somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কিশোর সন্ত্রাসঃ মা-বাবা দায়ী

১৯ শে জানুয়ারি, ২০১৭ বিকাল ৪:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



শিশু -কিশোরেরাই একটি জাতির ভবিষ্যৎ কর্ণধার।একটি জাতির ভবিষ্যৎ পরিণতি কি হবে তা ঐ জাতির শিশু –কিশোরদের মানসিক বিকাশের উপরই নির্ভর করে।তাই বলা হয়-শিশু কিশোরই জাতীর ভবিষ্যৎ।।কিন্তু জাতির ভবিষ্যৎ কর্ণধার এসব কিশোর মা-বাবার উদাসীনতার সুযোগ নিয়ে নির্বিঘ্নে বিপথে পা বাড়াচ্ছে।জাতিকে করছে কলংকিত।মা-বাবার স্বপ্ন ,আশা আকাংখাকে কাঁচের মতো ভেঙ্গে টুকরো টুকরো করছে।
কিন্তু দুঃখের বিষয় গত কয়েক বছর যাবৎ কথিত সন্ত্রাসী বড়ভাইদের নামে ১০ থেকে ১৭ বছরের কিশোরেরা শহরে ও মফস্বলের পাড়ায় পাড়ায় গ্রুপ বা বাহিনী গড়ে তুলেছে।তাদের কর্মকাণ্ড দেখলে রীতিমতো শিউরে উঠতে হয় ! এসব কিশোরেরা নিন্দনীয় , ভয়ংকর সব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে । একটু কথা কাটাকাটির জের ধরেই মেরে ফেলছে গ্রুপ থেকে বহিস্কৃত পুরাতন বন্ধুকে। সেবন করছে মদ,গাঁজা ,ফে্ন্সিডিল হেরোইন ইত্যাদি।এরা পাড়ার মোড়ে মোড়ে দল বেঁধে আড্ডা দেয়, মেয়েদের ইভটিজিং করে, বড়দের সামনে প্রকাশ্যেই সিগারেটে সুখটান দেয়। বিপদগামী এসব সন্তান কখন কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে, তার বেশিরভাগ খবরই রাখেন না তাদের অভিভাবকরা। শুধু ইভটিজিং ,দল বেঁধে আড্ডা,একের পর এক সিগারেট ফোঁকা নয় সমাজের উচ্চবিত্ত পরিবারের অনেক কিশোরই সঙ্গ দোষে এমন সব অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে,যা বিশ্বাস করতেও কষ্ট হয়।ফলে সমাজে ,রাষ্ট্রে, পরিবারে নেমে আসছে অশান্তি ।
এলাকার অল্পশিক্ষিত কথিত “বড়ভাই” নামের বেকার যুবকরা নিয়ন্ত্রণ করে এসব কিশোর বাহিনী ।কেউ টোকাই থেকে পেটের ক্ষুধা নিবারণে, কেউ পাড়া-মহল্লার বখাটেদের পাল্লায় পড়ে,কেউ সন্ত্রাসী কথিত বড়ভাইদের খপ্পরে পড়ে, আবার কেউ কেউ নেশার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে, কেউ নিজ পাড়ায় প্রভাব কাটানোর জন্য , কেউ মেয়ে বন্ধুর কাছে হিরো সাজার লোভে এসব দলে পা বাড়ায় । উচ্চবিত্ত পরিবারের কিশোরেরাই এ গ্রুপ তৈরীতে বেশি ক্রিয়াশীল । বাবা-মায়ের অসচেতনতা এবং সময় না দেয়ার কারণেই শিশু-কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা বাড়ছে।
আমার মতে পরিবার ও সমাজ এর জন্য প্রত্যক্ষভাবে নিরানব্বই ভাগই দায়ী ।কারণ কোনো শিশু-কিশোরই সন্ত্রাসী হয়ে পৃথিবীতে জন্মায় না । অভিভাবকদের সঠিক পরিচর্যা ও নজরদারীর অভাবে তাদের কিশোর সন্তানেরা পরিবারের অজান্তেই ধীরে ধীরে ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসে পরিণত হচ্ছে ।বাবা-মায়ের সঠিক নির্দেশনা পেলে একটি শিশু ছোট থেকেই ভালোভাবে বেড়ে ওঠে। আর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সমস্যা থাকলে তার প্রভাব শিশুটির ওপর পড়তে বাধ্য।’
একটি শিশুর বিকাশের প্রধান সুতিকাগার হচ্ছে তার পরিবার। পরিবারে মা-বাবা যদি শিশুর বিকাশ কালে তার আবেগ,মন ,আচরণ সম্পর্কে অপরিপক্ব থাকে তাহলে সেই পরিবারে শিশুর বিপথগামিতার সম্ভাবনা অধিকতর। এ ছাড়া বাবা-মা বা পরিবারের অন্য সদস্যদের অসদাচরণ, মিথ্যাচার, দুর্নীতিপরায়ণতা, ভারসাম্যহীন ব্যবহার শিশু -কিশোরকে বিপথগামী করে তোলে। তাই উপসংহারে বলা যায়- কিশোরদের সন্ত্রাসী কার্যকলাপে সম্পৃক্ত হওয়ার জন্য মা-বাবার নজরহীনতা, অজ্ঞতা অনেকাংশেই দায়ী।
এম.মনসুর আলী(কলামিস্ট)
অরুয়াইল বাজার,,ব্রাহ্মণবাড়ীয়া
০১৭১১৪৭১৯৬০/[email protected]



সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে জানুয়ারি, ২০১৭ বিকাল ৪:১৬
৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"বহু দিন পর বন্ধু"

লিখেছেন সনজিত, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


বহু বছর পর হঠাৎ তোর সঙ্গে দেখা।
প্রথমে চিনতেই পারিনি।
তারপর একচিলতে হাসি-
মনে হলো,
সময় আমাদের চেহারা বদলেছে,
কিন্তু শৈশবের মুখটা এখনো একই রয়ে গেছে।

চোখের কোণে ক্লান্তির রেখা,
চুল অর্ধেকটা সাদা রং,
কাঁধে সংসার,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাংসের ভুলচুক

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:০৬


বারে কুত্তার চোখ রঙিন
স্বপ্ন দেখে তাই ঘিন ঘিন
তাই দেখে হাড্ডি হাসে
পিন পিন, নাকের পুহান ঘুম
রক্ত হবে সুরেশ এই চুম;
ঐ গুরুজনে কইছে কথা
কুত্তার পেটে ঘি করে ব্যথা
স্বপ্ন তো দেখবেই ভুক... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:২৩



দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

যতদিন যাচ্ছে, ততই মনে হচ্ছ -এই দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশকে নিয়ে আশাবাদী হওয়াটা রীতিমতো বিলাসিতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সেদিন দেখলাম, এক ছাত্রশিবির নেতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×