somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

৭২ এর সংবিধান এর পুনরাবৃত্তি চাই

০৯ ই জুন, ২০১১ রাত ১০:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রথমেই বলি,আমি নই মুসলীম,নই হিন্দু,নই বৌদ্ধ,নই খৃস্টান,নই নাস্তিক কিংবা উগ্র আস্তিক।আমি মানব ধর্মের অনুসারী।আমি বাংগালী কিংবা বাংলাদেশী,আমি মানুষ।কোন ধর্মীয় পরিচয়ের চেয়ে জাতিগত পরিচয় এবং মানুষ হিসেবে পরিচয় দিতে বেশি ভালবাসি।সব ধর্মের প্রতি রয়েছে সমান শ্রদ্ধা।

সংবিধানে রাস্ট্র ধর্ম হিসেবে ইসলাম থাকবে নাকি "ধর্মনিরপেক্ষ"শব্দটি থাকবে সেটা নিয়ে বিতর্ক চলছে ও চলবে।

প্রথমেই বলি,পৃথিবীতে যত প্রগতিশীল,উন্নত এবং ধনী(সৌদি আরবের মত ধনী দেশগুলোর কথা বাদ।কারণ তারা ধনী হলেও অসভ্য) দেশ আছে,তাদের সংবিধানে "রাস্ট্র ধর্ম" বলতে কোন শব্দ নেই।তারা ধর্মনিরপেক্ষ।সেখানে অভিবাসিত জনগনের নিরাপত্তা এজন্যই এত শক্ত এবং ভারসাম্যপূর্ন।

আর ধর্ম রাস্ট্র যে কতখানি ব্যর্থ তার প্রকৃস্ট উদাহরণ পাকিস্তান।আমরা কী সেই পথে হাটতে চলেছি তাহলে অবশেষে?

তাই আমাদের রাষ্ট্র ধর্ম নামক শব্দটির সাথে থাকা উচিত নয়।

ধর্ম ব্যক্তিগত বিষয়।এটা নিয়ে টানাটানি যত কম হয় ততই ভাল।

আসলে আমরা ক্ষয়ীষ্ঞু এক জাতি।পিছনের দিকে হাটছি।নিরপেক্ষ থাকতে হলে গুনগতভাবে শিক্ষিত হতে হয় এবং মানষিক মানে জাতিগতভাবেও যথেস্ঠ পরিপক্ক হতে হয়।আমরা এখনো সেটা হয়ে পারিনি।৭১ প্রজন্ম বর্তমান প্রজন্মের চেয়ে বেশি অসাম্প্রদায়িক ছিল বলে তারা সংবিধানে ধর্মনিরপক্ষতা শব্দটিকে জায়গা দিতে পেরেছিল।আর আজকের বেশিরভাগ মানুষ মনে করে ইসলাম না দিয়ে এই শব্দটি দিলে বুঝি ইসলামের জাত যাবে।চিলে কান নিয়ে গেছে বা যাবে এমন অবস্থা।

অথচ প্রগতিশীল মানুষ মাত্রেই ধর্মনিরপেক্ষ,মানবিক এবং অসাম্প্রদায়িক।অসাম্প্রদায়িকতা বা ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা নয়,বা মেজরিটি জনসংখ্যা বাদ দিয়ে মাইনরিটি জনসংখ্যার ধর্মকে প্রাধান্য দেয়া নয়।আমরা যুদ্ধ করেছিলাম জাতি ধর্ম বর্ন নির্বিশেষে সবাই।অতএব সংবিধান ও হতে হবে জাতি ধর্ম বর্নের সকল জনসাধারণের।দেশটা সবার,তাই সংবিধানকেও বলতে হবে সেকথা।সংবিধানে থাকতে হবে সমমর্যাদা,সুচেতনা ও প্রগতিশীল ধারার কথা।সেখানে নির্দিস্ট কোন ধর্মের নাম উল্লেখ করে জাতীয় সংকীর্নতার পরিচয় দেওয়া জাতীয় পশ্চাদপদতার পরিচয়।

অতএব ,অন্তত সুশিক্ষিত জনগন এগিয়ে আসুন ৭১ এর চেতনায় গড়ে ওঠা সংবিধানকে সমর্থন দিতে।জন লেননের সেই গানটা কানে বাজছে.....

"Imagine,there is no heaven....."

http://www.youtube.com/watch?v=2xB4dbdNSXY
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে মে, ২০১২ দুপুর ১:২১
৬০টি মন্তব্য ৪০টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভাঁট ফুল

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:৪৩

ভাঁট ফুল
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

ছোট কালে মায়ের সাথে, হাত ধরে
মেঠো পথে হেটে চলে যেতাম-
মইজদী পুর গ্রামে, বোনের শশুর বাড়ি
রাস্তার পাশে মাঝে মাঝে ভাঁট ফুল-
দেখে মুগ্ধ হতাম, আর বলতাম কী সুন্দর!
ইচ্ছের হলেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোরগের ডাক , বিজ্ঞানের পাঠ এবং গাধার প্রতি আমাদের অবিচার

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:৫৫


গ্রামে বেড়ে ওঠা মানেই একটা অসাধারন শৈশব। আমাদের সেই শৈশবের একটা বড় অংশ জুড়ে ছিল মক্তবের মৌলভি সাহেবদের গল্প। তারা বলতেন, ভোররাতে মোরগ ডাকে কারণ সে ফেরেশতা দেখতে পায়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বঙ্গ ও বেঙ্গলীর শিকড় কী মুছে গেছে? নাকি পুণ্ড্রনগর সভ্যতার মত হারিয়ে গেছে ??

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৯:০৮


বঙ্গ ও বেঙ্গলীর শিকড় কী মুছে গেছে নাকি পুণ্ড্রনগর সভ্যতার মত হারিয়ে গেছে ?? সামু ব্লগের এই ক্রান্তিকালে বিষয়টি নিয়ে একটু আলোচনা/পর্যালোচনা করে কিছু সময় কাঠানো যাক... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংকটে আওয়ামী লীগের কর্মীরা কোথায় দাঁড়িয়ে?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:০০

সংকটে আওয়ামী লীগের কর্মীরা কোথায় দাঁড়িয়ে?
বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে বহুবার প্রমাণ হয়েছে যে, কোনো রাজনৈতিক দলের প্রকৃত শক্তি থাকে তার তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে। তাদের শ্রম, ত্যাগ, জেল-জুলুম সহ্য করার মানসিকতা এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

খাজনা

লিখেছেন রাজীব নুর, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১:২৯



মন! মানুষের মন! মানুষকে তছনছ করে দেয়!
কখনো সে বাঘ, কখনো সে অজগর, কখনো সে শত্রু, কখনো সে বন্ধু!
কখনো সে ঈশ্বর, কখনো সে শয়তান, কখনো সে নিয়তি!
বিদিকিচ্ছিরি কান্ড!

লম্বা টানা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×