somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মোঃমোজাম হক
তিন দশক যাবত মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবে প্রবাসী। nতবুও আমি বাংলায় গান গাই

স্মৃতিচারণঃ ক্যাসেট প্লেয়ার

০২ রা জানুয়ারি, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমরা ভাই-বোন সবাই ছিলাম গান পাগল। বাবা সেই আমলে সরকারী জেলা কর্মকর্তা হলেও আমাদের ছিল বড় পরিবার, তাই সকল আবদার তিনি রাখতে পারতেননা। ছোট থেকেই আমরা তিন ব্যান্ডের রেডিওতে গান শুনে বড় হয়েছি।
নিজের পছন্দের গান (সংগ্রহ করে) শুনার জন্য পাড়া প্রতিবেশী অনেকেই কিনে ফেললেন অডিও ক্যাসেট প্লেয়ার। আমাদের নিজেদের ক্যাসেট প্লেয়ারের জন্য অপেক্ষা করতে হলো সিঙ্গাপুর প্রবাসি ভাইয়ের ছুটিতে আসা পর্যন্ত। আমাদের সে কি আনন্দ, ইন্ডিয়ান বাংলা,হিন্দি ও গজল শুনে আমরা ভাই বোনেরা সারা বেলা বিভোর হয়ে থাকতাম। এটা ছিল আশি দশকের গোড়ায়, যখন ভোজপুরী গান “ ক্যায়সে বানী - ক্যায়সে বানী” বা মেরে অঙ্গনে মেঁ তুমহারা কেয়া কাম হ্যায়-লাওয়ারিশ সিনেমার গানগুলি মাঠ ঘাট গরম করে রাখতো।
আমরাই হয়তো বেশী ভাগ্যবান যারা বিজ্ঞানের অনেক কিছু দেখতে পেয়েছি। আমাদের বাপ দাদার আমলে ছিল কলের গান বা গ্রামোফোন তারপর এলো ক্যাসেট প্লেয়ার/রেকর্ডার,ওয়াকম্যান, সিডি,ফ্লাস মেমরি আর এখন মোবাইল ফোনেই চলছে গান শুনা।
এখনকার আমলে গান শুনতে আর বেগ পেতে হয়না,পয়সাও খরচ হয়না।কিন্তু ক্যাসেট প্লেয়ারের জন্য আমাদেরকে মার্কেট থেকে পছন্দের শিল্পীর গানের ক্যাসেট বা পছন্দের গানগুলি সিলেক্ট করে অর্ডার দিয়ে আসতাম।
কিছুদিন পর ক্যাসেটে ফিতা আটকে যেতো, আমরা পেন্সিল দিয়ে ঘুরিয়ে চালু করে দিতাম।এছাড়া বৃস্টির দিনে ফিতা ড্যাম হয়ে যেতো। ভাবতে অবাক লাগে আমরা কতো কষ্ট গান শুনেছি।
কিন্তু এই ক্যাসেট চালূ হবার জন্যই বলা যায় আমরা ভারতীয় গানের একচেটিয়া আধিপত্য থেকে রেহাই পেয়েছিলাম। আমরা এখন আর পুজোর গানের জন্য অপেক্ষা করিনা।ক্যাসেট সস্তা ও সহজলভ্যের কারনে আমাদের দেশেই গড়ে উঠেছিল নুতন নুতন রেকর্ডিং স্টুডিও।আমরা পেয়ে যাই গ্রামগঞ্জের গায়ক-বয়াতির গানের ক্যাসেট।
যারা এই বাংলার সঙ্গিতকে ক্যাসেটের যুগে জনপ্রিয়তা এনে দিয়েছিল যা আজও রয়ে গিয়েছে তাদের কয়েকজনের নাম না নিলেই নয়।
সোলস,মাইলস সহ একডজন ব্যান্ডদল,কুদ্দুস বয়াতি,মুজিব পরদেশী,মমতাজ, কাঙ্গালিনী সুফিয়া,জুয়েল, শুভ্রদেব, আসিফ,মনিরখানসহ আরো অনেকে।
সবশেষে একটি ঘটনা বলি।তখন ইংরেজিগান শুনতাম বনিএম,বিজিজ,ডূরান ডুরান ইত্যাদি।
দোকানের লোকটা বেশ জোর করেই একটা ক্যাসেট ধড়িয়ে দিয়ে বললো এটা ঈদের দিনে ভাল চলবে।বাসায় গিয়ে ঈদের দিন সকালে ফুল ভলিঊমে বাজালাম।মাইকেল জ্যাকসনের প্রথম ক্যাসেট ছিল।
এলাকায় আমিই হিরো ।


গান শুনছি :)


কিছু ছবি নেট থেকে সংগ্রীত
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে ডিসেম্বর, ২০২০ বিকাল ৩:২৮
১৭টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

স্বর্গময়

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৫ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৫৩


ওরা জান্নাত দেখে না
পুড়তে পুড়েই তো ছাই-
কতখানি জান্নাত দেখো
ঘরের ভিতর আছি কি?
নাকি মাটিতে থাক ঘুম;
যতক্ষুণ আছো নিঃশ্বাস
ততক্ষুণ জান্নাত দেখো
পরিবারে কিংবা চারপাশ!
পরকাল কে দেখে শান্তিময়
এখানে রচনা করো স্বর্গময়;

১৫-৬-২৬ ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ‘র’-এর কৌশল, প্রভাব ও গুপ্তচরবৃত্তির প্রকৃতি , পর্ব ০১

লিখেছেন মেহেদী আনোয়ার, ১৫ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৭

'র'-এর গুপ্তচরবৃত্তির প্রকৃতি সম্পর্কে আলোচনা করার পূর্বে স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন ও তৎপরবর্তী পরিচালিত কয়েক ধরনের স্ট্র্যাটেজি ও বাংলাদেশ বিরোধী তৎপরতার বিবরণ দেয়া প্রয়োজন । ১৯৬৮ সালে 'র' গঠিত হয়েছিল মূলত বৈদেশিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবনের গল্প- ১০১

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৫ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৫০



১। একজন মা (কোহিনূর) সারারাত ঘরের দরজা খুলে বসে থাকেন।
কারণ কেউ একজন এসে তাকে বস্তা ভরতি টাকা দিয়ে যাবে। গতকাল রাতের কথা। আমার বাসায় ফিরতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৬ জুনের বিশ্বকাপ কড়চা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:২৩

দারুণ একটা ম্যাচ হয়ে গেলো একটু আগে। মিসর দারুণ খেলেছে আজ। সালাহ নেমে যাওয়ার পরে তাদের খেলার ধার বেশ বেড়ে গিয়েছিলো বলে মনে হলো! কিন্তু, বেলজিয়ামের ফরোয়ার্ডদের পাসিং আর ড্রিবলিং... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমন্ত্রন পত্র থাকলে ভিসার দরকার কী! আপনি জানেন আমি কে?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ১৬ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০০



ভারত বাংলাদেশের কোনো একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ জানাতে চাইলে সেই আমন্ত্রণপত্র ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ হাইকমিশনে পাঠাবে। সেখান থেকে আমন্ত্রণপত্র যাবে সেই রাজনৈতিক ব্যক্তির ডিপার্টমেন্টে, তারপর তার কাছে। এরপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×