somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কী করবেন খালেদা জিয়া?

১১ ই মে, ২০১৪ সকাল ৮:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বার্তা স্পষ্ট। এটি আসলে শুধু আদালত স্থানান্তরের মামুলি কোন আদেশ নয়। সামনের দিনগুলো কেমন যাবে এ বার্তাটিই দেয়া হয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে। তার বড় ছেলে তারেক রহমানও মামলা দু’টির আসামি। আক্রমণই আত্মরক্ষার সর্বশ্রেষ্ঠ উপায়- এ নীতি অবশ্য আওয়ামী লীগের নতুন নয়। জন্মের পর থেকেই এ নীতি অনুসরণ করে আসছে দলটি। গত সাত-আট বছরে তা আরও ক্ষুরদার হয়েছে এই যা। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মতো ঝানু রাজনীতিবিদও ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনকে ঘিরে খেলা বুঝতে পারেননি। ক্ষমতাসীনদের প্ররোচনায় কখন যে রওশন এরশাদ সবকিছু কব্জায় নিয়ে নেন তা টেরও পাননি সাবেক এই প্রেসিডেন্ট। যদিও এখন আবার সবকিছু মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছেন তিনি। ইশারা বুঝে চলার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। এই এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেই আপসহীন নেত্রীর খেতাব পেয়েছিলেন খালেদা জিয়া। যদিও তার সে খ্যাতি ক্রমশ ম্লান হওয়ার পথে। তিন বারের এই সাবেক প্রধানমন্ত্রীর জীবনেও সর্বশেষ নির্বাচন এক নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে এসেছে। নবম আর দশম দু’টি নির্বাচনই আসলে খালেদা জিয়ার জন্য একই রকম চ্যালেঞ্জের ছিল। নবম সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে চাননি তিনি। সংসদ ভবনের বিশেষ কারাগারে এটিএম আমিনের চাপকে তিনি কেয়ার করেননি। কিন্তু জামায়াত, দলের একটি অংশ এবং বিদেশী শক্তিগুলোর চাপের কারণে সে নির্বাচনে অংশ নিতে হয় তাকে। দশম সংসদ নির্বাচন নিয়ে খেলা ছিল অবশ্য ভিন্ন। বলাবলি আছে, আওয়ামী লীগই চায়নি বিএনপি এ নির্বাচনে যাক। নির্বাচনে গেলেও অবশ্য বিএনপির জন্য ভাল কিছু ছিল না। সেক্ষেত্রে নির্বাচন না হওয়ার সম্ভাবনাই ছিল বেশি। তবে ৫ই জানুয়ারি নির্বাচনের পর ক্ষমতাসীনরা আবির্ভূত হয় আরও শক্তিশালীরূপে। নির্বাচনের পরপরই বিরোধীদের জন্য উচ্চারণ করা হয় চরম সতর্কবাণী। ক্রসফায়ার আর গুমের হার বেড়ে যায় বহুগুণ। হকচকিত বিরোধী শক্তি রাজনীতি থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয় অনেকটা। খালেদা জিয়া ঘোষণা দেন দল গোছানোর। তার দলের নেতারা প্রেস ক্লাব আর বিএনপি নেত্রীর গুলশান কার্যালয়ে বন্দি করে ফেলেন নিজেদের। অবশ্য কাগুজে বাঘ নেতাদের অভাব নেই। প্রতিদিনই তারা নানান কিসিমের ঘোষণা দিচ্ছেন। দল গোছানো অবশ্য রয়ে গেছে কথার কথাই। এ অবস্থায় বুধবার বিরোধী শক্তিকে নতুন করে চ্যালেঞ্জের স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে সরকার। