somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

চুল তার কবেকার...........

২১ শে জুলাই, ২০১৪ সকাল ১০:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


চন্দ্রমানব

চুল নিয়ে যত সব কথা। কুচ বরন কন্যারে তোর মেঘ বরণ কেশ। গলা ছেড়ে প্রমত্তা পদ্মা কিংবা মেঘনার উথাল-পাথাল ঢেউয়ের মাঝে গাইতে থাকে কোন নৌকার মাঝি। অন্য দিকে কবি তার মনের উত্তুঙ্গ ভাব দিয়ে লিখে ফেললেন, “চুল তার কবেকার বিদিশার নিশা”। ওদিকে এর বিপরীত প্রক্রিয়া অর্থাৎ কবির আঁকু-পাঁকু ভাবের পরিবর্তে মহীলারা জড়িয়ে পড়ে চলোচুলিতে। কি আজব (নাকি গজব) দৃশ্য! তাই না ?

আর নব বধুর কেশের সুবাসে মধুচন্দ্রিমা নিশি যাপনের খায়েশ কোন্‌ যুবকের না আছে। আবার আধুনিক গানের আসরে সেই বিখ্যাত গানটি “এই ঘন কুন্তল বন্যা, কে দিল ছড়ায়ে বল কন্যা” শিল্পি বসির আহমেদ ষাটের দশকে এই গান গেয়ে কতনা বিখ্যাত হয়েছিলেন। আর হালে মেয়েদের আরেক বাজে ফ্যাশান দেখে মনে বড়ই দুঃখ আসে। লম্বা-চুলো মেয়েরা চুল লম্বার সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে প্রায়-ই ফ্যানে চুল বেধে ঝুলে পড়ে নিজেকে মৃত ঘোষণা করে।

তবে আজকাল ঢাকা শহরের আনাচে-কানাচে এমনকি কানা গলির মোড়েও বিউটি পার্লারের ছড়াছড়ি দেখা যায়। ফলে চুল ষ্ট্রেটেইটেনিং আর কার্লিং করার মওকা এখন মেয়েদের দোর গোড়ায়। আর এই ফাঁকে টিভি চ্যানেলগুলো তো চুলের এ্যাড দিয়েই কোটিপতি । ঐ যে সেই এ্যাডটি “ ইনি হচ্ছেন হলিউড হেয়ার সাইনিং একস্পার্ট মাহাদি.......”। সেটি দেখে মনে হয় মেয়েরা সেই মাহাদি যুবরাজকে জোঁকের মত ঘিরে আছে।

আরেকটি বিষয়, যার মাথায় চুল কম তার মনের কষ্ট বোঝে কে। মাথার সামান্য চুল তবুও সে যত্ন করে আঁচড়িয়ে এবং ছড়িয়ে রাখে মাথার চার পাশে। আর যাদের মাথায় চুল-ই নেই, তাদের আর চিন্তা কি ? তারা তো কমপক্ষে আমেরিকার হলিউড তারকা বিখ্যাত কোজাক ‘মিয়া ভাইয়ে’র বন্ধু হতে পারে। মাথা মুড়িয়ে মাথাকে তেল তেলে করে রাখা সে আরেক তরিকার ফ্যাশান।

তবে বর্তমানে যে বিষয়টি উঠতি বয়সের ছেলেদের মাঝে খুব করে দেখা যাচ্ছে তা হচ্ছে মাথার সামনের এবং মধ্যেকার চুলকে মিসাইল বা ক্ষেপনাস্ত্রের মত করে খাড়া করে রাখা। যেন সেটি দিয়ে প্রয়োজনে কোন শত্রু পক্ষের প্লেনকে নামিয়ে আনা যায়।

একইভাবে মেয়েদের চুল বিষয়ক আরেকটি পর্যবেক্ষণ আছে। কোন কোন মেয়ে বড় চুলের পরিচর্যা আর উকুনের ঝক্কি এড়াতে চুলে ‘ইন্দিরা কাট’ দিয়ে রাখে। এই কাটটির মাহত্ম হচ্ছে চুল না বড়, না ছোট।

