্জা নাই হয়ে গেছে। পতিতারা সামনে এসে, সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×