রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে কালো ট্যাক্সি ক্যাব ও সিএনজি বেবীট্যাক্সিতে ছিনতাইয়ের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিদিনই যাত্রীরা এসব ছিনতাইকারীদের খপ্পরে পড়ে তাদের সর্বস্ব হারাচ্ছেন। ছিনতাইকারীরা এসব ট্যাক্সি ও সিএনজি চালকদের সঙ্গে চুক্তি করে ছিনতাই করে বলে জানা যায়। এছাড়া ছিনতাইকারীরা কখনো যাত্রীবেশে কখনো বা চালক সেজে এসব অপকর্ম করে থাকে। রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কাজ করার ফলে সব সময় এরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকে। পুলিশ ও র্যাবের নিয়মিত টহলের পরেও ছিনতাই ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় যাত্রীরা ৰোভ প্রকাশ করেছে।
বিশেষ করে রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান, বনানী, উত্তরা, বারিধারা, ধানমণ্ডি ও মিরপুর এলাকায় এসব ছিনতাইয়ের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। গত কয়েকদিনে এসব এলাকায় অহরহ ছিনতাই হলেও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এদের ধরতে পারছে না।
যাত্রীদের অভিযোগ, এসব ঘটনায় জড়িত কালো ট্যাক্সি ক্যাবের ও সিএনজির চালকরা যাত্রীদের অবস্থা বুঝে এবং গনত্দব্যস্থলের জায়গা বুঝে যাত্রীদের সঙ্গে ভাড়া চুক্তি করে। নিদির্ষ্ট জায়গায় যাওয়ার আগে এরা মোবাইল ফোনে ছিনতাইকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সিগন্যাল দেয়। সিগন্যাল পেয়ে ছিনতাইকারীরা একটি নির্জন জায়গায় আগে থেকে ওত পেতে থাকে। ক্যাব বা সিএনজি নষ্ট হয়ে গেছে অজুহাতে গাড়ি থামানোর সঙ্গে সঙ্গে ছিনতাইকারীরা বসে থাকা যাত্রীর ওপর আক্রমণ করে। অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে নগদ টাকা, মোবাইল সেটসহ মালপত্র ছিনেয়ে নিয়ে যায়।
এরা ছিনতাই কাজে আগ্নেয়াস্ত্রসহ খেলনার পিসত্দল, গুড়া মরিচ, মলম জাতীয় দ্রব্য ব্যবহার করে থাকে। বাসের সংকটপূর্ণ এলাকায় এবং রাতে এরা যাত্রীদের ছিনতাইয়ের জালে ফেলার অপেৰায় থাকে। বিমান বন্দর এলাকায় এদের দৌরাত্ম সবচেয়ে বেশি বলে জানা যায়। বিদেশ ফেরত যাত্রীরা এদের খপ্পরে পড়ে সর্বস্ব খুইয়ে বাড়ি ফেরে। অনেকে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে ছুরিকাঘাতসহ বিভিন্নভাবে আহত হয়েছে।
এছাড়া অনেক ছিনতাইকারী নিজে চালক সেজে যাত্রীদের সুবিধামতো একটি নির্জন জায়গায় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে কিংবা চোখে মলম দিয়ে সবকিছু ছিনিয়ে যাত্রীকে রাসত্দায় নামিয়ে চম্পট দেয়। এসব চালকদের অধিকাংশই ক্যাব ও সিএনজির নির্ধারিত পোশাক ব্যবহার করে না। তাদের ক্যাবের মিটারও বেশির ভাগ সময়ে অকেজো থাকে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী পুলিশ ও র্যাবের চেয়ে এদের সিন্ডিকেট শক্তিশালী বলে এরা সব সময় ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকে।
সৌজন্যে: দৈনিক ইত্তেফাক
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