বর্তমানে এটাই হচ্ছে চুল বিষয়ক চিন্তা-ভাবনার লেটেষ্ট হাল-হকিকত।

তাহলে এবার চুলের তত্ত্ব-তল্তাশি নিয়ে কিছু কথা শোনা যাক। বলা হচ্ছে মানুষের চুলের গঠন প্রক্রিয়া বেশ জটিল। তবে এর গঠন এবং বৃদ্ধি আর তার সাথে এর উপর বিভিন্ন প্রসাধনী ও প্রস'তকৃত দ্রব্যের প্রয়োগ বিষয়ে জানা বেশ উপকারি বটে। প্রত্যেকটি চুল একটি ফলিকল থেকে বের হয়। ফলিকল হচ্ছে মাথার চামড়ার মধ্যে গর্ত বা পকেট। চুল ফলিকলের ভিতরের একগুচ্ছ সেল বা প্যাপিলা থেকে জন্ম লাভ করে। এবং চুলের যে অংশ চামড়ার গর্ত বা ফলিকলের মধ্যে থাকে সে অংশকে বলা হয় রুট বা শিকড়। চুলের গোড়ার দিকটির তিনটি অংশ অছে, যথা (১) বাহিরের অংশ বা কিউটিকল (২) মধ্য অংশ বা করটেক্‌স (৩) কেন্দ্রীয় নালি বা সেন্ট্রাল ক্যানাল।

চুল শিকড় থেকে গজায় এবং এর একটি সীমিত জীবনকাল আছে যার পরে তা মাথা থেকে পড়ে যায়। তবে তা পরবর্তীতে নতুন চুল দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়। চামড়ার উপরের যে অংশে চুল থাকে তা মৃত। ফলে তা কোন রকম শারিরীক ক্ষতি ছাড়াই কাটা-ছেঁড়া করা যায়। চুল কাটা এবং সেভ করার জন্য চুলের বৃদ্ধি, চুলের ঘনত্ব এবং কাঠামোতে কোন পরিবর্তণ আসেনা। অনেকের ধারণা আছে যে, চুলের খোলা অংশ ভিতরে ফাঁপা। এবং চুলের ভিতর দিয়ে “গরম বের করা” অথবা “চুলের মধ্যকার রস বের হওয়া” কাজ সম্পন্ন হয়। ফলে আনেকের এসব তথ্যের উপর ভিত্তি করে চুলকে ‘সিঞ্জিং’ বা ‘হিটিং’ করে যা সম্পূর্ণ ভুল।

দেখা গিয়েছে যে, মাথার উপরিভাগ বা খুলির প্রত্যেক এক বর্গ ইঞ্চি পরিমিত স্থানে গড়ে ১,০০০টি চুল থাকে। ফলে একটি পূর্ণ বয়স্ক লোকের মাথাতে গড়ে ১,২০,০০০ চুল থাকে। চুল যত চিকন হয় এর ঘনত্ব ততো বাড়ে।

আরো একটি মজার পরিসংখ্যান রয়েছে। সেটি হচ্ছে ব্লন্ড হেড বা সাদা-চুলো মাথাতে গড়ে প্রায় ১,৪০,০০০টি চুল, রেড হেড বা লাল-চুলো মাথাতে ৯০,০০০টি এবং কালো-চুলো মাথাতে গড়ে প্রায় ১,০৮,০০০টি চুল থাকে। মাথার চুলের ব্যাসার্ধে বা মোটা-ঘনত্বেও বেশ পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। যেমন, বাচ্চাদের চুল বড়দের চুল থেকে বেশ চিকন। অন্য দিকে শুভ্র-কেশিদের চুল কৃষ্ণ-কেশিদের তুলনায় কিছুটা শরু। সবচেয়ে সূক্ষ চুলের পুরুত্ব বা থিকনেস প্রায় ১/১৫০০ ইঞ্চি এবং সবচেয়ে মোটা চুলের পুরুত্ব ১/১৫০ ইঞ্চি।

