somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ডুভূলজি (ডুডুলজির ভুল) -একটি রম্য

০৪ ঠা নভেম্বর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ছোটো আঁকা ছোট লেখা, মনের ভিতর বাইরে যায় দেখা : ডুডুলজি

বাসায় শুয়ে বসে আলসেমি করেই দিনটা কাটিয়ে দেবার প্ল্যান করছিলাম । ঠিক তখনই বেরসিকের মতো কলিং বেলটা বেজে উঠলো । দরজাটা খুলে শাহী ভিলার নতুন ভাড়াটিয়া ভদ্রমহিলাকে দেখেই চিনলাম । সাথে লাল সেলোয়ার পড়া মেয়েটাকে দেখলাম ! সারা পৃথিবীটা যেন দুলে উঠলো।চোখের সামনে যেন হিরোশিমায় ফেলা এটম বোমা 'লিটল বয়' এসে পড়েছে ! 'ভালোলাগা' সেই আণবিক আঘাতে মনের ভেতর জ্বলে পুড়ে সব ছাই -সব শেষ । 'দেয়ার আর মেনি থিঙস বিটুইন হেভেন এন্ড অর্থ হিরোসিও'- একেবারে জ্বলে গলে মমি হয়ে গেলাম মুখটা দেখে । আণবিক আঘাতে মন বিধ্বস্ত করার জন্য মনে মনে তার নাম দিলাম হিরোশিমা ।

বিকেলে অনেক ঘুরাঘুরি করলাম শাহী ভিলার আসে পাশ দিয়ে । সূর্যটা কোথায় দেখবার ভ্যান কর কতো বার যে তাকালাম তিন চার তলার বন্ধ জানালার দিকে । সেই তাকানোতেওঁ কিযে ঝামেলা মাইরি ! একবারতো সাক্ষাৎ বেইজ্জুতির হাত থেকে ওপরওয়ালা দয়ার অবতার হয়ে বাঁচালেন । হাতটা দূরবীনের মতো করে জানালা গুলো দেখছি আর মাথার ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়া বজ্জাত পাখিটা প্রেম প্রয়োজনীয়তার দিকে কাঁচকলা দেখিয়ে একগাদা পু করে দিল । একবারে গা ঘেসে সেটা এসে পড়লো সামনে । ছোট্ট একটু দরে যেতেও তাড়াহুড়ায় বড় একটা লাফ দিতে হলো কোনো দিকে না দেখে, কোনো কিছু না ভেবেই ।আমার কোলা ব্যাঙের মতো লাফ দেখেই নাকি কেউ যেন খিলখিল করে হেসে উঠলো । আশেপাশের সব বাসার জানালা বদ্ধ ।এমন মিহি সুরে কে হাসে !

চমকে তাকাতেই বেল গাছের ডালের ফাঁকে মুখটা দেখলাম। না কোনো পেত্নী নয় Iপাশের মায়া মঞ্জিলের দোতলা থেকে দশ বছরের বল্টু গলগল করে হাসছে! বদের হাড্ডি ! কট মট করে ওর দিকে তাকালাম ! বেলা বাজে চারটা বল্টুর বাবা পল্টু সাহেবের ওপর মনটা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। যেমনি বাবা তেমনি ছেলে ! লাইক ফাদার লাইক সন ! এই সময় বাচ্চা কাচ্চার পুরোটাই মানে শরীর মনসহ থাকবে পড়ার টেবিলে। বারান্দায় থেকে তাকিয়ে ডিজিটাল উন্নয়ন দেখার দরকার কি ! রাগে গজ গজ করে আকাশের দিকে আবার তাকিয়ে হাটতে শুরু করলাম।বদ পাখিটাকে আবার উড়তে দেখা যাচ্ছে।

