somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

"প্রোপজ" করার আগে

১৪ ই জুলাই, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমাদের দেশে মানব মানবীর যে প্রণয়ের সম্পর্কগুলো হয় তার শুরুটা হয় 'ভালবাসি' বলা দিয়ে এবং সাধারণত এই শুরুর অংশটিকে প্রোপজ হিসেবে ধরা হয়। উন্নত বিশ্বের দেশগুলোর ক্ষেত্রে এই "ভালবাসি" বলাই প্রোপজ হয়ে যায় না। সেখানে প্রোপজে আরও কিছু আনুষ্ঠানিকতা থাকে। বিয়ে করার মনস্থির করলে ছেলেটি একটি আংটি মেয়েটির সামনে রেখে হাটু গেড়ে “will you marry me?” বলে বিয়ের সম্মতি চায়। এটাই মূলত তাদের প্রোপজ।

তাই সহজ ভাবে ধরলে ইউরোপ অামেরিকানদের প্রোপজ আর বাংলাদেশিদের প্রোপজ এক না। তবে মজার ব্যাপার হল একে বারে যে ভিন্ন তাও নয়।

ইউরোপ অ্যামেরিকান জুটিগুলো রিলেশন করে ঠিকই কিন্তু তারা যে বিয়ে করবেই এমন কোন কিছু ভাবে না প্রথমে।
বাংলাদেশে যারা রিলেশন করে বেশিভাগই মনে প্রাণে বিশ্বাস করে এই সঙ্গীর সাথেই তাদের বিয়ে হবে। তাই রিলেশনে জড়ানোর প্রথম দিন যখন একজন আরেকজনকে 'ভালবাসি' বলে সেটাকে একরকম বিয়ের চুক্তি হিসেবে দেখা হয়।

কিন্তু এই অল্প দেখাতে ভালো লাগার মাধ্যমে বিয়ের সিদ্ধান্তের প্রাথমিক ধাপে চলে যাওয়া যে কোন মতেই সঠিক সিদ্ধান্ত নয় তা তারা বুঝতে চায় না। বাকি জীবনটুকু একসাথে থাকতে হলে নিজেদের মধ্যে জানা শোনা থাকা খুবই দরকার।

এখানে ইউরোপ আমেরিকার এই দিকটা ভাল এবং যুক্তিযুক্ত যে রিলেশন মানেই বিয়ে না, বাকি জীবন একসাথে থাকা না। রিলেশনের মাঝে তারা একজন আরেকজনের কাছে আসে, একজন আরেকজনকে অনেক সময় নিয়ে বোঝে, ঘন্টার পর ঘন্টা একে অপরের সাথে সময় কাটায়, অনেক সময় পায় তারা তাদের সম্পর্ক নিয়ে ভাবার।

বেশির ভাগ সময় বাংলাদেশের ছেলেরা ১৭/১৮ বছর বয়সের উঠতি মেয়েদের রূপ-যৌবন-কথার মোহে পড়ে 'ক্রাশ' খেয়ে ফেলে। রিলেশন হয়ে গেলে মেয়েটাকে নিয়ে মানিয়ে চলার চেষ্টা করে। মানিয়ে চলা এত সোজা হয় না। অনেকসময় মানিয়ে চলার মাঝেই ঝগড়া বিবাদসহ বিভিন্ন কারণে ডিপ্রেশনে ভুগতে হয় তাদের। সম্পর্কের ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তায় থাকে অনেক ছেলে।

এদিকে মেয়েদের অবস্থা আরও করুণ কারণ তারা হুট করে প্রোপজ পায়। প্রোপজ কোন মুহূর্তে আসবে জানে না। প্রোপজ পাবার পর অনেক ভেবে চিন্তে রাজি হয়। এখানে তারা সাধারণ যা যা মাথায় রাখে-
ছেলেটা ফিউচার কি? ছেলেটার উচ্চতা কত, হ্যান্ডসাম কতটুকু,তার অতীতের কি অবস্থা? ছেলেটার ফ্যামিলি ব্যাকগ্রাউন্ড কেমন? তার সাথে ছেলেটার যায় কিনা? সমাজ মেনে নিবে কিনা? বাবা মা কি মেনে নেবে? বন্ধু, ভাই বোনদের সামনে ছোট হতে হবে নাতো। এমন আরও অনেক কিছু আছে যা অল্পসময়ের মাঝেই সমাধান করতে হয় মেয়েদেরকে। কিন্তু জীবনের অনেকটা পথ পাড়ি দেয়ার জন্যে এতো বড় বড় সিদ্ধান্ত গুলোর ক্ষেত্রে যে অনেক সময় নিয়ে ভাবা দরকার, ছেলেটার সাথে মেশা দরকার তার জন্যে খুব ভালো যথেষ্ঠ সময়, সুযোগ,পরিবেশ কোনটাই পাবার সুযোগ থাকে না।এদিকে বাস্তব ক্ষেত্রে দেখা যায়, জীবন পরিস্থিতি দিয়ে চলে, অংকের ফলাফলের মত সবসময় একই থাকে না। তাই অনেক ভেবে চিন্তে নেয়া সিদ্ধান্তও কখনও ভুল সিদ্ধান্তে পরিণত হয়।

