somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাস্তবায়নের পথে পদ্মা সেতু

১৪ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ সকাল ৯:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলাদেশের বৃহত্তম অবকাঠামোগত প্রকল্প, বহু প্রত্যাশিত পদ্মা সেতু প্রকল্পের নির্মাণকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার সকালে পদ্মা সেতু প্রকল্পের মূল কাজ 'নদী শাসন' এবং 'পাইলিং' কাজের শুভসূচনা করেন। ফলে পদ্মা সেতু এখন আর স্বপ্ন নয়, এটি এখন বিদ্যমান বাস্তবতা_ এমনটি মনে করা যেতেই পারে। পদ্মা সেতু নির্মাণ করে গোটা দুনিয়ায় বাংলাদেশ তার সামর্থ্য আর সাফল্যের স্বাক্ষর রাখবে। এছাড়া যারা বাংলাদেশকে অবহেলা, অবজ্ঞা করতে চায় সেসব বিশ্বশক্তির মুখেও চপেটাঘাত পড়বে। পদ্মা সেতু আমাদের শুধু বড় অর্জনই হবে না, এটা বাঙালির আত্মমর্যাদারও বিষয়। বিদেশি কোনো অর্থ সাহায্য ব্যতিরেকে, দেশের টাকায় দীর্ঘ এই অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে বাংলাদেশ উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলকও স্পর্শ করবে।
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর সার্বিক যোগাযোগের জন্য পদ্মা সেতু নির্মাণ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এছাড়া এই সেতুর সঙ্গে ওই অঞ্চলের মানুষের আবেগ, আকাঙ্ক্ষার গভীর যোগসূত্র রয়েছে। পদ্মা সেতু নির্মাণ করা সরকারের কাছে তাদের প্রাণের দাবিও। এটা সত্য যে, সরকারও বিভিন্ন সময়ে এই সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসেছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে 'পদ্মা সেতু'র মতো বৃহত্তম প্রকল্প বাস্তবায়ন বাংলাদেশের জন্য সত্যিকার অর্থেই চ্যালেঞ্জের। কিন্তু বাংলাদেশ সে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেই সামনের দিকে এগিয়ে চলেছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একাগ্রতা ও সদিচ্ছার কারণেই এটা সম্ভব হয়েছে বলে মনে করা অসঙ্গত নয়। কেননা, নির্মাণাধীন এই প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে 'বিশ্বব্যাংক' তাদের অর্থ প্রদানের প্রতিশ্রুতি ফিরিয়ে নিলে শেখ হাসিনাই বলিষ্ঠ কণ্ঠে বলেছিলেন, এখানে কোনো দুর্নীতি নেই। এর পর অনেক জল ঘোলা হয়েছে। প্রকল্পে দুর্নীতির বিষয়টিও সামনে আনার চেষ্টা করছে বিশ্বব্যাংক, কিন্তু সব ক্ষেত্রেই তারা ব্যর্থ হয়েছে। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশেরই জয় হয়েছে, যার চূড়ান্ত পর্বে নিজেদের অর্থেই নির্মিত হচ্ছে বহু আকাঙ্ক্ষিত এই সেতু। নির্মাণ কাজের উদ্বোধন শেষে এক সুধী সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বপ্নের এই সেতু নির্মাণ প্রকল্পের নানা বাধা-বিপত্তির কথা উল্লেখ করে জনগণের সহযোগিতার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজের আনুষ্ঠানিক সূচনা হওয়ায় পদ্মাপারের মানুষের মুখে হাসি ফুটেছে, যা গণমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। এতে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে যে, শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্যই পদ্মা সেতু গুরুত্বপূর্ণ নয়, এটা বাঙালির আত্মমর্যাদার প্রশ্নেও গুরুত্ববহ। এছাড়া বিজয়ের এই মাসে 'পদ্মা সেতু' প্রকল্পের সূচনা করে প্রধানমন্ত্রী আরো একটি বিজয়কেই ত্বরান্বিত করলেন। এলাকার সাধারণ মানুষও মনে করছেন, নিজের টাকায় পদ্মা সেতু নির্মাণের মাধ্যমে বাংলাদেশ ইতিহাস সৃষ্টি করতে চলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পদ্মা সেতুর মতো বড় একটা অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস বাড়বে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ এ ধরনের আরো বড় অবকাঠামো নির্মাণে অনুপ্রেরণা হিসেবেই কাজ করবে।
স্মর্তব্য যে, যোগাযোগব্যবস্থার অপ্রতুলতার কারণে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার মানুষকে দীর্ঘদিন ধরেই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। মাওয়া-জাজিরা ঘাটে ফেরির জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা এবং নানারকম অপ্রীতিকর ঘটনার ভেতর দিয়ে এ অঞ্চলের মানুষকে যাতায়াত করতে হয় নিত্যদিন। এছাড়া সেতু না থাকায় এ অঞ্চলের মানুষ পিছিয়ে রয়েছে অর্থনৈতিক উন্নয়নসহ জীবনমানের ক্ষেত্রেও। এখন পদ্মা সেতুর মাধ্যমে তাদের সৌভাগ্যের দুয়ার উন্মোচিত হবে_ এমনটি সংশয়হীনচিত্তেই বলা যেতে পারে।
সর্বোপরি বলতে চাই, পদ্মা সেতু নির্মাণ যেমন বর্তমান সরকারের একটি অন্যতম সাফল্য হিসেবে পরিগণিত হবে, তেমনি যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির পাশাপাশি এসব এলাকার কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক উন্নয়নসহ জীবনমানেরও পরিবর্তন ঘটবে। অতীতের নানা জটিলতর পরিস্থিতি বিবেচনায় বলতে চাই, একটি চক্র উন্নয়নে বিঘ্ন সৃষ্টি, নাশকতা-ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশকে অকার্যকর রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরার অপচেষ্টায় লিপ্ত, যা বিভিন্ন সময়ে সামনে এসেছে। ফলে এদের শ্যেনদৃষ্টি যেন প্রকল্প বাস্তবায়নে নতুন কোনো পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটাতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকা আবশ্যক। পদ্মা সেতু দেশের উন্নয়নের ক্ষেত্রে মাইলফলক স্পর্শ করার পাশাপাশি সরকারের অন্যতম সাফল্যেরও স্মারক হয়ে থাকবে, এ প্রত্যাশা আমাদের।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ সকাল ৯:৪০
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২০


৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

দেখা হবে যুদ্ধ ফুরোলে সন্ধের মাহফিলে;
দেখা হবে ঠিক চেনা রাস্তার অচেনা-অন্ত্যমিলে।
ছড়াব আবার শস্যের দানা দেশ থেকে মহাদেশে
মানুষই জেতে, খুঁজে নেয় আলো অন্ধকারের শেষে...

তোমার গল্পে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বস্ত্রশিল্পের জন্য আমি সরকারের যথাযথ স্থানে থাকলে কি করতাম !!!

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৬



গত ১০ দিন হল দেশের বস্ত্র শিল্পের উপর আঘাত খুব চিন্তার বিষয়। অনেক আগে বিচ্ছিন্নভাবে বস্ত্রশিল্প নিয়ে কথা বলেছিলাম। আজ সব মিলিয়ে কিছু চিন্তা করলাম। তার কিছু এখানে নোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

×