দুই

নাইকি ব্যাকপ্যাকটা রাতেই ঝেড়ে মুছে ঠিক করে রেখেছিলাম । আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে সেটা কাঁধে নিয়ে এদিক সেদিক ফিরে একটু দেখলাম ! খালি ব্যাকপ্যাকে সিরিয়াস ছাত্র ছাত্র লাগছে না । ভেতরে ঢুকাবো তেমন বই নেই ঘরে । এমন রাগ উঠলো ! ছোটো বোনের বইয়ের টেবিলে গেলাম । তার বইগুলোর সাইজও ঠিক ঠাক মিলছেনা ।এসএসসির টেস্ট পেপার আর উচ্চ নম্বরের সিঁড়ি ধরণের কিছু বই ! সবই ঢাউস সাইজ।একটা ঢুকিয়েই কাঁধ টসে গেলো ।ঘারে একটু মেসেজ করে সেই চেষ্টা বাদ দিলাম । মেজাজটাই বিগড়ে গেলো । মাইরি, এই জিপিএ ফাইভ বানানো মন্ত্রীর পিন্ডি চটকাতে ইচ্ছে করছে ! ব্যাগে নেবার সাইজের কোনো বই নেই ! ছেলেমেয়েরা ব্যাগভর্তি করে হাবিজাবি নেবে নাতো কি নেবে ?কিছু না পেয়ে রুশদেশের উপকথা নামের একটা বই ঢুকিয়ে দিলাম ব্যাগে ।যাক বাঁচা গেলো । একটু ভার ব্যাগটা কিন্তু ভার না। সুইট ! এমন হলেই চলবে ।চুলটা আরেকটু ভালো করে আঁচড়ে নিলাম ।

সকাল বেলায় তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে আমাকে উঠতে দেখেই মা অবাক হলেন ।মাকে কিছু বলতে না দিয়েই আমি বললাম, 'আমার জরুরি কাজ আছে'। মা অবাক হয়ে দিকে তাকিয়ে রইলেন । হন হন করে বাসার থেকে বেরিয়ে একটু এগুতেই দেখি হিরোশিমা ! আমাকে দেখে হাত দেখিয়ে একটু হাসলো। সে হাতে ধরা একটা কাগজ ।তাতে সুন্দর করে আঁকা একটা বাড়ি । আমিও হেসে হাত উঠাই ।
-'আপনার আঁকা', জিজ্ঞেস করি ।
-হ্যা, মৃদু ভাবে মাথা ঝাকিয়ে বলে ।
-‘ইউনিভার্সিটিতে যাচ্ছেন’ আমি জানতে চাই ।
-হ্যা

আমরা এক সাথে হাটতে থাকি । আমার মনে ঝড় বইতে থাকে ।রকিবুল থেকে শোনা ।ঘর বাড়ি আঁকে যারা তারা খুব ঘরোয়া স্বভাবের মানুষ ।যারা ঘর সংসার, সন্তান নিয়ে সুখী জীবন চায় সে রকম স্বভাবের শান্ত মানুষই ঘর বাড়ি আঁকে ! আমাকে কি কোনো ম্যাসেজ দিতে চাচ্ছে হিরোশিমা? মাথাটা গুলিয়ে যায় । বাস স্ট্যান্ডে পৌঁছে যাই আমরা । এমন রাগ লাগে ! বাস স্ট্যান্ডটা আরেকটু দূরে হলে কি ক্ষতি হত? হাটা চলা ভুলে সারা জাতিটাই আন ফিট হয়ে যাচ্ছে ! অলি গলির কোনায় কোনায় বাসস্ট্যান্ড ! এই আলসে জাতির উন্নতি কেমন করে হবে ! পুরো জাতির গুষ্ঠি উদ্ধারকরতে থাকে আমার রাগী মনটা।ঢাকা ইউনিভার্সিটি-র শ্রাবন বাসটা ঠিক তখনি এসে দাঁড়ায় স্টপেজে।

