
গত ১৯ শে ডিসেম্বর দৈনিক আমাদের সময়ের খবরে প্রকাশ বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর ১ লাখ ৬০ হাজার সদস্যের মধ্যে গত ৫ বছরে বিভিন্ন অভিযোগে সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন ৬৮ হাজার। অর্থাৎ প্রতি ২ জনে ১ জন। পূর্বে পুলিশের সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল ঘুষ নিয়ে অপরাধী ছেড়ে দেওয়া কিংবা মামলার চার্জশিটে অপরাধ লঘু করা। গত ২/৩ বছর ধরে প্রায় প্রতিমাসে পত্রিকায় পাতার সংবাদ বেড়িয়েছে পুলিশের সদস্যরা ছিনতাই করতে গিয়ে হাতে নাতে জনগণের কাছে ধরা পড়েছে অথবা স্বর্ণ ও ইয়াবা চোরাচালানে নিজেরাই জড়িত। ক্রস ফায়ারের ভয় দেখাইয়া টাকা আদায় করার কয়েক শত ঘটনা পত্রিকায় এসেছে গত কয়েক বছরে।
ক্রস ফায়ারের ভয় দেখাইয়া টাকা আদায় করার সর্বশেষ আলোচিত ঘটনা মোহাম্মদপুরের তাজমহল রোডে বাংলাদেশ ব্যাংকের কমিউনিকেশন বিভাগের কর্মকর্তা গোলাম রাব্বীকে নিয়ে। যা ঘটেছে গত শনিবার ৯ জানুয়ারি, ২০১৬।
দৈনিক প্রথম আলোর সংবাদ বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাকে ক্রসফায়ারের হুমকি দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা আদায়ের চেষ্টা করার অভিযোগ মোহাম্মদপুর থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) মাসুদ শিকদার এর
৩ সপ্তাহ পূর্বে এক আত্নীয়ের সাথে কথা হলো যার ছেলে পুলিশের কনস্টেবল পদে স্বাস্থ্য ও লিখিত পরীক্ষায় টিকে মৌখিক পরীক্ষা জন্য অপেক্ষারত। ৯ লাখ টাকা ঘুষের বিনিময়ে মৌখিক পরীক্ষায় পাস ও চাকুরীর নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। ৯ লাখ টাকা দিয়ে যে মানুষটি পুলিশের কনস্টেবল পদে চাকুরী নিবে সেই পুলিশের সদস্যরা শুধু ছিনতাই, স্বর্ণ ও ইয়াবা চোরাচালানই না আগামী দিনগুলোতে র্যাবের সদস্য কর্তৃক নারায়গন্জে চুক্তি ভিত্তিক ৭ খুনের মতো ভাড়ায় খুন করলে অবাক হবার কিছু থাকবে না।
একবারও কি চিন্তা করেছেন পুলিশের কনস্টবল পদে ৭/৮ হাজার টাকা বেতনে চাকুরীটির জন্য যে ছেলেটি নিজের বাপ-দাদার জমি বিক্রয় করে ৯ লাখ ঘুষ দিচ্ছে সে ঐ টাকা কি ভাবে অর্জন করবে?
ঘুষের ঐ ৯ লাখ টাকা কোথায় যাচ্ছে?
কে কত % পাচ্ছে?
আমার নিজের স্কুল থেকে পাশ করা এক বড় ভাই পুলিশের এসআই। গত ১৫ বছর ধরে বর্ডার এলাকার ৩ টা জেলার বিভিন্ন থানায় কর্মরত। অন্তত পক্ষে ১ কোটি টাকার সম্পদ অর্জন করেছে।
সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় দিনে দিনে বাড়বে বৈ কমবে না এটা হলফ করেই বলা যায় যদি না পুলিশের বিভিন্ন পদে নিয়োগে সময় ঘুষ লেন-দেন চর্চা বন্ধ করা যায়। আজ থেকে ১৫ বছর পূর্বে শুনেছিলাম দিনাজপুর জেলার হিলি থানায় পুলিশের ওসি পদে পোস্টিং এর জন্য ৭ লাখ টাকা ঘুষ দিতে হত; কনষ্টবেল পদে ১ থেকে ২ লাখ। ২০১৩ সালের ডিসেম্বর মাসে ঢাকার খিলখেত থানার ওসি পরিবারের সকল সদস্য নিয়ে আমেরিকা পালিয়ে গিয়েছিল জাল পাসপোর্ট করে। কারণ অফিসিয়াল পাসপোর্টে বিমানবন্দর অতিক্রম করা সম্ভব হতো না সরকারি অনুমতি না থাকার কারণে।
আমেরিকা পালিয়েছেন খিলক্ষেত থানার ওসি
আমরা যারা কানাডা আমেরিকায় থাকি তাদের বিভিন্ন দাওয়াতে অন্যতম আলোচিত বিষয় হলো পুলিশ অফিসার টরোন্টো ও নিউইয়র্কে কয়টা বাড়ি ও গ্যাস স্টেশন কিনেছে।
আপনি যদি ভেবে থাকেন এই সকল অপরাধের জন্য পুলিশ সদস্যরা কঠিন বিচারের মুখোমুখি হবেন তবে বোকার স্বর্গে বাস করতেছেন।
কে বিচার করবে?
পুলিশের বড় কর্তা?
তাদের সেই মনোবল ও নৈতিকতা কি আছে?
পুলিশের বড় কর্তারা কি জানে না যে পুলিশের এস আই, ওসি, কনস্টেবল কি করে?
পুলিশের বড় কর্তার বিচার করবে কে?
রাজনীতিবিদ ???
রাজনীতিবিদরা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযুক্ত সদস্যদের কি ধরনের বিচার করবে তার প্রমান নারায়গন্জে ৭ খুনের ঘটনা জানার পরেও অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তাদের অবসরকালীন পূর্ন সুযোগ সুবিধা দিয়ে অবসরে পাঠানো।

৯ লাখ টাকা ঘুষ দিয়া পুলিশের কনস্টেবলের চাকুরী নিলে ক্রস ফায়ারের ভয় দেখাইয়া বিনিয়োগ উসুল করবো নাতো আপনাকে জামাই আদর করবো?
গত ৫ বছরে বিভিন্ন অভিযোগে সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন ৬৮ হাজার পুলিশ সদস্য
পুলিশের রাজনৈতিক ব্যবহার যত দিন পর্যন্ত বন্ধ করা না হবে ততদিন পর্যন্ত বাংলাদেশের জনগণকে এভাবেই জিম্মি করে, ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করা চলতে থাকবে। কানাডায় পুলিশ কিভাবে মানুষের সেবা করে তা নিয়ে পূর্বে একটা পোষ্ট লিখেছিলাম সকলের জন্য লিংক যুক্ত করে দিলাম।
আমাদের দেশে সেই পুলিশ কবে হবে, কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে?
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে জানুয়ারি, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:২৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



