somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

উপলবদ্ধি

০৩ রা এপ্রিল, ২০১৬ বিকাল ৩:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



গভীর রাতে ঘরের ভেতরে কিছু একটার শব্দে ঘুম ভেঙে গেল।কান খাড়া করে শব্দের উৎস খুজতে লাগলাম।কিন্তু এই মূহুর্তে আর কোন শব্দ কানে আসছে না।ইদুর-টিদুর হবে হয়তো।
গভীর রাতে যখন চারিদিকে নিঃশব্দ হয়ে যায় তখন কান পাতলে এক রকম শব্দ কানে আছে।আসলে নিঃশব্দেরও একটা আলাদা শব্দ আছে।যেটা সবাই বোঝেনা।
ভয়-ডর আমার খুব একটা ছিল না।কিন্তু এই মাস খানেক আগে থেকে আমার ভয় খুব বেড়ে গেছে।সন্ধ্যার পরে একা কোথাও যেতে পারি না ভয়ে।একা থাকতেও ভয়ে গা ছম ছম করে।সুমন যেদিন রোড এক্সিডেন্টে মারা গেল তার পর থেকেই আমার যত ভয়ের শুরু। সুমন আমার বন্ধু।ওর আর আমার বন্ধুত্বটা কেমন ছিল সেটা ঠিক বুঝিয়ে বলতে পারব না।দুই বন্ধু একে অপরকে প্রানের চেয়ে বেশি ভাল বাসতাম।সুমন বড় লোক পরিবারের ছেলে আর আমি সামান্য মধ্যেবিত্ত পরিবারের।সুমনের মাঝে মাঝে উল্টা পাল্টা চলাফেরা আমাকে খুব কষ্ট দিত।সুমন যখন আমার কোন কথা না শুনত তখন আমি মনে-মনে খুব কষ্ট পেতাম।সেইমূহুর্তে আমার মনে হত সুমন বন্ধু হিসেবে আমাকে একটুও ভালবাসে না।
একজনের মাধ্যমে জানতে পারলাম সুমন সিগরেট খাওয়া শুরু করছে।বন্ধুত্বের দোহায় দিয়ে ওকে নিষেধ করলাম।কথা দিল আর খাবে না।তারপরও বুঝতাম লুকিয়ে লুকিয়ে সুমন সিগরেট খায়।সেদিন শুনলাম নিজ গ্রামে একটা মেয়েকে ভালবাসে সুমন কিন্তু আমাকে বলেনি।আমি এই নিয়ে সুমনের সাথে ঝগড়া করলাম।কারন ও একটা মেয়েকে ভালবাসে সেটা আমার সাথে কেন শেয়ার করল না।সুমন বলল,তুই মেনে নিবিনা বলে বলিনি।আমি বললাম তুই তো ভাল করই জানিস মেয়েটার আগে আরেকজনের সাথে সম্পর্ক ছিল তারপরও তাকে ভালবাসার কথা ভাবলি কি করে। আসলে বন্ধু হিসেবে তুই আমাকে এখনও পর্যন্ত ভালই বাসতে পারিসনি।তাহলে আমার সাথে শেয়ার না করে তুই এত কিছু করতে পারতিস না। সুমন খারাপ কিছু করলে আমি মন থেকে মেনে নিতে পারতাম না।ভিষন কষ্ট পেতাম।এসব কথা কখনই কাউকে বলতে পারতাম না।কষ্ট গুলো নিজের মাঝেই রাখতাম। সেদিন বিকালে সুমনের ফোন বলে, রাস্তায় দাড়া আমি চার মিনিটে আসছি।
বাড়ির সামনের রাস্তায় দাড়াতেই পেছনে একরাশ ধুলা উড়িয়ে একটা মটর সাইকেল চালিয়ে হাজির হল সুমন।
আজই বাবা কিনে দিল, তোকে সারপ্রাইজ দিব বলে আগে থেকে বলিনি।এখন ঝটপট পেছনে ওঠ বেড়াবো অনেক জায়গায়। সুমন এক নাগাড়ে কথা গুলো বলে গেল।আমি দাড়িয়েই রইলাম। সুমন বলল,কি হল না উঠে দাড়িয়ে রইলি কেন?তুই যা আমি যাব না।আমার কথা শুনে সুমন রেগে গেল।বেশ কিছু কথাও শুনিয়ে দিল।শেষে এক শর্তে ওর সাথে যেতে রাজি হলাম।শর্তটা হল সুমন কখনই খুব জোরে মটর সাইকেল চালাতে পারবে না।আর সব সময় হেলমেট ব্যবহার করবে।সুমন বলল,ওকে ঠিক আছে এখন ওঠতো।
এর ঠিক বাইশ দিন পরে একটা রোড এক্সিডেন্টে সুমন স্পট ডেড!সুমন আমার শর্ত রাখেনি।আমাকে একা রেখে বড় অসময়ে চলে গেল সুমন।
পাশ ফিরে শুতেই আবার একটা শব্দ কানে এল,মনে হচ্ছে আমার ঘরের চেয়ারে কেউ একজন বসে আছে।আমি কোন রকমে কাপা গলায় বললাম, কে ওখানে? আরমান আমি সুমন।
সুমনের কন্ঠ শুনে আমার মন থেকে সব ভয় কেমন করে যেন উধাও হয়ে গেল।কিন্তু এটা কি করে সম্ভব তুইতো মারা গেছিস।
মরে গেছি তো কি হয়েছে আমার আত্বা এখন সবসময় তোর সাথেই থাকবে।সে রাতে সুমনের আত্বার সাথে অনেক কথা হল।আজ রাতে যখন ঘুমাতে গেলাম তখন সুমন আবার হাজির।কিরে এখন ঘুমিয়ে পড়বি? ঘুমাব না তো কি করব তোর সাথে বক বক করব সারা রাত।সুমনের আত্বা আমায় বলল,আচ্ছা ঘুমা পরে কথা হবে। আমি বললাম,একটা সত্যি কথা বলবি সুমন? কি বল, মিথ্যা বলার কি আছে।তুই মরে গিয়ে আবার আমার কাছে কি জন্য এলি? আমি মরে যাওয়ার পরে উপলবদ্ধি করেছি পৃথিবীতে একটা মানুষই আমাকে নিস্বার্থ ভাবে ভালবাসত আর সেটা তুই।মরার আগে তো তোকে সময় দেইনি তাই এখন মরার পরে তোর কাছে চলে এলাম।
তাও ভাল সুমন উপলবদ্ধি করতে পেরেছে আমি ওকে খুব ভালবাসতাম,তবে এই উপলবদ্ধিটা মরার আগে না করে মরার পরেই করল! একটা দীর্ঘস্বাশ বেরিয়ে এল বুকের ভেতর থেকে।অন্ধকারে সুমনেরও একটা দীর্ঘশ্বাসের শব্দ শুনতে পেলাম।আত্বারা কি দীর্ঘস্বাশ ফেলে?
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা এপ্রিল, ২০১৬ বিকাল ৩:০০
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নতুন ভোরের গান