তিন

শ্রাবন থেকে নেমে দাঁড়িয়েছি ।সামনের গেট দিয়ে মেয়েরা পেছনের গেট দিয়ে মেয়েরা। আকাশের দিকে তাকিয়ে ঈগলের মতো লক্ষ্য রেখেছি গেটের দিকে ।কারো পৌষমাস কারো সর্বনাশ প্রবাদ ভুল প্রমান করে দুজনেরই পৌষ মাসের নতুন প্রবাদের জন্ম হলো ঠিক তখন। বাসের গেট দিয়ে নামতে গিয়ে পা কিছু একটাতে লেগে আণবিক বোমাটা মাটিতে পড়ার আগেই জন্টি রোডসের ক্ষিপ্রতা নিয়ে আমি ধরে ফেললাম । বাংলা সিনেমার মতো ক্লাইম্যাক্সের শেষে নায়িকাকে জড়িয়ে ধরার ইচ্ছেটা পাষান বুকে চেপে রাখলাম । দ্রুত সামলে নিয়ে হিরোশিমা আমাকে বললো,'থ্যাঙ্ক ইউ' ।বাসের অন্য ছেলে মেয়ের সাথে সাথেই হাটতে শুরু করলাম আমরা ।দূরের ছেলে মেয়েরা তখন রিকশা ডাকাডাকিতে ব্যস্ত ।

হিরোশিমা আমার পাশে হাটছে । শান্তি নিকেতনি ব্যাগটা ভালো করে ঝুলিয়ে দিতেই আমার দিকে তাকিয়ে যেন সূর্যমুখী ফুলটা যেন হেসে উঠলো । আমি ওদিকে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে রয়েছি দেখে বললো 'আমি এঁকেছি এটা' !
-'ওরে বাবা আপনিতো প্রফেশনাল আর্টিস্টের মতো আঁকেন' !
-'আমিতো আর্ট কলেজেরই ছাত্রী' ।
-'সুন্দর সুন্দর ! ফুলের মতোই সুন্দর' আমি বলি । কে যে বেশি সুন্দর সেটা অবশ্য অমীমাংসিতই রইলো সেদিন ।

**

বিকেলে বাইরে বেড়িয়েছি ।গলির মুখেই রকিবুলের সাথে দেখা । হন্তদন্ত হয়ে কথা থেকে যেন রকিবুল এসে হাজির । হাপাচ্ছে বেদম ।
- তোকে কে ধাওয়া করলো ?
- ধা.. ধা... ধাওয়া করবে কে তোমাকে দেখে আসলাম কথা বলতে,সে হাপাতে হাপাতে বলে ।
-কি কথা ?
- তোমার সাথে বিউটিটা কে ছিল দুপুরে ?
-চন্দনা ।পাশের বাড়ির মেয়ে ।
- তোমার সাথেতো দেখলাম অনেক গল্প কইরা হাঁটতেছিলো I ব্যাগের ডুডুল আর্টটা নিয়া কিছু বলছে ?
- ওই আঁকাগুলো ডুডুল আর্ট নাকি ? কি বলবে ? তার আঁকা সেইটাই বলছে ।
- ‘শুধু ফুল ডুডুল দ্যাখলা ? তার নিজের নামটা দ্যাখলা না ? মানে নাম দস্তখততা দ্যাখো নাই ফটোর নীচে ? আরে এতো বড় ফুল আঁকা নিয়ে তোমার লগে এতক্ষন হাটল, দেখলাম ব্যাগটা বারবার নাড়াইতেছে আর তুমি কিছু বুঝ নাই’ ?
-‘আমি কি বুঝবো ? ব্যাগ নাড়াইছে তো কি’ ?
- ‘ফুল পাখি যারা আঁকে তারা একটু লাভিং মানে আবেগপ্রবণ হয় । নাম দস্তখত ডুডুল করা মানে অন্যের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা ! ।এইখানেওতো ব্যাপার তাই মনে হইতেছিল । ব্যাগটা নাড়াইয়া ছাড়াইয়া 'হৃদয়ের কথা বলিতে ব্যাকুল, শুধাইলোনা কেউ' টাইপ মনে হইতেছে আমার’ ।
-‘মনে হোক । তার ব্যাগ সে নাড়াইছে আমার কি?’ আমি মনের আচানক খুশিটার ওপর ফারাক্কা বাধ দিয়ে গাম্ভীর্যের সাথে বলি’।

