একেই হয়তবা বলে নাড়ীর টান। তা নাহলে প্রথম যখন পড়াশুনার জন্য বিদেশ এ আসি তখন দেশে না ফেরার চিন্তা করি। কিন্তু দিন বদলের সাথে সাথে সেই চিন্তা আস্তে আস্তে লোপ পেয়েছে।দেশের প্রতি যে গভীর টান তা বিদেশ না গেলে বুজতাম না।এখন আর প্রবাসে থাকতে ইচ্ছে করে না।জানিনা কেন বাংলাদেশ কে এত অনুভব করি।
প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে শত ব্যস্ততার মাঝেও অনলাইনে বাংলা ৭-৮ টা পত্রিকা পড়ি। সময় পেলে দেশে ফোন করে রাজনিতির খোঁজ নিতে ইচ্ছা করে। গত ৪-৫ বছর এটা নেশার মত হয়ে গেছে। কিছুদিন আগে ইউটিউবে ব্যারিষ্টার আন্দালিব রহমানের সংসদ ভাষন দেখলাম।আমি ৫ বার এ ভাষন টা শুনেছি আর চিন্তা করেছি এমন পার্লামেন্টেরিয়ান থাকতেও বিএনপি সংসদে যায় না কেন? দেশের মানুষের তো এ রকম পার্লামেন্টেরিয়ান নিয়ে গর্ব করা উচিত।
আমি বাংলাদেশের বর্তমান সরকার কে ধন্যবাদ জানাই কারন তারা ডিজিটাল বাংলাদেশ স্লোগান কে সামনে রেখে কাজ করে যাচ্ছেন। আর ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফলও আমরা পেতে শুরু করেছি।এই সুফল আমরা প্রবাসীরাই বেশি পাচ্ছি।
আমি অল্প বয়সে ৭ টা দেশ ভ্রমন করার সুযোগ পেয়েছি। সব গুলো দেশে যাবার আগে সে সব দেশের রাজনৈতিক,অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে কিছুটা পড়াশুনা করেছি। আমি অস্টেলিয়াতে ৭ বছর হল আছি।এখানকার রাজনৈতিক,অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কেও হালকা ধারনা আছে। আমাদের দেশের সাথে ওন্য কোন দিক দিয়া মিল না থাকলেও একটি জায়গাতে মিল আছে আর সেটি হল গনতন্ত্র।আমাদের দেশের মত(!!) এখানকার পত্রিকা গুলো স্বাধীন এবং নিরপেক্ষ।এখানে সাংবাদিকরা বসে থাকেন কখন সরকার ভুল করবে আর কখন কলম চালাবেন।এখানকার সাংবাদিকরা নির্ভয়ে কলম চালান আর সরকারের ভুল গুলো ধরিয়ে দেয়।ওন্যদিকে সরকার সেই ভুল গুলো বুঝতে পারে এবং তা সুধরে নেয়।কিন্তু আমাদের দেশে ভুল ধরিয়ে দিলে পরিনতি ভালো হবার সম্ভাবনা কমে যায়।উপরন্তু তার ভাগ্য খারাপ হলে জেলে ও যেতে হতে পারে।নিজের উপর চলে আসতে পারে ৪০-৫০ টা মামলা এবং অবশেষে মাহমুদুর রহমানের মত এক দের বছরের জেল। এত জেল খটার পরেও রহমান সাহেবের কলম কিন্তু চলছেই। কারন দেশের অবস্থা এখন বাকশাল থেকে কিছুটা হলেও ভাল।রহমান সাহেব যখন জেলে ছিলেন তখন দেশের অন্য সংবাদপত্রগুলোও এর প্রতিবাদ করতে দেখেছি যা অবস্যই ভাল গনতন্ত্রের লক্ষন।ডিজিটাল সরকার কেন জানি ''অসির চেয়ে মসি বড়'' এটা মানতে পাড়ছেন না।লগি বৈঠাতো ব্যবহার করতে পারছে না কিন্তু রাজপথে সরকার এখনো অনন্য।
ডিজিটাল বাংলাদেশের জনক জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ বাংলাদেশের মানুষকে ডিজিটাল হবার সপ্ন দেখানোর জন্য।এই ডিজিটালিটির জন্য আজকে আমরা ১০ টাকা কেজি চাল খাওয়ানোর প্রতিশ্রুতির সত্যতা পেয়েছি।''১০টাকাই চাল খাব,নৌকাই ভোট দিব'' এই স্লোগান নতুন প্রজন্মের মুখে চলে আসছে এই ডিজিটালিটির জন্য।এই ডিজিটালিটির প্রভাবে এখন খেকে কেউ আর মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিবে না।আজকে যারা নতুন প্রজন্মের সন্তান তাদের ভোটে এই ডিজিটাল সরকারের জন্ম।