somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিদায় শচীন !! ক্রিকেটের দেবতার বিদায়ে রাজ্নৈতিক,সুশীল্দের প্রতিক্রিয়া !!

১৭ ই নভেম্বর, ২০১৩ দুপুর ২:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



শচীন ভক্তদের মন খারাপ? আসেন শচীনের বিদায়ে ব্যকুল না হয়ে একটু আনন্দ করা যাক।
প্রথমেই দেখা যাক ক্রিকেট জগতের এই মহান ইতিহাস সৃস্টিকারিকে টিমমেটরা গার্ড অব অনার দিয়ে বিদায় জানালেও আমাদের দেশের রাজ্নীতিক, সুশীলরা কে কী ভাবছেন।
শেখ হাসিনা :


শচীন ক্রিকেটের দেবতা। আমরা যেমন সমুদ্রজয় করেছি, শচীন তেমন বিশ্বজয় করেছে। আমরা যেভাবে হাজার-হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছি, শচীন সেভাবে হাজার-হাজার রান করেছে। মহাজোট সরকারের প্রদর্শিত পথেই শচীন আজ শচীন হয়েছে। আমরা যে সর্বদলীয় সরকার গঠন করতে চাচ্ছি, এর সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেই বিশ্বের সর্বদলীয় লোকজন শচীনের বিদায়ে অশ্রুসিক্ত হয়েছে। মূলত মহাজোট সরকারের অবসরের লগ্ন ঘনিয়ে এসেছে বলেই এই শোকে শচীন অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

খালেদা জিয়া :


অ্যাই সরকার মোশরেক সরকার! ইনারা একজন কাফেরকে ক্রিকেটের দেবতা বলছেন। কোনো মুসলমান কাউকে দেবতা বলতে পারেন না। অ্যাই সরকার শচীনকে দেবতা বলে দেশের তৌহিদি জনতার ধর্মানুভূতিতে আঘাত দিয়েছে। অ্যাই জালেম খেলোয়াড় একশোটি সেনচুরি করেছে। একশোটি চুরির পরেও সরকার তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ। অথচ আমার তারেক মাত্র কয়েকটি টাকা চুরি করায়ই সরকার তারেকের বিচারের উদ্যোগ নিয়েছে! শচীন নাকি পঞ্চাশ হাজার রান করেছে, অথচ সে পঞ্চাশ হাজার রানের 'টেন পার সেন্ট' পাঁচ হাজার রান তারেকের কাছে পাঠায়নি। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ট্রাইবুনাল গঠন করে আমরা এই রানখেলাপি তাঁবেদার নাস্তেক ফ্যাসিবাদী খেলোয়াড়ের সুষ্ঠু, নেরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানের বিচার করব, এনশা আল্লাহ্!

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ :



হু ইজ শচীন? কে এই শচীন? ক্রিকেটে ওর ডেবু হয়েছে আমার শাসনামলে। ইনডিয়া সরকারকে রিকমেন্ড করে আমি ওকে টিমে ঢুকিয়েছি। এখন সে নাকি দেবতা হয়ে গেছে। ও কীভাবে দেবতা হয়? এই সাব-কন্টিনেন্টে দেবতা তো শুধু আমি। আমি আসল পুরুষ, ও আসল পুরুষ না। ও মাঠের খেলোয়াড়, আমি খাটের খেলোয়াড়; খাটের খেলোয়াড়রাই আসল খেলোয়াড়। ও হাজার-হাজার রান করেছে, আমি হাজার-হাজার রান দেখেছি। রান করার চেয়ে রান দেখায় ক্রেডিট বেশি। আউট হয়ে গেলে আম্পায়ারের সিগনালের অপেক্ষা না করেই শচীন মাঠ ছেড়ে যেত, আর আউট হয়ে যাওয়ার পরও আমি খাট ছাড়ি না। আসল পুরুষ কে, এবার বুঝে নিন। আসল পুরুষরা কারো জোটে থাকে না, নেক্সট ইলেকশন আমি এককভাবে করব।

আনিসুল হক:



আমি যখন রংপুর থেকে প্রথম ঢাকায় আসি, এর কয়েক বছর পরই ক্রিকেটে ষোলো বছরের একটি ছোট্ট ছেলের অভিষেক হয়। ছেলেটির নাম শচীন, ভালো নাম শচীন রমেশ টেন্ডুলকার। অত্যন্ত মিষ্টি একটি ছেলে। ছেলেটির চেহারা মনে পড়লে ভেউভেউ করে আমার কান্না পায়, আমার চোখে অশ্রু রেডি থাকে। আমি যখন বুয়েটে ভর্তি হই, তখন ও প্রথম সেঞ্চুরি করে। মনে আছে -- ওর সেঞ্চুরির আনন্দে আমি বুয়েটের মাঠে গড়াগড়ি খেয়েছিলাম। বুয়েট নিয়ে আমার অনেক গল্প আছে, সে গল্প নাহয় পড়ে করব। আজ ছেলেটা অবসর নিয়েছে। টিভিতে দেখেছি ওর মা-ও ওর খেলা দেখতে এসেছিলেন। আসলে মা প্রসঙ্গ এলেই আমার একটা কথা খুব মনে পড়ে। 'মা' নামে আমার একটা উপন্যাস আছে। 'হে ফেস্টিভালে' এটা ২০% ছাড়ে প্রথমার স্টলে বিক্রি হচ্ছে, আপনারা সবাই এটা কিনবেন। 'মা' উপন্যাসটি কিনে আপনারা শচীনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে ভুলবেন না যেন!

