somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

[গাঢ়] কৈশোর চলে গেছে! [/গাঢ়]

১৬ ই আগস্ট, ২০০৬ বিকাল ৪:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

চুল একটু লম্বা করেছি, যা পরিবর্তন তা এটুকুই- লাজুক হেসে তানিম বলে... কি দেখছিস?
নাহ, কি দেখবো? পরিবর্তনতো তোর ভেতরে হয়েছে। সৎ সাহস থাকলে ওটা বের করে এনে দেখা, পারবি?
'পাগল নাকি?'
'পাগল নই?'
তোরা চুপ করবি? রাজিন দুজনকে থামায়।
সরু পথটা একেবেঁকে চলে গেছে বহুদুর...। দুপাশে জলাধার। উত্তর-পশ্চিমের আকাশে কেযেন হেঁয়ালী করে রঙ ছড়িয়ে দিয়েছে। তার ছায়া জলে ভাসে। পাশ দিয়ে হেঁটে চলেছে ওরা তিনজন। কৈশোর... বন্য সুভাশ বাতাসে।

দ্যাখ, ঐযে ওখানে- জটলা করে স্বপ্নজাল বুনতাম; মনে আছে?
'আছে';
'রাজিন তোর?'
'ঝাপসা'।
ধুর, মামুর দোকানটা গেল কই? কপি টাচটা হারিয়ে গেল!
'মন খারাপ করিসনা; সবে শুরু... একদিন আমরাও হারায়ে যাব'।
'দ্যাখ অসীম, ফিলিসপি আউড়াবি না; খাড়া নাকটা চ্যাপ্টা করে দিব'।
'কী? ভুলে গেছিস? এই লাশটাইতো তোকে মাটিতে শুইয়ে দিত'।
'সেদিন আর নাই'।
'আমার কথায় শেষ পর্যন্ত এসে গেলি!'।
আহ, তোরা কি শুরু করলি? অ্যাই বেটা ক্যামেরা কই? কতদিন পর এক সাথে হলাম...।
'এই গেঁজেলটা একটাও ছবি তুলতে দিলো না'।
কি বললি?
'কিছু না; বলছি নীলার কথা, ওটা তোকে এতদিন সহ্য করেছে কিভাবে?'
দ্যাখ রাজিন ওকে নিষেধ কর। নইলে ওর চেহারার মানচিত্র বদলে যাবে।
'মোটকুর বাচ্চা, বেশি তাফালিং করিস না। উঠায়া আছাড় দিমু কিন্তু!'
শালা তোরে আমি...
ওরা মেঠো পথ ধরে একে অপর কে ধাওয়া করে...। পাখিরা ফিরে যাচ্ছে নীড়ে। মাঝি'র তাজা রান্নার সুভাশ বাতাসে। আকাশটা সাতরঙি হয়ে ঝলসে আছে। সূযর্্য নেই। কুসুম ভালোবাসায় হারিয়ে গেছে। এক সময় পরিচিত জীবনের গন্ধ পাওয়া যায়।
রিক্সার ক্রিং ক্রিং বাজনায়... পেছনে রেখে আসা কৈশোর আস্তে আস্তে ঝাপসা হয়ে আসে।

...তারপর নীলা চলে গেল?
'হুম'।
'মরতে ইচ্ছা করে নাই?'
'আবার জিনগায়; ঐটাতো ভাবের কথা। আমার আবার মরনে খুব ভয়। তবে, আর কিছু না পেরেছি; ডায়রীর পাতা জুড়ে গান লিখেছি। তাজ্জব আমি, ভেতরে আমার এত কিছু ছিল?
'দোস্ত নে' রাজিন নিজের পাত থেকে চপ তুলে দেয় তানিমের পাতে।
আবে শালে আন্ধেহো কেয়া?
চুপ থাক। বেশি প্যাকপ্যাক করলে, তোর পাতেরটাও হাওয়া হয়ে যাবে।
কার এত সাহস? অ্যাই, প্লেট ছাড়, ছাড় ব্যাটা।

চৌরাস্তা সামনে। তিন জনের তিন গন্তব্য। মিনিট খানেক জমানো হ্যান্ডশেক আর আলিঙ্গন... রাজিন প্রতিশ্রুতি দেয়- "দ্যাখ দোস্ত, একটাই পথ ফাঁকা। নিঃসঙ্গ। ঐ পথে যেদিন যাবি, সেদিন বান্দাকে মনে করবি। সাথে সাথে এসে যাব।" নিরবতায় কাটে কিছুক্ষন। ওরা মাথা নিচু করে ফিরে চলে...।

আবার কবে দেখা হবে?
জানেনা কেউ।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই আগস্ট, ২০০৬ বিকাল ৪:৩৩
১৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আওয়ামীলীগ ও তার রাজনীতির চারটি ভিত্তি, অচিরে পঞ্চম ভিত্তি তৈরি হবে।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ০১ লা মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৩


বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতি মূলত চারটি বিষয়ের উপর মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা পায়।
প্রথমত, মানুষ মনে করে এ দলটি ক্ষমতায় থাকলে স্বাধীনতার সার্বভৌমত্ব রক্ষা পায়। এটা খুবই সত্য যে ১৯৭১ সালে আমাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৯০

লিখেছেন রাজীব নুর, ০১ লা মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৯



আমাদের ছোট্র বাংলাদেশে অনেক কিছু ঘটে।
সেই বিষয় গুলো পত্রিকায় আসে না। ফেসবুকেও আসে না। অতি তুচ্ছ বিষয় নিয়ে মানুষ মাতামাতি করে না। কিন্তু তুচ্ছ বিষয় গুলো আমার ভালো... ...বাকিটুকু পড়ুন

সনদ জালিয়াতি

লিখেছেন ঢাকার লোক, ০১ লা মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫২


গতকাল দুটো সংবাদ চোখে পড়লো যার মূল কথা সনদ জালিয়াতি ! একটা খবরে জানা যায় ৪ জন ইউনিয়ন চেয়ারম্যানকে বরখাস্ত করা হয়েছে জাল জন্ম মৃত্যু সনদ দেয়ার জন্য, আরেকটি খবরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কঠিন বুদ্ধিজীবী

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০১ লা মে, ২০২৬ রাত ৮:৪৪




বুদ্ধিজীবী হওয়া এখন খুব কঠিন কিছু না- শুধু একটু সুন্দর করে কথা বলতে পারলেই হলো। মাথার ভেতর কিছু আছে কি নেই, সেটা বড় বিষয় না; আসল বিষয় হলো,... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেষ বিকেলের বৃষ্টি

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০১ লা মে, ২০২৬ রাত ১০:৩৭


বিকেলের শেষে হঠাৎ বৃষ্টি নামলে
জানালার ধারে দাঁড়িয়ে ছিলে চুপ,
তোমার ওমন ঘন মেঘের মতো চুলে
জমে ছিল আকাশের গন্ধ,
কদমফুলের মতো বিষণ্ন তার রূপ।

আমি তখন পথহারা এক নগর বাউল,
বুকের ভেতর কেবল ধোঁয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

×