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৬:৪৭


নতুন ভোরের গান



কষ্টের দিন পেরিয়ে এবার
আসবে আলোর গান,
নতুন দিনের নতুন সুরে
জাগবে সবুজ প্রাণ।

নষ্ট স্মৃতির আড়ষ্টতা
ঝরিয়ে দেবো অনেক দূরে,
নিজের মনেই ভালোবাসার
নূপুর বাজবে সুরে সুরে।



ভ্রষ্ট পথের আঁধার কেটে
ভোর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগে চার বছর একদিন হয়ে গেল । কি আশ্চর্য!

লিখেছেন সামরিন হক, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৬:৪৭

অবজ্ঞা

তোমার বিশেষ ঘৃণা দ্বারা আক্রান্ত আমি
চারপাশ ঘিরে ফেলেছে ঘৃণারা আমাকে
আস্তে আস্তে গ্রাস করে নিচ্ছে আমাকে তোমার ঘৃণা
আমার কথা শোন
আমি কখনই মনুষ্যত্বের সীমা পার করিনি
কিন্তু তোমার ঘৃণায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

গুপ্ত-গায়েব-গুম এবং পিওর ও শিওর লাভ

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:১৬


৭ মাসে বাংলাদেশে ১৫ হাজার শিশু নিখোঁজ !!!
এমন রোমহর্ষক, চমকে যাওয়া এবং অন্তরে কাপুনি ধরানোর মতো তথ্য বা কথা বার্তার কোনও মানে হয় ??!!
গরীব পরিবারের শিশুদের কথা বাদ দেই-এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

সরকারী অফিসারদের বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:০০

দেশের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সরকারী অফিসারদের হাত ধরেই হয়। সেজন্যে, এই পদগুলো যোগ্য মানুষদের হাতে যাওয়া প্রয়োজন। কিন্তু, সমস্যা হচ্ছে, গত কয়েক দশকে দেশের টপ ট্যালেন্টদের বেশির ভাগই কোনক্রমেই সরেকারী অফিসার... ...বাকিটুকু পড়ুন

টাই চাই

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৩১

সরকারি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে: অদ্য হইতে কোনো সরকারি বা বেসরকারি কার্যালয়ে ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত স্থানে টাই ও বেল্ট পরিধান দণ্ডনীয় অপরাধ। কারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছে একবাক্যে: "কর্মক্ষেত্র ও যত্রতত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

×