বর্ষায় স্বাস্থ্য রক্ষায় আপনি প্রস্তুত তো
বর্ষার আকাশ বড় বৈচিত্র্যময়। কখনো ভ্যাপসা গরমে জীবন অতিষ্ঠ তো কখনো শান্তিময় এক পশলা বৃষ্টি। এ সময় আবহাওয়া বেশ আর্দ্র থাকে। জন্মহার বাড়ে রোগ-জীবাণুর। বর্ষার প্রকৃতি তাই কবি মনকে শীতল করলেও নানা রোগের পসরা সাজিয়ে এ সময়ের প্রকৃতি অনেকেরই কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অথচ একটু সতর্ক হলেই বর্ষার অপরূপ প্রকৃতিকে আমরা প্রাণভরে উপভোগ করতে পারি। সে রকমই কিছু দিক-নির্দেশনা পাবেন আজকের লেখায়।
বর্ষায় ত্বকের যত্নঃ
বর্ষায় হঠাৎ করেই পরিবেশের তাপমাত্রা কম বা বেশি হতে পারে। কখনো ময়েশ্চার অনেক বেশি তো কখনো অনেক কম। কখনো আকাশ মেঘলা তো কখনো প্রচ- রোদ। মিশ্র আবহাওয়ার এ প্রভাব সবচেয়ে বেশি পরিলক্ষিত হয় আপনার ত্বকে। ফলে ত্বক কখনো তৈলাক্ত, কখনো শুকনো বা খসখসে হয়ে যায়। বর্ষায় ত্বকের যত্নে তাই একটু বেশি সতর্ক হওয়া উচিত-
. বর্ষায় শুকনো ত্বক আরো শুকনো এবং তৈলাক্ত ত্বক আরো তৈলাক্ত হয়। ভেজা ত্বক শুকিয়ে গেলে তাতে অস্বস্তিবোধ হতে পারে। তাই প্রয়োজনে ময়েশ্চারাইজিং ক্রিম ব্যবহার করুন।
. বর্ষায় ঘন ঘন পা ভিজতে পারে। এতে পায়ের মধ্যে অস্বস্তিবোধ হতে পারে। একটা বোলের মধ্যে হালকা গরম পানি নিয়ে সেখানে একটু লবণ ছিটিয়ে দিন। এবার পাটাকে সেখানে কিছুক্ষণ ডুবিয়ে রাখুন। দেখবেন বেশ ফ্রেশ লাগবে। লবণ-পানিতে একটু শ্যাম্পু যোগ করুন। দেখবেন এতো ফ্রেশ লাগবে যে, প্রতি সোমবার যায়যায়দিনের স্বাস্থ্যপাতা পড়তে বারবার ইচ্ছা করবে।
.এ সময় হালকা ও ওয়াটারপ্রুফ মেকআপ ব্যবহার করুন।
. এ সময় ফাউন্ডেশন ব্যবহার না করাই ভালো। তবে হালকা পাউডার ব্যবহার করতে পারেন।
. আই লাইনার ব্যবহার না করে কাজল ব্যবহার করতে পারেন।
. এ সময় ওয়াটার বেইজড ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে পারেন
.বর্ষায় ত্বকে প্রচুর ধুলাবালি আটকে যেতে পারে। তাই এ সময় ব্রণের সমস্যা বাড়তে পারে। তাই ভালো ক্লিনজার ব্যবহার করুন। বর্ষায় সাবানমুক্ত ক্লিনজার ব্যবহার করা ভালো।
. সময় ব্ল্যাক হেডস, হোয়াইট হেডস, ব্রণের সমস্যা বাড়তে পারে। তাই অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ফেস ওয়াশ ব্যবহার করুন।
. কমপক্ষে দুবার কর্মস্থলে যাওয়ার আগে ও পরে গোসল করুন।
.ডিওডোরেন্ট ব্যবহার করতে ভুলবেন না
বর্ষায় চুলের যত্নঃ
. বর্ষায় আপনার চুল ঘন ঘন ভিজতে পারে। ভেজা চুলে ধুলাবালি আটকে যেতে পারে। তাই এ সময় বেশি বেশি শ্যাম্পু করুন। কন্ডিশনার ব্যবহার করতে পারেন তবে তা যেন আপনার মাথার ত্বককে স্পর্শ না করে। যাদের চুল খসখসে তারা শুকনো চুলে অলিভঅয়েল ও গ্লিসারিনের মিশ্রণ লাগাতে পারেন। শুকনো চুলের জন্য ভিনেগার খুব ভালো কন্ডিশনার।
