somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দেশের অবনতি-শীল আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, পিলখানা হত্যাকাণ্ড ও বিডিআর বিদ্রোহে সাজা প্রাপ্ত সৈনিকদের নিয়ে এখনই ভাবতে হবে

১১ ই নভেম্বর, ২০১৫ সকাল ১১:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



'এই দিন দিন নয়, আরও দিন আছে। এই দিনেরে নিয়া যাবো সেই দিনেরও কাছে, এ…এ…এ…এ'

বাউল শিল্পী কুদ্দুস বয়াতির ঐ গানটার কথা মনে আছে; একসময় বাংলাদেশ টেলিভিশনে গণশিক্ষা বিস্তারের বিজ্ঞাপন হিসাবে প্রচার হতো। বাংলাদেশের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির সাম্প্রতিক অবস্থা দেখে উপরের গানটা মনে পড়ে গেল।

আমার ব্যক্তিগত মতামত বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতির আরও বেশি অবনতি ঘটতে পারে এই বছরের শেষের দিকে কিংবা আগামী বছর যখন বিডিআর বিদ্রোহে জড়িত কয়েক হাজার প্রশিক্ষিত সৈনিক জেল থেকে মুক্তি পাবে। এই সৈনিকদের ৭ বছরের জেল হয়েছিল পিলখানার বিদ্রোহে সমর্থ জানানোর জন্য। পিলখানায় হত্যা চলার সময় ঐ সৈনিকরা পিলখানায় ছিলেন না; তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত বিডিআর স্থাপনায় অবস্থান করে প্রথম দিন পিলখানার সৈনিকদের সমর্থনে বিভিন্ন স্থানের বিডিআর ক্যাম্প দখল করে রেখেছিল অথবা ক্যাম্পের ভিতরে ফাকা গুলি চালিয়েছিল। এদের বিশাল একটা অংশ তরুণ ও ভারি অস্ত্র চালনায় প্রশিক্ষিত।



বিডিআর এর সাজাপ্রাপ্ত সৈনিকরা যখন জেল থেকে মুক্তি পাবে তখন তারা মোটামুটি সামাজিক ভাবে পরিত্যাজ্য হবে। এদের অনেকের পরিবার হয়ত ইতিমধ্যেই সামাজিক ভাবে পরিত্যাজ্য হয়েছে। জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরে এদেরকে কেউ চাকুরিও দিতে চাইবে না। এদের অনেকেই চাকুরির মধ্য কিংবা শেষ পর্যায়ে ছিলো। তারা কোন রকম পেনশনও পাবে না। বিডিআর এর সৈনিকরা যেহেতু প্রায় নিম্ন বা নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে আছে তাই নিশ্চিত করেই বলা যায় জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরে সৈনিকরা পরিবার নিয়ে চরম দারিদ্র ও হতাশা গ্রস্ত পরিস্হিতির মধ্যে পড়বে।

সরকার যদি জেল থেকে মুক্তি পাওয়া বিডিআর এর সাজাপ্রাপ্ত সৈনিকদের পূর্নবাসনের উদ্দোগ না নেয় তবে এদের বিশাল একটা অংশ সরকারের উপর প্রচন্ড ক্ষিপ্ত থাকবে। যার সুযোগ নিবে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্হা, চরমপন্থি কিংবা ধর্মীয় মৌলবাদি সংগঠন গুলো। বাংলাদেশের রাজনীতিতে অর্থিক ভাবে সবচেয়ে শক্তিশালি দল জামাতে ইসলামী ও ঐ সকল সৈনিকদের দারিদ্রতার সুযোগ নিয়ে ব্যবহার করতে পারে নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারে।

