somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শুভর অশুভ দিন

১৭ ই জানুয়ারি, ২০১৬ রাত ১:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সকালে ঘর থেকে বের হয়ে অপছন্দের মানুষের মুখ দেখা মাত্রই দিনটা শুভ যাবে কি যাবে না এই অশুভ চিন্তায় শুভঙ্করের দিনটা যে খারাপ যাবে তা সহজেই অনুমেয়। অপছন্দের লোকটা সত্তর বছরের একজন বুড়ো। চেইন পান-খোর। চেইন স্মোকাররা যেমন একটা শেষ হতেই আরেকটা সিগারেট ধরায়, ঠিক তেমনি এই বুড়ো পান এক খিলি শেষ হতেই হাতে রাখা বাক্স খুলে আরেক খিলি মুখে দেয়।
প্রি-অ্যাজাম্পশন হচ্ছে যেকোন ভাল কিংবা মন্দ ভবিষ্যতের সূচনা।
ট্যাক্সির জন্য দাঁড়িয়ে শুভঙ্করের অবচেতন মন বলল ট্যাক্সি পেতে আজ বেগ পেতে হবে। চারটে ট্যাক্সি পরপর যাত্রী বোঝাই দেখে তার মন বলল, ‘জ্বি হাঁ, দিনটা মন্দই যাইবে।’
সে অগত্যা অনিচ্ছাস্বত্বেও ভিড়ের মধ্যে বাসে উঠে দাঁড়াল। ড্রাইভার একটু পরপর কড়া ব্রেক ধরলে সে প্রায় এক মহিলার উপর গিয়ে পড়ছিল। মহিলা চোখ রাঙিয়ে বিড়বিড় করে সম্ভবত গালমন্দ করল তাকে। সে মিনমিনে ভাব ধরে আড়চোখে মহিলার দিকে তাকালে মহিলা আরো রেগে যায়।
বাস থেকে গন্তব্যে নেমে ভাড়া দিতে গিয়ে দেখে তার মানিব্যাগ উধাও! গাড়িতে পকেটমার হয়ে গেছে। ভাড়া দিতে না পারায় কন্ডাক্টর অবিশ্বাসের সুরে বলল, ‘যান মাফ কইরা দিলাম।’ শুনে চড় দিতে ইচ্ছে করলেও শুভঙ্কর হাসি হাসি মুখে অফিসের দিকে ঘুরে হাঁটা দিল।
এদিকে ট্রাফিক জ্যামের কারণে যথাসময়ে উপস্থিত না হওয়ায় অফিসে বস মৃদু বকলো, ‘এভরি সেকেন্ডের টাকা কোম্পানি দিচ্ছে, আর আপনারা পনেরশ সেকেন্ড লেট করেন!’
কাজ শুরু করলে ফাইলে করল তিনটে ভুল। সে ভুল সংশোধন করতে বসে লাঞ্চের সময় প্রায় শেষের দিকে চলে এল। খেতে গিয়েও দুর্ভাগ্য তাকে ছাড় দিল না। খাবারে তার পছন্দের কোন আইটেম আর অবশিষ্ট নেই।
কয়েকজন কলিগ বিদ্রূপের সুরে হেসে বলল, ‘প্রমোশনের জন্যে তো হেব্বি খাটছেন।’
অফিস শেষে এটিএম বুথে টাকা উঠাতে গিয়ে কার্ড গেল আটকে। সে এটিএম মেশিনে ২টা লাথি মারল সজোরে।
সিকিউরিটি দরজা খুলে রাইফেল তাক করে বলল, ‘হ্যান্ডস আপ, স্যার!’
ক্লান্ত শুভঙ্কর বাসায় ফিরে টাওয়েল হাতে বাথরুমে প্রবেশ করল। গোসল করতে গিয়ে দেখে টেপে পানি নেই।
চিৎকার করে জমিদারের চৌদ্দগোষ্ঠী উদ্ধার করল সে।
সে যাইহোক, শুভ্রাকে সে কথা দিয়েছে আগামীকাল অফিস থেকে বিকেলে ছুটি নিয়ে তাকে কর্ণফুলী নদীতে নৌকা ভ্রমণে নিয়ে যাবে। এমন একটা দিন পার করবার পর সে কিছুতেই সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না আগামীকাল যাবে কিনা।
সে ভাবল কয়েন নিয়ে টস করা যাক। এরপর সে ‘হেড’ উঠলে যাবে ভেবে ‘টেল’ এবং ‘টেল’ উঠলে যাবে টস করে ‘হেড’ পেল।
সে কিছুতেই বুঝতে পারছে না কেন এমন ঘটছে। সে যা করছে তা-ই ভুল হচ্ছে। অন্যমনস্ক হয়ে কফি মগটা টেবিলে রাখতে গিয়ে মেঝেতে ফেলে দেয় সে। টুকরো টুকরো হয়ে মগটা মেঝেতে ছড়িয়ে পড়ে। সে ছড়ানো ছিটানো মগের টুকরোর দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে।
এমন অশুভ একটা দিনের পর রাতে তার ঘুম আসেনা। সে এপাশ ওপাশ করে শেষে ঘুমিয়ে পড়ে। মাঝরাতে দুঃস্বপ্ন দেখে তার ঘুম ভেঙ্গে যায়। চোখ মেলে সে দেখে তার মাথা বরাবর উপরে একটা মাকড়সা ঝুলছে।
.......................................
.......................................
ভোরবেলা কাকের বিরক্তিকর কা-কা ডাকে তার ঘুম ভাঙে। আড়মোড়া ভেঙে সে উঠে দাঁড়িয়ে প্রস্তুত হয় অফিসের জন্য। গতকালের কোন কিছুই সে আর মনে রাখতে চায়না আজ।
ঘর থেকে বের হয়েই সে যথারীতি ঐ বুড়ো লোকটাকে দেখতে পেল। বুড়ো হুইলচেয়ারে বসে পান চিবুচ্ছে।
শুভঙ্করের মাথায় শুভ বুদ্ধির উদয় হল। সে বুড়োর দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসল।
‘নাহ্, লোকটাকে অপছন্দ করার কোন কারণ নেই।’ মনে মনে ভাবল সে।
এগিয়ে গিয়ে বলল, ‘চাচা, ভাল আছেন?’
‘জ্বি, আল্লার রহমতে ভাল আছি।’ বুড়ো একগাল হেসে উত্তর দিল।
‘চাচা, দোয়া করবেন।’
এই বলে হাসিমুখে শুভঙ্কর বিদায় নেই।
দেখা যাক, আজ শুভঙ্করের দিনটা কতটা খারাপ যায়!
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই জানুয়ারি, ২০১৬ রাত ১:১৩
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাষ্ট্রের ভুলের মূল্য কি তবে শিশুদের জীবন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:০৪