সন্ধ্যায় বাসায় এসেও চিন্তাটা আমার থেকে গেলো না আমার। রকিবুল হলো আমাদের মধ্যে সবচেয়ে পড়াশোনায় ভালো । ব্লগেও আবার লেখে ।আমাদের গ্রূপের মধ্যে এই লেখার জন্য সে একটা আলাদা মর্যাদা পায় । তাই রকিবুলের কথাটা সহজেই মাথা থেকে গেলো না । চিন্তাটা কতবার যে ছুড়ে ফেলতে চাইলাম কিন্তু সেই বুমেরাংয়ের মতোই ঘুরে আবার আমারই কাছে ফিরে এলো ।

চার

-'রাজা ভাই তোমার চন্দনা পাখিতো খাঁচায় ধরা পইড়া যাইতে চাইতেছে’ ।
-কি বলছিস ? আমি কৌতূহলী হয়ে জানতে চাই ।
-‘কেন আজকের ডুডুলটা দ্যাখো নাই’ ?
- ‘কোন ডুডুল’ ! আমার সব চিন্তা ভাবনা ভণ্ডুল হয়ে যায় ওর কথা শুনে ।
- তুমি যে কই থাকো ! ব্যাগের ওপর যেইটা আঁকা আছিলো সেই জিগজ্যাগ ডুডুলের কথা কই আরকি ।
- জিগজ্যাগ আবার কি ? আমি রাগ রাগ হয়ে জিজ্ঞেস করি ।
-জিগজ্যাগ ডুডুল হইলো আঁকা বাঁকা রাস্তার মতো ডুডুল ।ঐডার মানে হইলো কেউ অস্থিরতায় ভুগতাছে । আগেই কৈছিলাম ‘আমি হৃদয়ের কথা বলিতে ব্যাকুল’ টাইপ কিছু হৈতেছে বোধ হয় ।

আমি রকিবুলের হাত ধরে টেনে মধুমিতা সুইটস এন্ড স্ন্যাকসে ঢুকে পরি।এমন অমৃত বাণী শোনাবার পরে ওকে মিষ্টিমুখ না করানো দণ্ডনীয় অপরাধের পর্যায়ে পরে !

পাঁচ

দুপুর দুইটা বাজে ।গলির মোড়ে জনতা স্টোরের সামনে ঝাড়া দুই ঘন্টা দাঁড়িয়ে আছি । গ্লোবাল ওয়ারমিং আরো বাড়িয়ে চার চারটা থ্রি ফাইভ শেষ করেও মনে হলো খাদেই পরে আছি । প্রায় তিন চার দিন হিরোশিমাকে দেখি না । কোনো বোমা হামলা আর হচ্ছে না । ভাবছি ছোটো বোনকে একদিন ওদের বাসায় পাঠাবো খোঁজ নিতে । মানুষের রোগ বালাই হলো কিনা সেটা জানা একটা সামাজিক কর্তব্য । এসব ভাবতে ভাবতেই দেখি রিক্সাটা সাই করে করে চলে গেলো সামনে দিয়ে । মনে হলো কেউ হাত নেড়ে আমাকে কিছু বলছে । আমি একটু এগিয়ে গেলাম । কেউ হাত নাড়ছে । নীল সাগরে একটা জাহাজ হাতের সাথে দুলছে । বাসার দরজার সামনে নেমেই হিরোশিমা হুট্ করে ঢুকে পড়লো ।তখন ঝম ঝম করে বৃষ্টি শুরু হয়েছে ।আমিও দৌড়ে গিয়ে বাসায় ঢুকলাম। বেশ খানিকটা ভিজে গেছি ।

