আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন শেখ হাসিনার বাংলাদেশ খুব দ্রুতই উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হতে যাচ্ছে। এটা শুধু সময়ের পর্যবেক্ষণই নয়, বাস্তবতাও। দেশের অর্থনীতি ও জিডিপি যে গতিতে ছুটছে তাতে নিশ্চয়তার সঙ্গেই বলা যায় আগামী ২০৩০ সালের মধ্যেই বাংলাদেশ বিশ্বের প্রথম ২০টি উন্নত দেশের অন্যতম একটি হতে যাচ্ছে। এটা কোনো শক্তিই আর দমাতে পারবে না। যে পদ্মা সেতু বাস্তবায়নে দেশি ও বিদেশি শক্তি একযোগে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল সেই পদ্মা সেতু এখন তার আপন গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। দেশীয় অর্থনীতির জায়ান্ট প্রজেক্ট পদ্মা সেতু ও পায়রা সমুদ্রবন্দরের কাজ সমাপ্তির পথে। এ দুটো প্রকল্পকে সামনে রেখেই দেশের শিল্পায়ন ও ব্যবসা-বাণিজ্য সমগতিতে এগিয়ে চলছে। শিল্প-কারখানা স্থাপনে বিপুল পরিমাণ জমি কিনছেন ব্যবসায়ীরা। গড়ে উঠছে নতুন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। আসছে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ। উন্মোচিত হচ্ছে কোটি কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত। বেকার কাকে বলে এটা অচিরেই ভুলে যাবে বাংলাদেশের মানুষ। এমন দিন শিগ্গির আসছে যখন বাংলাদেশের কোনো মানুষকেই মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ যাওয়ার জন্য হয়রানির শিকার হতে হবে না। নিজ দেশেই কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে তার। শুধু তাই নয়, আগামীতে বিশ্বের অনেক দেশের মানুষই বাংলাদেশে চাকুরির জন্য ধরনা দেবে। ইতোমধ্যেই দেশের বিভিন্ন শিল্প-প্রতিষ্ঠানে ভারতীয় নাগরিকসহ আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা চাকুরি করছে। এই কিছুদিন আগেও মালদ্বীপের মতো ছোটো দেশটিতেও হাজার হাজার বাংলাদেশি চাকুরির জন্য নিজ দেশের সহায়সম্বল বিক্রি করে পারি জমিয়েছে। যে দ্বীপটিতে দুই লাখ স্থানীয় অধিবাসি তাতে প্রায় এক লাখই বাংলাদেশি কাজ করছে।
এটাতো দেশে কাজ না থাকাতেই হয়েছে। নিশ্চয় এটা একটা দেশের জন্য লজ্জার। নিশ্চয় আমরা এই লজ্জাও কাটিয়ে উঠতে পারব। দেশের শিল্প-বাণিজ্য এখন যেভাবে স্ফীত হয়ে উঠছে তাতে করে আমরা বিশ্বাস করি এটা রাজধানী ঢাকা ও বাণিজ্য নগরী চট্টগ্রাম ছাড়িয়ে দেশের প্রতিটি সুবিধাজনক জেলায় কর্মসংস্থানের পরিসর গড়ে উঠবে। এ জন্য ইতোমধ্যেই শিল্প স্থাপনার জন্য প্রধান প্রধান সড়কের পাশে যে ধরনের জমি দরকার, তাও কিনে নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। দেশের বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীরা পায়রায় শিল্প স্থাপনের জন্য স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগও শুরু করে দিয়েছেন। নাভানা, গাজী, পারটেক্স, মদিনা, আজমত গ্রুপের মতো প্রায় অর্ধশত বড় বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পায়রা, কুয়াকাটাসহ আশপাশে জমি কিনেছে। পদ্মা সেতুর দুই পাশে বিশাল এলাকা ঘিরে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে অনেক ক্ষুদ্র শিল্প। অনেক শিল্পপতি আর পুঁজিপতি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার আলোকে শিল্প-কারখানা স্থাপনে বিশাল এলাকাজুড়ে জমি কিনে রাখছেন। গড়ে উঠছে বহু স্থাপনা।
সব মিলিয়ে পদ্মা সেতুর সুফল কাজে লাগিয়ে পুরোদমে অর্থনৈতিক কর্মযজ্ঞ শুরু হয়ে গেছে। বর্তমানে প্রবৃদ্ধি হারের দিক থেকে ভারতকেও পিছনে ফেলেছে বাংলাদেশ। যেভাবে শিল্প-কারখানা গড়ে উঠছে দেশের বিভিন্ন স্থানে তাতে করে আশা করা যায় আগামীতে জিডিপিতে চীনকেও ছাড়িয়ে যেতে সমর্থ হবে বাংলাদেশ। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই এই স্বপ্ন দেখাতে সক্ষম হয়েছে। আমরা অত্যন্ত প্রত্যয়ের সঙ্গে জানাতে চাই যে, এটা এখন আর অলীক পর্যবেক্ষণ নয়, সময়েরই বাস্তবতা।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে জুলাই, ২০১৭ সকাল ১০:৫৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




