somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঢাকা ফেরার গল্প ...

০২ রা মে, ২০১২ রাত ১০:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঢাকায় ফিরবো বলে ব্যাগ গুছিয়ে বসে আছি। বাইরে তুমুল বৃষ্টি। বৃষ্টি থামার পর জানালা দিয়ে নীচে তাকিয়ে দেখি নদী বইছে। চামড়ার স্যান্ডেল পলিথিনে ভরে স্পঞ্জ পায়ে বের হলাম। বৃষ্টির পানিতে পা দেবার আগেই বুঝলাম, সামথিং ইজ ভেরি রং!

বৃষ্টির পানিতে আরও কি মিশেছে বুঝে নিন। এই গা ঘিনঘিনে পানিতে হাঁটছি তো হাঁটছিই, পথতো আর শেষ হয়না। আমি অবশ্য একা নই, সাথে আরও অনেকেই আছে। এ অবস্থায় একটি খালি রিকশা আর একটি ছয় দরজার লিমোসিন পেলে আপনি সমান খুশি হবেন!

হঠাৎই যেন পানি ফুঁড়ে উদয় হলো এক খালি রিকশা, আমার কাছ থেকে বেশ দূরে, ধীরে ধীরে পানি ঠেলে এগিয়ে আসছে, কিন্তু আশ্চর্য ব্যাপার কেউ তাকে ডাকলো না। এখানকার মানুষের বোধহয় এ পানির সাথে সম্পর্ক বেশ পুরনো!

অবশেষে মুক্তি। বললাম, মামা আগে কান্দিরপাড় যাও, ওখান থেকে তিশা কাউন্টার। কান্দিরপাড়ে মেডিকেলের বন্ধু হিমেলের কাছে তার
পেনড্রাইভটা দীর্ঘ কতদিন পর ফেরত দিলাম দুজনেই হয়তো ভুলে গেছি। শাসনগাছা যাবার পথে পুলিশলাইনের কাছের মসজিদটায় মনের মাধুরী মিশিয়ে পা ধুলাম। বাস ছাড়তে বেশি দেরি করলো না, তবে তার আগে বরাবরের মতই 'এশিয়া লাইনে'র সাথে 'টাগ অফ ওয়ার' চললো। দেখলে মনে হবে ছোট দুটো বাচ্চা তাদের খেলনা বাস দিয়ে একজন আরেকজনকে ওভারটেক করতে দিচ্ছে না ...

আগে কি বলেছি, বাসে আমি সবসময় দু'টা সিট নিয়ে বসি! না না! একটায় হয়না এমনটা না :P স্রেফ বিজনেস ক্লাস এক্সপেরিন্সের জন্য। তবে ভাড়া দেই একসীটের! কিভাবে? আমি সাধারনত জার্নি করি সন্ধ্যারও বেশ পর, আর তখন বাস অর্ধেক খালি থাকে। আমাকে যেটা করতে হয় তা হচ্ছে, 'Psychological repulsion'। যখন কোন প্যাসেঞ্জার বাসে ওঠে তখন তাকে আমার পাশের সীটে বসতে মানষিকভাবে নিরুৎসাহিত করি , সে তখন আমার পাশে না বসে অন্য সিটে বসে, যেহেতু বাস অনেকটাই খালি থাকে সেহেতু সে নিজেও আরেকটা খালি সিট পায়, খারাপ না, কি বলেন!

পেছনেও যাত্রী না থাকায় সীটটা যতটুকু সম্ভব নামিয়ে দিয়ে জানালাটা খুলে দিলাম। বৃষ্টি ধোয়া বাতাস এসে মুখে লাগলো, এ অনূভুতি এসির বাতাসে পাওয়া যায়না, লিখেও প্রকাশ করা যায়না। আহ! অল দ্য ওয়ে বিজনেস ক্লাস ...

হঠাৎ মনে হলো বাইরে কে যেন ছবি তুলছে! তাকিয়ে দেখি বিরাট প্রান্তর দেখা দিয়ে অদৃশ্য হয়ে গেলো।থেকে থেকে বিজলী চমকাচ্ছে আকাশে। সেগুলোর ধরনও অদ্ভূত, কোনটা দেখা গেল কি গেলো না, কোনটায় আকাশের একপাশ পুরো সাদা হয়ে গেলো, কোনটা এতটাই তীব্র যে, চোখ কিছুক্ষনের জন্য বন্ধ করে দিলো, আবার কোনটা মাটিতে বজ্র পাঠালো, কারো মাথায় পড়লো কিনা কে জানে !!!

রাস্তা মোটামুটি খালি বলা যায়, যারা বাড়ি যাবার তারা হরতালের আগেই চলে গেছে। কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকার মিষ্টির দোকানগুলোর বেশিরভাগই বন্ধ, এগুলো সবগুলোই নকল 'মাতৃ ভান্ডার'। প্রায় একই নামে পাশাপাশি এতগুলো দোকান। আমি কখনও এরকম নির্লজ্জ নকলবৃত্তি দেখিনি। কিন্তু মানুষ খুব একটা সচেতন নয়, না হলে এতগুলো দোকান বছরের পর বছর ধরে টিকে আছে কি করে! কিন্তু বাসের সেদিকে মনযোগ নেই, সে ছুটে চলেছে ঝড়ের গতিতে...

এতক্ষন রাস্তা ছিলো ভেঁজা, এবার শুকনো রাস্তা শুরু হলো, দূরের আকাশে তখনও বিজলী চমকাচ্ছে। কিছুদূর যাবার পর হঠাৎ বাস ঢুকে পরল ঝুমঝুম বৃষ্টির ভেতর, জানালা বন্ধ করে দিলাম, আবার যেন কিছুই হয়নি এমন শুকনো রাস্তায় শুরু হলো, ঠিক যেন অটোমেটিক কার ওয়াশ সার্ভিস! এই ১০০ কিলোমিটার রাস্তা পার হতে প্রকৃতির কত রঙবদল!
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা মে, ২০১২ রাত ১০:৩৫
৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×