রইসুদ্দিনের বস্তির পাশের আবাসিক এলাকার মসজিদটিকে সুসজ্জিত করা হয়েছে ছয়টি এয়ার-কন্ডিশনার এবং প্রতি তিন জনের জন্য একটা করে সিলিং ফ্যান ও দামি ঝাড়বাতি দিয়ে। মেঝে থেকে শুরু করে পিলার, দেয়াল ও ছাদ সবই দামি টাইলস্ দিয়ে বাঁধানো। এরপরও গত শুক্রবার জুম্মার নামাজের আগে রইসুদ্দিনের সামনে মসজিদের আরো উন্নয়নের জন্য যখন দান বাক্সটি এল- তখন রইসুদ্দিনের মনে পড়ে যায় গেল বছর শীতে করিমের ছোট্ট মেয়েটি মারা গেছে গরম কাপড়ের অভাবে। ঠান্ডায় একেবারে বরফ হয়ে গিয়েছিল মেয়েটি। পুরো মুখ লাল হয়ে গিয়েছিল মেয়েটির। এইতো এই বছর চালের কেজি ৫০ টাকা, আলুর কেজি ৩৫ টাকা হওয়ায় ভাল করে দু’বেলা ভাত খেতে না পেরে পরলোক গমণ করলেন জসিমের বুড়ো মা। অন্যের কথাই বা কেন? স্বয়ং রইসুদ্দিনের ঘরের চালাইটা গত তিন বছর ধরে নুঁয়ে আছে ঝুঁকি নিয়ে সংস্কারের আশায়। রইসুদ্দিন ভাবছে বিধাতার একি উপহাস!
দিন মজুর সৈকতদের পাড়ার দূর্গা মন্দিরেও মা দূর্গতিনাশিনী সৈকতদের দূর্গতির জন্য দামি শাড়ি, সোনার অলংকার, মোট-মোটা বালা পরে ডজনখানেক মোমবাতি জালিয়ে নিজের অন্ধকার দুর করেন, আর বসে বসে উপহাসের দৃষ্টিতে পাথরের মতো তাকিয়ে থাকেন পাড়াবাসির দুর্গতির দিকে।
গির্জার ক্ষেত্রে এই উপহাসের দৃষ্টান্ত আরও তীব্র। মায়ের কোলে প্রভু যীশু পরম আনন্দে, পরম মমতায় ঠিকই শুয়ে থাকে । কিন্তু আমেনার পাঁচ বছরের ছেলেটি ইট ভাঙ্গে সিকান্দারের ইট ভাটায়।
"আমি মানুষের পায়ের কাছে কুকুর হয়ে বসে থাকি
তার ভিতরের কুকুরটাকে দেখবো বলে...।"
কল্পনা করা যাক একটি ঘটনা:
দিনের পর দিন মানুষের পিছনের দিকে লেজ গজাচ্ছে দেখে কুকুরগুলো আতঙ্কিত হয়ে পড়ল। তারা ভয় পাচ্ছিল তারাও কি তাহলে বিপরীত পক্রিয়ায় দিনদিন মানুষ বনে যাবে কি না। ছিঃ কি লজ্জা! ভয়ে, লজ্জায় তারা সবাই গেল ভাগ্য বিধাতার কাছে। সভা হল, হল অনেক চেঁচামেচি। প্রতিবাদ করা হল এবং সমাধান চাওয়া হল এইরূপ বিরুপ প্রতিক্রিয়ার। কিন্তু হতাশ ও নিরাশ বিধাতার একটাই উত্তরঃ ‘‘আমিও ভাবছি মানুষগুলোর লেজ গজালো কোথা থেকে! ’’
লেখকঃ মোহাম্মদ রাহীম উদ্দিন
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ সকাল ১০:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




