somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মহিউদ্দিন হায়দার
"জীবন শেখায়, আমি লিখে রাখি। গল্প অনুভূতি আর অভিজ্ঞতার মিশেলে এটাই আমার ছোট্ট জগৎ" গতানুগতিক সাধারণ মানুষ

"স্নাইপারের গুলি থেকে জাতিসংঘের নীরবতা: জুলাই বিপ্লব কি আসলেই সব সমালোচনার ঊর্ধ্বে?"

০৯ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



জুলাইয়ের আন্দোলনে স্নাইপার আর হেলিকপ্টারের গুলি কার ইশারায় চলেছিল? আর সে সময় মাঠে মোতায়েনকৃত সেনাবাহিনীর আসল ভূমিকাই বা কী ছিল? সত্য কি শুধুই একতরফা চিত্রনাট্য, নাকি পর্দার আড়ালে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো রহস্য?
একটি গণতান্ত্রিক ও স্বাধীন রাষ্ট্রে কোনো ঐতিহাসিক ঘটনাই প্রশ্ন বা পর্যালোচনার ঊর্ধ্বে হতে পারে না। জুলাই আন্দোলনে যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের রক্ত ও আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করতে হলেও প্রতিটি ঘটনার সত্য তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, সঠিক ও নিরপেক্ষ অনুসন্ধান না করে, একতরফা প্রচারণার মাধ্যমে ভিন্নমত দমনের জন্য যদি ক্ষমতার অপব্যবহার করা হয়—তবে সচেতন সমাজ প্রশ্ন তুলবেই।
আন্দোলনের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত এমন কিছু অন্ধকার দিক ও অমীমাংসিত প্রশ্ন রয়ে গেছে, যা সাধারণ মানুষের মনে গভীর সংশয় ও রহস্যের জন্ম দিচ্ছে:

১. হেলিকপ্টার ও স্নাইপারের গুলির রহস্য

: আন্দোলনের সময় সাধারণ মানুষের ওপর স্নাইপারের নিখুঁত নিশানা এবং হেলিকপ্টার থেকে নির্বিচারে গুলি বর্ষণের মতো ভয়ঙ্কর ঘটনা আমরা দেখেছি। এই অত্যাধুনিক স্নাইপার রাইফেল কার নির্দেশে ব্যবহার করা হয়েছিল? হেলিকপ্টার থেকে ওপেন ফায়ারের চূড়ান্ত আদেশ কার ছিল? এই মারণাস্ত্রগুলোর নেপথ্যের কারিগরদের কি আড়াল করার চেষ্টা চলছে?

২. সেনাবাহিনীর রহস্যবৃত ভূমিকা:

সে সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশজুড়ে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। কিন্তু ক্রান্তিলগ্নে মাঠে মোতায়েনকৃত সেনাবাহিনীর প্রকৃত ভূমিকা আসলে কী ছিল? তারা কি তৎকালীন সরকারের আদেশ মান্য করছিল, নাকি পর্দার আড়ালে অন্য কোনো কৌশলগত পরিবর্তন বা সমঝোতার রূপরেখা তৈরি হচ্ছিল? এই পুরো অধ্যায়টি কেন এখনো রহস্যের চাদরে ঢাকা?

৩. মৃতের তালিকায় জীবিত মানুষ ও বিভ্রান্তিকর পরিসংখ্যান:

প্রতিনিয়ত প্রচার করা হচ্ছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১,৪০০ মানুষকে হত্যা করেছেন। অথচ সরকারি পরিসংখ্যান বলছে জুলাই অভ্যুত্থানে নিহতের সংখ্যা ৮৩৪ জন। তার ওপর, সরকারি এই তালিকায় নাম থাকা অনেকেই পরবর্তীতে জীবিত ফিরে এসেছেন! যে তালিকায় জীবিত মানুষের নাম মৃতের খাতায় তুলে দেওয়া হয়, সেই পরিসংখ্যানের নির্ভরযোগ্যতা কতটুকু? তাহলে বাকি ৫৬৬ জন মানুষ কখন এবং কার হাতে প্রাণ হারালেন? ৫ই আগস্টের পরবর্তী সময়ে সংঘটিত এই বিপুল পরিমাণ হত্যাকাণ্ডের দায় কার?
৪. পুলিশ হত্যা ও থানা লুটের অদৃশ্য হিসাব:

এই আন্দোলনে কতজন পুলিশ সদস্যকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হলো, তার কোনো স্বচ্ছ হিসাব দেওয়া হচ্ছে না কেন? দেশের বিভিন্ন থানা লুট করে যে আধুনিক অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ছিনতাই করা হলো, সেই অস্ত্রগুলো এখন কার হাতে? কার ইশারায় থানাগুলো অরক্ষিত করে দেওয়া হয়েছিল? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর এড়িয়ে যাওয়া কি উদ্দেশ্যমূলক নয়?

