somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্মৃতিচারণঃ ক্যাসেট প্লেয়ার

০২ রা জানুয়ারি, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমরা ভাই-বোন সবাই ছিলাম গান পাগল। বাবা সেই আমলে সরকারী জেলা কর্মকর্তা হলেও আমাদের ছিল বড় পরিবার, তাই সকল আবদার তিনি রাখতে পারতেননা। ছোট থেকেই আমরা তিন ব্যান্ডের রেডিওতে গান শুনে বড় হয়েছি।
নিজের পছন্দের গান (সংগ্রহ করে) শুনার জন্য পাড়া প্রতিবেশী অনেকেই কিনে ফেললেন অডিও ক্যাসেট প্লেয়ার। আমাদের নিজেদের ক্যাসেট প্লেয়ারের জন্য অপেক্ষা করতে হলো সিঙ্গাপুর প্রবাসি ভাইয়ের ছুটিতে আসা পর্যন্ত। আমাদের সে কি আনন্দ, ইন্ডিয়ান বাংলা,হিন্দি ও গজল শুনে আমরা ভাই বোনেরা সারা বেলা বিভোর হয়ে থাকতাম। এটা ছিল আশি দশকের গোড়ায়, যখন ভোজপুরী গান “ ক্যায়সে বানী - ক্যায়সে বানী” বা মেরে অঙ্গনে মেঁ তুমহারা কেয়া কাম হ্যায়-লাওয়ারিশ সিনেমার গানগুলি মাঠ ঘাট গরম করে রাখতো।
আমরাই হয়তো বেশী ভাগ্যবান যারা বিজ্ঞানের অনেক কিছু দেখতে পেয়েছি। আমাদের বাপ দাদার আমলে ছিল কলের গান বা গ্রামোফোন তারপর এলো ক্যাসেট প্লেয়ার/রেকর্ডার,ওয়াকম্যান, সিডি,ফ্লাস মেমরি আর এখন মোবাইল ফোনেই চলছে গান শুনা।
এখনকার আমলে গান শুনতে আর বেগ পেতে হয়না,পয়সাও খরচ হয়না।কিন্তু ক্যাসেট প্লেয়ারের জন্য আমাদেরকে মার্কেট থেকে পছন্দের শিল্পীর গানের ক্যাসেট বা পছন্দের গানগুলি সিলেক্ট করে অর্ডার দিয়ে আসতাম।
কিছুদিন পর ক্যাসেটে ফিতা আটকে যেতো, আমরা পেন্সিল দিয়ে ঘুরিয়ে চালু করে দিতাম।এছাড়া বৃস্টির দিনে ফিতা ড্যাম হয়ে যেতো। ভাবতে অবাক লাগে আমরা কতো কষ্ট গান শুনেছি।
কিন্তু এই ক্যাসেট চালূ হবার জন্যই বলা যায় আমরা ভারতীয় গানের একচেটিয়া আধিপত্য থেকে রেহাই পেয়েছিলাম। আমরা এখন আর পুজোর গানের জন্য অপেক্ষা করিনা।ক্যাসেট সস্তা ও সহজলভ্যের কারনে আমাদের দেশেই গড়ে উঠেছিল নুতন নুতন রেকর্ডিং স্টুডিও।আমরা পেয়ে যাই গ্রামগঞ্জের গায়ক-বয়াতির গানের ক্যাসেট।
যারা এই বাংলার সঙ্গিতকে ক্যাসেটের যুগে জনপ্রিয়তা এনে দিয়েছিল যা আজও রয়ে গিয়েছে তাদের কয়েকজনের নাম না নিলেই নয়।
সোলস,মাইলস সহ একডজন ব্যান্ডদল,কুদ্দুস বয়াতি,মুজিব পরদেশী,মমতাজ, কাঙ্গালিনী সুফিয়া,জুয়েল, শুভ্রদেব, আসিফ,মনিরখানসহ আরো অনেকে।
সবশেষে একটি ঘটনা বলি।তখন ইংরেজিগান শুনতাম বনিএম,বিজিজ,ডূরান ডুরান ইত্যাদি।
দোকানের লোকটা বেশ জোর করেই একটা ক্যাসেট ধড়িয়ে দিয়ে বললো এটা ঈদের দিনে ভাল চলবে।বাসায় গিয়ে ঈদের দিন সকালে ফুল ভলিঊমে বাজালাম।মাইকেল জ্যাকসনের প্রথম ক্যাসেট ছিল।
এলাকায় আমিই হিরো ।


গান শুনছি :)


কিছু ছবি নেট থেকে সংগ্রীত
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে ডিসেম্বর, ২০২০ বিকাল ৩:২৮
১৭টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নস্টালজিক

লিখেছেন সামিয়া, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৩:৩৩



আমার ঘরটা এখন আর আগের মতো লাগে না। দরজার লক নষ্ট, বন্ধ করলেও পুরোপুরি বন্ধ হয় না, আধখোলা হয়ে থাকে। বুকশেলফে ধুলো জমে আছে, ড্রেসিং টেবিলের পর্দাটা এলোমেলোভাবে ঝুলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বপ্ন যখন মাঝপথে থেমে যায়: ঢাকার জলপথ ও এক থমকে যাওয়া সম্ভাবনার গল্প

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৮:২৫

ঢাকার যানজট নিয়ে আমরা অভিযোগ করি না এমন দিন বোধহয় ক্যালেন্ডারে খুঁজে পাওয়া যাবে না। অথচ এই যানজট নিরসনের চাবিকাঠি আমাদের হাতের নাগালেই ছিল—আমাদের নদীগুলো। সম্প্রতি বিআইডব্লিউটিএ ঘোষণা করেছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

কেন আমি ইরানের বিরুদ্ধে-২

লিখেছেন অর্ক, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:১৪



ইরান বিশ্বসভ্যতার জন্য এক অভিশাপ, এক কলঙ্ক। কাঠমোল্লারা ক্ষমতা পেলে একটি রাষ্ট্রের যে কি পরিণতি হয়, তার জ্বাজ্জল্যমান উদাহরণ ইরান। সম্পূর্ণরূপে অসভ্য বর্বর অসুস্থ রাষ্ট্র গড়ে উঠেছে সেখানে। যেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাগাভাগি

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৭

ভাগাভাগি
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

এলাকায় এক ইফতার মাহফিল-এ
দাওয়াত পাই আর যথাসময় চলে যাই।
অনেক মানুষ পড়ছে দোয়া দুরুদ
ঘনিয়ে আসছে রোজা ভাঙার সময়।

তখন সবার সামনে বিলিয়ে দিচ্ছে বিরিয়ানি
আমার ভাবনা- হয়ত কেউ ভাবছে
যদি একসাথে খাওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৩ এ ওয়াকআউট করেছিলেন, ২০২৬ এ তিনিই ঢাবির ভিসি ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২২


২০২৩ সাল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সভা চলছে। একজন শিক্ষক দাঁড়িয়ে বললেন, হলগুলোতে ছাত্রলীগের গেস্টরুম নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। কথাটা শেষ হতে না হতেই তৎকালীন ভিসি জবাব দিলেন, "গেস্টরুম কালচার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×