আসিফ নজরুল :



আসলে আমরা জাতি হিশেবে বরাবরই আইডেন্টিটি ক্রাইসিসে ভুগি। দলীয় ভিত্তিতে একেকজনকে অতি মূল্যায়ন করাই আমাদের জাতিগত টেনডেনসি। এই বায়াসড টেনডেনসিই আমাদেরকে বিশ বছর পিছিয়ে দিয়েছে। শচীনকে আজ ক্রিকেটের দেবতা বলা হচ্ছে, কিন্তু দেবতা একজন থাকতে পারেন না। আমি বলছি না যে, ক্রিকেটের দেবতা হবার যোগ্যতা ওনার নেই। ওনার প্রতি আমি যথেষ্ট সম্মান রেখেই বলছি -- এখন সময় এসেছে দেবতার ক্লাসিফিকেশন করার। শচীনকে আমরা ক্রিকেটের রাম বলতে পারি, জয়সুরিয়াকে আমরা ক্রিকেটের রাবণ বলতে পারি, জাভেদ মিয়াদাঁদকে আমরা ক্রিকেটের যুধিষ্ঠির বলতে পারি, আফ্রিদিকে দুর্যোধন, ইমরান খানকে রাবণ বলতে পারি ব্লা ব্লা ব্লা। পাকিস্তানের খেলোয়াড়দেরকে খেতাবের বাইরে রেখে আপনি তো নিরপেক্ষ হতে পারেন না; নিরপেক্ষ হতে গেলে, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে হলে পাকিস্তানি খেলোয়াড়কে আপনার অবশ্যই সাথে রাখতে হবে!

মুহম্মদ ইউনূস :



শচীন ক্রিকেটের লিটল মাস্টার, বাংলায় বললে ক্ষুদ্র শিক্ষক। ক্ষুদ্ররাই পারে বৃহত্‍ কিছু করতে, যেমন ক্ষুদ্র ঋণের মাধ্যমে আমি বাংলাদেশ থেকে দারিদ্র্য দূর করেছি। এজন্য আমি নোবেল পেয়েছি, শচীনেরও নোবেল পাওয়া উচিত এবং নোবেল পাওয়ার জন্য শচীনের উচিত গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ক্ষুদ্র ঋণ নেয়া। শচীন আজ অবসরে যাচ্ছে, অর্থাত্‍ তার ক্যারিয়ার এখন জাদুঘরে; এভাবে দারিদ্র্যকেও আমরা জাদুঘরে পাঠাব। দারিদ্র্য যদি জাদুঘরে যেতে না চায়, তা হলে আমরা দারিদ্র্যের হাত ভেঙে দেব।


আহমেদ শফি :


শচীন একজন মালাউন। এই মালাউনরে দ্যাকলেই মেয়েগো দিলের মধ্যে লালা ঝরে। ও হইতেছে পুরুষ তেঁতুল। মেয়েরা তারে দেকলে 'ম্যারি মি, শচীন' বইলা চিল্লায়া ওঠে। মেয়েরা তারে লাভ মেরিজ করতে চায়, কোর্ট মেরিজ করতে চায়, তার লগে অবাধ মেলামেলা করতে চায়। এই শচীন ইমান-আকিদার জইন্য হুমকি। এখন থেকে আমি শফি স্টেডিয়ামে মাইয়া প্রবেশ নিষিদ্ধ করলাম আর শচীনরে বোরকা পরাইয়া মাঠে নামাবার হুকুম দেলাম!
-----------------------------------------------------
ডিসক্লেইমার ঃ লেখাটির ধারনা ফেসবুকের নিউজফীড (azadinlaw) থেকে সঙ্কলিত। সাক্ষাৎকারের চরিত্রগণ আসল হলেও বচন কাল্পনিক। চরিত্রগণের ভক্তকূলের গোস্যা হবার কোনো কারন নাই। ইহাকে নিছক আনন্দ হিসেবে নেওয়ার অনুরোধ থাকলো।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই নভেম্বর, ২০১৩ বিকাল ৩:৫২
২৪টি মন্তব্য ২৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭



মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭



আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহভঙ্গ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮



পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×