৫. জাতিসংঘের নীরবতা ও ইনডেমনিটির দেওয়াল:

জাতিসংঘের দেওয়া মৃতের তালিকা এবং তাদের তদন্ত পদ্ধতি নিয়ে খোদ শেখ হাসিনার আইনজীবীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়ে জবাব চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু আজ পর্যন্ত জাতিসংঘ সেই চিঠির কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি। অন্যদিকে, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আন্দোলনকারীদের সব ধরণের অপরাধের বিচার থেকে 'ইনডেমনিটি' বা আইনি দায়মুক্তি দিয়েছে। যদি উদ্দেশ্য শুধুই স্বচ্ছ ন্যায়বিচার হতো, তবে এক পক্ষকে আইনের ঊর্ধ্বে রাখার এই মরিয়া চেষ্টা কেন?

দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হলো, এই অত্যন্ত যৌক্তিক এবং সাধারণ মানুষের মনের প্রশ্নগুলো তুললেই একটি বিশেষ সুবিধাভোগী গোষ্ঠী দল বেঁধে তেড়ে আসে, প্রতিহত করতে চায়। কিন্তু লাঠি বা ট্রল বাহিনী দিয়ে সাময়িকভাবে মুখ বন্ধ করা গেলেও, মানুষের বিবেক ও ইতিহাসকে কখনো ফাঁকি দেওয়া যায় না।

কোনো ঘটনাকে জোর করে ‘পবিত্র’ বা ‘সমালোচনার ঊর্ধ্বে’ বানিয়ে গণতান্ত্রিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চাকে গলা টিপে হত্যা করা যায় না। সাধারণ মানুষ এখন স্পষ্ট বুঝতে পারছে—কারা আন্দোলনকে নিজেদের ক্ষমতার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করেছে এবং কারা সাধারণ মানুষের লাশের ওপর দাঁড়িয়ে ফায়দা লুটেছে। সব অসঙ্গতি এবং পর্দার আড়ালের রহস্যের উত্তর আপনাদের দিতেই হবে!
আপনার কি মনে হয়? স্নাইপার ও হেলিকপ্টার থেকে গুলির রহস্য এবং তৎকালীন সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে কি একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করা উচিত নয়? সঠিক তদন্ত ছাড়া কি জুলাইয়ের প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটিত হওয়া সম্ভব? আপনার জোরালো মতামত কমেন্টে জানান।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:০৮
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ১৯৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০



আর্জেন্টিনা দুই গোল খেয়ে গেছে!
মেসি পেনাল্টি মিস করেছে। এদিকে খেলা অর্ধেক শেষ। তখনও আমি বলেছি, আর্জেন্টিনা জিতবে। কোনো চিন্তা নাই। প্যারা নাই। চিল। হ্যা আমার কথাই সত্য হয়েছে। আর্জেন্টিনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

এদেরকে না রুখলে চড়া মূল্য দিতে হবে

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৬



মাহবুব আজিজ, আনিস আলমগীর, সোমা ইসলাম, শাওন, মঞ্জুরুল পান্না, শম্পা রেজা, কালচারাল ফ্যাসিস্ট ফরিদুর রেজা শাইখ সিরাজ এদেরকে এখনই বন্ধ করতে হবে না হলে বাংলাদেশকে চড়া মূল্য দিতে হবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

কত ভেবেছি, আমাদের একদিন দেখা হবেই

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৯

কত ভেবেছি,
আমাদের একদিন দেখা হবেই।
হয়তো হঠাৎ সামনে এসে
আমাকে চমকে দেবে।
হায়,
ওরা কেন জানালো,
পৃথিবীতে
তুমি আর বেঁচে নেই!

কত ভেবেছি,
চলতে চলতে পথে
সামনে একটা রিকশা থেমে যাবে।
কী মোহন ভঙ্গিমায়
রাজাসনে বসে আছো তুমি,
রোদে ভেজা মুখ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পি ভি নরসিমা রাও - ভারতের অর্থনৈতিক সংস্কারের জনক

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৯ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৪৩



পি ভি নরসিমা রাও ১৯৯১ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তৎকালীন ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় যে ঐতিহাসিক সংস্কারনীতি গ্রহণ করেন, তা "এলপিজি সংস্কার" (LPG Reforms - Liberalisation,... ...বাকিটুকু পড়ুন

সব দোষ গাজী সাহেবের!

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৯ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ২:৫৩



ধরেন, এখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে। শেখ হাসিনা সংসদ ভবনের সামনে ভারতের স্বাধীনতা দিবস জাঁকজমক করে পালন করলেন। ভারতের শীর্ষ নেতা এলেন, ভারতের পতাকা উড়ল...

এখন চুপ করে থাকা পাকিস্থানপন্থীরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×