অনুগল্পঃ ক্লাসটি হলো না
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
আষাঢ়ের আকাশ। একটু আগেও বেশ পরিচ্ছন্ন ছিল। কোথা থেকে যেন মেঘগুলি উড়ে এসে আসন পেতে বসল ভার্সিটির সীমানায়। তারপর ঝুম বৃষ্টি। মাহিনের সকাল নয়টার ক্লাসটি হলো না। প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীই চায় মাঝে মধ্যে বৃষ্টি হোক বা স্যার-ম্যাডামরা অসুস্থ থাকুক। এতে করে ঘন্টাখানিকের জন্য হলেও তো প্রাণখোলা আড্ডা জমানো যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের এই এক সুবিধা অতি অল্প টাকায় বন্ধুদের সাথে খাতির জমানোর কাজটি সারা যায়। ডাকসু, টি.এস.সি ক্যাফেটেরিয়ায় গরম গরম প্রতিটি লাল চা এক টুকরা তাজা লেবু সহ এক টাকা, সিঙ্গারা দুই টাকা, সমুচা তিন টাকা,পেটিস(চিকেন) পাঁচ টাকা। আর খাবার পানির তো কোন চিন্তা নেই। সবসময় ফ্রি বিশুদ্ধ পানি। হাকিম চত্বর আর কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার এর সামনে তেলে ভাজা পাকুরা পাঁচ টাকা। এখানে অবশ্য কাপ প্রতি লাল চা চার টাকা, দুধ চা ছয় টাকা। ক্লাসটি যেহেতু হলো না মাহিন আর রিফাত ডাকসুতে সকালের নাস্তা সেরে ফ্রেন্ডস বুক কর্ণারে বই কেনার উদ্দ্যেশ্যে কলাভবনের সামন হয়ে নীলক্ষেতের দিকে পা বাড়ায়। ততক্ষণে আকাশ সাবেক হয়ে গেছে। বৃষ্টি থামলেও বাতাসে গাছের পাতার দফায় দফায় বৃষ্টি এখনো থামেনি। দুজনই একই বিভাগে পড়ে। সেই প্রথম বর্ষ থেকেই দুজনের মাঝে বন্ধুত্ব। দিন যায় ওদের বন্ধুত্ব যেন আরো গাঢ় হতে থাকে। হয়তোবা তারা একই গল্প-কবিতা পড়ে,একসাথে নাস্তা করে,ক্লাসে যায়,কেনাকাটা করে এজন্য তাদের অলক্ষ্যেই এই আত্নিক সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো মাহিন আর রিফাত দেখতে অনেকটা একই রকমের। দুজনের গায়ের রঙ হালকা ফর্সা। উচ্চতাও এক। এজন্য অনেক সময় দুজনকেই বিপদে পড়তে হয়। অন্যান্য বন্ধু-বড় ভাইয়েরা মাহিনকে রিফাত আর রিফাতকে মাহিন ভেবে গুলিয়ে ফেলে। অনেকে অবশ্য দুজনকে একসাথে দেখলে জমজ ভাবে। মল চত্বর পেরিয়ে তারা আই.ই. আর এর পূর্ব গেট পেরিয়ে এগোতে থাকে। আই ই আর এর গোল চত্বরের সম্মুখে সিড়ির মধ্যে এক জোড়া খালি পায়ের প্রতি চোখ নিবদ্ধ হয় মাহিনের। পা দুটি মাহিনের কাছে অনেক চেনা মনে হয়। সত্যি ভুল করেনি মাহিন । এ যে তার এক্স গার্ল ফ্রেন্ড সোহার পা। দুজনের চোখে চোখ পড়তেই কেমন যেন আঁতকে ওঠে দুজনই। থতমত খেয়ে যায় মাহিন। এই তো কয়েকদিন আগেও ঐ খালি হাত-পা জোড়ার সাথে তার কোন দেয়াল ছিল না। দুজন দুজনার পাশে ছায়ার মত ছিল। মাহিনের ভালোবাসায় কোন কমতি ছিল না। কিন্তু কে জানত সোহার ভালোবাসার মাঝে একটা হিসাব-নিকাশ ছিল। সোহার দুধসাদা হাতের আঙ্গুলের ফাঁকে এখনো মনে হয় মাহিনের আঙ্গুলের ছাপ লেগে আছে। সেদিন তো তারা একই রিক্সায় বৃষ্টিতে ভিজল। সন্ধ্যার আবিরের সাথে দুজনের অধর এক হয়ে নেমে এলো নিকষ কালো রাত্রি। রিফাত বিষয়টি ঠিকই আঁচ করতে পারে। সোহা অনেকটা না চেনার ভান করেই ঝুঁকে পড়ে পাশে বসে থাকা ছেলেটির উপর। মাহিন শুধু মনে মনে এটুকুই ভাবলো আমার যদি একগাদা টাকা থাকতো সোহা আমাকে ভালোবাসুক আর না বাসুক আমার পাশে বসে থাকতো। মাহিন ভুলেই গেছিল তারা কোন দিকে যাচ্ছিল। রিফাত হ্যাচকা টান মেরে মাহিনকে নীলক্ষেতের দিকে নিয়ে চলল।
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
কবিতাঃ পাখির জগত

টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।
টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।
বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন
মোহভঙ্গ!

পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন
একাত্তর বাঙালির অভিজ্ঞতা এবং গর্জিয়াস প্রকাশনা উৎসব

পহেলা মে বিকেলে একটি আমন্ত্রণ ছিল। অনুষ্ঠানটি ছিল বই প্রকাশনার। এই আয়োজনটি শুরু হয়েছিল বলা যায় এক বছর আগে। যখন একটি লেখা দেওয়ার আমন্ত্রণ এসেছিল। লেখাটি ছিল বিদেশের জীবনযাপনের... ...বাকিটুকু পড়ুন
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি

কথা হচ্ছিলো একজন আর্ট সমঝদার মানুষের সাথে। তিনি আক্ষেপ করে বলছিলেন, জীবিতবস্থায় আমাদের দেশে আর্টিস্টদের দাম দেওয়া হয় না। আমাদের দেশের নামকরা অনেক চিত্র শিল্পী ছিলেন, যারা জীবিতবস্থায়... ...বাকিটুকু পড়ুন
মানুষ মারা যাবার পর আবার পৃথিবীতে আসবে?

আমার মনে হয়, আমরা শেষ জামানায় পৌছে গেছি।
পুরো পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে খুব শ্রীঘই। চারিদিকে অনাচার হচ্ছে। মানুষের শরম লজ্জা নাই হয়ে গেছে। পতিতারা সামনে এসে, সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।