somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গভীর রাতের কিছু আমি

১১ ই অক্টোবর, ২০১৪ রাত ২:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এই শীতের মাঝে একটা পাতলা টি শার্ট পরে বসে আছি । গায়ে ঠান্ডা লাগছে । গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠছে কিছুক্ষণ পরপর । ইচ্ছে করে লাগাচ্ছি । বড় কোন লেখক হলে সুন্দর কোন উপমা দিতেন এই ব্যাপারটাতে । আমি সোজাসুজিই বলি- কিছু কষ্ট থাকে তাদের এড়াতে অন্যকোন কষ্টকে আকড়ে ধরতে হয় আমিও তাই করছি , ঠান্ডা লাগাচ্ছি । ফলাফল হাতে হাতে, মাথাটা অনেকদিন পর হালকা হালকা লাগছে । কাজ নেই , কোন তাড়া নেই । সব ব্যস্ততাকে বাইবাই বলেছি অনেকদিন হল । না , কথাটা ভুল বললাম । কোন দিন আমি ব্যস্ত কেউ ছিলাম না । মানুষ কত ব্যস্ত । আমি মানুষ থেকে দূরে সরে যাচ্ছি । না অমানুষ হচ্ছি তা না , "মানুষের মত মানুষ" বলে একটা কথা আছে সেই কথার "মানুষ" টাকে বুঝাচ্ছি । আমার চারপাশে সব "মানুষ" এর ছড়াছড়ি , সবাই কত ব্যস্ত , কত টেনশন তাদের ! সবাই ভবিষ্যৎ বুনতে ব্যস্ত । একটা বিষয় আমি সবসময় এমন মানুষগুলোর কাছে পাই । সেটা আর কিছুই না "স্বার্থপরতা" র কথা বলছি । আমিও হতে চাই কিন্তু তাদের মত স্বার্থপরতাকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারি না । আমার জীবনের ব্যর্থতা গুলোর মাঝে এইটা একটা । মনোবিজ্ঞানের বিষয়ের মাঝে এই স্বার্থপরতাও পড়ে । SSC পরীক্ষার পর যখন আমার বিভাগের সবাই ম্যাথ প্রাইভেট , ক্যামিস্ট্রি প্রাইভেটে দৌড়তে ব্যস্ত তখন আমি নাকের উপর চশমা বসিয়ে শুয়ে শুয়ে মনোবিজ্ঞান বই পড়ছি । জীবন বাঁচাতে পড়ছিলাম , মানুষ হতে পড়ছিলাম । কোন মানুষ? ব্যস্ত মানুষ গুলোর দলে যেতে । কারণ আমার বয়সী সবাই জীবনকে ভালই চিনেছে , জেনেছে সমাজ কেমন , সবাই তখন জানে রিকশাঅলাকে লাই দিতে নাই , বন্ধুদের কারণে অকারণে ঠকালে কিছু হয় না , কথা না রাখা তেমন কোন বড় ব্যাপার না , ধনী বলে একটা আলাদা সমাজের একদল মানুষ আছে , আবার গরীব বলেও একটা আলাদা সমাজের একদল মানুষ আছে , প্রতিপদে নিজের স্বার্থকে জয়ী রাখতে হয় , কিভাবে টিকে থাকতে , কাকে কতটুকু ভালবাসতে হয় , কতটুকু দূরে ঠেলতে হয় , কার সাথে কথা বলতে গেলে গলায় মধু ঢালতে হয় , কার সাথে উঁচু ভাষায় কথা বলতে হয় এরকম আরও অনেক কিছু । তখন আমি সবার সাথে মিশতে গিয়ে দেখি কিছুই জানি না ! এমনকি কথা বলতে পর্যন্ত জানিনা ! তাই সমাধান হিসেবে কিনলাম মনোবিজ্ঞানের বই । পড়লাম । কিছু জ্ঞান বাড়ল ঠিকি কিন্তু কই স্বার্থপর হওয়া তো হল না , কথা বলা তো শিখলাম না, "ওদের" মত তো হলাম না ! আমার একটা "সময়"এর "গল্প" বলি তাহলে। গল্পের সেই সময়টায় ছিল খুব গরম । দিনের বেলায় কড়া রোদ । রাতের বেলায় ভ্যাপসা গরম । কিন্তু বায়ু স্থির । গরম থেকে বাঁচতে খালি গা হয়ে থাকি সবসময় তখন । বাতাস দরকার আমার । ঠান্ডা বাতাস । প্রাণ জুড়ানো ঠান্ডা বাতাস চাই । এদিকে খুজি নাই , ওদিকে খুজি নাই । একদিন এক দমকা বাতাস হঠাৎ ছুঁয়ে যায় । সবাই বলে এটা নদীর বাতাস , সেখান থেকে আসছে তাই ঠান্ডা কিন্তু সেখানে যেতে নেই , নদীর কথা বিশ্বাস করতে নেই , বাতাস খেতে যারাই গিয়েছে সবাই চরে ডুবেছে না হয় পথ হারিয়ে আর ফিরে আসতে পারেনি , আবার কেউ কেউ নদী ভাঙনে ডুবে মরেছে । আমি তখন পাগল । এত বড় সুযোগ কেউ হাতছাড়া করে ! আমি নদীর কাছে চলে যাই । আজলা ভরে পানি নিয়ে গায়ে দেই । শরীর শীতল হয় । নদীকে বলি হে তরঙ্গিণী তুমি কি আমায় ডোবাবে ? নদী বলে তোমার মত পাগলকে ডোবালে আমার বাতাস কার গায়ে বয়ে যাবে ? আমার জল কার গা শীতল করবে ? তুমি নিশ্চিন্ত থাকো ডোবাবো না । আমি নিশ্চিন্ত হই , আমার মনোবিজ্ঞান বইটাকে আকড়ে ধরি । নদী বলে কিন্তু তুমিতো বাতাস খেয়েই "স্বার্থপর" এর মত তোমার অট্টালিকায় চলে যাবে আমার কি হবে তখন ? আমি আমার সুন্দর ছিমছাম অট্টালিকাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নদীর পাড়ে আমার বাড়ি বানিয়ে প্রমাণ করি যে সেখান ছেড়ে আর কোথাও যাবো না । এইটাই তো জীবন চেয়েছিলাম , কত বাতাস আমার , কত জল আমার ! আমার সকল জ্ঞান আজ সিদ্ধ । এই বহমান নদী আমার ধ্যান জ্ঞান হয়ে যায় । একসময় এই নদী তার কথা রাখে না , তার পথ বদলানোর দরকার হয় , পথ বদলায় সে । আমি ডুবে গেলাম কি ভেসে গেলাম সেদিকে তার খেয়াল নেই । আমি কখন বাড়িঘর সহ নদীর ভাঙনে ডুবি মনে নাই । হয়ত ঘুমা্চ্ছিলাম সেই সময় । জ্ঞান হবার পর বুঝি পৃথিবীর "স্বার্থপরতা" নামক শব্দটি আমার সব সর্বনাশ করে দিয়ে চলে গেছে । আমার সব ভেঙে চুরে সর্বস্ব নিয়ে চলে গেছে । বুঝি "স্বার্থপর" না হাওয়া কত বড় বোকামী । বুঝি ভাল হবার কত যন্ত্রণা । সব গেল আমার । যন্ত্রণা কাটাতে নিজেকে গালি দেই । যন্ত্রণা কাটে না । এখন "আপন" করার ব্যাথা কমাতে কখনও কাঁটার ঝোপে ঝাপ দেই , কখনও চুলোর আগুনে শরীর পোড়াই , কখনও এই এখনকার মত একটা পাতলা টি শার্ট পরে বসে থাকি । গায়ে ঠান্ডা লাগাই । ঠান্ডায় গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে কিছুক্ষণ পরপর । হারিয়ে ফেলার যন্ত্রণা কিছু কমে, গল্প কিছুক্ষণের জন্য শেষ হয় ।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তাসের ঘর বনাম বাস্তব হিসাব