যেকোনো দেশে শিক্ষিত নাগরিককে রাষ্ট্রের সম্পদ মনে করা হয়। তাদের জ্ঞান, বুদ্ধি আর অভিজ্ঞতা দিয়ে রাষ্ট্র উপকৃত হবে, এটাই স্বাভাবিক প্রত্যাশা। কিন্তু বাংলাদেশে অনেক সময় চিত্রটা যেন উল্টো।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগের সুদিন ফিরিয়ে আনতে ব্লগ টিমের প্রতি বিনীত আবেদন

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:০৬


শ্রদ্ধেয় ব্লগ টিমের প্রতি বিনীত নিবেদন,
ব্লগের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কিছু কথা দীর্ঘদিন ধরেই মনে জমে আছে। কথাগুলো কোনো অভিযোগ হিসেবে নয়, বরং একজন সাধারণ ব্লগার ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশে কোন 'জঙ্গী' নেই

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৫:২৫

'জং' শব্দটার অর্থ 'যুদ্ধ'। এভাবে, জঙ্গী কথাটার অর্থ দাঁড়ায় - যোদ্ধা বা যুদ্ধ করেন। যে কোন যুদ্ধই প্রাণহানি ডেকে আনে। আগের কালে, রাজারা যুদ্ধ করে দেশ জয় করতেন। তাঁদের অণ্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এই প্রথম খাল বাবার পলিটিক্যাল ম্যাচুরিটির নিদর্শন পেলাম

লিখেছেন অপলক , ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৪

২০১০ সালে ফেব্রুয়ারীর ২২ তারিখ। মেয়েলি ব্যাপার বলি, প্রতিহিংসার ব্যপার বলি অথবা পলিটিক্যাল ইমম্যাচুরিটির কথা বলি, বাংলাদেশ জিয়া আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের নতুন করে আকীকা দিয়ে নাম রাখা হয়েছিল হযরত শাহজালাল... ...বাকিটুকু পড়ুন

।।মাদার অব ড্রাকুলা হাসিনার রাস্ট্রীয় জঙ্গীবাদ।।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৮


মাদার অব ড্রাকুলা হাসিনা ভারতের প্রযোজনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীদেরকে দিয়ে জঙ্গী জঙ্গী নাটক মঞ্চস্থ করতো। বহিবিশ্বকে বোঝাতো দেশে ইসলামী জঙ্গী দিয়ে ভরে গেছে এবং সেই জঙ্গীরা ইউরোপ আমেরিকার ভয়াবহ ক্ষতি করবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×