স্কুল এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাদ ব্যবহার করে সৌরবিদ্যুত উৎপাদনের পরিকল্পনা করছে সরকার। প্রাথমিকভাবে দেশের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাদে সৌর প্যানেল বসানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। গ্রিড এবং অফগ্রিডের দুটি উপজেলা এবং একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পাইলট প্রকল্পের কাজ শুরু হবে শীঘ্রই। দেশের মোট বিদ্যুতের অন্তত ১০ ভাগ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদন করা হবে। এই পরিকল্পনার আওতায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রেলস্টেশন এবং বাড়ির ছাদে সৌরবিদ্যুত উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথমেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাদকে এ কাজে ব্যবহার করা হবে। পর্যায়ক্রমে কলেজ এবং স্কুলের ছাদে যা সম্প্রসারণ করা হবে। প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাদে এক হাজার ২০০ স্কয়ারফিট জায়গা রয়েছে। এই হিসাবে বিদ্যালয়ে ১৫ কিলোওয়াটের সোলার প্যানেল বসানো সম্ভব। যেসব যায়গায় গ্রিডলাইন রয়েছে সেখানের উৎপাদিত বিদ্যুত সরাসরি গ্রিডে চলে যাবে। যেখানে গ্রিড নেই সেখানের বিদ্যুত স্কুলেই ব্যবহার করবে। সরকার সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম করার চিন্তাভাবনা করছে, এর জন্য বিদ্যুতের প্রয়োজন। এছাড়া গ্রীষ্মে শ্রেণীকক্ষে বৈদ্যুতিক পাখা চালানোর জন্য বিদ্যুত প্রয়োজন। যদিও এখনও দেশের বেশিরভাগ গ্রামের সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিদ্যুত সংযোগই নেই। এর ছাদগুলোতে সৌর প্যানেল স্থাপন করা হবে। এই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সারাদেশের স্কুলগুলোতে সৌর প্যানেল স্থাপনের কাজ করা হবে। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে নোয়াখালী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম সৌর প্যানেল স্থাপনের জন্য প্রকল্প তৈরি করা হচ্ছে। দেশের মোট বিদ্যুত উৎপাদনের মধ্যে ১০ ভাগ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদন করা হবে। কম বিদ্যুত খরচের কারণেই এলইডি ব্যবহার করা হবে। রেল মন্ত্রণালয় রেলস্টেশনের ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপন করে ৫০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুত উৎপন্ন করবে। এক্ষেত্রে যেসব স্থানে রেলস্টেশন আছে কিন্তু বিদ্যুত নেই সেসব স্টেশনকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। ধর্ম মন্ত্রণালয় মসজিদ, মন্দির, গির্জার ছাদে ১০ মেগাওয়াট সোলার প্যানেল স্থাপন করবে। এছাড়া শিল্প মন্ত্রণালয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং পূর্ত মন্ত্রণালয় বিভিন্ন সরকারী ভবনের ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপন করবে। সরকারের এ সিদ্ধান্তের ফলে একদিকে যেমন বিদ্যুতের উপর চাপ কমবে অন্যদিকে দেশের জনগণ উপকৃত হবে।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জুলাই, ২০১৫ বিকাল ৩:৩৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