ব্রেকআপ বাংলাদেশের মত ইউরোপ আমেরিকাতেও হয়। কিন্তু ইউরোপ আমেরিকানদের রিলেশনে কমিটমেন্ট খুব একটা থাকে না। যা থাকে তা হল ভালবাসা এবং বিশ্বাস।
কিন্তু বাংলাদেশে ব্রেকআপগুলোতে ভালবাসা এবং বিশ্বাসের সাথে সাথে অনেক স্বপ্নেরও কবর দিতে হয়। স্বপ্নগুলো- যেমন তারা বিয়ের পর কি কি করবে তার প্লান, ছেলে মেয়ের কি নাম রাখবে, ফ্যামিলিতে কিভাবে কিভাবে মানিয়ে নেবে, এক বাসায় থাকবে নাকি আলাদা বাসায় থাকবে এসব।
এতসব স্বপ্ন এবং স্বপ্নকে ঘিরে থাকা স্মৃতিকে মাটি চাপা দেয়া খুব কষ্টের হয়। ত

প্রোপজ দুই ভূখন্ডেই বিয়ের অনুমতি পত্র হিসেবে কাজ করে। সার্বিক পরিস্থিতি বিচার করলে আমাদের দেশে ভালবাসি বলা মানেই বিয়ের অনুমতি দিয়ে দেয়া এই রীতিকে পরিবর্তনের সময় এসে গেছে। সবার আগে একে অন্যকে বোঝা উচিৎ। সময় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিৎ। তবেই আমাদের দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েনগুলো অনেকাংশে দূর হতে পারে।

একটা মেয়েকে প্রপোজ করে বা একটা ছেলেকে প্রপোজ করে সারাজীবনের জন্যে সন্ধি পত্রে আবদ্ধ করার অভিসন্ধির অর্থ এটা হয় যেন বাকি জীবন তোমার সাথে কাটাতে চাই এবং সিদ্ধান্তটায় আমি সবদিক থেকে প্রস্তুত।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জুলাই, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:৪১
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিয়োগের রূপকথা

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৩



মা বরাবরই পাতে ভাত কম নিতো , বলতো- ভাতে না-কি  বাত বাড়ে।
বিশেষ বিশেষ দিনে বাড়ি পোষা মোরগের ঝোল কিংবা রুই মাছের তরকারীর সবটুকু  আমাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

দৃষ্টিকটু পোশাক ও দৃষ্টিকটু আচরণ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪



আপডেট - হাফপেন্ট আন্দোলন: ৩০/০৯/২০২৬
হাফপেন্ট পরে মেট্রো ট্রেন ও বাসে চলাচল বাংলাদেশের একটি নাগরিক চাহিদা হতে পারে। যেহেতু সমস্যা মেট্রোতে হয়েছে, আমি ধারণা করেছি বাংলাদেশে ফেসবুকে “হাফপেন্ট আন্দোলন” হওয়ার সম্ভবনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

কঠিনতম সব চ্যালেঞ্জের মুখে বিএনপির ভবিষ্যৎ কি অন্ধকার??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:১০



বিএনপির সামনে অনেক কঠিন সব চ্যালেঞ্জ...

তাদের মোকাবেলা করতে হচ্ছে দ্বিমুখী বিরোধী-দলীয় রাজনীতি বা কর্মকাণ্ড (যেটা কিনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে আগে কখনো দেখা যায়নি)।

জামাত-এনসিপি যতই লীগের ফিরে আসার বিরুদ্ধে বিএনপির... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার নানা মরহুম শাহাবুদদীন মাহমুদ জায়গীরদার

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:২৫



আমার আম্মার সেঝ চাচা’র লেখা ‘My life is not mine’ বইটি পড়ছি। বইটিতে ‘মাইজম ভাই’ নামের একটি অধ্যায় আছে। এতে সেঝ নানা আমার নানার বিভিন্ন সত্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

মৃত্যু পেরিয়ে আবার ব্লগে------

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০৬




প্রায় ০৩ মাস হয়ে গেলো ব্লগে আসনা হয় না, আসা হয়না মানে লিখা হয়না। প্রিয়জনের মৃত্যু শোক কাটিয়ে ব্লগে উকি দেওয়া হয় কিন্তু পোস্ট দেওয়া হয় না।


গত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×