
রঙে ভরা রাজনীতি।
---------------------------------
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস মানেই বুকের ভেতর একটু ভার, একটু গর্ব। অথচ সেই দিনেই যদি কারও কণ্ঠরোধ করা হয়, পুষ্পস্তবক ছিঁড়ে ফেলা হয়, তাহলে প্রশ্নটা আর আবেগের থাকে না, সরাসরি রাজনীতির হয়ে যায়।
স্বতন্ত্র এমপি ও বিএনপির সাবেক নেত্রী রুমিন ফারহানা-কে হেনস্তার ঘটনাটা ঠিক সেখানেই দাঁড় করিয়ে দেয় আমাদের। দলীয় কর্মীরা যদি দিব্যি ক্যামেরার সামনে এসব করতে পারে, তাহলে দলের ভেতরে শৃঙ্খলা বলতে আদৌ কিছু আছে কি না, সেই প্রশ্ন কি কখনও শীর্ষ নেতৃত্বের কানে পৌঁছাবে। নাকি ভাষা শহীদদের স্মরণও এখন দলীয় মালিকানার বিষয়।
মজার ব্যাপার হলো, একদিকে তারেক রহমান-এর নানা নীতিকথা ও কর্মসূচি নিয়ে প্রশংসার জোয়ার। অন্যদিকে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে কথাবার্তার লাগাম যেন খোলা। নীতির ভাষা একরকম, নেতাদের মুখের ভাষা আরেকরকম।
পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম রবি যখন বলেন, সমঝোতার ভিত্তিতে টাকা তোলা হলে সেটি চাঁদাবাজি নয়, তখন মনে হয় সমস্যাটা নিয়ন্ত্রণে নয়, সংজ্ঞায়। আইন যেখানে পরিষ্কার, সেখানে শব্দ ঘুরিয়ে যদি অর্থ পাল্টে দেওয়া যায়, তাহলে কাল চাঁদাবাজির বদলে হয়তো নাম হবে সহযোগিতা ফি। প্রশ্ন হলো, হিমশিম খেয়ে কি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সত্যিই চাঁদাবাজির অর্থ নতুন করে লিখতে বসেছে।
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়েও ভাবনার জায়গা কম নয়। সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী চান ভারতীয় শিল্পীদের মতো শিল্পী তৈরি করতে। তালিকায় জায়গা পান নেহা কাক্কর, কিন্তু থাকেন না রুনা লায়লা বা সাবিনা ইয়াসমিন। তাহলে কি নিজেদের মাটির শিল্পীরাই এখন অপ্রাসঙ্গিক। নাকি সংস্কৃতির মানদণ্ডও আমদানিনির্ভর হয়ে গেছে।
আর সবচেয়ে নাটকীয় অধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। এক সময় যাঁর বিরুদ্ধে বিদেশি নাগরিকত্ব আর দেশবিরোধী চুক্তির অভিযোগ তুলেছিল বিএনপি, সেই খলিলুর রহমান আজ পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি আশ্বস্ত করছেন, দেশের স্বার্থ পাই পাই করে বুঝে নেবেন। শুনতে ভালো লাগে। তবে রাজনীতিতে স্মৃতি বড় নির্মম। প্রশ্ন থেকে যায়, তখন অভিযোগগুলো মিথ্যা ছিল, নাকি এখন দায়িত্বের ভারে সেগুলো ভুলে যাওয়া সুবিধাজনক।
সব মিলিয়ে মনে হয়, সমস্যাটা একেকটা ঘটনায় নয়। সমস্যা ধারাবাহিকতায়। ভাষার দিনে পুষ্পস্তবক ছেঁড়া থেকে শুরু করে চাঁদাবাজির নতুন ব্যাখ্যা, সংস্কৃতিতে আত্মবিস্মৃতি আর পররাষ্ট্রনীতিতে স্মৃতিভ্রংশ—সবকিছু মিলিয়ে একটি প্রশ্নই ঘুরে ফিরে আসে। এই রাজনীতি কি আদর্শের পথে হাঁটছে, নাকি সুবিধার ভাষা খুঁজে নিচ্ছে প্রতিদিন নতুন করে।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