মাথা থেকে নীলসাগরে ভাসা জাহাজ ডুডুলটা আর মাথা থেকে যাচ্ছে না ! ইন্টারনেট ঘেটে কাছাকাছি একটা ডুডুল ফটো তুলে পাঠালাম রকিবুলকে তার অর্থ উদ্ধার করতে । খেয়ে মাত্র উঠেছি ।তখনি রকিবুলের ফোন !
-‘রাজা ভাই, কম্মত কাবার হই গেছে ! চন্দনা পাখিতো তোমারে নি দূর অজানায় উড়ি জাইতে চায়।মানে এই কোলাহল থেকে চলি যেতে চায়’।
-‘কি বলছিস’?
-‘এই দ্যাখো পরিষ্কার এখানে লেখা জাহাজ আঁকা মানে নতুন কোনো জায়গায় যাবার ইচ্ছা বুঝায় ।সেতো ঘর বাধার স্বপ্ন দেখতিছে । সেলফোনে কি যেন ব্লগের লেখা দেখাবার চেষ্টা করে’I
-‘আমি এখানেই থাকবো । মা কে দেখতে হবে না’ ।
-‘তুমিতো মুশকিল করি দিলে দেখি ! এখন কি যে হইবে আল্লাহই মালুম’!

ছয়

ছোট বোন স্কুল থেকে বাসায় ঢুকেই ঘোষণা করলো, 'আম্মু,চন্দনা আপা আজ চলে যাচ্ছে ! তার কথা শুনে আমি তড়াক করে বিছানা ছেড়ে উঠে দারাই। ধাক্কা লেগে টেবিলের পানির গ্লাসটা উল্টে যায়। সেদিকে ভ্রূক্ষেপ না করে কিছু হয়নি ভাব দেখিয়ে ওকে জিজ্ঞেস করি, ‘কি বলছিস চিৎকার করে’? সে বলে,’ চন্দনা আপার আব্বু আম্মু নাকি বিদেশে থাকে । ইউনিভার্সিটির পরীক্ষা শেষ হয়েছে সেজন্য সে আজকে বিদেশে চলে যাচ্ছে তাদের কাছে’।

দ্রুত জামাটা কোনো রকমে গায়ে চড়িয়ে বাইরে আসি । গলির মুখ দিয়ে গাড়িটা বেরিয়ে যাচ্ছে । আমি দৌড়ে যাই সামনে । গাড়িটা গলির বাঁকে অদৃশ্য হয়ে গেছে ততক্ষনে ।