তাদের সাথে যদি মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেয়া হ্য় তাহলে ডিজিটাল সরকারের উপর থেকে নতুন প্রজন্ম মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে।বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে কি ডিজিটাল বাংলাদেশের মত সেক্যুলারিজমও ছিল কিনা সেটা বুঝতে পারছি না। এটা নিয়ে এত কথা কেন হয় তাও আমার বোধগম্য নয়। যেখানে তুরষ্ক সেক্যুলারিজম থেকে ইসলামি প্রজাতন্রে চলে এসেছে সেখানে আমরা ৯০% মুসলমানের ধর্মীয় মুল্যবোধকে আঘাত করে সেক্যুলারিজম প্রতষ্ঠা করতে চাচ্ছি।ডিজিটাল জিনিসটা মনে হয় একটু উল্টো পথে চলে। তা না হলে জনমত, বিরোধীদল, সুশীল সমাজ সবাইকে দূরে ঠেলে শেখ হাসিনা-নিজামীর আন্দোলনের ফসল তত্বাবধায়াক সরকারকে বাতিল করতে হল কেন??
জননেত্রী শেখ হাসিনা কিছুদিন আগে বলেছিলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হলে দেশ থেকে সন্ত্রাস বন্ধ হবে। যুদ্ধাপরাধীদের বড় একটা অংশ জামায়েতে ইসলামির সমর্থক এবং নেতা। তার মানে জামায়াত নেতা নিজামী-মুজাহিদ আমাদের দেশের বড় সন্ত্রাসী। আমিও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কথার সাথে একমত। কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার প্রশ্ন, ৯৬ সালে আপনি কেন সন্ত্রাসীদের সাথে যুগপৎ আন্দোলন করেছিলেন???তখন কি তারা সন্ত্রাসী বা যুদ্ধাপরাধী ছিল না???নাকি বিএনপির সাথে জোটবদ্ধ হয়েছিল বলে তারা সন্ত্রাসী???
সরকারের ভাষায় বিচারবিভাগ অনেক স্বাধীন এবং নিরপেক্ষ।বিচারবিভাগ এমনই স্বাধীন যে, সকালে মন্ত্রীমহোদয়রা মিডিয়াতে বলেন সাজা দেওয়া হবে আর বিকালে বিচারক মহোদয় সাজা কার্যকর করে দেন।
জান্তা সরকার কাকে বলে আগে বুজতাম না কিন্তু এখন একটু হলেও বুজতে পারছি জান্তা সরকার কি।মায়ানমারে মিলিটারিদের জান্তা বলে আর আমাদের দেশে গনতান্ত্রিক সরকার সেই জান্তার মতই আচরন করছে।
তা না হলে বিরুধীদলের শান্তিপূর্ন কর্মসূচীতে পুলিশি নির্যাতন কেন করছে???
৬জুলাই ২০১১তে মহান সংসদে বিএনপির হরতাল প্রসংগে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বলতে শুনলাম যে, একজন মুসলমান কিভাবে আরেকজন মুসলমান কে পুড়িয়ে মারে তা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বোধগম্য নয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কি ভুলে গেছেন ২৮.১০.২০০৬ এর কথা??? সেদিন পল্টন মোড়ে লগি-বৈঠা দিয়ে হাফ ডজন মানুষ পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছিল তারা কি মুসলমান ছিল না???
যে দেশে সংসদ সদস্যকে পুলিশ রাস্তায় ফেলে পেটাতে পারে, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে পারে সে দেশে সাধারন মানুষের নিরাপত্তা কোথায়???
আমরা সাধারন জনগন এত কিছু বুঝি না। আমরা চায় স্থিতিশীল বাংলাদেশ যেখানে সবাই সুখে শান্তিতে থাকবে, নিজেদের অধিকার আদায় করতে পারবে, সুষ্ঠ গনতান্ত্রিক পরিবেশ থাকবে, রাজনৈতিক অধিকার থাকবে।অযথা মানুষকে কেউ হয়রানি করবে না। কেউ মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতাই আসতে পারবে না। বাকশাল বা সেনাবাহিনী ক্ষমতায় আসবে না।আমরা শান্তি চায়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


