'তোমার বিয়ে হয়েছে?'
ছোট্ট মেয়েটিকে দেখে এতটাই অবাক হতে হলো যে, প্রথম এই প্রশ্নটিই বেরিয়ে গেল মুখ থেকে। অপর প্রান্ত থেকে হাসি ছাড়া অন্য কোনো উত্তর পাওয়া গেল না। আবারও প্রশ্ন করলে মেয়েটির একমাত্র ভাই মিরাজ (১৬) বলল, 'অয় কথা কম কয়। খালি শরম পায়। আমারে জিগান।' এবার প্রশ্ন মিরাজকে, 'কোন ক্লাসে পড়ে তোমার বোন? নাম কী?' মিরাজ বলে, 'সিক্সে উঠছে। ওর নাম মারুফা। ওর বিয়া হইছে গত মাসের ১১ তারিখ। এহন শরীল খারাপ ওর। জ্বর অইছে বেশ কয়দিন। জ্বর ছাড়তাছে না।'
মুখে ওড়না চেপে লাজুক ভঙ্গিতে মাটির দিকে তাকিয়ে আছে মারুফা। কিছুক্ষণ চুপ থেকে মিরাজ বলে, 'মেলাপাড়া গ্রামের কামলা (দিনমজুর) সেলিমের (২৫) লগে বিয়া হইছে।' কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়নের কুয়াকাটা গ্রামের নয়ামিয়া ঘরামীর (৪০) সবার ছোট মেয়ে মারুফা বেগম (১০)। মারুফার বড় তিনটি বোন আছে। সবারই বিয়ে হয়েছে। মিরাজও বিবাহিত। বিয়ে করলে ভোটার হওয়া যাবে তাই বিয়ে করেছে বলে মিরাজ জানায়।
মারুফার মা হাসিনা বেগম (৩৫) প্রথমে কথা বলতে না চাইলেও কিছুক্ষণ পর নিজেই বলেন, 'পোলার পক্ষ মোর মাইয়্যা নেবে। মোরা কী করমু? নিজেরা একত্র হইয়া বিয়া দিছি। হপায় কলমা হইছে। মোর বেয়াইনে (মারুফার শাশুড়ি) আইয়্যা মাইয়্যার নাকে জিনিস পরাইয়্যা দিয়া গ্যাছে। আল্লাহ্র দয়ায় বালা সম্বন্ধ।'
বাল্যবিবাহের অপরাধে তাদের জেল ও জরিমানা হতে পারে জেনে হাসিনা বলেন, 'নিরুপায় হইয়া বিয়া দিছি। গরিব হইলে যা হয়। কেডা দেখব আমাগো? এহন মাইয়্যার দায়িত্ব ওর শ্বশুরবাড়ির।'
মারুফা কুয়াকাটা ইসলামপুর দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। তার সহপাঠী তামান্না বলল, 'হুনছি ওর বিয়া হইছে। এহন অয় তো মোগো লগে খ্যালতেও আইব না। আগের মতন মোরা হের লগে মেশতেও পারমু না। তাই আমরা বান্ধবীরা এক হইছি। মোগোর মইধ্যে মা-বাহে কারোর বিয়া ঠিক করলে মোরা সবতে মিইল্যা হেই বিয়া বন্ধ করুম।'
লতাচাপলি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আ. বারেক মোল্লা জানান, এ বিয়ে প্রসঙ্গে তিনি কিছু জানেন না। তবে বাল্যবিবাহের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