আণবিক বোমায় হিরোশিমা নাগাসাকি হয়ে ফিরতে ফিরতে রকিবুলের উপর মনটা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলো । মাইরি, ব্যাটাকে সামনে পেলে পেটটাই ফাঁসিয়ে দিতাম মনে হয়!এমন সময় দেখি রকিবুল বাসার দরজা দিয়ে বেরুচ্ছে।আমি গম্ভীর গলায় ডাকলাম,'এদিকে শোন'। চিন্তিত মুখে রকিবুল আমার দিকে এগিয়ে এলো ।আমার মুখ দেখে আঁতকে উঠলো ও –
-‘রাজা ভাই হইলো কি তোমার ?তোমারেতো প্রজা প্রজা লাগতাছে’?
- 'বেশি কথা বলবি না এখন', এক ঘুষিতে ওর গোলগাল মুখের ভূগোল বদলে দিতে ইচ্ছে করছে কিন্তু ওর আন্তরিক কথায় খানিকটা থমকে গেলাম ।
-‘তোমার কি হৈছে ? তোমার মুখ দেইখাতো ভালো পাইতাছিনা কিছু’।
-'ওই, তুই যে আমারে এই কয়দিন ডুডল নিয়া বললি ঐগুলো শিখলি কথা থাইকা' ? তীব্র রাগ চেপে বলি ।
-‘মাইরি. যা বলছি ওসব সত্যি।কোনো ভুল বলি নাই’।
-'শিখলি কোথা থাইকা'? আমি আবার জিজ্ঞাসা করি ।
-'ব্লগ থ্যাইকা', আমার কথার স্বর শুনে অবাক রকিবুল আমতা আমতা করে ।
- এইসব ভুজুং ভাজুং আমারে কেন কৈলি ? হিরোশিমা নাগাসাকি হবার জন্য'?
-‘কি কও তুমি ! পাখি উড়ি গেছে’ ? রকিবুল তালেবর ব্যক্তি নিমেষেই বুঝে নেয় ঘটনা সিরিয়াস।
--'তোর মাথাটা আমার ফাটাইয়া ফেলতে ইচ্ছে করতেছে' ।
- ‘বিশ্বাস করো রাজা ভাই, আমি তোমারে যা কৈছি তা এই ব্লগের লেখা থেইকা কৈছি।বিশ্বাস না হয় চলো আমার বাসায়’। জোর করে আমাকে বাসায় টেনে নিয়ে যায় । ওর বাবা মা খালার বাসায় গেছে উত্তরা।রাত হবে ফিরতে ফিরতে ।
-‘ব্লগে লিখলেই তুই আমারে এই রকম ভুলভাল বলবি’?
-‘ ভুলভাল’ ! আকাশ থেকে পরে যেন রকিবুল ।
-'হু', আমি তখনও গম্ভীর।
-‘রাজা ভাই, এই ডুডুলজি লেখাটা দ্যাখো । ব্লগের বিরাট পন্ডিত মলাসইলমুইনা লিখছে কয়েক দিন আগেই মাত্র ।ব্র্যান্ডনিউ লেখা । কোন রিকন্ডিশন্ড লেখার রেফারেন্সতো আমি দেই নাই’ !
-এই ব্যাটা মলা তো কিছুই জানেনা ভুজুং ভাজং ছাড়া ।
-কি কও তুমি ! আমি কি শুধু তার লেখাই দেখছি নাকি ?।ব্যাকগ্রাউন্ড চেক করি নাই মনে করছো ? এই দ্যাখো আরেকটা লেখা গ্রাফোলজি । লিখছে বিখ্যাত ব্লগার শায়মা আপু। তার প্রত্যেক লেখাতেই পাঁচ হাজার কইরা পাঠক ! তার লেখায় দ্যাখো চন্দনা পাখির দস্তখত ঠিক এইটার মতো না । দেখো শায়মা আপু কি লিখছে ? আবেগপ্রবন !
-চুপ করবি ! আমি কটমট করে তাকাই ।
-তুমি আমার ওপর হুদা রাগ করতেছো । দ্যাখো মলাসইলমুইনারে নিযা ওমেরা কি লিখছে ।এই মাইয়া ছূটবেলা থেকে থাকে সুইডেন । ডাক্তারি পরে সুইডেনে। বিখ্যাত ইউনিভার্সিটির বিরাট ভাল ছাত্রী ।
-ওই বিদেশী মেয়ে বাংলাদেশী মেয়েদের সম্পর্কে কি জানে ।