লিখেছেন মোবারক, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:২০

পরিবারে বড় ভাই হওয়া মানেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ত্যাগী বা মহান হয়ে যাওয়া নয়। আমাদের সমাজে একটি অলিখিত নিয়ম রয়েছে যে, পরিবারের প্রথম সন্তান মানেই তিনি অনেক ত্যাগ করবেন এবং ভাইবোনদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শাহজালাল রুমি দেশ ছেড়েছেন কার ভয়ে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০৮


থাপ্পড়-কাণ্ডের পর দেশ ছেড়েছেন শাহজালাল রুমি। টঙ্গীতে নিজের মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদ করাই যেন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে তাঁর জন্য। গণমাধ্যমের সামনে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি, ব্যক্তিগত বার্তায় ভয়ভীতি প্রদর্শন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

কিছুই হচ্ছে না

লিখেছেন মুহাম্মদ তমাল, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০৪



কিছুই হচ্ছে না, আবার সবকিছুই হয়ে যাচ্ছে। এই যে বয়সটা পা টিপে টিপে এসে ঘাড়ের কাছে দাঁড়ায়, টেরই পাই না। আয়নার সামনে দাঁড়াইলে একজন অচেনা লোক তাকায়, চোখের নিচে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগের ওসমান হাদী সৈয়দ মশিউর রহমানের ব্যান

লিখেছেন এল গ্যাস্ত্রিকো ডি প্রবলেমো, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৫০

এ আমি কী দেখলাম! ব্লগের প্রতিবাদী মুখ, ভারতের যম, ওসমান হাদীর মুখপাত্র, একাত্তরকা গণ্ডগোলের ব্যাপারে সচেতন মুখ সৈয়দ মশিউর রহমানের ব্লগটি স্থগিত অথবা বাতিল করা হয়েছে। দেশে যখন সামান্য চুমু... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসার মোল্লা হুজুর থেকে আপনার সন্তানকে নিরাপদ রাখুন

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০৭

গতকাল রাতে একটা বাচ্চার পা**র ছবি দেখেছিলাম ফেইসবুকে, অনেকেই শেয়ার করেছেন। পা কেটে হাসপাতালে আসার পর ডাক্তার সাপোজিটরি দিতে গিয়ে দেখে গর্তের মতো হয়ে গেছে। মাদ্রাসার হুজুরে বিকৃত কাজ করতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×