চুল বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও বেশ তারতম্য দেখা যায়। গরম কালে শীত কালের চেয়ে চুল বেশি বৃদ্ধি পায়। ওদিকে নতুন ছোট চুল লম্বা বয়ষ্ক চুল থেকে বেশি বাড়ে। চুল যখন চামড়া ভেদ করে উপরে আসে তখন তা প্রতি মাসে ৩/৪ ইঞ্চি হারে বাড়ে। কিন' চুল যখন লম্বা হয়ে যায়, ধরা যাক ১০ ইঞ্চি, তখন এর বৃদ্ধির হার অর্ধেকে নেমে আসে।

মানুষের শরীরের চামড়ার মতই সব সময় মাথার চুলের যত্ন নেয়া দরকার। সঠিক সাবান বা শ্যাম্পু ছাড়া ঘন ঘন চুল ধোয়া উচিত নয়। সাধারণতঃ চুল সপ্তাহে একবার সাবান বা শ্যাম্পু দিয়ে ধোয়া দরকার। কিন' তা অবশ্যই প্রত্যহ ব্রাশ করা এবং আঁচড়ানো দরকার। মাথার চুল এবং মাথার উপরের চামড়ার যত্ন না করলে চুল তাড়াতাড়ি লিকলিকে বা ল্যাংকি, নমনীয় বা ফ্লেক্‌সিবল্ এবং তেল চিট চিটে বা গ্রিজি হয়ে যায়। ফলে এতে দ্রুত খুশকি জন্ম নেয়। তাছাড়া একটি অপরিস্কার মাথা ছত্রাক এবং উকুন জন্মানোর জন্য বেশ উপযুক্ত স্থান। অতএব চুল নিয়ে চুলাচুলি না করে আল্লাহ্‌র দান এই সুন্দর চুলগুলোর যত্ন নেয়া একান্ত আবশ্যক নয় কি?

শেষে চুল নিয়ে হাসুন কিংবা ঝেড়ে কাশুন। যেটাই করুন না কেন, চুলের অযত্ন হলে রুপসীর রুপের রহস্য কিন্তু একবারে ফকফকা হয়ে বেরিয়ে আসবে। তখন দূরবীন দিয়ে কাউকে খুঁজলেও কিন্তু তাকে কাছে পাওয়া যাবেনা। অতএব সুন্দরী সাবধান!












৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোথায় পাই পাগলের শ্বশুর

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৪৮


পাগলের পাতা ছাগলে খায়,
দাঁতের দোষটা হাতেই যে কয়;
দেয় রে দোষটা দেয় চোখের,
মনটা যে ধোয়া তুলসীপাতা,
কেউ দেখে না রে মুখের।

মুখের কথা ঠোঁটে কয়,
ছাগল ডাকে রে ভাই, ব্যাঁ-ব্যাঁ;
পাগলের কাজ পাগল করে সই,
সাধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

পরিস্থিতি কি জটিল?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯

বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছি, অথচ বাইরে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড আর টিয়ার গ্যাসের শব্দে চারদিক প্রকম্পিত! মিরপুরে আমার বাসার কাছেই মেট্রো রেলের নিচে আগুন দেওয়া হয়েছে; কিছুক্ষণের জন্য মেট্রো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৯



খাওয়া দাওয়া করাটা আজকাল বিরক্তকর লাগে।
কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকতে হলে- খেতে হবে। না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। প্রিয় খাবার গুলোও খেতে ইচ্ছা করে না। ভালো লাগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৬


এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইসরায়েল ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই আমেরিকা ইরানে পারমাণবিক বোমা হামলা করে। বিগত বছরগুলোতে ইসরাইল সারা বিশ্বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Haze দমনে সিঙ্গাপুরের কুটনৈতিক দক্ষতা

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩১

সিঙ্গাপুর সাম্প্রতিককালে স্মরনকালের ভয়াবহ Haze (ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণ) এর কবলে পড়ে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই সারা শহর ঘন ধোয়ার আবরনে ঢেকে যায়। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×