-কি যে কও ! এই যে দ্যাখো ব্লগের বড় কবি নারায়নগঞ্জের মাইয়া মিথি আপু কি লিখছে লেখা নিয়ে। দেশি করুনাধারা আপু কি লিখছে দ্যাখো 'এইরকম লেখা আরো চাই' !আরো দ্যাখো ব্লগের কবিতা সুলতানা মুনিরা আপু কি লিখছে ! জুন আপুর মন্তব্যটাও দ্যাখো ।তাদের সাথেও মিলছে অনেক কথা !
‘-মেজাজ গরম করিসনা কিন্তু আর', আমি বলি ।
-'কোকডা খাও' । আমার রাগ দেখে রকিবুল দ্রুত ফ্রিজ থেকে ঠান্ডা একটি কোকের ক্যান নিয়ে আসে।
-’এখন শুধু সংলাপ হবে বাট নো ফুড’, আমি বলি, আমার রাগ তখন সপ্তমে।
-‘ঠিক আছে কিছু কমুনা আর কিন্তু শুধু আমার আর একটা কথা শুনো ।এই যে দেখতাছো শিখা রহমান সে আমেরিকার ইউনিভার্সিটিতে পড়ায় ।প্রকুশলী ।বিরাট বিদ্বান ব্যক্তি। আরেকজন হইলো কাতিয়াশা আপু । হেও আমেরিকায় থাকে I আর্কিটেক্ট । তারা লেখা নিয়ে কি কৈছে দ্যাখো। এমনকি ব্লগে দেশি বিদেশী নতুন জেনারেশন উম্মে সায়েমা আপু, অন্তরন্তর, রাকু হাসান, কাউসার চৌধুরী, সত্যের ছায়া, নতুন নকিব কেউ কুনু খারাপ কিন্তু কয় নাই । আমি কেমনে বুঝুম ভুজুং ভাজং আর তোমার পাখি উড়ি যাবে’?
- ‘ফুল আঁকা মানে লাভিং, নাম দস্তখত করা মানে হৃদয়ের কথা বলিতে ব্যাকুল, ঘর আঁকা মানে সুখী ঘর সংসার করনেওয়ালা কই দেখলি ব্যাটা তুই’ আমার রাগ উত্তপ্ত লাভা হয়ে বের হয় ।
-‘ বিরাট মিস্টেক হৈছে মনে হয় !’রকিবুল মলাসইলমুইনার লেখাটার দিকে তাকে কি যেন পড়তে পড়তে আমার দিকে তাকিয়ে বিভ্রান্ত দৃষ্টিতে বলে |
-‘কি হয়েছে’?
-‘ফুলের পাপড়িগুলা কি উপর দিকে আছিলো না নিচের দিকে দূর থাইকা বুঝবার পারি নাই’?
-‘নিচের দিকে’।
- ‘ঈশ্বর, ঈশ্বর ! বাড়ি ডুডুলডার কথা কও দেখি। বাড়ির দরজা জানালা কি বন্ধ আছিলো না ওপেন ?
-'বন্ধ’ ।
-'মওলা, মওলা'।
-‘কি হলো আবার’?
-‘বিরাট মিস্টেক ।বিরাট মিস্টেক’ রকিবুল নিজেই নিজের গালে টাস করে একটা চড় কষায়।
-‘কি হয়েছে বল’?
- ‘তখন খিয়াল করিনাই , গুবলেট হইয়া গেছে জিগজ্যাগ আর জাহাজ ! জিগজ্যাগ মানে হইলো কোনো পছন্দের জায়গায় যাবার ব্যাপারে লক্ষ্য নিৰ্ধাৰণ । কিন্তু নীল সাগরের জাহাজ মানে কেউ সত্যি সত্যি এক জায়গা থাইকা অন্য জায়গায় চলি যাইতেছে ! বন্ধ বাড়ি মানে অসুখী’!
-‘তোর ডুভুলজি নিয়ে তুই থাক’।
-‘ডুভূলজি না ডুডুলজি’ রকিবুল হতাশ হয়ে আমার উচ্চারণ শুদ্ধ করার চেষ্টা করে ।
-‘সংলাপ শেষ তোর সাথে।আগামী তিনদিন আর কোনো সংলাপ হবে না ।সংবিধানের বাইরে কোনো কথা নাই আর’। আমি ধপ করে রকিবুলের ল্যাপটপ বন্ধ কর উঠে দাড়াই । গট গট করে আমি বাসা থেকে বেরিয়ে আসি ।
- ‘মওলা,মওলা ইটা কি হইলো ! আমার ল্যাপটপতো চইলতেছে না, ব্রেক হই গেছে বোধয়, পেছনে রকিবুলের কথা শুনা যায়।

