ছোট বেলায় যখন ঘুড়ি ওড়াতাম, তখন ঘুড়ি কাটাকাটি খেলতাম। চুর, শিরিষের মাঞ্জা দেয়া ধারালো সুতা নাটাই-এ পেঁচিয়ে আরেক ঘুড়ির সাথে কাটাকাটি খেলার সময শিখেছিলাম, কি করে সুতোয় ঢিল দিয়ে যেতে হয় এবং নাটাই যখন প্রায় সুতোহীন হয়ে পরে ঠিক তখনই অন্য ঘুড়ির সাথে পেঁচিয়ে দিতে হয় জোর টান-এমন টান যে, টানের চোটে ঘুড়ি না কেটে মাঝে মাঝে নিজের কাছেই চলে আসত!! শেষ হয়ে যেত ঐ ঘুড়ির আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন!
লন্ডন স্কুল অফ অডিও ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং-এ গ্র্যাজুয়েট হাবিব-কে এখন দেশের কে না চেনে? টি.ভি. কমার্সিয়ালের জিঙ্গেল থেকে শুরু করে নুতন বেসরকারী চ্যানেলগুলোর থীম সঙ্গীত বানানোর মহান দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে তার উপর! এ ছাড়া তার 3 টি অ্যলবাম-এর সাফল্যের কথা নাই বা বললাম। পিতার পরিচয় তাকে ফেমাস হতে সাহায্য না করলেও, কিছুটা ইনফ্লুয়েন্স তো করেছে বটেই-দোষের কিছু না। ডেইলি স্টার উইকএন্ড ম্যাগাজিনে অনেক আগে হাবিব-এর একটি ইন্টারভিও আমি পড়ি। " আই প্লান টু ট্যুর দ্যা কানট্রি সারচিং ফর ফ্রেশ, নিউ ভয়েজেস"- এই ছিল 2003 সালে হাবিব-এর কথা; এখন যদিও দেশের সবচেয়ে উঁচু দালানটির মতই আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্নে ব্যাস্ত হাবিব- সুতোহীন নাটাই-এর মত!
তবে এই নাটাই-এ টান দিয়ে, "ঘুড়ির" আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন শেষ করতে আসছে বাংলাদেশের আরেক মিউজিক ট্যালেন্ট নিউইয়র্ক প্রবাসী ফুয়াদ। মায়া, ক্রান্তি, রি-ইভ্যালুয়েশন অ্যলবামগুলো দিয়ে ফুয়াদ-এর প্রতিভার সামান্যই প্রকাশ পায়, বোঝা যায় কি কাজ করা সম্ভব তাকে দিয়ে। খবর পেলাম, ফুয়াদ নাকি ঢাকায় এসে কাজ করবেন এখন থেকে। দেখা যাক কি ঘটে।
দেশের মানুষ গতানুগতিক বাংলা গান শোনার উৎসাহ হারিয়ে ফেলছিল আর তাই নাকি রি-মিঙ্ করে পুরানো গান নুতন জেনারেশনের কাছে গ্রহনযোগ্য করে তুলিয়ে বাংলা গান-এর প্রতি আকর্ষণ ফিরিয়ে আনানোই ছিল হাবিব-এর মূল ইচ্ছা ও প্রচেষ্টা। পাবলিক খেয়েছেও বটে মাশাআল্লাহ! বাংগালী বলে কথা! হাবিব নাকি এটাও মনে করেন যে, কোন মিউজিসিয়ান যত বড়ই প্রতিভার অধিকারি হন না কেন "টেকনোলজি"-র ব্যবহার ছাড়া নাকি ঐ প্রতিভার সঠিক প্রকাশ ঘটা কখনই সম্ভব না!! মোজার্ট, বিটোফেন, চপিন, শুবার্ট কোন "টেকনোলজি" ব্যবহার করে তাঁদের প্রতিভার এত বড় বিকাশ ঘটিয়েছিলেন তা আমার বোধগম্য হল না! নাকি হাবিব নিজেকে মোজার্ট, বিটোফেন-দের চাইতেও বড় কিছু ভাবা শুরু করে দিয়েছেন? বিপদ!
ফুয়াদের আগমনে ঐ "ঘুড়ির" কাটাকাটি খেলাটা কেমন জমে উঠবে বলুন তো পাঠক?
কৃতজ্ঞতা স্বীকার: দি ডেইলি স্টার।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


