somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নস্টালজিয়া

২৫ শে জুন, ২০১৫ বিকাল ৪:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১৯৯৮ সালের ঘটনা। সেবার বিরাট এক বন্যা হল। আমাদের রুমের মধ্যে পায়ের গোড়ালির উপর পানি। আর আঙ্গিনাতে হাটু পানি। রুমের মধ্যেই লাল শাড়ি পরা পুঁটি মাছেরা সর বেধে আমাদের দেখতে আসত। খাটের উপর থেকে জাল পেতে ধরলেও দুই এক বেলা মাছের অভাব হত না। আমি ভিতর আঙ্গিনাতেই চটকা জাল দিয়া মাছ ধরতাম। রাতে কারেন্ট জাল রুমের মধ্যেই পেতে রাখলে সকালে দেখা যেত মাছে সাদা হয়ে গেছে জাল। মাঝে মাঝে দুই একটা সাপও আটকে যেত সেই জালে। আর সাপ আটকালেই বিপদ।
বাড়িতে আমরা সবাই খাটের উপর বসে গল্প গুজব করতাম। সাপলুডু খেলতাম। আপারা নকশি কাঁথা সেলাই করত। কখনো কখনো চোর-ডাকাত খেলতাম।এই দিনগুলিতে লেখাপড়া মোটেই করতাম না। আম্মা পুরাতন একটা চৌকির উপরে শুকনো মৌসুমে বানানো মাটির চুলায় রান্না বান্নার কাজ সারতেন।

আমরা সারাক্ষন রুমের মধ্যে থাকতাম না। আসলে সাত আট বছরের দুরন্ত ছেলেদের চার দেয়ালের মধ্যে আটকানোর সাধ্য কারো নেই। সুযোগ পেলে বাহিরে বের হবেই। আমরা একই বয়সের ছেলেপেলেরা কলা গাছের ভেলা বানাতে পটু ছিলাম।

বাড়ি থেকে চুপিসারে দা নিয়া পাচ-ছয় জন মিলে বাঁশের আরাতে( বাঁশ বাগান)চলে যেতাম। কেউ গামছা আবার কেউ লুঙ্গি নেংটির মত করে পরে কোমর সমান পানি পার হয়ে বাঁশের আরাতে যেতে হত।শক্ত আর চিকন দেখে দুটা বাঁশ চট করে কেটে ফেলতাম। বাঁশ পছন্দ হলেই কাটা শুরু। কার বাঁশ সেটা আমাদের কোন দেখার বিষয় ছিল না।কখনো দেখা যেত চিনে জোক হাঁটুর নিচে রক্ত খেয়ে ঢোল হয়ে আছে।আমরা কি করতাম জোঁকের শরীরে একটু লবন লাগিয়ে দিতাম। লবনই ছিল জোঁক মারার প্রধান অস্ত্র। চারিদিকে পানি আর পানি।
এর পর আমাদের প্রধান কাজ ছিল কলা গাছ কাটা। বাঁশ কাটা দা দিয়াই চার-পাচটা কলাগাছ পলকের মুহূর্তে কেটে ফেলতাম।তারপর বাঁশ সূচালো করে নিয়েই কলাগাছের ভিতর দিয়া গেঁথে ভেলা তৈরী করতাম।এরপর সেই ভেলাতেই দিনের চার ভাগের তিন ভাগ সময় কাটতো।খাবারের সময় হলেই শুধু আমাদের বাড়িতে পাওয়া যেত। স্কুলও বন্ধ, লেখাপড়ারো কোন বালাই নাই । সারাদিন মাছ ধরা আর একে ওকে বাড়ি থেকে শুকনো বাঁধে পৌঁছে দেয়াই ছিল আমাদের কাজ। পানিতে ডুবসাঁতার আর গোসল করতে করতে চোখ রক্তলাল করে ফেলতাম। আব্বা আম্মার ঝাড়ি তো ছিল তিনবেলা খাবারের মত। বকা না খেলে আমাদের পেটের ভাত হজমই হত না।
ভেলা নিয়া মাঝে মাঝে আবার মাছ ধরতে অনেক দূরে চলে যেতাম। মাছও সেবার প্রচুর ধরা পড়ত।টেংরা, পুঁট, শৈল, কৈ,মাগুর,শিং,রুই,কাতলা,বোয়াল,রুপচাদা,বাইন,এমনকি পাঙ্গগাস- কত মাছ। ব্রক্ষ্মপুত্রের কলকলিয়ে ওঠা পানিতে রাতারাতি মাঠ-ঘাট,পুকুর তলিয়ে একাকার হয়ে যেত।ফলে ঐসব বাহারি প্রজাতির মাছ পাওয়া যেত। মুঠা জাল(হাতে রশ্মি বেধে যে জাল ছড়িয়ে দিতে হয় দূরে) শুধু মাছে চক চক করত। রাতের বেলা বেশি মাছ ধরা পড়ত। মাছ ধরতে ধরতে সারারাত কেটে গিয়েছিল অনেক সময়।মাছ ধরাটা এক প্রকার নেশা ছিল আমার। এখন পর্যন্ত শক্ত কোন নেশা থাকলে সেটা মাছ ধরাই!

আষাঢ় মাস এলেই বন্যার কথা মনে পড়ে। স্মৃতি পটে কাঁচা পয়সার মত চকচক করে শৈশবের সেই দিনগুলি।।

সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে জুন, ২০১৫ বিকাল ৪:২৩
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বৃষ্টি দিনের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৫



টিভি বা পত্রপত্রিকায় আবহাওয়া'র খবর নিয়ে নিউজ হয়-
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। একই সঙ্গে কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণের পূর্বাভাস... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইন দ্যা শ্যাডোস অব ইল্যুশন

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৮



রাজধানীর নিঝুম আবাসিক এলাকার তিনতলা ফ্ল্যাটের শোবার ঘরটি তখন ক্রাইম সিন টেপে ঘেরা। ধুলো জমে থাকা এয়ার কন্ডিশনারের শব্দের মাঝে বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে রক্তের হালকা সোঁদা গন্ধ।

পিবিআই ইনভেস্টিগেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়া লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং-সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৭ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:১০


‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়া লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং-সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

গুমের অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া ভুক্তভোগীকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মস্তিষ্ক কাজ করার আগেই যখন উত্তর চলে আসে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০৭


মস্তিষ্ক কাজ করার আগেই যখন উত্তর চলে আসে

একসময় কোনো প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে মানুষকে ভাবতে হতো। বই খুলতে হতো, লাইব্রেরিতে যেতে হতো, কারও সঙ্গে আলোচনা করতে হতো, ভুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্বাবস্থার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ-পর্ব ৪

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:১৬


বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ: মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর রেমিট্যান্স কৃষিভিত্তিক শিল্পায়ন ও টেকসই উন্নয়নের বিকল্প কৌশল
একটি অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক ফিজিবিলিটি স্টাডি ।
একটি ধারাবাহিক গবেষনামুলক পোস্ট
[link|https://www.somewhereinblog.net/blog/ali2016/3039397|১ম পর্বে থাকা গবেষনাটির পটভুমির লিংক – পর্ব... ...বাকিটুকু পড়ুন

×