বিধ্বস্ত, বিরহী হিরোশিমা নাগাসাকি মন নিয়ে আমি হন হন করে হাটতে থাকি।

ডিসক্লেইমার :এই ক'দিন আগেই আমার একটা লেখা "ডুডুলজি" পোস্ট করেছিলাম ।সেটা নিয়েই কেমন করে যেন এই লেখাটা হয়ে গেলো । ব্লগ ফ্যারাও আখেনাটেনকে মনে করছি এই লেখার সময় । প্রিয় ব্লগার শায়েমার গ্রাফোলজি নিয়ে তার অনবদ্য রম্যের সাথে আমার লেখা জীবনের প্রথম এই রম্য মিলাতে গিয়ে কারো বা সবার প্রচন্ড রাগ উঠলে সেটা বোধগম্য। ফটো -ইন্টারনেট ।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই নভেম্বর, ২০১৮ সকাল ৮:১৫
৩৪টি মন্তব্য ৩৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

করোনার মাঝে ভয়ংকর প্রতিবাদে জ্বলছে আমেরিকার অনেক শহর

লিখেছেন চাঁদগাজী, ৩০ শে মে, ২০২০ সকাল ৯:৪১



*** হোয়াইট হাউজের ২০০ গজের মধ্যে পুলিশ ও প্রতিবাদকারীদের মাঝে ধাক্কাধাক্কি চলছে , মানুষ হোয়াইট হাউসে প্রবেশের চেষ্টা করছে, অনেকেই আহত হয়েছে; এখনো গ্রেফতার করা হচ্ছে না।... ...বাকিটুকু পড়ুন

যেভাবে হত্যা করা হয় প্রেসিডেন্ট জিয়াকে-

লিখেছেন গিয়াস উদ্দিন লিটন, ৩০ শে মে, ২০২০ বিকাল ৩:৫৪

১/



রাতের শেষ প্রহরে তিনটি সামরিক পিকআপ জিপ এসে দাঁড়ালো চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের গেটের সামনের রাস্তায়। একটি পিকআপ থেকে একজন লেফটেন্যান্ট কর্নেলের কাঁধে র রকেট লঞ্চার থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ২৯তম মৃত্যু বার্ষিকী

লিখেছেন রাজীব নুর, ৩০ শে মে, ২০২০ বিকাল ৫:৫৬



আমি জিয়াকে পছন্দ করি।
কারন উনি একজন সৎ লোক ছিলেন। ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে উনি কোনো দূর্নীতি করেন নি। কিন্তু অনেক ভুল কাজ করেছেন। রাজাকার গোলাম আযমকে দেশে ফিরিয়ে এনেছেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

অশিক্ষা, কুশিক্ষায় নিমজ্জিত, রাজনৈতিক জ্জানহীনরা সামরিক শাসনকে মিস করে।

লিখেছেন চাঁদগাজী, ৩০ শে মে, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৪৮



১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধারা পরাজিত হলে, ২ কোটী বাংগালীর ঘরে জেনারেল ইয়াহিয়ার ছবি ঝুলতো সেদিন; কিছু বাংগালী আছে, মুরগীর মতো, চিলে বাচ্চা নিলে টের পায় না। নাকি আসলে মুসরগী টের... ...বাকিটুকু পড়ুন

পৃথিবী বিখ্যাত ব্যক্তিদের মা'য়েরা .............. এট্টুসখানি রম্য :D

লিখেছেন আহমেদ জী এস, ৩০ শে মে, ২০২০ রাত ৮:০৫



পৃথিবীর সব মা’য়েরাই একদম মা’য়ের মতো ।
সন্তান বিখ্যাত কি অবিখ্যাত, সে জিনিষ তার কাছে কোনও ব্যাপার নয়। তার কাছে সে কোলের শিশুটির মতোই এই টুকুন । যাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×