somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পিছিয়ে যাওয়া বুয়েটের পরীক্ষা ও বিক্ষিপ্ত ভাবনা...

২৪ শে জুন, ২০১১ রাত ৯:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আবার ও আমাদের পরীক্ষা পিছিয়ে গেল। আগের ছয় বার পরীক্ষা পিছানোতে যেমন খুশিতে লাফিয়ে উঠেছিলাম, এইবারের বিষয় টা সম্পূর্ণ আলাদা। আসলে এইবার সব ফ্যাকাল্টি আলাদা হয়ে যাওয়াতে আমি ভাবিওনি যে পরীক্ষা পিছাতে পারে। এমন না যে, পরীক্ষার পড়া সব শেষ, তার পরেও পরীক্ষা পিছানোতে কেন যেন সস্তুষ্ট হতে পারছিনা। গত তিনদিন ধরে লর্ড অব দ্য রিংস দেখে সময় নষ্ট করে একসপ্তাহ বেশি সমযের জন্য 'হা-পিত্যেশ' করলেও মন থেকে কখোনোই চাইনি এইবার পরীক্ষা পিছাক। :|

গত পাঁচ বছরের বুয়েট শিক্ষাজীবনে এইবার ই প্রথম দেখলাম পরীক্ষার আগের দিন বিকাল বেলা মিটিং করে পরীক্ষা পিছানোর নোটিস দেয়া হলো। শিক্ষক, সিনিয়র ভাই সবার কাছ পরীক্ষা পিছানোর কুফল শুনে আসলেও কখোনোই সেগুলোকে বিশেষ পাত্তা দিতাম না। কিন্তু যখন সমস্যা গুলোর মুখোমুখি হতে হয় তখনই আসলে এর স্বরুপ বোঝা যায়। শিক্ষাজীবনের শেষ দুই টার্ম এ এসে পরীক্ষা পেছানা মানে কেবল কতগুলো দিন শিফট হওয়া না, এর সাথে সামনের দিনের পরিকল্পনাও জড়িত। বাবা-মার চাকুরী জীবন ক্রমশ শেষ হয়ে আসছে, বাইরের ভার্সিটির সহপাঠীরা অনেকেই চাকুরীরত বা উচ্চশিক্ষায় দূরদেশে, ক্রমশ: বাংগালীর জীবনে শুভকাজ বলে পরিচিত দিল্লীকা লাড্ডু :|| খাবার ও সময় চলে আসছে, অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের গন্ডি পেরোনোই এখনও অনেক দূরের পথ বলে মনে হচ্ছে। :-<

এইবারের পরীক্ষা পেছানোটা আসলে খুবই আকস্মিক। ফ্যাকাল্টি আলাদা করা হয়েছে, ডিপার্টমেন্টাল হেড আমাদের সাথে নিজে কথা বলে পরীক্ষা না পেছানোর জন্য একরকম অনুরোধ ই করেছেন বলা যায়, নিজেদের পছন্দ মতই রুটিনও অফিস থেকে করে দেয়া হয়েছে, তারপরও কেন পরীক্ষা পিছালো বোধগম্য না। /:) তারচেয়েও বড় কথা হচ্ছে সব ফ্যাকাল্টির ই যদি পরীক্ষা পিছায় তাহলে এত শোরগোল করে ফ্যাকাল্টিই বা আলাদা করার কি দরকার ছিল? ইইই ফ্যাকাল্টির পরীক্ষার সিট সিভিল বিল্ডিং এ পড়লে কোন ১টা ফ্যাকাল্টির পরীক্ষা পিছালে অন্যটার উপরেও তো প্রভাব পড়ার ই কথা।

