2006-এ প্রযুক্তির চেহারা কতটুকু পাল্টে যাবে বা আরো কী কী নতুন পণ্যের আবির্ভাব ঘটতে পারে তা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে গবেষণা করেছিল যুক্তরাষ্ট্রের কনজু্যমার ইলেকট্রনিক অ্যাসোসিয়েশন (সিইএ)। গত বছরের শেষ নাগাদ তারা তালিকার আসন্ন সেরা 5টি প্রযুক্তি নিয়ে 'ফাইভ টেকনোলোজি টু ওয়াচ' শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। যার সবগুলো ডিজিটাল অধ্যায়েরই বিবর্তন। সিইএ'র কর্তাব্যক্তিদের মতে, আসন্ন প্রযুক্তিগুলো ডিজিটাল বিশ্বের গতানুগতিক ধারায় হুট করেই একটি বিপ্লব ঘটিয়ে দেবে এবং একই সঙ্গে প্রযুক্তি নির্মাতাদের মোটা অংকের মুনাফাও এনে দেবে। সিইএ'র তালিকার প্রথম 5টি পণ্যের পরিচিতি দেয়া হলো-
হাই ডেফিনিশন বিনোদন
2006 এই সনি তাদের 50 গিগাবাইটের ব্লু রে ডিস্ক বাজারে ছাড়ছে। তার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামবে তোশিবার 20-30 গিগাবাইটের এইচডি-ডিভিডি। শুধু ধারণক্ষমতাই নয়, আসন্ন এ দু'টি প্রযুক্তি গান ও চলচ্চিত্রের রেজু্যলেশন বৃদ্ধির কথাও মাথায় রেখেছে। পিক্সেল যত বেশি সূক্ষ্ম হবে ভিডিও চিত্রকে তত বেশি জীবন্তও বাস্তবসম্মত মনে হবে। সেই সূক্ষ্ম ভিডিওকে ধারণ করার জন্য প্রয়োজন অধিকতর স্মৃতি। আর তাই ব্লু রে বা এইচডি-ডিভিডিই হবে 2006 সালের বিনোদনের কর্ণধার।
রোবোটিকস
এই সময়েও উন্নত বিশ্বের প্রায় সবক'টি ধনী পরিবারে গৃহপরিচারিকার কাজ করছে রোবট। গৃহস্থালি রোবট রুম্বার কথা না বললেই নয়। রান্নাঘরের মেঝে পরিষ্কার থেকে শুরু করে কাপড় ধোয়ার কাজও করছে। কিন' গুটিকয়েক শ্রেণীকে ঘিরেই প্রযুক্তির বিকাশ হতে পারে না। আর তাই কমদামে দক্ষ রোবট বানিয়ে তা মধ্যবিত্তদের ক্রয়সীমায় পেঁৗছে দেয়াটা হবে 2006-এর আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ। সনি, হোন্ডা, ফুজিৎসু ও মিৎসুবিশির মতো নির্মাতারা এখন কমদামে এমন সব রোবট তৈরিতে হাত দিয়েছে যেগুলো মানুষের সঙ্গে স্বাভাবিক কথোপকথন চালাবে এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবেই শিখবে।
ডিজিটাল হোম স্টুডিও
ডিজিটাল ক্যামেরা, অডিও প্লেয়ার, সফ্টওয়্যার, ব্রডব্যান্ড ইত্যাদি ডিজিটাল সামগ্রীর বাণিজ্যিক বিস্ফোরণে এক বছরের মধ্যেই স্বল্প আয়ের মানুষরাও তাদের বাড়িকে ডিজিটাল স্টুডিও বানাতে পারবে। আগের চেয়ে এখন অনেক সস্তাতেই ফটোগ্রাফাররা ছবি তুলতে পারছেন, সঙ্গীত পরিচালকরা মিউজিক কম্পোজ করতে পারছেন এমনকি ভিডিও মোবাইলের মাধ্যমে অনেকে প্রামাণ্যচিত্রও বানাচ্ছেন। প্রযুক্তির মূল ভিত্তিতে আমূল পরিবর্তন না আসলেও ডিজিটাল যন্ত্রপাতির সহজলভ্যতা কয়েক গুণ বেড়ে যাবে।
গেমিং
মাল্টিবিলিয়ন ডলারের গেমিং ব্যবসার ধরনে ব্যাপক পরিবর্তনের আভাস দিয়েছে সিইএ। মাইক্রোসফট, সনি ও নিন্তেন্দো এ বছরেই বেশ কিছু নতুন গেমিং ডিভাইস নিয়ে হাজির হবে। সনি ইতোমধ্যেই তাদের প্লে স্টেশন-থ্রি'র বাজারে ছাড়ার প্রস্তুতি নিয়েছে। পিসি গেমস-এর নতুন প্লাটফর্ম তৈরি করছে মাইক্রোসফট। উচ্চ রেজু্যলেশনের মুভি প্লে-ব্যাক ও অনলাইন মাল্টি-প্লেয়ার অপশনের উন্নত সংস্করণ বিনোদনে রীতিমতো রেনেসাঁ ঘটিয়ে দেবে।
হাই-টেক টেলিভিশন
এলসিডি ও প্লাজমা টেলিভিশন এখনও সাধারণের ক্রয়ক্ষমতা থেকে যথেষ্ট দূরে। তবে আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ে এগুলোর দাম প্রায় অর্ধেকে নেমে আসবে বলে সিইএ জানিয়েছে। তবে এখানেই শেষ নয়। টিভি স্ক্রিনকে কীভাবে আরো পাতলা করা যায় তা নিয়ে প্রযুক্তিবিদদের দিনরাত গবেষণা অব্যাহত আছে। ইতোমধ্যেই গবেষকরা সারফেস কনডাকশন ইলেকট্রন এমিটার (এসইডি) ও ওর্গানিক লাইট এমিটার ডায়োড (ওএলইডি) তৈরি করেছেন। শিগগিরই টিভি স্ক্রিনে এ দু'টি প্রযুক্তি নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের জন্য উঠে পড়ে লাগবে। ততদিনে নিশ্চয়ই পেন্টিয়াম ফোর-এর মতো কমবেশি সকলের কাছেই প্লাজমা ও এলসিডি টিভি সহজলভ্য হয়ে যাবে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