আমার ব্যক্তিগত মতামত হলো সেনাবাহিনীর সাথে আলোচনা করে এদের এমন ব্যবস্হা নেওয়া যাতে করে বিডিআর এর সাজাপ্রাপ্ত সৈনিকরা যখন জেল থেকে মুক্তি পাবে তখন তারা সমাজের জন্য বোঝা না হয়ে উঠে; কিংবা অপরের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে (আর্থিক ভাবে) বা ক্ষোভের কারণে রাষ্ট্র বিরোধী কোন কর্মে লিপ্ত না হয়। মনে রাখতে হবে এই সৈনিকরা সবাই ভারি অস্ত্রে প্রশিক্ষিত। চাকুরী চ্যুত ৭ হাজারের মধ্যে মাত্র ৭ জনও রাষ্ট্রের বিশাল ক্ষতি সাধন করতে পারে। জেল থেকে মুক্তি প্রাপ্ত সৈনিকদের পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যের প্রতি আবেগ কিংবা সাজাপ্রাপ্ত সৈনিকদের প্রতি ক্ষোভের পরিবর্তে ভবিষ্যৎ হুমকিকে প্রাধান্য দিতে হবে। তাদের পুনর্বাসনের পূর্বে সরকারকে সমাজ বিজ্ঞানী ও মনোবিজ্ঞানীদের নিয়ে সেনাবাহিনীর সিনিয়র জেনারেলদের নিয়ে বসে আলোচনা করতে হবে।



ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় বর্তমান আইএসআই বাহিনীর বিরাট একটা অংশ ইরাকি সেনাবাহিনীর সাবেক সদস্য যাদেরকে চাকুরী চ্যুত করে ইরাকের শিয়া নেতৃত্বাধীন সরকার সাদ্দাম হোসেনকে উৎখাত করার পরে। এর পর কয়েক বছরে ধরে তারা দরিদ্রতা ও বঞ্চনার শিকার হতে থাকে সামাজিক ভাবে। সরকারের সকল সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে থাকে। এই পর্যায়ে মানুষের একটা করার থাকে Do or Die। যেহেতু শিয়া নেতৃত্বাধীন সরকার তাদের চাকুরি দিবে না তাই বেঁচে থাকার তাগিতে আইএসআইের পক্ষে লড়াই করা ছাড়া তাদের আর কোন উপায় ছিলো না।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধের পর আওয়ামীলীগ সরকার যখন বেছে বেছে আওয়ামীলীগ নেতা-কর্মীদের চাকুরী, ব্যবসার লাইসেন্স ও রেশনের লাইসেন্স ও ঠিকাদারির কন্টাক্ট দিতে থাকল কিন্তু একই সাথে মুক্তি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করা বামপন্থি দলগুলোর নেতা-কর্মীদের উপরোক্ত সুযোগ সুবিধার বাহিরে রাখল ঠিক তখনই কর্নেল তাহেরের-ইনু-আনোয়ার হোসেন এর নেতৃত্বে জাসদের গণবাহিনী গঠিত হলো ও সরকারের বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ল। দেশে স্বাধীন হওয়ার ১ বছরের মধ্যে আওয়ামীলীগের ৬ জন সংসদ সদস্য (১৯৭০ সালের নির্বাচনে জিতেছিল) গুলিতে নিহত হলো।

আজ-কাল অনেকেই কর্নেল তাহেরের জন্য মায়া কান্না করে; তার দেশপ্রেমের কাহিনী বর্ণনা করে বেড়ায়। কিন্তু যখন তাদের প্রশ্ন করা হয় কর্নেল তাহের কেন জাসদ গণবাহিনী গঠন করেছিল? কার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য? তখনই কবি নীরব হয়ে যায়। বিপরীত ক্রমে যদি জিজ্ঞাসা করা হয় কেন কর্নেল তাহের-ইনু-আনোয়ার হোসেন জাসদ গণবাহিনী গঠন করেছিল তখনও একদল কবি নীরব হয়ে যায়। ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো কেউ ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে চায় না।

