[আমার কি শরীর খারাপ করতে নেই অধিকারীদা? আমি কি মানুষ না?]
[না তুমি মানুষ না, তুমি দিপালী অপেরার নটী]
শ্রী শ্রী দিপালী অপেরার আজকের পালা জীবনমঙ্গল
বেজে ওঠে মোহন-মন্দিরা, ঢোল-কত্তাল, হারমোনি
একদল সখী-সহচরে প্রবেশ বাসনত্দির
"তারা এ দেশের সবুজ ধানের শীষে
চিরদিন আছে মিশে
দোয়েল-শ্যামার সীসে
চিরদিন আছে মিশে"
বন্দনা শেষ, এবার জীবনমঙ্গল
দিপালী অপেরার নটী বাসনত্দি এখন নগরবালা
পথে পথে ঘোরে, দাঁড়িয়ে হানে বিরল কটাৰ
"যাবে নাকি গো কুঞ্জুবনে, নেবে নাকি গো দ্রাৰাসাধ
ভরিয়ে দেবো, ভিজিয়ে দেবো, মিটিয়ে দেবো আশ"
[বাসনত্দি এসব কি হচ্ছে, মন দিয়ে অভিনয় হচ্ছে না, ঢলানিটা ঠিক জমছে না]
[প্রতিদিন ঢলানি হয় না অধিকারীদা, আজকে খারাপ আরেকদিন ভালো হবে]
[লোকে পয়সা দিয়ে খারাপ কিনবে কেন বাসনত্দি, লোকে ভালো চায় ভালো দিবি]
[অধিকারীদা আমি আর পারছিনে, এই জীবন আমার আর ভালো লাগে না, নকল নগরবালা মঞ্চে, আর এখানে সত্যিকার নগরবালা সাজতে আমার আর ভালো লাগে না]
[এগুলো কি কথা, আজ পালা শেষে যেতে হবে যে, মনে আছে তো?]
[মনে আছে, মনে আছে, মনে আছে, আমি নগরবালা, আমি দিপালী অপেরাার নটী]
[বাসনত্দি, এইতো হয়ে গেছে, এখন এইটুকু মঞ্চে ঢেলে দে, তোর বাঁচা মানে দিপালী অপেরার বাঁচা, বুঝিসনে কেন?]
[আমি কি বেঁচে আছি অধিকারীদা? ]
[আহ্ ঢেমনী মাগি জ্বালালে দেখছি, যা যা ছিন পড়ে গেছে, যা যা, বুকটা একটু ভালো করে...]
ও আমার রসিয়া বন্ধুরে, আন্ধার রাইতে তুই আমারে......
ক্যাপ...ক্যাপ.....
[দিদি তুমি খালি ক্যাপ পাও, আমার তো একটাও পাইলাম না]
[তোরাও পাবি, আমার শেষ, তোদের শুরম্ন, এইতো আর কিছুদিন]
[তারপর তুমি কই যাবা বাসনত্দিদি?]
[কইরে বাসনত্দি, ওরা এসে গেছে, এসো, যেতে হবে না?]
[আসছি অধিকারীদা. . .আসিরে...এবার জীবনমঙ্গলের দ্বিতীয় পালা, এক টিকিটে দুইটি পালা..বুঝলি]
ততোৰণে মাইকে নতুন ঘোষণা
শ্রী শ্রী দিপালী অপেরার আগামীকালের আকর্ষণ মিস বাসনত্দির........
(কবিতাপোহারের কবিতা-শোধ)
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