হয়তো দেশেই চাকুরী করতে চাইলে বা উচ্চশিক্ষা নিতে চাইলে পাশ করার ‌'ডেডলাইন' তেমন মূখ্য না, কিন্তু যারা দেশের বাইরে উচ্চশিক্ষা নিয়ে যেতে চায় তাদের জন্য মাস এবং দিনের হিসাব খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের বর্তমান অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ফ্রেবুয়ারী-২০১২ এর শেষের দিকে ফাইনাল রেজাল্ট (আমরা সিনিয়র ব্যাচ, আমাদের জ্ন্য আন্ডারগ্রাড লেভেলের শেষ রেজাল্ট) দেবার কথা। রেজাল্টের এক মাস পরে প্রভিশনাল সার্টিফিকেট পাওয়া যায়। আবার বাইরের অনেক ইউনিভার্সিটিতেই কাগজপত্র পাঠানোর জন্য ডেডলাইন থাকে ১ এপ্রিল। যদি রেজাল্ট দিতে ১৫ দিন মতো দেরী করে তাহলে অনেকেই ২০১২ সালের সেমিস্টার-এ ভর্তির জন্য প্রয়োজনীয় ট্রানসক্রিপ্ট/সার্টিফিকেট পাঠাতে পারবে না।

পরীক্ষা পেছানের কোপ মূলত পড়ে সিনিয়র ব্যাচ গুলোর উপর। আমাদের সিনিয়র ভাইয়া-আপুরা এইসবের মুখোমুছি হয়ে এসেছেন, আমরা হছ্ছি এবং যা আলামত দেখছি এই চক্র থেকে আমাদের জুনিয়ররাও মুক্তি পাবে না। চার বছরের কোর্স ছয় বছরের বেশি সময়ে শেষ করে ক্রমশ ভবিষ্যত পরিকলল্পনা, আগামীর স্বপ্নগুলো ধুসর হতে দেখে নিজেকে দোষারোপ করা ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না। :(
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে জুন, ২০১১ রাত ৯:৫৬
১২টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভ্রমণব্লগ: আলোছায়ার ঝলকে এক অপার্থিব যাত্রা”

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৬

মালয়েশিয়া আমার বেশ পছন্দের একটি দেশ। আমার জীবনের একটি অংশের হাজারো স্মৃতি এই দেশে। একটা সময় ছিল যখন এই দেশ ছিল আমার সেকেন্ড হোম।‌ এখন ও আমার আত্নীয়-স্বজন, ঘনিষ্ঠ বন্ধু-বান্ধবের... ...বাকিটুকু পড়ুন

কোরআন-হাদিস মানতে বলার ওয়াজ একটি ভুল ওয়াজ

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫২



সূরা: ৯ তাওবা, ১২২ নং আয়াতের অনুবাদ-
১২২। আর মু’মিনদের এটাও উচিৎ নয় যে (জিহাদের জন্য) সবাই একত্রে বের হয়ে পড়বে। সুতরাং এমন কেন করা হয় না যে, তাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Will you remember me in ten years!

লিখেছেন করুণাধারা, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:৫৫



উপরের ছবিটি ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে একজন ব্লগার তার এক পোস্টে দিয়েছিলেন। জানতে চেয়েছিলেন দশ বছর পর কেউ তাকে মনে রাখবে কিনা!! গতমাসে এই পোস্ট যখন আমার নজরে এলো, হিসাব... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ

লিখেছেন বিপ্লব০০৭, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:৫৭



মানুষ আসলে কী?

Sophies Verden কেতাবে নরওয়েজিয়ান ইয়স্তেন গার্ডার (Jostein Gaarder) এক বিশাল বয়ান পেশ করেছেন ছোট্ট মেয়ে সোফির জীবনের গল্প বলতে বলতে। নীতি-নৈতিকতা, জীবন-জগৎ, সৃষ্টি নিয়ে সোফির ধারণা ছিলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

শোনো হে রাষ্ট্র শোনো

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:০২


নিশ্চল শহরে আজ ক্ষুধারা হাঁটে পায়ে পায়ে
ফুটপাথে শুয়ে রয় ক্ষুদার্ত মুখ।
চালের বস্তার সেলাই হয়নি ছেড়া,
রুটির দোকানে আগুন ওঠেনি জ্বলে।
ক্ষুদার্ত আধার জাপটে ধরে আষ্টেপৃষ্টে।

আমার চোখ লাল, ভেবো না নেশায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×