সামহোয়ারইন ব্লগে ব্লগার অনিক আহসান একটা সিরিজ পোষ্ট লিখেছিল যার বিষয় বস্তু ছিলো "যে ৫ টি বিদেশি গোয়েন্দা-সংস্থা বাংলাদেশের মাটিতে সর্বাধিক সক্রিয়"। ঐ সিরিজে অনিক আহসান খুবই সুন্দর করে বুঝিয়েছেন ঐ সকল গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কিভাবে বাংলাদেশি মানুষদের নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে নিজ নিজ দেশের স্বার্থ উদ্ধার করত। ঐ সকল গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কোন ধরনের মানুষদের নিজেদের ইনফর্মার হিসাবে কিংবা অপারেশনের কাজে লাগান তা নিম্নরূপ:

ব্লগার অনিক আহসানের মতে বিদেশের মাটিতে টার্গেট নির্বাচনে যে সব দুর্বলতাকে কাজে লাগায় বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি নিম্নরূপ:

১) যৌন ক্ষুধার প্রতি দুর্বলতা, অর্থর প্রতি দুর্বলতা, প্রতিশোধপরায়নতা,ক্ষমতার লোভ।
২) শাসকগোষ্ঠীর প্রতি অসন্তুষ্ট নির্যাতিত ও নির্বাসিত এমন কাউকে।
৩) ক্ষতিপূরণ হতে বঞ্চিত ব্যাক্তি।
৪) ন্যায়পরানয়তার কারণে প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বঞ্চিত ব্যক্তি।
৫) জোরপূর্বক নিগ্রহের স্বীকার হওয়া নারী।
৬) উচ্চাকাঙ্ক্ষী সুন্দরী তরুণী।
৭) সরকার কর্তৃক সম্পত্তি বা অর্থ বাজেয়াপ্ত হয়েছে এমন ব্যক্তি।
৮) উপরের দুর্বলতার কারণে ব্ল্যাক-মেইলের স্বীকার হওয়া লোক।
৯) সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী।

একই ধরনের কয়েক ডজন লিস্ট করা সম্ভব বাংলাদেশ। শুধু মাত্র উপরোক্ত ৯ ক্যাটেগরির মানুষের হিসাব করা হয় এই মুহূর্তে তবে তাদের সংখ্যাটা কত বড় হতে পারে তার একটা অনুমান করে নিন।

উদাহরণ হিসাবে লিস্টের ৩ নম্বর করণটার স্থলে যদি মনে করি শেয়ার ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা কত? উত্তরটা হবে ৩৩ লাখ। ঐ ৩৩ লাখের মধ্যে ৩৩ জনকে রিক্রুট করা বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা গুলোর পক্ষে অসম্ভব কিছু বলে মনে করেন?

বিদেশি কোন-কোন গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশে সক্রিয় ও তাদের কাজের পরিধি ও পন্থা সম্বন্ধে জানতে চাইলে ব্লগার অনিক আহসানের সিরিজ পোষ্ট গুলো পড়তে পারেন। নিচে লিংক দিয়ে দিলাম।

যে ৫ টি বিদেশি গোয়েন্দাসংস্থা বাংলাদেশের মাটিতে সর্বাধিক সক্রিয়
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই নভেম্বর, ২০১৫ সকাল ১১:৩৫
৭টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বস্ত্রশিল্পের জন্য আমি সরকারের যথাযথ স্থানে থাকলে কি করতাম !!!

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৬



গত ১০ দিন হল দেশের বস্ত্র শিল্পের উপর আঘাত খুব চিন্তার বিষয়। অনেক আগে বিচ্ছিন্নভাবে বস্ত্রশিল্প নিয়ে কথা বলেছিলাম। আজ সব মিলিয়ে কিছু চিন্তা করলাম। তার কিছু এখানে নোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে ভাল্লাগে- ২

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৯


"যে-রাঁধুনী জানে তার তরকারিতে স্বাদ হয়নি, সে নিমেষে লঙ্কার কৌটো উপুড় করে দেবে। তারপর অতিথি যখন কান দিয়ে ধোঁয়া ছেড়ে হাঁউমাউ করবে, রাঁধুনী তখন মিটিমিটি হেসে বলবে—‘একটু ঝাল বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×