সময়মত পড়তে না বসলে, খাবার খেতে না চাইলে, এরকম আরো হাজারো কাজ হাসিল করার জন্য ভয় দেখাতো বড়রা। তবে দিনের আলোয় ওসবে কোন কাজ হত না। কিন্তু সন্ধ্যা হলে একটু একটু ভয় লাগত তবে সেটা না বলার মতই। যেদিন ভূতের গল্প পড়তাম বা শুনতাম সেদিনের কথা আলাদা। সেদিন হয়ত একটু বেশিই ভয় পেতাম।
তবে ভূত না দেখেই, শুধুমাত্র গল্প শুনে একবার যা ভয় পেয়েছিলাম......। হয়েছে কি, আমার পরীক্ষার পর দাদীর সাথে ঢাকায় জ্যাঠার (নাকি চাচা বলব)বাড়িতে বেড়াতে এসেছি। আমার সমবয়সী কাজিনের সাথে অনেক খেলাধুলা, গল্পগুজব হল। রাত হওয়ার সাথে সাথে সে আমাকে ভূত সম্পর্কে জ্ঞানদান করতে লাগল। তার মস্তিষ্কে ভূত বিষয়ক জ্ঞানের বহর দেখে আমি তাজ্জ্বব। তার কাছ থেকেই জানতে পারলাম ভূত কত প্রকার, মানুষ মরে গেলে কেন ভূত হয়, ভূত কেন ভয় দেখায়, কোন সূরা পড়লে ভূত ধারেকাছেও আসতে পারে না ইত্যাদি। আমি গভীর মনোযোগের সাথে তার সব বক্তব্য হজম করছিলাম। সে আমার মত মনযোগী শ্রোতা পেয়ে নব উদ্যমে ভূত সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য আমার সামনে হাজির করতে লাগল। অবশেষে সে এটাও জানিয়ে দিল যে, তাদের বাড়ির কাছে-পিঠেই একটা গোরস্থান আছে। আর সেখান থেকে নাকি মাঝেমাঝেই ভূতেরা এ বাড়িতে আসে। সে নিজচোখে দেখেছে।
গল্প যখন করেছি তখন তো ভালই লেগেছে কিন্তু রাতে বিছানায় শোয়ার পর আর ঘুম আসে না। একদিকে বাড়ির সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে আর অন্যদিকে রুমের সব জানালা খোলা। আমার বারবার মনে হচ্ছিল এই বুঝি স্কন্ধকাটা এল....আমার ঘাড় মটকাতে। অবশ্য পরদিনই অন্যদের জিজ্ঞাসা করে জানতে পেরেছিলাম যে, সব চাপা ছিল।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


