somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জঙ্গি আস্তানা

২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ সকাল ১০:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গীবাদ এ মুহূর্তে একটি বিশ্বজনীন সমস্যা। এই সমস্যা কোন কোন দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব এবং উন্নয়নকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে। বাংলাদেশ প্রথম থেকেই সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। জঙ্গীগোষ্ঠী দমনে গঠন করা হয়েছে ‘কাউন্টার টেররিজম এ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম’ ইউনিটসহ নানা সংস্থা। সরকার দেশে তালেবান ও আইএসের মতো আন্তর্জাতিক জঙ্গী সংগঠনের অস্তিত্ব অস্বীকার করলেও নানা আদলে খোদ রাজধানীতেই এদের ছায়া সংগঠনগুলোর তৎপরতা যে চলছে তা সহজেই অনুমেয়।
খোদ রাজধানীতে আবারও জঙ্গী আস্তানার সন্ধান মিলেছে। প্রায় দুই মাসের ব্যবধানে আরও একটি জঙ্গী আস্তানার সন্ধান পাওয়া গেল। এর মধ্যে মিরপুরে অভিযান চালিয়ে তিন জঙ্গীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মোহাম্মদপুরের নবোদয় হাউজিংয়ের একটি বাড়িতে জঙ্গীদের বোমা তৈরির কারখানার সন্ধান পায় ডিএমপি। একই দিন রাতে বাড্ডার সাঁতারকুল এলাকায় অভিযানকালে দুই জঙ্গীকে আটক করা হয়। বাড্ডার জঙ্গী আস্তানাটি মূলত আনসারুল্লাহ বাংলাটিমের হেড কোয়ার্টার্স হিসেবে ব্যবহৃত হতো। বিভিন্ন সময়ে ধর্মীয় ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, মুক্তমনা প্রগতিশীল মানুষ, সাধারণ মানুষ কিছুই বাদ যায়নি জঙ্গীদের আক্রমণ থেকে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপরও হামলার ঘটনা ঘটেছে। বলা যায় জঙ্গীদের শক্তিমত্তা ও তৎপরতার যতটুকু পরিচয় পাওয়া গেছে তাকে খাটো করে দেখার কোন সুযোগ নেই। বিগত সময়ে জঙ্গী তৎপরতা বিষয়গুলোর দিকে তাকালে সহজেই ধারণা করা যায়, জঙ্গীদের প্রস্তুতি দুর্বল নয়। নামে-বেনামে কোন রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় এরা সক্রিয় রয়েছে।
এ কথা সত্য যে, যুদ্ধাপরাধের বিচারসহ নানা কারণে বাংলাদেশ আজ আন্তর্জাতিক জঙ্গীবাদসহ কিছু দেশের চক্ষুশূলে পরিণত হয়েছে। তারা নানাভাবে বাংলাদেশে জঙ্গীবাদকে উস্কে দেয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছে। দেশে জঙ্গী তৎপরতা প্রকাশ্য হয় ২০০৫ সালে তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার আমলে। ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট দেশের ৬৩ জেলার গুরুত্বপূর্ণ পাঁচ শতাধিক স্থানে একযোগে বোমা হামলা চালায় জেএমবি নামের জঙ্গী সংগঠন। জেএমবি ছাড়াও সে সময় হুজিসহ আরও কিছু জঙ্গী সংগঠনের নাম শোনা যায়। পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ধারাবাহিকভাবে জঙ্গী তৎপরতা মোকাবেলায় বিশেষ মনোযোগ দেয়া হয়। জঙ্গী তৎপরতার সঙ্গে যুক্ত থাকায় বহু ব্যক্তিকে আটকসহ কয়েকটি সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। তবে সংগঠন নিষিদ্ধ হলেও তাদের পলাতক ও জামিনে বেরিয়ে আসা সদস্যরা নতুন নামে সংগঠিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে কিছু নতুন জঙ্গী গ্রুপের তৎপরতার খবর পাওয়া যাচ্ছে। বিগত সময়ে মুক্তমনা ব্লগারদের হত্যার দায় তারা স্বীকারও করেছে।
জঙ্গী উত্থানের বিষয়টি যে কোন দেশের জন্যই উদ্বেগের কারণ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরবচ্ছিন্ন অভিযানের পরও দেশে জঙ্গী তৎপরতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি, এটি একটি বাস্তবতা। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায়ই জঙ্গী সংগঠনের সদস্য ধরা পড়ছে। রাজধানীর আশপাশ এলাকায়ও জঙ্গী আস্তানার সন্ধান মিলেছে। জঙ্গীদের এ সক্রিয়তায় তাদের দমনের বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আরও বেশি গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে। জঙ্গী সংগঠনগুলোর অর্থ ও অস্ত্রের উৎস খুঁজে বের করা জরুরী। প্রয়োজনে মানুষের মধ্যে জঙ্গীবিরোধী উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচী গ্রহণ করা যেতে পারে। দেশে জঙ্গী দমনে কঠোরতা অবলম্বনের বিকল্প নেই। বাংলাদেশের মতো একটি শান্তিপূর্ণ দেশে জঙ্গী সংগঠন যেন কোনভাবেই মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, তা নিশ্চিত করা দরকার।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ সকাল ১০:৪৫
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আ-তে আনন্দবাজার, আ-তে আওয়ামী লীগ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১৫


ইন্টারনেটে খবর পড়তে পড়তে হঠাৎ একটা শিরোনাম সামনে এলো। পড়েই কয়েক সেকেন্ডের জন্য মনে হলো, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে বুঝি বিশাল কোনো ঘটনা ঘটে গেছে। শিরোনাম, “আধ পয়সা বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০১৮ সালের পর ঢাকাতেই ৪টা এক্সপ্রেসওয়ে

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:৫৩



একটা দেশের উন্নয়ন কতটা এগিয়েছে, সেটা বোঝার অনেকগুলো উপায় আছে। তবে সবচেয়ে সহজ উপায় হলো সেই দেশের রাস্তা, সেতু আর যোগাযোগব্যবস্থা। কারণ এগুলোর পরিবর্তন সরাসরি মানুষের দৈনন্দিন জীবনে চোখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৯৭

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৪



শরতের সকাল! সকাল ৮ টা।
ভাদ্র মাস। ইংরেজি সেপ্টেম্বর মাস। ২০২৬ সাল। ঘটনাটা কি হয়েছে, আমি বলি। মোটামোটি ভয়াবহ ঘটনা বলা যেতে পারে! যে কোনো সময় রোদ উঠবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশে বর্তমান গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট: দায় কার?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৭


সংক্ষিপ্ত রায় সবচেয়ে বড় দায় বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নীতির। এর মধ্যে ২০০৯–২০২৪ সময়কালের সরকারের সিদ্ধান্তগুলোর দায় তুলনামূলকভাবে বেশি, কারণ ওই সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা দ্রুত বাড়ানো হলেও... ...বাকিটুকু পড়ুন

যাপিত জীবন.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৭


১।মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু দেশে জুম্মার নামাজ পড়ার সুযোগ হয়েছে। ১২.৫০ এ আজান তারপর ১.১৫ দিকে জুম্মার নামাজের সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষ। আজানের কিছুক্ষণ পর খুতবা শুরু তারপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×