. এ সময় মাথায় খুশকির প্রাদুর্ভাব বাড়তে পারে। রাতে মাথায় ভালোভাবে তেল মেখে সকালে শ্যাম্পু করে ফেলুন। এতে খুশকি কমে যাবে। অন্যের ব্যবহৃত চিরুনি ব্যবহার করবেন না। এতে খুশকি ছড়াতে পারে।
বর্ষার পোশাক-পরিচ্ছদ
.এ সময় ভুলেও উঁচু জুতা ব্যবহার করবেন না ।
. এ সময় চামড়ার জুতা ব্যবহার না করাই ভালো।
. হালকা রঙিন বর্ণের পোশাক ব্যবহার করুন। এতে বর্ষার মেঘলা আকাশ আপনার মনকে বিষন্ন করতে পারবে না।
. যাদের ভিজে যাওয়ার ভয় আছে তাদের উচিত সিনথেটিকের কাপড় পরা।
. ব্যাগে কিংবা অফিসে বাড়তি এক সেট কাপড় রেখে দিতে পারেন
.প্রতিদিন নুতন মোজা, অন্তর্বাস ব্যবহার করুন। এসব কাপড় টানা ছয় ঘণ্টার বেশি পরা ঠিক নয়।
বর্ষার রোগ-ব্যাধিঃ
বর্ষায় পানিবাহিত বিভিন্ন রোগ, ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা যেমন ফাঙ্গাসের আক্রমণ, স্কেবিস বা খোসপাঁচড়া, এলার্জি, ডেঙ্গি (ভুলক্রমে অনেকে এটাকে ডেঙ্গু উচ্চারণ করেন), ম্যালেরিয়া ইত্যাদি রোগ দেখা দেয়।
পানিবাহিত রোগ
. জন্ডিস (হেপাটাইটিস-এ, হেপাটাইটিস-ই)
. পলিওমায়েলাইটিস
. টাইফয়েড, প্যারাটাইফয়েড
. গ্যাস্ট্রোএন্টারাইটিস বা পেটের প্রদাহ
. কলেরা
পানিবাহিত রোগের লক্ষণ
পানিবাহিত রোগগুলো ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও অন্যান্য জীবাণু দ্বারা হয় এবং দূষিত পানির মাধ্যমে একজন থেকে আরেকজনে ছড়িয়ে পড়ে। এর লক্ষণগুলো নিম্নরূপ-
. ঘন ঘন পাতলা পায়খানা
. প্রচুর বমি হওয়া
.পেটে ব্যথা বা পেট কামড়ে ধরা
. কখনো কখনো জ্বরের সঙ্গে কাঁপুনি থাকতে পারে
. জন্ডিস হলে সবাই জানি চোখ হলুদ হয়, প্রস্রাবের রঙ হলুদ হয়।
চিকিৎসা
. প্রচুর পরিমাণে পানি, জুস, ডাবের পানি, লেবুর সরবত ইত্যাদি পান করুন।
. প্রতিবার পাতলা পায়খানার পর খাবার স্যালাইন গ্রহণ করুন। খাবার স্যালাইন বাসায় তৈরি করে গ্রহণ করা যেতে পারে।
. এতে উপকার না হলে কাছাকাছি হাসপাতালে যান বা একজন ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে করণীয়
. অবশ্যই বিশুদ্ধ পানি পান করুন।
. নিরুপায় হয়ে পুকুর বা খোলা জায়গার পানি পানে বাধ্য হলে অবশ্যই তা ভালোভাবে ফুটিয়ে পান করুন। একটানা ২০ মিনিট ফুটালেই পানি জীবাণুমুক্ত হয়ে যায়।
. খাবার গ্রহণের আগে ও পরে ভালোভাবে সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করে নিন।
. টয়লেট ব্যবহারের পর ভালোভাবে সাবান বা ছাই দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলুন।
. রাস্তার ধারের খোলা খাবার খাবেন না।
. শাকসবজি রান্নার আগে ভালোভাবে ধুয়ে নিন।
. রাস্তার গরম চা গ্রহণের আগে দেখে নিন
কাপটি পরিষ্কার পানি দিয়ে ধোয়া হয়েছে
কি না।
. দাওয়াতে গেলে নিশ্চিত হোন বোরহানিটা বিশুদ্ধ পানি দিয়ে তৈরি কি না।
. হোটেলে ফিল্টারের পানি গ্রহণের আগে ভালোভাবে খেয়াল করুন গ্লাসটি বিশুদ্ধ পানি দিয়ে ধোয়া কি না।
. পানেও প্রচুর পরিমাণে রোগ-জীবাণু থাকতে পারে। তাই পান না খেলে যাদের একদম চলে না তারা পান খাওয়ার আগে নিশ্চিত হয়ে নিন সেটা পরিষ্কার পানিতে ধোয়া হয়েছে কি না।
ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে করণীয়
. বাসার আশপাশে যাতে পানি জমে থাকতে না পারে সেদিকে নজর দিন।
. খেয়াল রাখবেন যাতে ফুলের টব, নারকেলের খোসা, ভাঙা হাঁড়ি-পাতিল ইত্যাদিতে পানি জমতে না পারে।
. বাসার পানির ট্যাংকটি ভালোভাবে ঢেকে রাখার ব্যবস্থা করুন।
. বাসার সামনের ময়লা ঝোপঝাড় থাকলে তা পরিষ্কার করুন।
. সম্ভব হলে বাসায় মশানাশক ওষুধ ¯েপ্র করুন।
. জানালা ও দরজায় নেট ব্যবহার করে মশার প্রবেশ বন্ধ করা যেতে পারে।
.ঘরে মশার কয়েল ব্যবহার করতে পারেন।
.এ সময় জ্বর হলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
পাঠক, পৃথিবীর সবচেয়ে সস্তা জিনিস হলো উপদেশ। কিন্তু ডাক্তারের উপদেশ নিতে গেলে মোটা অঙ্কের টাকা গুনতে হয়। তাই এ বর্ষায় বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার আগেই আসুন রোগ প্রতিরোধের ব্যবস্থা গড়ে তুলি এখনই। তাহলে জীবনটাও সুন্দর হবে, ডাক্তারের ভিজিটও বাঁচবে।
সূত্রঃ যায়যায়দিন, তারিখ ০৭/০৭/০৮
আলোচিত ব্লগ
আত্মহনন ও পক্ষপাতিত্ব


রবীন্দ্রনাথ কি বাংলাদেশের নাগরিক ??!! শুধুমাত্র জাতীয় সংগীতের রচয়িতা এবং বাংলাদেশে কিছু সুশীলদের (ভালো নাপিত) তাকে নিয়ে নানা রকমের কলহ-বিবাদ-বিভক্তি তৈরী ব্যতিত; বাংলাদেশে তার আর অবদান কি... ...বাকিটুকু পড়ুন
তারা ভারতের এই সফট টুলস রবীন্দ্রনাথকে রক্ষা করবে।

কয়েকদিন আগে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জাতীর পিতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেলা হলো, সেখানে তো গ্রেপ্তার দেখলাম না! সেখানে কি পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের অবণতির শঙ্কা ছিলো না? পাকিস্তানের... ...বাকিটুকু পড়ুন
বিএনপি হল অথর্ব আর ইডিয়েটদের দল। বর্তমানে এদের দেশ পরিচালানার করার কোন যোগ্যতা ই নেই।
রবীন্দ্রনাথের ছবিতে কালি দেয়াটা নিন্দনীয় কিন্ত তার বিচার হবে কিসে? রাষ্ট্রদ্রোহিতা মামলায়?? রিমান্ডে নিয়ে?
চৈতালি চক্রবর্তী সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, সে আইন বুঝে। প্রায় প্রতিদিন জুলাই, আবু সাইদ, বাংলাদেশ সব কিছু সম্পর্কে... ...বাকিটুকু পড়ুন
এআই মন্তব্যের পর ব্লগারগণের পোষ্ঠ ভালো বুঝে আসে

চাঁদগাজী/সোনাগাজী বলতেন অনেক ব্লগার গরুর রচনা এবং অনেক ব্লগার গার্বেজ লেখেন। তাঁর এমন মন্তব্যের কারণে তাঁর বিরোধী ব্লগার সংখ্যা বেড়ে যায়। ফলে তিনি বার বার ব্যানের শিকার... ...বাকিটুকু পড়ুন
=মনে রং নেই আর=

মন তো ছিল গোলাপী রঙ আভায় বন্দি, মন ছিল চন্দ্র মল্লিকা,
মন আর সেই মন নেই, মনের চারিপাশে এক সমুদ্দুর কুহেলিকা;
মন যেন পাথর হয়ে আছে, নেই অফুরন্ত ফুরসত
মন গোলাপী রঙ নয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।