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা জিয়া চ্যারিটেবল এবং অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা দু’টিতে চার্জ গঠন করা হয়েছে এরই মধ্যে। এ চার্জ গঠনের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে গেলেও কোন লাভ হয়নি খালেদা জিয়ার। এখন দুই মামলায় তার বিচারের জন্য আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপন করা হবে আদালত। এখানেই বিডিআর বিদ্রোহের ফৌজদারি মামলার বিচার হয়। আলিয়া মাদরাসা মাঠে আদালত স্থানান্তরের মাধ্যমে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে বিচার কাজ চালাতে সরকারের দৃঢ় অবস্থানই স্পষ্ট করেছে। বিএনপির মুখমাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অবশ্য সরকারি বার্তা বুঝতে পেরেছেন। তিনি বলেছেন, আলিয়া মাদরাসা মাঠে আদালত স্থানান্তর খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখার সরকারি পরিকল্পনারই অংশ। এ অবস্থায় বিএনপি তথা খালেদা জিয়া কি কৌশল গ্রহণ করেন তাই এখন দেখার বিষয়। তিনি শক্ত কোন অবস্থান নেন না আপসকামী বিবৃতি ও ভাষণসর্বস্ব নেতাদের ওপর নির্ভর করে ভবিষ্যতের দিকে এগুনোর চেষ্টা করেন সেদিকেই এখন দৃষ্টি পর্যবেক্ষকদের। যদিও আত্মরক্ষার রাজনীতি শেষ পর্যন্ত তাকে রক্ষা না-ও দিতে পারে। রাজনৈতিক মামলার আইনে লড়াইয়ের পরিণতি প্রশ্নে বেগম খালেদা জিয়ার বাড়ি নিয়ে উচ্চ আদালতে দায়ের করা রিটের ফলাফলকেও স্মরণ করা যায়। হাইকোর্ট খালেদা জিয়ার রিট খারিজ করে দিয়েছিলেন। আপিল বিভাগে গিয়েও তিনি কোন সুফল পাননি। বাড়ি ইস্যুকে আদালতে নেয়ার কৌশল ঠিক ছিল কি না সে প্রশ্নে বিএনপিতে এখনও নানান মত রয়েছে। দুয়েক জন নেতা, যারা একইসঙ্গে আইনজীবীও তারাই নিজেদের সুবিধার জন্য বেগম জিয়ার বাড়ির ইস্যুকে আদালতে নিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট এবং জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট ছাড়াও খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আরও তিনটি মামলা রয়েছে। বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে রয়েছে ১৬টি মামলা। এর মধ্যে একটি মামলায় অবশ্য তিনি নিম্ন আদালতের রায়ে খালাস পেয়েছেন। ওই রায় ঘোষণাকারী বিচারকও অবশ্য স্বস্তিতে নেই। তার বিরুদ্ধে এরই মধ্যে নানামুখী তদন্ত চালাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন। অপরদিকে খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো ছয়টি মামলার আসামি। একটি মামলায় তার সাজা হয়েছে। যদিও তিনি জরুরি অবস্থার সময় থেকেই দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। বাংলাদেশের সামনের দিনগুলোর রাজনীতিতে জিয়া পরিবারের মামলাগুলো গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামকের ভূমিকা পালন করবে।
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২০


৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

দেখা হবে যুদ্ধ ফুরোলে সন্ধের মাহফিলে;
দেখা হবে ঠিক চেনা রাস্তার অচেনা-অন্ত্যমিলে।
ছড়াব আবার শস্যের দানা দেশ থেকে মহাদেশে
মানুষই জেতে, খুঁজে নেয় আলো অন্ধকারের শেষে...

তোমার গল্পে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বস্ত্রশিল্পের জন্য আমি সরকারের যথাযথ স্থানে থাকলে কি করতাম !!!

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৬



গত ১০ দিন হল দেশের বস্ত্র শিল্পের উপর আঘাত খুব চিন্তার বিষয়। অনেক আগে বিচ্ছিন্নভাবে বস্ত্রশিল্প নিয়ে কথা বলেছিলাম। আজ সব মিলিয়ে কিছু চিন্তা করলাম। তার কিছু এখানে নোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

×